ভয়ংকর ভুত ও রোমান্টিক প্রেমের গল্প

  • Home
  • Bangladesh
  • Gazipur
  • ভয়ংকর ভুত ও রোমান্টিক প্রেমের গল্প

ভয়ংকর ভুত ও রোমান্টিক প্রেমের গল্প গ্রুপে সবাইকে স্বাগতম�
এইখানে সব রকমের গল্প পাবেন ভয়ংকর ভূতের আর রোমান্টিক লাভ এবং সেড হিস্টোরি।

 #শুকনো_পাতার_নূপুর_পায়ে  #আয়েশা_শেখ  #পর্ব_৭[কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ]দুপুরের তপ্ত রোদ মাথায় নিয়ে একছুটে আসছে ইরান। চ...
10/07/2026

#শুকনো_পাতার_নূপুর_পায়ে
#আয়েশা_শেখ
#পর্ব_৭

[কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ]

দুপুরের তপ্ত রোদ মাথায় নিয়ে একছুটে আসছে ইরান। চারপাশের কাঠফাটা গরম কিংবা ক্লান্তির কোনো তোয়াক্কা নেই তার। উদ্দেশ্য যত দ্রুত সম্ভব ঝিলমিলের বাড়ি পৌঁছানো। মেয়েটার সে কী উন্মাতাল দৌড়! দূর থেকে দেখলে মনে হবে, না জানি কী এক আকাশ ভেঙে পড়া অঘটন ঘটে গেছে! তীব্র বেগে ছুটতে ছুটতে সে একসময় চৌধুরী ভিলার প্রধান ফটকটা ধপাস করে ঠেলে ভেতরে ঢোকে। সেখানে এক সেকেন্ডের জন্য দম নিয়ে আবারও পদাতিকে গতি বাড়ায় সদর দরজার দিকে। কিন্তু বিপত্তিটা ঘটল ঠিক বারান্দার সিঁড়িটা পার হতে গিয়ে। প্রবেশদ্বারের কাছাকাছি পৌঁছাতেই হুট করে লোহার মতো শক্ত এক মানবদেহের সাথে প্রচণ্ড জোরে ধা’ক্কা খায় সে। ধা’ক্কার তীব্রতা এতটাই লাগামহীন ছিল যে, বেসামাল ইরান কয়েক কদম পিছিয়ে যায় এবং দাঁতের মাড়ি কেটে নোনা রক্তের স্বাদ পায়।

​যন্ত্রণায় কঁকিয়ে উঠে দুই হাতে নিজের মুখ চেপে ধরে ইরান। চোখ জোড়া মেলতেই তার দৃষ্টির সীমানায় ভেসে ওঠে এক অচেনা যুবক। দুই হাত কোমরে গুঁজে, রীতিমতো অগ্নিদৃষ্টিতে সে তাকিয়ে আছে এই অনাহূত অতিথির দিকে।

যুবকটি বেশ রাগান্বিত স্বরে ধমকে ওঠে,
_“চোখ কি কপালে থাকে তোমার? এভাবে দিকবিদিক জ্ঞান হারিয়ে এসে গায়ের ওপর পড়ছ! কে তুমি?”

​ইরান মুখ থেকে কোনো শব্দ বের হলো না। সে নিথর, স্তব্ধ, বাকরুদ্ধ। চোখের সামনের পুরুষালি অবয়ব, সুগঠিত চেহারা আর চোখের সেই ধারালো চাউনি দেখে সে এক নিমেষে সব ব্যথা ভুলে গেছে রমনী। রূপের এমন এক পশলা রাজকীয় ঝলকানি দেখে মুগ্ধতায় তার ভেতরের সমস্ত হিতাহিত জ্ঞান যেন উড়ে যায় গিয়েছে। ​মেহরাজ ইরানের এই অবশ ভাব দেখে ওর চোখের সামনে নিজের ডান হাতটা নাড়াতে থাকে,
_ “এই যে হ্যালো! তোমাকে বলছি! কোন দুনিয়ায় আছো? কে তুমি?”

​তবুও কোনো সাড়া-শব্দ নেই মেয়েটার। ইরান তখনো পলকহীন চোখে এক ধ্যানে তাকিয়ে জাদুমুগ্ধের মতো যুবকের রূপসুধা গিলতে ব্যস্ত। মেহরাজ এবার নিজের বিরক্তি চরমে পৌঁছে গেল। বিরক্তিতে চ উচ্চারণ করে বেশ চড়া গলায় ধমকে ওঠে,
_ “আজব তো! একে তো ঝড়ের মতো এসে গায়ের ওপর আছাড় খেলে, তার ওপর একটা ভদ্রতাসূচক সরি পর্যন্ত না বলে বোকার মতো দাঁড়িয়ে আছো!” সে আর নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে ইরানের কাঁধে হাত দিয়ে একটা মৃদু ঝাঁকুনি দিয়ে বলে,
_ “তোমাকেই বলছি! হোয়াট দ্য হেল ইজ রং উইথ ইউ?”

​কাঁধের ঝাঁকুনিতে এতক্ষণে যেন মোহাচ্ছন্ন ঘোর কাটে ইরানের। হুঁশ ফিরতেই অপ্রস্তুত হয়ে আমতা আমতা করে বলে,
_ “স... সরি ভাইয়া। আসলে আমি খেয়াল করিনি।”

_​“খেয়াল করবে কীভাবে? এমন পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটলে তো দেওয়ালের সাথে ধাক্কা খেলেও টের পাবে না!” মেহরাজ বেশ ঝাঁঝালো গলায় শোনায়।

​ইরান অবশ্য ওনার সেই রুক্ষ মেজাজকে বিন্দুমাত্র পাত্তা না দিয়ে, উল্টো ডাগর চোখে চরম মুগ্ধতা মিশিয়ে জিজ্ঞেস করে,
_“সরি তো বললামই। তা আপনি কে বলুন তো?”

_​“নিজের পরিচয় দেওয়ার আগে অন্যের তল্লাশি নেওয়াটা কেমন স্বভাব? আগে বলো তুমি কে?”

​লোকটাকে রাগতে দেখে ইরানের ঠোঁটের কোণে একটা চওড়া হাসির রেখা ফুটে ওঠে।
_“আমি ইরান। আই মিন, তানজিম সুনেহরা ইরান।”

​মেহরাজ কপালে একরাশ বিরক্তির ভাঁজ ফেলে বলে,
_“আমি তোমার নামের ব্যাকরণ জানতে চাইনি, পরিচয় জানতে চেয়েছি। এই ভরদুপুরে চৌধুরী বাড়িতে এমন তাণ্ডব খাড়া করার কারণটা কী?”

_​“কারণ থাকবে না কেন? এটা তো আমার জানের দোস্ত, আমার বান্ধবীর বাসা!”

_​“কে তোমার বান্ধবী?”

_“ঝিলমিল! এবার তো আপনার জেরা শেষ? এখন দয়া করে বলুননা ভাইয়া, আপনি কে?”

নিজের গায়ের শার্টটা একটু ঠিক করে নিয়ে অত্যন্ত গাম্ভীর্যের সাথে ঘোষণা করল মেহরাজ
_ “ঝিলমিলের চাচা। সম্পর্কে আমি ওর আপন চাচা হই। সো, ইউ কল মি চাচ্চু, নট ভাইয়া! মাথায় রেখো।”

​কথাটা শেষ করেই মেহরাজ এক চুল সময় নষ্ট না করে ওকে পাশ কাটিয়ে হনহন করে বাড়ির বাইরে চলে যায়। ইরান তাকে আটকানো বা নতুন কোনো প্রশ্ন করার সুযোগই পায় না। সে মুখ কালো করে, নাক কুঁচকে ওনার যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে ওঠে,
_“বললেই হলো চাচ্চু! এত হ্যান্ডসাম ছেলেকে চাচ্চু ডাকতে আমার বয়েই গেছে!”

​দূর দিগন্তে মেহরাজের মিলিয়ে যাওয়ার পানে চেয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে ইরান অবচেতনেই ফানি টোনে কপাল চাপড়ায়,
_“ এমন খাইস্টা চোখ দিছো আল্লাহ! রাস্তার কুত্তা বিলাই বাদে যারে দেখি তারেই ভাল্লাগে! ধ্যাত!”

_“কী হয়েছে? কী বলিস এসব?” নাজমা বেগম ইরানকে দেখতে পেয়ে শুধালেন।

_“ কিছু না আন্টি। ঝিলু কই?”

_“ ঘুমাচ্ছে এখনো।”

_“ দুপুর বারোটা বাজছে! এখনো ওঠেনি?”

