19/06/2026
অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম অভিবাসন বন্ধের দাবি কট্টরপন্থী নেত্রী পলিনের
অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল প্রেসক্লাবে বক্তৃতা করছেন কট্টরপন্থী নেত্রী পলিন হ্যানসন।
অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল প্রেসক্লাবে বক্তৃতা করছেন কট্টরপন্থী নেত্রী পলিন হ্যানসন। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় ন্যাশনাল প্রেসক্লাবে ‘ওয়ান নেশন’ দলের প্রধান পলিন হ্যানসনের দেওয়া এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিজের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম কট্টরপন্থী এই ভাষণে হ্যানসন অস্ট্রেলিয়ার বিদ্যমান বহুসংস্কৃতিবাদ বাতিল, মুসলিম অভিবাসন বন্ধ এবং কর্মজীবী নারীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি বাতিলের মতো একাধিক চরমপন্থী প্রস্তাব পেশ করেন।
তবে হ্যানসনের এই বক্তব্যকেও ছাপিয়ে গেছে অনুষ্ঠান চলাকালে তার ঠিক পেছনে ঘটে যাওয়া এক নজিরবিহীন ও সুপরিকল্পিত রিমোট-নিয়ন্ত্রিত ব্যানার প্রতিবাদের ঘটনা। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশ ওই ঘটনার ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে।
ভাষণে পলিন হ্যানসন স্পষ্ট ঘোষণা দেন, পশ্চিমা সভ্যতা ও এর মূল্যবোধ এখন হুমকির মুখে। তিনি অস্ট্রেলিয়াকে একটি বহুসংস্কৃতিবাদী সমাজ হিসেবে টিকিয়ে রাখার ঘোর বিরোধিতা করে বলেন, দেশে বিভিন্ন জাতিসত্তার মানুষ থাকতে পারলেও সবাইকে একক সংস্কৃতির অধীনে আসতে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি বার্ষিক অভিবাসন সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজারে নামিয়ে আনা, অতিরিক্ত সময় ধরে অবস্থান করা ৭৫ হাজার অভিবাসীকে অবিলম্বে বহিষ্কার এবং জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয় বিলুপ্ত করার প্রস্তাব দেন।
হ্যানসন একই সঙ্গে কর্মজীবী নারীদের অধিকারের ওপর আঘাত হেনে প্রশ্ন তোলেন, নারীরা যখন ছুটির কারণে কাজে অনুপস্থিত থাকেন, তখন ব্যবসায়ী বা মালিকপক্ষ কেন তাদের বেতন দেবে? এ ছাড়া তিনি বহুভাষিক গণমাধ্যম এসবিএস সম্পূর্ণ বন্ধ এবং সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম এবিসিকে শহরের মানুষের জন্য অর্থের বিনিময়ে দেখার সেবায় রূপান্তর করার দাবি জানান।