_“ না, মহারানী তো সে।”

ইরান সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ঝিলমিলের ঘরের দিকে রওনা দিল। দরজার লক ঘুরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই দেখল পুরো রুম ঘুটঘুটে অন্ধকার। দিনের আলো বাইরে রাজত্ব করলেও ঘরের ভেতর যেন মাঝরাত নেমে এসেছে। ইরান মুখ বাঁকিয়ে অন্ধকার ঘরের ভেতরে পা বাড়াল। সোজা গিয়ে জানালার ভারী পর্দাগুলো দুহাতে দুপাশে সরিয়ে দেয়। জানালার পাল্লাগুলো মেলে দিতেই দুপুরের কড়া রোদ এসে সোজা আছড়ে পড়ল বিছানায় শুয়ে থাকা ঝিলমিলের মুখের ওপর। ​মুখ কুঁচকে মাথার ওপর থাকা কোলবালিশটা টেনে নিজের মুখে চেপে ধরলসে। ​ইরান কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে চড়া গলায় ডাকল,
_ “এই ঝিলু! ওঠ বলছি! বেলা ডুবে তো দুপুর গড়াতে চলল, আর তোর এখনো ঘুম ভাঙছে না? ওঠ এবার!”

​ঝিলমিল কোলবালিশের নিচ থেকেই ঘুমজড়ানো, বিরক্ত গলায় কোনোমতে আওড়াল,
_“ধুর! ডিস্টার্ব করিস না তো! ঘুমাতে দে।”

_​“ওঠ তাড়াতাড়ি। শোন কী হয়েছে। তোর আর আমার আলাদা আলাদা কলেজে চান্স এসেছে।” ইরান ঝিলমিলের গায়ের ওপর থেকে কোলবালিশটা সরিয়ে দিয়ে বলল।

​আলাদা কলেজে নাম আসার কথা শুনে ঝিলমিল ঝড়ের গতিতে বিছানায় উঠে বসল। চোখ দুটো বড় বড় করে শুধাল,
_ “কীহ! সত্যি? এক কলেজে আসেনি?”

​ইরান একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
_ “না, মিথ্যা! তোর আর আমার একই কলেজেই সিট পড়েছে। একদম আমরা যেটা চেয়েছিলাম, ওটাতেই। এজন্যই তোকে বলতে এসেছি। তুই তো আর এসব চেক করে দেখবি না!”

​ঝিলমিল ক্ষণিকের জন্য স্তব্ধ হয়ে থেকে পরক্ষণেই ইরানকে জড়িয়ে ধরে বলল,
_“খুব ভালো হয়েছে। ইশ! আমার স্বপ্নের কলেজ, তাও আবার তুই-আমি একসাথে! আমি যে কত খুশি তোকে বোঝাতে পারব না।”

​ইরান মৃদু হেসে বলল,
_“এখন গিয়ে আগে ফ্রেশ হয়ে আয়, খচ্চর কোথাকার।”

​ঝিলমিল ওয়াশরুমে গেল। এর মাঝেই নাজমা বেগম এসে দুই বান্ধবীর জন্য দুপুরের খাবার রেখে গেলেন। একটু পর মুখ মুছতে মুছতে ওয়াশরুম থেকে বের হলো ঝিলমিল।

​ইরান তাকে বের হতে দেখেই বলল,
_“তোর চাচ্চু যে এসেছে, আমায় তো বলিসনি!”

_​“বললে কী করতি? উল্টো বলতি, ‘এসেছে তো কী হয়েছে, এখন আমি নাচব?’ এই কারণেই বলিনি,” খেতে খেতে জবাব দিল ঝিলমিল।

_​“কে জানে, তোর চাচ্চু যে...” কথাটুকু বলেই থেমে গেল ইরান।

​ঝিলমিল চিবানো থামিয়ে জিজ্ঞেস করল,
_“আমার চাচ্চু কী?”

_​“কিছু না। কলেজ জীবন কীভাবে কাটাবি, সেটা বল।”

_​“কীভাবে আবার। পড়ব। শুধু পড়ার ওপর থাকব। একদম সেরাদের সেরা স্টুডেন্ট হবো আমি। দেখিস তুই, আগের মতো ফাঁকিবাজি আর করব না। এইচএসসিতে এ প্লাস আনব।”

​ইরান খাওয়া থামিয়ে ঝিলমিলকে বেশ খুঁটিয়ে দেখল।
​ঝিলমিল কপাল কুঁচকে বলল,
_ “একদম এভাবে দেখবি না আমার দিকে। তুই জাস্ট দেখিস, নিজেকে কেমন বদলে ফেলি। শুধু তুই নোস, আমার আম্মু পর্যন্ত নিজের মেয়েকে চিনতে পারবে না।”

দুই বান্ধবী মিলে আরও কিছুক্ষণ গল্প করল। বিকেল গড়ানোর আগে ইরান বিদায় নিলে ঝিলমিল লিভিং রুমের দিকে এলো। সেখানে পা রাখতেই ফুপি আর দাদীমার চড়া গলার তপ্ত কথা কাটাকাটি তার কানে এলো।

_​“আমার মতামত না নিয়ে, হুট করে এভাবে একজনকে ধরে এনে বিয়ে দেবে আর আমি মুখ বুজে মেনে নেব?” দীঘি তীব্র ক্ষোভ নিয়ে বলল।

​নূরজাহান চৌধুরী ধমকে উঠলেন,
_“মুখ সামলে কথা বলো দীঘি! একজনকে ধরে এনে মানে কী? বারিশের মতো একটা ছেলেকে তুমি এভাবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলছ?”

_​“তোমাদের কাছে ওকে রাজপুত্র মনে হতেই পারে, কিন্তু আমার ওকে ভালো লাগে না। ওর চালচলন, ওই অহংকারী ভাব দেখলেই আমার অসহ্য লাগে। সারাক্ষণ মুখটা এমন করে রাখে যেন এই দুনিয়ার কোনো কিছুই তার মনমতো হয়নি। আমি এমন তেতো স্বভাবের মানুষকে বিয়ে করতে পারব না। ও আগে কেমন ছিল সেটা আমার খুব ভালো করেই জানা আছে।”

_​“হ্যাঁ, তুমি বিয়ে করবে কেন! তোমার তো এখন স্বাধীনচেতা হওয়ার শখ। ভার্সিটির ছেলেদের সঙ্গে আড্ডায় বসে সিগারেট ফুঁকতেই তো তোমার বেশি ভালো লাগে!” নূরজাহান চৌধুরী কথাটা শেষ করতে না করতেই দীঘি তীব্র দৃষ্টিতে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা ঝিলমিলের দিকে তাকাল। এই গোপন খবরটা যে এই মেয়েই দাদীমার কানে তুলেছে, তা নিয়ে দীঘির মনে কোনো সন্দেহ নেই। ফুপিকে চোখ রাঙিয়ে তাকিয়ে থাকতে দেখে ঝিলমিল ভয়ে দু’পাশে মাথা নেড়ে বোঝানোর চেষ্টা করল যে সে কিছু বলেনি। কিন্তু দীঘি সেদিকে পাত্তা না দিয়ে আবারও বলল,
_“আমি পরিষ্কার জানিয়ে দিচ্ছি, আমি এখন কোনো বিয়ে-শাদি করতে পারব না।”

_​“না করলে এই বাড়ি থেকে বের হয়ে যাও। আজ থেকে তোমার সব খরচ চালানো আমি বন্ধ করে দেব।” নূরজাহান চৌধুরীর কণ্ঠে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

​_“তোমার মতো কঠোর মা যেন আর কারো না হয়। আজ বাবা বেঁচে থাকলে কখনোই আমার সঙ্গে এমন জোরজবরদস্তি করতেন না!”

​পরিস্থিতি শান্ত করতে ঝিলমিল আমতা আমতা করে মাঝখান থেকে বলে উঠল,
_“এমন করছ কেন ফুপি? বারিশ চাচ্চু খারাপ কোথায়? মানুষ হিসেবে তো বেশ ভালোই…”

​ঝিলমিলের কথায় দীঘি যেন আরও তেতে উঠল। সে ঝাঁঝালো গলায় বলে উঠল,
_“তোর এতই যখন ভালো লাগে, তুই গিয়ে বিয়ে!”

​ঝিলমিল চট করে মাথা নিচু করে নিল। ওষ্ঠাধর কামড়ে অত্যন্ত মৃদু স্বরে বিড়বিড় করল,
_“আমি কীভাবে... মানে, উনি তো চাচ্চু হন!”

_“বড়দের মাঝখানে একদম কথা বলবি না। যা এখান থেকে।”

​নূরজাহান চৌধুরী হাত তুলে দীঘিকে থামিয়ে দিয়ে বললেন,
_“তুমিও আর একটা কথাও বাড়াবে না। আমি এই বিষয়ে আর কোনো অজুহাত শুনতে ইচ্ছুক নই।”

———
শহরের এক অভিজাত জিমনেসিয়ামে ভারী ওয়েট তোলার ধাতব শব্দ আর ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজতে থাকা রক মিউজিকের তালে তালে ঘাম ঝরাচ্ছিল কয়েকজন যুবক। বারিশ, মেহরাজ আর ওদের আরও কয়েকজন বন্ধু মিলে আজ উইকএন্ডের জিম সেশনটা বেশ জমিয়ে তুলেছে। ​বারিশ একটা ভারী বারবেল হাতে নিয়ে অত্যন্ত মনোযোগের সাথে বাইসেপ কার্ল করছিল। কপালে জমে থাকা ঘাম বেয়ে পড়ছে চিবুক বেয়ে। ওর শরীরী গঠনে যে পরিমিত যত্ন আর কঠোর পরিশ্রমের ছাপ আছে, তা এই মুহূর্তে বেশ স্পষ্ট।

​তার ঠিক পাশেই মেহরাজ ট্রেডমিলে রানিং শেষ করে গতি কমিয়ে দিল। টাওয়েল দিয়ে মুখের ঘাম মুছতে মুছতে সে বারিশের দিকে তাকিয়ে হালকা হেসে বলল,
_“কী রে, আজ কি জিমেই রাত পার করার ইচ্ছা আছে? যে গতিতে ওয়েট বাড়াচ্ছিস, লিগামেন্ট ছিঁড়বি নাকি?”

​মেহরাজের কথায় বেঞ্চ প্রেসে শুয়ে থাকা ওদের আরেক বন্ধু নীল বুক ভরে শ্বাস নিয়ে ওয়েটটা স্ট্যান্ডে তুলে রাখল। তারপর উঠে বসে বলল,
_ “বাদ দে মেহরাজ। চৌধুরী বাড়ির হবু জামাই বলে কথা! বিয়ের আগে বডি তো একটু ফিট রাখতেই হবে।”

বারিশ নিজের কাজে মগ্ন। বন্ধুদের হাসাহাসি আর খোঁচাখুঁচি যেন ওনার কান পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছেই না। সে অত্যন্ত মনোযোগের সাথে লাস্ট সেটটা শেষ করার দিকেই নজর দিচ্ছে। ঠিক তখনই বেঞ্চের ওপর রাখা ওনার ফোনটা ভাইব্রেট করে কেঁপে উঠে। একটা নতুন মেইল এসেছে। বারিশ বারবেলটা সাবধানে স্ট্যান্ডে লক করে রেখে উঠে বসল। কপালে জমে থাকা ঘামটা হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে মুছে ফোনটা হাতে নেয়। ​সেদিন একটা কলেজে প্রফেসরের পোস্টের জন্য অ্যাপ্লাই করেছিল; স্ক্রিনে আসা মেইলটা মূলত সেই কনফার্মেশন লেটার। ওর অ্যাপয়েন্টমেন্ট ফাইনাল হয়েছে। সেটা শুধু কলেজ না। কলেজ ভার্সিটি দুটোই। ​মেইলটা দেখে বারিশ শান্ত হয়ে উঠে দাঁড়াল। টাওয়াল দিয়ে ঘাড় আর মুখের ঘাম মুছতে মুছতে সবার উদ্দেশ্যে বলল,
_“ আমি কলেজে জয়েন করছি।”

এতক্ষণ যে যার মতো আড্ডা দিচ্ছিল আর হাসাহাসি করছিল, বারিশের এই আকস্মিক ঘোষণায় সবার হাসির রোল এক লহমায় থেমে গেল। প্রত্যেকে চরম বিস্ময় নিয়ে তাকাল ওর দিকে। নীল হাতের পানির বোতলটা নামিয়ে রেখে চোখ কপালে তুলে বলল,
_“কলেজে মানে? আর ইউ প্ল্যানিং টু গেট অ্যাডমিটেড ইনটু কলেজ এগেইন অ্যাট দিস এজ? তুই আবার কলেজে ভর্তি হবি কেন?"

​বারিশ শার্টের হাতা দুটো কনুই পর্যন্ত গুটিয়ে নিতে নিতে নির্লিপ্ত গলায় বলল,
_ “স্টুডেন্ট হিসেবে নয়। শিক্ষক হিসেবে।”

মেহরাজের দ্রুত ট্রেডমিল থেকে নেমে বারিশের সামনে এসে দাঁড়াল। ওর কপালে হাত দিয়ে জ্বর দেখার ভান করে বলল,
_ “সুস্থ আছিস তুই? তুই করবি শিক্ষকতা? মানে সিরিয়াসলি বারিশ?”

​বারিশ ওর হাতটা কপাল থেকে সরিয়ে দিয়ে বিরক্ত গলায় বলল,
_“এত নাটক করছিস কেন?”

_​“নাটক তুই করছিস! তোদের এত বড় পারিবারিক ব্যবসা আছে, তার ওপর তোর আর আমার যৌথ অর্থায়নে কানাডায় একটা আইটি স্টার্টআপ কোম্পানি আর রিয়েল এস্টেট প্রজেক্ট চলছে। এসব প্রজেক্ট ছেড়ে তুই কলেজে গিয়ে শিক্ষকতা করবি? আর শোন, এখন আবার বলিস না কানাডার প্রজেক্ট দুটো আমাকে একাই হ্যান্ডেল করতে হবে। কারণ আমার নিজেরও পারিবারিক ব্যবসা আছে, এখন থেকে সেটাও আমাকে ফুল-টাইম দেখতে হবে।”

_“আমি কি তোকে একবারও বলেছি এসব ছেড়ে দেব? সব থাকবে, সাথে আমি যেটা চাই ওটাও।”

​মেহরাজ কিছুক্ষণ ওর দিকে স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল। তারপর অবিশ্বাস্য গলায় জিজ্ঞেস করল,
_ “মানে তুই সত্যিই জব করবি?”

_​“হ্যাঁ, বাচ্চাদের পড়াব।”

বারিশ আর কোনো ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন মনে করল না। কাঁধে ব্যাকপ্যাকটা ঝুলিয়ে জিম থেকে বের হয়ে এলো। পার্কিং লটে এসে দু’দিন আগে কেনা নিজের ডুকাটি প্যানিগেল বাইকটা স্টার্ট দিয়ে সোজা বাড়ির দিকে রওনা দিল ও।

বাসার সামনে এসে বাইক থামাতেই জারিফ প্রায় দৌড়ে ওর সামনে চলে এলো। ও বেশ উত্তেজিত গলায় বলল,
_“তোমার অপেক্ষাতেই ছিলাম চাচ্চু। বাইকটা একটু দাও না, বন্ধুদের সাথে রাইডে যাব।” বলতে বলতেই সে বারিশের মাথা থেকে হেলমেটটা টেনে নিয়ে নিজের মাথায় পরে ফেলল।

​বারিশ এক মুহূর্তের জন্য ওর কাণ্ড দেখল, তারপর কোনো কথা না বলে হেলমেটটা পুনরায় জারিফের মাথা থেকে খুলে নিজের হাতে এনে বলল,
_“তোর না নিজস্ব একটা বাইক আছে?”

_​“আরে ধুর! আমারটা তো সাধারণ একটা ১৫০ সিসির বাইক, আর তোমার এটা তো আস্ত একটা দানব! বন্ধুদের সামনে একটু ভাব মারব। তোমারটা দাও প্লিজ চাচ্চু!”

​_ “সরি, ইউ নো মাই রুলস। আই নেভার শেয়ার মাই পার্সোনাল স্টাফ।”

_“ তাই বলে আমাকেও দিবে না? আমি তো তোমার ছেলের মতোই। দাও না প্লিজ। জাস্ট একটা চক্কর দিয়েই চলে আসব।”

সোজাসাপ্টা ঠাণ্ডা গলায় বলল বারিশ,
_ “নিজের ছেলে হলেই দিতাম না, আর তুই তো ছেলের মতো! বেশি শখ থাকলে তোর বাপকে গিয়ে বল এমন একটা কিনে দিতে। এটা আমি নিজের টাকায় কিনেছি। কাউকে দেব না। সর।”

​জারিফ প্রচণ্ড বিরক্ত আর ক্ষোভ ভরা চোখে চাচাকে বাসার ভেতর ঢুকে যাওয়া দেখল। ও বিড়বিড় করে গালিও দিলো।

​এদিকে লিভিং এরিয়াতে পা রাখতেই জারিফের ছোট বোন জারিন চাচার পথ আটকে দাঁড়িয়ে গেল। গম্ভীর মুখে বলল,
_ “তুমি খুব খারাপ, চাচ্চু।”

​বারিশ একটু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,
_ “কেন? আমি কী করেছি?”

_​“এত বছর পর তুমি বিদেশ থেকে এসেছ, অথচ আমাদের জন্য কিছুই আনোনি! আবার বাইরে গেলেও আমার জন্য একটা চকোলেট পর্যন্ত নিয়ে আসো না।” আট বছরের জারিন খুব করুণ গলায় নিজের অভিমানটা উগরে দিল।

​বারিশ মেয়েটার ওইটুকু অভিমানী মুখের দিকে তাকিয়ে একটু নরম হলো। জারিনকে কাছে টেনে মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে বলল,
_“আমি যখন কানাডায় ছিলাম, তখন তো তুই একদিনও আমার সঙ্গে ফোনে কথা বললি না। একটা বার বললে আর যাই হোক, তোর জন্য কিছু একটা নিয়ে আসতাম।”

​রান্নাঘর থেকে শিউলি বেগম বের হতে হতে বললেন,
_“তাই বলে এমন খালি হাতে কেউ বিদেশ থেকে আসে বারিশ? সাত-সাতটা বছর পর তুমি দেশে ফিরলে, অথচ পরিবারের মানুষগুলোর জন্য একটা সুতোও আনলে না?”

​বারিশ শিউলি বেগমের কথার কোনো উত্তর দিল না। ও সত্যিই একটা কানাকড়িও আনেনি! নিজের প্রয়োজনীয় কয়েকটা কাপড় একটা ব্যাগে পুরে ঢ্যাং ঢ্যাং করে চলে এসেছে। বিদেশ থেকে ফিরতে হলে যে সবার জন্য উপহার কিনতে হয়, এই সাধারণ জাগতিক নিয়মটা ওর মাথাতেই আসেনি। অবশ্য মেহরাজ ওকে শপিং মলে নিয়ে গিয়ে অনেক জোর করেছিল সবার জন্য কেনাকাটা করতে, কিন্তু বারিশ তখন মেহরাজের কথায় পাত্তাই দেয়নি।

​ওর ভাবনার মাঝেই জারিন মুখ ফুলিয়ে আবারও বলে উঠল,
_“ঝিলমিল আপুর চাচ্চু বিদেশ থেকে ওদের সবার জন্য কত কী এনেছে! ঝিলমিল আপুকে অনেকগুলো সুন্দর সুন্দর পুতুল দিয়েছে। আর তুমি আমার জন্য একটা পুতুলও আনলে না!”

​‘ঝিলমিল’ নামটা শুনতেই বারিশের মুখের ভাব এক নিমেষে বদলে গেল। ও ভ্রু কুঁচকে জারিনের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,
_“ঝিলমিলকে তুই আপু ডাকিস?”

​জারিন মাথা দুলিয়ে বলল,
_“হ্যাঁ, আপুই তো।”

বারিশের মনের ভেতর কৌতূহলটা আরেকটু চাড়া দিয়ে উঠল। ও গলাটা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে বলল,
_ “ওর পুতুল ভালো লাগে বুঝি?”

_​“হ্যাঁ, একটু আগেও তো ও আমাদের বাসায় এসেছিল। কেন চাচ্চু, তুমি কিনে দেবে?” জারিন বেশ আশাবাদী চোখে ওর দিকে তাকাল। ​বারিশ কিছু বলার আগেই শিউলি বেগম বললেন,
_“আর মানুষ পেলি না জারিন! যে তোকেই কিছু কিনে দেয় না, সে আবার ঝিলমিলকে পুতুল কিনে দেবে?”

​বারিশ শিউলি বেগমের কথার কোনো জবাব দিল না। ও জারিনের গালটা হালকা টিপে দিয়ে বলল,
_“ঠিক আছে, ভুল হয়ে গেছে আমার। এবার কি আমি রুমে যেতে পারি?”

​জারিন কিছুক্ষণ বড় বড় চোখ করে নিজের অদ্ভুত চাচার দিকে তাকিয়ে থেকে অবশেষে মাথা নাড়াল। কেমন মানুষ ভাই! একবারের জন্য বললও না যে
‘এরপর যখন বাইরে যাব, তোমার জন্য পুতুল নিয়ে আসব’!

​বারিশ নিজের ঘরের দিকে যেতে যেতে বুয়াকে কফির অর্ডার দিলো। রুমের ভেতরে পা রেখে গা থেকে শার্টটা আলগা করতেই খোলা বেলকনির ওপাশ থেকে ভেসে এলো বাংলা গানের এক মৃদু সুর। বারিশের সটান কপাল জুড়ে সূক্ষ্ম এক কুঞ্চন রেখা জাগল। খানিকটা কৌতূহল নিয়ে সে ধীরপায়ে সেদিকে পা বাড়ায়। ডানহাতে তখন বুয়ার রেখে যাওয়া ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। বেলকনির রেলিং ঘেঁষে দাঁড়াতেই ওপর তলার দিকে চোখ আটকে গেল যুবকের।
​সেখানে, ছাদের কিনারায় নীল রঙের একটা টি-শার্ট আর জিন্সের স্কার্ট পরা এক কিশোরী আপন খেয়ালে নাচতে ব্যস্ত। মাথার ওপর মেঘ জমছে, দু-এক ফোঁটা শ্রাবণ-বিন্দু ঝরে পড়ছে চত্বরে। ছাদের দরজার পাশে রাখা ছোট্ট সাউন্ড বক্সে গান বাজছে, আর সেই তালের সাথে তাল মিলিয়ে অদ্ভুত সব অঙ্গভঙ্গি করে চলেছে চৌধুরী বাড়ির নাতনি, ঝিলমিল। মেয়েটি তখন বারিশের দিকে পিঠ ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও তার চিনতে এক সেকেন্ডও ভুল হলো না। ছিপছিপে গড়ন, কাঁচা দুধে আলতা মেশানো ফর্সা গায়ের রং আর পিঠ অব্দি এলিয়ে থাকা চুল—এটা সেই অবাধ্য মেয়েটা ছাড়া আর কে! ওর নাচের চেয়ে হাত-পায়ের ছটফটানি আর লাফঝাঁপই বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। নাচছে কম, লাফাচ্ছেই বেশি।

— জল তরঙ্গে ঝিলমিল ঝিলমিল
ঢেউ তুলে সে যায়…
— জল তরঙ্গে ঝিলমিল ঝিলমিল
ঢেউ তুলো সে যায়…

_“ ঝিলমিল…” বারিশ আনমনেই নামটা উচ্চারণ করল। ঘাড়টা সামান্য উঁচিয়ে ভ্রু কুঁচকে সেদিকে তাকিয়ে রইল সে। গানের তালের সাথে মিলিয়ে মেয়েটা সত্যি সত্যিই যেন কোণাকুণি কোনো দিকে চলে গেল, একদম বারিশের চোখের আড়ালে। বারিশ কফির মগটা রেখে ঝটপট রুম থেকে বের হয়ে নিজেদের বাসার ছাদের দিকে গেল। সে নিজেও জানে না কেন সেখানে যাচ্ছে। ছাদের শেষ ধাপে পা রাখতেই পুরো অবয়বে কিশোরীটি ধরা দিল তার চোখে।

— চঞ্চল ঝর্ণার চল ছলছলি
মাঠের পথে সে ধায়…
— জল তরঙ্গে ঝিলমিল ঝিলমিল
ঢেউ সে যায়…
— শুকনো পাতার নূপুর পায়ে
নাচিছে ঘূর্ণিবায়…

মেয়েটা এখন আর নাচছে না, ছন্দ থেমে গেছে তার। ফুল গাছ থেকে কিছু ফুল ছিঁড়ে সে ছাদের রেলিং ঘেঁষে দাঁড়াল। তারপর ফুলগুলো হাত দিয়ে কুচি কুচি করে ছিঁড়ে নিজের ওপরেই ছড়িয়ে দিল পাপড়ি বৃষ্টির মতো। ঝিলমিল দাঁড়িয়ে আছে ওদের ছাদের একদম অপর প্রান্তে, আর বারিশ শেহরিয়ার ভিলার এই অংশে। তাদের ছাদে কোনো রেলিং নেই। সে নিজেও একদম সীমানার কাছাকাছি চলে এসেছে। এবার সে দেখল মেয়েটা রেলিংয়ের ওপর উঠে শূন্যে পা ঝুলিয়ে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে! এক মুহূর্তের অসতর্কতায় মারাত্বক দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে! বারিশের বুকের ভেতরটা কেমন ধক করে উঠল! সে হাত বাড়িয়ে মেয়েটাকে বাধা দেওয়ার জন্য চিৎকার করতে চাইল…কিন্তু যা অঘটন ঘটার তা বারিশের সঙ্গেই ঘটে গেল। ভেজা ছাদের শ্যাওলা পড়া পিচ্ছিল মেঝেতে পা পিছলে মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ হারাল সে, শরীরটা ছিটকে চলে গেল শূন্যে! বারিশের গলা চিরে তখন শুধু একটা শব্দই বের হয়ে এলো,
_​“হোয়াট দ্য ফা’ককককক! আআআআআআআ!”

​ধপাস করে বস্তা পড়ার মতো বিকট শব্দ হলো। বাড়ির নিচে কনস্ট্রাকশনের কাজের জন্য রাখা ছিল এক মোটা বালির স্তূপ। বারিশ সজোরে গিয়ে আছড়ে পড়ল সেটার ওপর। একদম গেড়ে গেল। ডান হাতটা বালির ভেতরে অদ্ভুতভাবে মুচড়ে গেল, তীব্র একটা মোচড়ানি ব্যথা টের পেল ও। হাতটা নিশ্চিত মচকে বা ভেঙে গেছে। কিন্তু সেই ব্যথাটা বেশিক্ষণ অনুভব করার সুযোগ সে পেল না। অত ওপর থেকে আছাড় খাওয়ার চোট সরাসরি এসে লেগেছে ওর মাথায়। মাথার একপাশটা যেন চড়চড় করে ফেটে র’ক্ত গড়িয়ে পড়ার উপক্রম হলো। চোখ মেলে তাকানোর চেষ্টা করল বারিশ। তবে একঝাক জোনাকিপোকা ছাড়া কিচ্ছু দেখল না। বিড়বিড়াল…
_“ ইডিয়ট! স্টুপিড মেয়ে…”

ব্যথার তরঙ্গ শিরদাঁড়া বেয়ে মাথায় গিয়ে ধাক্কা দিতে লাগল। মনে হলো, মাথাটা শর্ট-সার্কিট হয়ে চোখের সামনে জ্বলন্ত স্ক্রিন হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পুরো পৃথিবীটা এক সেকেন্ডের মধ্যে ব্ল্যাকআউট হয়ে গেল। কোনো কিছু ভাবা বা বোঝার আর কোনো সুযোগই রইল না, মুহূর্তে সব ফাঁকা। একদম ডিরেক্ট অজ্ঞান!

বারিশের সেই আকাশ কাঁপানো তীব্র চি’ৎকার আর ঠিক তার পরপরই নিচে কিছু একটা পড়ার বিকট শব্দ দুটোই ঝিলমিলের কানে এসেছে। দ্রুত পায়ে দৌড়ে ছাদের এই পাশের কিনারায় এসে দাঁড়াল। ​নিচের দিকে তাকাতেই চোখ দুটো ছানাবড়া হয়ে গেল মেয়েটার! বড় বড় চোখ করে ও দেখল, বালির ঢিবির ওপর চারহাত-পা ছড়িয়ে একদম নিথর হয়ে পড়ে আছে ফাইজান বারিশ শেহরিয়ার! পরনের কালো স্লিভলেস গেঞ্জি আর ধূসর ট্রাউজারের ওপর বালির এমন আস্তরণ পড়েছে যে, পোশাকের আসল রঙটাই ঢাকা পড়ে গেছে। ধুলোবালিতে মাখামাখি হয়ে একদম চেনা যাচ্ছে না।

​ও দুই হাতে নিজের মুখ চেপে ধরে পুরো বাড়ি মাথায় তুলে চেঁচিয়ে উঠল,
_“ ওহ আল্লাহ! বারিশ চাচ্চুউউউ! হায়হায়, বারিশ চাচ্চু তো ম’রে গেল!”

​ঝিলমিল পাগলের মতো সিঁড়ির দিকে দৌড় লাগাল। ছাদ থেকে নিচে নামতে নামতে ও চিৎকার করে পুরো বাড়ি জানান দিতে লাগল,
_“কোথায় তোমরা সবাই? ফুপিইই, তুমি কই? জলদি আসো! তোমার হবু বর তো শেষ...!”

পরবর্তী পর্ব দ্রুত পেতে বেশি বেশি লাইক কমেন্ট করে দিও পাখিরা।

চলবে…

 #শুকনো_পাতার_নূপুর_পায়ে #আয়েশা_শেখ  #পর্ব_৬ [কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ] — দুই মাস আগে—আকাশজুড়ে মেঘের ঘনঘটা, পুরো ধরণী ধূ...
10/07/2026

#শুকনো_পাতার_নূপুর_পায়ে
#আয়েশা_শেখ
#পর্ব_৬
[কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ]

— দুই মাস আগে—

আকাশজুড়ে মেঘের ঘনঘটা, পুরো ধরণী ধূসর চাদরে ঢাকা। মেঘের সেই গাঢ় অন্ধকারে বিকালের আলোটুকু ম্লান হয়ে চারপাশটাকে সন্ধ্যার মতো থমথমে দেখাচ্ছে। চৌধুরী ভিলার এক কোণে ঝিলমিলের শোবার ঘরের জানালা। সেই জানালা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা ডালপালা ছড়ানো পেয়ারা গাছটা বাতাসে মৃদু দুলছে। জানালায় রাখা ছোট্ট সাউন্ড বক্স থেকে ভেসে আসছে ‘রিমঝিমে ধারাতে’ গানের সুর। বৃষ্টির ছাঁটে ভেজা গাছের একপাশের একটি ডাল একটু পরপরই নেড়ে উঠছে।

ঠিক সেই মুহূর্তে চৌধুরী ভিলার প্রধান গেটে এসে দাঁড়াল বারিশ। পরনে তার লাল রঙের হাতাকাটা গেঞ্জি আর কালো প্যান্ট। গেট দিয়ে ঢুকেই তার চোখ গেল পেয়ারা গাছটার দিকে। এই সময়ে গাছের ওপর ওটা কে, সেটাই একটু খুঁটিয়ে দেখার চেষ্টা করল সে। তবে ওপরের ডালপালায় থাকা মানবীটির কেবল পেছন দিকটাই চোখে পড়ল। পরনে একটা পিঙ্ক কালারের টি-শার্ট আর ফোর-কোয়ার্টার লেডিস জিন্স প্যান্ট। বারিশ আর অহেতুক কৌতূহল বাড়াল না, তার নজর ওখান থেকে সরে এলো। মূলত মেহরাজকে ডাকতেই তার এখানে আসা। ( গল্পে আকাশের নাম পরিবর্তণ করে মেহরাজ রাখা হয়েছে।) তাই সে ধীরপায়ে সদর দরজার দিকে এগিয়ে যেতে লাগল।

এদিকে ঝিলমিল তখন মহাব্যস্ত। ডালের মগজে থাকা এক লোভনীয় পেয়ারা পাড়ার জন্য সে বেশ কিছুক্ষণ ধরে কসরত করছে। ঘরের জানালা গলে এই গাছে চড়েছে সে। বাড়ির কেউ যদি তার এই বান্দরমি একবার দেখে ফেলে, তবে নির্ঘাত ওর ঠ্যাং ভেঙে দেবে। সেই ভয়েই দ্রুত হাত-পা চালাচ্ছে সে। তার ওপর আবার বৃষ্টির ছোঁয়ায় গাছের ডালপালাগুলো বড্ড পিছল হয়ে আছে। একটা পেয়ারা ইতিমধ্যেই কামড়ে ধরেছে ঠোঁটের মাঝে, আর হাত বাড়িয়ে অন্যটি ধরার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। ঝিলমিলের বিরক্ত লাগল। যে জিনিসটা নাগালের বাইরে থাকে, সেটাই কেন এত সুন্দর দেখায়? যেমন এই পেয়ারাটা! অসম্ভব সুন্দর দেখতে। এত নিখুঁত আর টসটসে দেখতে! এটাকে আজ পেড়ে ঘরে না ফিরতে পারলে রাতে ওর চোখে কিছুতেই ঘুম আসবে না। জেদ চেপে বসল মাথায়।

ঝিলমিল এবার ডালের একদম শেষ প্রান্তে চলে এসেছে। ভারসাম্য বজায় রাখতে নিজের পায়ের দুটো বুড়ো আঙুলের ওপর সমস্ত ভর ছেড়ে দিল ও। শরীরটাকে যতটুকু সম্ভব প্রসারিত করে পেয়ারাটার বোঁটা হালকা ছুঁয়েও ফেলেছিল। কিন্তু ঠিক তখনই অঘটনটা ঘটল। পায়ের নিচের ভেজা ডালটা থেকে আচমকা ফসকে গেল ওর দুটো পা-ই। ভারসাম্য হারিয়ে ডালপালা ভেঙে সোজা নিচের দিকে পড়ে যেতে লাগল সে। মুখে পেয়ারাটা শক্ত করে চেপে থাকায় এই চরম বিপদেও গলা ফেটে কোনো চিৎকার বের হলো না। আসন্ন পরিণতির কথা ভেবে মেয়েটা স্তীব্র আতঙ্কে নিজের চোখ দুটো খিঁচে বন্ধ করে ফেলল মেয়েটা। পড়ে গিয়ে ম’রে গেলে তো গেলোই। তবে হাত-পা ভেঙে যতটুকু অক্ষত থাকবে, বাকিটা ওর মা ভাঙবে।

কিন্তু মাটিতে আছাড় খাওয়ার সেই ব্যথাটা ঝিলমিলের শরীরে অনুভূত হলো না। শূন্যে ভাসতে ভাসতেই আকস্মিকভাবে শক্ত আর প্রচণ্ড বলিষ্ঠ কোনো অস্তিত্বের মাঝে সে থমকে গেল। পতন ঠেকাতে অবচেতনেই ওর দুটি হাত গিয়ে জড়িয়ে ধরল কারোর চওড়া কাঁধ। শূন্যে ঝুলতে থাকা পা দুটোও ছিটকে গিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেষ্টন করে নিল কারোর শক্ত কোমর।

হঠাৎ নিজেকে এমন নিরাপদ আশ্রয়ে আবিষ্কার করে বন্ধ চোখের মাঝেই ভ্রু কুঁচকে উঠল কিশোরীর। হাতের নিচে নরম মাটি বা গাছের ডালের বদলে অন্য কিছু একটা টের পেয়ে ওটা ছুঁয়ে দেখার চেষ্টা করল সে। আঙুলের স্পর্শে মনে হলো, কোনো মানুষের চওড়া বুক এটা! সংশয় নিয়ে অবশেষে নিজের চোখ মেলে তাকাল ঝিলমিল।

তাকাতেই বিস্ময়ে ওর চোখ দুটি চড়কগাছ হয়ে গেল! চোখের সামনে তার অত্যন্ত সুদর্শন যুবক। যার তীক্ষ্ণ চোখ জোড়া স্থির হয়ে আছে ঝিলমিলের ওপর। ঝিলমিলের মুখে কা’মড়ে ধরা সেই পেয়ারাটার অন্য প্রান্তটি যুবকের ঠোঁট স্পর্শ করে আছে! যুবকের ভেজা চুলগুলো থেকে দু-এক ফোঁটা জল কপাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে নিচে। মেয়েটাকে এভাবে বোকার মতো তাকিয়ে থাকতে দেখে যুবকটি নিজের মুখ বাড়িয়ে ঝিলমিলের ঠোঁটের ফাঁকে থাকা পেয়ারাটা নিজের মুখে নিয়ে এক ঝটকায় ওটা ছুড়ে ফেলে দিল অন্য পাশে।

গম্ভীর গলায় সে সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিল,
_“কে তুমি? পেয়ারা চুরি করছিলে কেন এখানে?”

ঝিলমিল তখনো ঘোরের মধ্যে। যুবকের প্রশ্ন শুনে সে ঝটপট ওখান থেকে নেমে যেতে চাইল, কিন্তু তখনই খেয়াল করল ওর দুপা তখনো ছেলেটার কোমর শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে! লজ্জায় আর আড়ষ্টতায় লাল হয়ে সে ছটফট করে বলে উঠল,
_“ছাড়ুন! নামতে দিন আমায়।”

যুবকটি ওকে ছাড়ল না, আরও শক্ত করে ধরে রেখে বলল,
_ “না, আগে বলো কে তুমি? চোর কোথাকার!”

নিজের বাড়িতে চোর অপবাদ শুনে ঝিলমিলের ভেতরের জেদ চাড়া দিয়ে উঠল। সে গলা উঁচিয়ে বলল,
_“আমি চোর নই! এটা আমার পেয়ারা গাছ।”

যুবকটি ভ্রু কুঁচকে তাকাল,
_“তোমার মানে?”

ঝিলমিল এবার গায়ের জোরে লোকটার কোল থেকে নিচে নেমে এল। পুরো শরীর বৃষ্টির ছাঁটে ভিজে একাকার। টি-শার্টটা শরীরের সাথে লেপ্টে যাওয়ায় সে একটু অস্বস্তিতে পড়ল। তড়িঘড়ি করে দুহাত আড়াআড়িভাবে নিজের বুকের ওপর ভাঁজ করে নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করে একটু ইতস্তত করে বলল,
_“চাচ্চু! আপনি হয়তো আমাকে চেনেন না। আমি ঝিলমিল, মেহরাজ চাচ্চুর ভাতিজি। তবে আমি আপনাকে চিনি। বারিশ... আপনি বারিশ তাই না? না মানে, বারিশ চাচ্চু।”

যুবকের মুখের গম্ভীর ভাবটা এক পলকে বদলে গেল। চোখের দৃষ্টিতে এক অদ্ভুত জটিলতা ফুটিয়ে সে কিছুটা চড়া সুরে জিজ্ঞেস করল,
_“তুমি কে?”

ঝিলমিল একটু বিরক্ত হয়েই ঠোঁট উল্টে বলল,
_ “বললাম তো! আমি ঝিলমিল!”

_“তুমি আলতাফ চৌধুরীর মেয়ে?” বারিশের গলায় এবার চরম বিস্ময়। সে খুব অবাক হয়ে ওপর-নিচ খুঁটিয়ে দেখল সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এই চঞ্চল কিশোরীকে।

ঝিলমিল নিজের ভেজা চুলগুলো কানের পেছনে গুঁজে দিয়ে বেশ বুক ফুলিয়ে জবাব দিল,
_“হ্যাঁ।”

বারিশ চোখের পলক ফেলতে ভুলে গেল। কিন্তু নিজের ভেতরের অবাক ভাব সে বুঝতে দিলো না কিশরীকে।
_ “তুমি না ছোট ছিলে?”

_“তো আমি কি এখন বুড়ি হয়ে গেছি?” বেশ ঝেঁঝিয়ে উঠে বলল ঝিলমিল।

বারিশ আর কোনো জবাব দিল না। মুখে কিছু না বললেও তার গভীর চোখের দৃষ্টি তখনো এই মেয়েটার ওপরই স্থির হয়ে রইল।

ঝিলমিল আর তাকে পাত্তা না দিয়ে হনহন করে ঘুরে মাটিতে ছিটকে পড়া পেয়ারাগুলো একে একে তুলে নিতে লাগল। চারটে পেয়ারা দুই হাত ভরে তুলে নিল। আরেকটা তুলে নিতেই অমনি হাতের ভারসাম্য হারিয়ে আগের গুলো টুপটাপ করে নিচে পড়ে গেল। মেয়েটা বিরক্তি মিশিয়ে পূণরায় সেগুলো তুলতে যেতেই, বাকিগুলো কোল গলে আবারও ঘাসের ওপর ড্রপ খেল। কোনো ভাবেই সে একসঙ্গে সবগুলো তুলতে পারছিল না। ঝিলমিলের কাণ্ডকারখানা বারিশ চুপচাপ দাঁড়িয়ে দেখছিল। একপর্যায়ে সে ধীরপায়ে এগিয়ে এসে নিজের বড় এক মুঠোতেই মাটিতে পড়ে থাকা সব কটা পেয়ারা অনায়াসে তুলে নিল। তারপর বেশ হুকুমের সুরে বলল,
_“ভেতরে যাও। আমি এগুলো নিয়ে দিচ্ছি।”

ঝিলমিল তড়িৎ গতিতে মাথা ডানে-বামে নাড়িয়ে সোজা বারণ করে দিল,
_“উঁহু, আপনি যান। আমি ওদিক দিয়ে ভেতরে যাব না।”

ভ্রু ভাঁজ ফেলে গম্ভীর গলায় জানতে চাইল বারিশ,
_ “কেন?”

_“এমনিতেই বৃষ্টিতে ভিজে একাকার হয়েছি, তার ওপর আবার গাছে উঠেছি শুনলে আম্মু একদম কাঁচা চিবিয়ে খাবে!”

বারিশ একটু অবাক হয়ে চারপাশটা দেখে নিয়ে বলল,
_“তাহলে ঘরে ঢুকবে কীভাবে?”

_“কেন, এখান দিয়ে!” ঝিলমিল বেশ চটপটে ভঙ্গিতে হাত উঁচিয়ে নিজের শোবার ঘরের খোলা জানালা আর লাগোয়া ছোট বারান্দাটার দিকে ইঙ্গিত করল। যার সহজ মানে হলো—সে আবার ওই পিছল গাছ বেয়েই ওপরে উঠবে! বারিশের চোখ এবার কপালে উঠল। বলল,
_“ এসেছিলে কীভাবে?”

_“এখান দিয়েই!”

_“ বাঁদর!”

_“ কী বললেন?”

_“ কিছু না।”

দূর থেকে ঝিলমিলের মায়ের কন্ঠ ভেসে আসছে। ঝিলমিল তড়িঘড়ি করে পেয়ারা গাছের দিকে যেতে চাইল, তবে বারিশ ওর টি-শার্টের পেছনের অংশ টেনে ধরে বলল,
_“ চুপচাপ মেইন দরজা দিয়ে বাসায় ঢুকবে। চলো আমার সাথে।”

কথাটা বলেই সে ঝিলমিলকে প্রায় একরকম টেনেহিঁচড়ে সদর দরজার দিকে নিয়ে যেতে থাকে। ঝিলমিল রেগেমেগে চেঁচাতে গিয়েও মায়ের ভয়ে মুখ খুলতে পারে না। গলার স্বর যতটা সম্ভব নামিয়ে ফুসতে ফুসতে বলতে থাকে,
_ “আরে ছাড়ুন! কী করছেন কী? হাতটা ছাড়ুন বলছি!” কিন্তু ওই পাথরের মতো শক্ত হাতের গ্রিপ থেকে নিজেকে মুক্ত করার সাধ্য ওর ছিল না। আলটিমেটালি, চৌধুরী ভিলার মেইন গেট দিয়েই বারিশ ওকে ভেতরে নিয়ে প্রবেশ করে।

চৌধুরী ভিলার লিভিং রুমে তখন বিকালের চায়ের বেশ একটা জমজমাট আমেজ। সবাইকে চা-নাস্তা পরিবেশন করে নাজমা বেগম সিঁড়ির গোড়ায় দাঁড়িয়ে ওপরের ঘরের দিকে তাকিয়ে মেয়েকে ডাকছিলেন। তখনই সদর দরজার দিকে চোখ পড়ে আলতাফ চৌধুরীর। মেয়েকে ওই অবস্থায় দেখে তিনি সোফায় বসেই হাঁক ছাড়েন,
_“ওই তো ঝিলমিল!”
কিন্তু পরক্ষণেই যখন ঝিলমিলের পেছন থেকে ভেজা শরীরে বারিশ ড্রয়িংরুমে পা রাখে, আলতাফ চৌধুরীর মুখের চায়ের চুমুকটা গলায় আটকে যায়। তিনি মারাত্মক বিষম খেয়ে খাশতে খাশতে সোফা ছেড়ে দাঁড়িয়ে পড়েন।

বারিশ অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে এগিয়ে আসতে আসতে ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ঝুলিয়ে বলে,
_“কী হলো স্যার? চা কি বেশি গরম?”

আলতাফ চৌধুরী কোনোমতে কাশি সামলে নিয়ে রুক্ষ স্বরে জিজ্ঞেস করেন,
_“তুমি এখানে? এই অসময়ে?”

_“এখানে আসতে হলে কি আপনাকে আলাদাভাবে ভিসা-পাসপোর্ট করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে আসতে হবে স্যার?” বারিশের এই চটজলদি জবাবে আলতাফ চৌধুরী আরও বিরক্ত হন।
ঠিক তখনই নূরজাহান চৌধুরী চায়ের কাপটা টেবিলে নামিয়ে রেখে উঠে আসেন। পরম স্নেহে বারিশের চিবুক ছুঁয়ে আদর করে বলেন,
_“ঠিকই তো বলেছে। এখানে আসতে আবার ওর সময়-অসময় কিসের? এটা তো ওর নিজেরও বাড়ি।”

_“হ্যাঁ, নিজের বাড়িই তো! তা নিজের বাড়ি হলে তো বাংলাদেশে প্লেন থেকে পা রাখা মাত্রই এক দৌড়ে চলে আসার কথা। আসলো তো পুরো দু’দিন পর!” নাজমা বেগম মৃদু অনুযোগের সুরে কথাগুলো বললেন।

বারিশ আর মেহরাজ দু’দিন আগেই কানাডা থেকে পড়াশোনা শেষ করে সাত বছর পর দেশে ফিরেছে। একই দেশের একই ইউনিভার্সিটির পাঠ চুকিয়ে নিজ দেশের মাটিতে ফেরা তাদের। বারিশ নাজমা বেগমের দিকে তাকিয়ে কিছুটা বিনয়ের সাথে উত্তর দেয়,
_“ না, আসলে লং জার্নির পর একটু রেস্ট নেওয়ার খুব প্রয়োজন ছিল, তাই আসা হয়নি।”

নাজমা বেগম ওর আপাদমস্তক দেখে নিয়ে বলেন,
_“একেবারে বৃষ্টিতে ভিজে গেছো দেখছি। মেহরাজ ওর ঘরেই আছে, চটপট গিয়ে ওর একটা শুকনো কাপড় নিয়ে বদলে নাও। তারপর ওকে সাথে নিয়ে নিচে এসো। আমি গরম গরম পেঁয়াজু আর আলুর চপ বানিয়েছি, একসাথে বসে খাবে।”

বারিশ মাথা চুলকে চট করে বলে ওঠে,
_ “উঁহু, নাস্তা পরে হবে। আমি মেহরাজকে নিয়ে একটু ফুটবল খেলতে মাঠে বের হবো।”

ছেলেটার এই খামখেয়ালি কথা শুনে আলতাফ চৌধুরী আবার চটে ওঠেন,
_ “এই তো, শুরু হয়ে গেল! মেহরাজ কোত্থাও যাচ্ছে না। ভিনদেশ থেকে এসে এখনো চব্বিশ ঘণ্টাও পার করতে পারোনি, এর মধ্যেই আবার বাদরামি শুরু করে দিলে? বয়স তো আর কম হলো না, এখনও কি ছোট বাচ্চাদের মতো ফুটবল খেলার বয়স আছে তোমার?”

স্বামীর এমন কড়া কথা শুনে নাজমা বেগম পাশ থেকে বললেন, _“আহা, তুমি এমন করছ কেন? ফুটবল তো জোয়ান ছেলেরাই খেলবে, নাকি ঘরের মেয়েরা গিয়ে খেলবে?”

_“ও খেলুক গিয়ে, মেহরাজ যাবে না।” আলতাফ চৌধুরী নিজের সিদ্ধান্তে অটল।

বারিশ ওনার দিকে এক পলক চেয়ে বেশ ঠান্ডা গলায় জানতে চায়,
_“আসলেই যাবে না?”

_“না।”

_“সত্যি?”

_“হ্যাঁ, এক কথা বারবার বলতে পারব না।”

_“ওকে, ফাইন।” বারিশ আর কথা বাড়ায় না। নিজের এক হাতের মুঠোয় থাকা পেয়ারাগুলো সেন্ট্রাল টেবিলের ওপর নামিয়ে রাখে সে। তারপর দুই হাত দিয়ে নিজের ভেজা চুলগুলো পেছন দিকে ঝাড়তে ঝাড়তে, ভেজা অবস্থাতেই মেহরাজের রুমে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সিঁড়ির দিকে পা বাড়ায়।

কিন্তু সে সিঁড়ির প্রথম ধাপে পা দেওয়ার আগেই, এক ঝড়ের গতিতে তাকে সজোরে কনুই দিয়ে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে, ভেজা কাপড়ে পুরো ড্রয়িংরুমের মেঝেতে পানির দাগ ফেলে এক দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে যায় ঝিলমিল। পরক্ষণেই ওপর তলা থেকে ধপাস করে ওর ঘরের দরজা বন্ধ হওয়ার চড়া আওয়াজ পাওয়া যায়।

হুট করে বারিশের এমন আকস্মিক আগমনে নাজমা বেগম এতক্ষণ নিজের মেয়ের এই ভেজা কাকের মতো অবস্থাটা খেয়ালই করেননি। লিভিং রুমের বাকি সবার সাথে বারিশও কয়েক সেকেন্ডের জন্য স্তব্ধ হয়ে ওপরে তাকিয়ে থাকে ঝিলমিলের এই বন্য কান্ড দেখে।
বিস্ময়ের ঘোর কাটতেই নাজমা বেগম বলে ওঠেন,
_“আরে! ও না নিজের রুমে ছিল? ভিজে আসলো কোত্থেকে?”

বারিশ সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠতে উঠতে পেছনে না তাকিয়েই অত্যন্ত নিরাসক্ত গলায় জবাব দেয়,
_ “পেয়ারা গাছ থেকে।”

ব্যস, এইটুকুই! বারিশ মেহরাজের ঘরের ভেতর অদৃশ্য হতেই নিচে লিভিং রুমে শুরু হয়ে যায় ঝিলমিলের মায়ের অবিরাম রেডিওর মতো বকাঝকার সুর।

———
বারিশ শেষ পর্যন্ত আলতাফ চৌধুরীর কড়া নিষেধ উড়িয়ে দিয়ে মেহরাজকে সাথে নিয়েই মাঠের দিকে রওনা দেয়। আলতাফ চৌধুরী ড্রয়িংরুমে সোফায় বসে অগ্নিদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলেও ওনার সামনে দিয়েই দুই বন্ধু বেরিয়ে পড়ে। ঝিলমিল বকা খাওয়ার ভয়ে ওপরে নিজের ঘরে খিল এঁটে বসে থাকে। একদম রাতের খাবারের ডাক পড়ার পর সে প্রথম নিচে নামার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সোজা ডাইনিংয়ে না গিয়ে সে পা বাড়ায় তার ফুপি দীঘির ঘরের দিকে।
দীঘি তখন নিজের পড়ার টেবিলের সামনে বসে ল্যাপটপে কী একটা জরুরি কাজ করতে ব্যস্ত। ঝিলমিল ঘরে ঢুকেই ফুপির বেডের পাশে রাখা সাইড টেবিলের ড্রয়ার থেকে চকলেটের বক্স থেকে একটা চকলেট বের করে মুখে পুরতে পুরতে বেশ আয়েশ করে বলে ওঠে,
_“তোমার জামাই তো চলে এসেছে ফুপি।”

দীঘি ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকে চোখ না সরিয়েই ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করে,
_ “আমার জামাই মানে? কী হাবিজাবি বকছিস?”

_“ঐ যে, বারিশ চাচ্চু!” ঝিলমিল চকলেটের খোসাটা ডাস্টবিনে ফেলতে ফেলতে চোখ নাচাল।

দীঘি এবার ল্যাপটপ থেকে পুরোপুরি মনোযোগ সরিয়ে ঝিলমিলের দিকে ঘুরে বসে। কিছুটা বিরক্ত আর অবাক হয়ে বলে,
_“বারিশ ভাইয়া আবার আমার জামাই হতে যাবে কেন? তোর কি মাথা খারাপ হয়েছে?”

_“ওমা! তুমি এখনো কিচ্ছু জানো না?” ঝিলমিল দীঘির একদম কাছে এগিয়ে এসে ফিসফিস করে বলে,
_“ঝর্ণা দাদী তো কালকেই আমাদের বাসায় এসে আমার দাদীমার সাথে কথা পাকা করে গেছেন। মানে, তোমাদের দুজনের বিয়ের কথা।”

কথাটা শুনে দীঘির ফর্সা মুখটা এক নিমেষে গম্ভীর হয়ে ওঠে। সে তীব্র বিস্ময় নিয়ে ঝিলমিলের দিকে তাকিয়ে জানতে চায়,
_ “মাথা খারাপ হয়েছে তোর? এসব তোকে কে বলল?”

_“সত্যি বলছি ফুপি! আমি নিজের কানে শুনেছি। তোমার সাথে কি আমি এসব ফাজলামো করতে যাব?”

দীঘির মনের ভেতর অদ্ভুত তোলপাড় শুরু হয়েছে। সে নিজের ভেতরের উদ্বেগ চেপে রেখে ধীর গলায় জিজ্ঞেস করে,
_“মা কী বলেছে এই ব্যাপারে?”

_“দাদীমা তো খুব খুশি! মানে উনি একপায়ে রাজি। বলতে গেলে আব্বু বাদে পরিবারের সবাই এই বিয়েতে রাজি।” ঝিলমিল চকলেটের স্বাদটা উপভোগ করতে করতে পুরো ভেতরের খবর ফাঁস করে দেয়।

ভাতিজির মুখে মায়ের সম্মতির কথা শুনে দীঘির কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সে আনমনেই বিড়বিড় করে বলে, _“কিন্তু আমি…”

_“তুমি কী ফুপি?”কৌতূহলী চোখে ফুপির মুখের দিকে তাকায় ঝিলমিল।

দীঘি নিজের মুখের কথাটা বলতে গিয়েও মাঝপথে আটকে যায়। চট করে নিজেকে সামলে নিয়ে সে চুপ হয়ে যায়। কারণ এই বাচাল মেয়েটার পেটে কোনো কথা হজম হয় না। এখন যদি নিজের মনের আসল কথাটা এর সামনে একবার মুখ ফসকে বলে ফেলে—তবে এই মেয়ে এক দৌড়ে গিয়ে দাদীমার কানে সব হুবহু তুলে দেবে!

_“কিছু না। যা এখন এখান থেকে, নিজের চরকায় তেল দে।” দীঘি বেশ কড়া গলায় ভাতিজিকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।

ঝিলমিল নাছোড়বান্দা, ফুপির হাত ধরে টানতে টানতে বলে,
_“তুমিও চলো ফুপি, একসাথে নিচে গিয়ে রাতের খাবারটা খাবো।”

দীঘি সন্দিহান চোখে তাকিয়ে জেরা করার ভঙ্গিতে বলে,
_“আজ হঠাৎ এত তেল মারছিস কেন আমায়? নির্ঘাত কোনো আকাম-কুকাম করে এসেছিস, তাই না?”

ঝিলমিল দাঁত কেলিয়ে চুরির দায় স্বীকার করার মতো করে বলে,
_“আহা চলোই না! আম্মু যদি মারতে আসে, তুমি একটু বাঁচিয়ে দিও। চলো এবার।”

দীঘিকে সঙ্গে নিয়েই শেষমেশ নিচে ডাইনিং স্পেসে আসে ঝিলমিল। নিচে পা রাখতেই দীঘির বুকের ভেতরটা আচমকা ধক করে ওঠে। খাবার টেবিলে চৌধুরী বাড়ির সবার সঙ্গে স্বয়ং বারিশও উপস্থিত! ফুটবল খেলা শেষে মেহরাজই ওকে জোর করে ধরে এনে ডাইনিং টেবিলে বসিয়েছে। দুই বন্ধু মিলে কোনো কিছু নিয়ে কথা বলছে আর খাচ্ছে। দীঘিকে হুট করে সামনে দেখেই বারিশ বেশ সহজ গলায় বলে ওঠে,
_“কীরে,কেমন আছিস?”

দীঘি নিজের ভেতরের অস্বস্তিটুকু আড়াল করে আমতা আমতা করে জবাব দেয়,
_“ভালো। তুমি কেমন আছ?”

_“ভালো,” বারিশের সংক্ষিপ্ত উত্তর।

ঝিলমিল আর দীঘি দুজনেই গিয়ে টেবিলের খালি আসন দুটোয় বসে পড়ে। একে একে পরিবারের বাকি সবাইও ডাইনিংয়ে এসে নিজ নিজ জায়গায় বসে। টেবিলে চামচ-প্লেটের টুংটাং শব্দের সাথে টুকটাক কথাও চলতে থাকে। নাজমা বেগম হঠাৎ পিছন থেকে এসে ঝিলমিলের কানটা হালকা মুচড়ে দিয়ে রাগতস্বরে বলেন,
_ “এবার আমি ওই পেয়ারা গাছটা কা’টব, তোকে কিছু বলব না।”

_“আহ আম্মু! সবার সামনে এমন ডাইনির মতো চিল্লাপাল্লা করো কেন বলো তো?”

_“একদম মুখে মুখে তর্ক করবি না, চুপচাপ খা এখন,” নাজমা বেগম প্লেটে ভাত বেড়ে দিতে দিতে ধমক দেন।

এতক্ষণ শান্ত থাকা আলতাফ চৌধুরী এবার মেয়ের দিকে তাকিয়ে একটু হেসে বলেন,
_ “এসএসসিতে তো কোনোমতে টেনেটুনে পাস করেছ। এইচএসসির শুরু থেকেই কিন্তু একদম মন দিয়ে প্রিপারেশন নিতে হবে। এবার যদি এ+ না আসে, আমি কিন্তু তোমার ওপর খুব রেগে যাবো, বলে রাখলাম।”

ঝিলমিল ভাতের লোকমা মুখে পুরে বেশ তাচ্ছিল্যের সুরে বলে,
_“আগে কলেজে ভর্তি তো হয়ে নেই আব্বু! একদম ফাটিয়ে প্রিপারেশন নেব, দেখো তুমি।”

পাশে বসা মেহরাজ ঝিলমিলের কাছে জানতে চায়, সে কোন কলেজে ভর্তি হতে ইচ্ছুক। ঝিলমিল বেশ চটপটে ভঙ্গিতে শহরের নামকরা একটা কলেজের নাম উল্লেখ করে। চুপচাপ খেতে থাকা
বারিশ ক্ষণিকের জন্য হাতের লোকমাটা মুখের কাছে নিয়ে স্তব্ধ হয়ে যায়। খাওয়া থামিয়ে সে গভীর কোনো ভাবনায় ডুবে পড়ে। তার এই ভাবান্তর দেখে মেহরাজ ডেকে ওঠে,
_ “কী হলো দোস্ত? থামলি কেন?”

_“আর খাবো না। বাসায় ফিরতে হবে আমার,” বলেই বারিশ সবাইকে অবাক করে দিয়ে চেয়ার ছেড়ে সোজা দাঁড়িয়ে, পকেট থেকে টিস্যু বের করে হাত মুছতে মুছতে সে ডাইনিং রুম থেকে বের হয়ে যায়। ওর এই হুট করে চলে যাওয়াটা টেবিলে বসা কাউকে কথা বলার সুযোগই দেয় না।

বারিশ সদর দরজা দিয়ে বের হতেই চৌধুরী ভিলায় প্রবেশ করে তাহসান। মেহরাজ ওকে দরজার কাছে দেখতে পেয়েই চড়া গলায় ডেকে এনে জোর করে খাবার টেবিলে বসিয়ে দেয়। তাহসান অবশ্য প্রথমে বসতে বেশ ইতস্তত করছিল, কিন্তু মেহরাজের নাছোড়বান্দা জেদের কাছে শেষমেশ তাকে হার মানতেই হয়।

দীঘি তাহসানকে টেবিলে বসতে দেখেই চোখ সরু করে জিজ্ঞেস করে,
_“তুমি আজ এত দেরিতে আসলে যে?”

তাহসান বেশ ভদ্রতার সাথে মাথা নিচু করে উত্তর দেয়,
_“জি ম্যাম, অফিসে আজ কাজের চাপ একটু বেশি ছিল, তাই লেট হয়ে গেল।”

তাহসানের মুখে এই যান্ত্রিক কথাবার্তা শুনে দীঘির মুখটা এমন হলো যেন খুব বিরক্ত হলো তাহসানের কথায়। সে আবারও মনোযোগ দিয়ে খেতে থাকে।


শেহরিয়ার ভিলাতে এসে বারিশ নিজের পরিবারের সবার সঙ্গে পূনরায় খেতে বসেছে। খাওয়া-দাওয়ার একপর্যায়ে সে অত্যন্ত শান্ত কিন্তু দৃঢ় গলায় বলে,
_ “ প্রফেসরের জব নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি।”

কথাটা শোবামাত্রই টেবিলের সবাই আকাশ থেকে পড়েন। ঝর্ণা বেগম হাতের জলের গ্লাসটা টেবিলে নামিয়ে রেখে তীব্র অবাক হয়ে বলেন,
_ “হঠাৎ এই অদ্ভুত সিদ্ধান্ত কেন? শেহরিয়ারদের ছেলে হয়ে তুমি শেষে কিনা প্রফেসরের চাকরি করবে?”

বারিশ নিজের প্লেট থেকে চোখ না তুলেই শান্ত গলায় পাল্টা প্রশ্ন করে,
_“কেন শিক্ষকতা করা কি খুব খারাপ কোনো কাজ?”

_“তাহলে আমাদের এই বিশাল বিজনেস কে দেখবে?”

_“ এত বছর ধরে কারা দেখছে?” বারিশের গলায় অদ্ভুত এক নির্লিপ্ততা।

_“এতদিন যা হয়েছে হয়েছে, এখন থেকে তুমিও পুরো দমে হাল ধরবে।”

_“হ্যাঁ, অবশ্যই ধরব। তবে পার্টটাইম। বিজনেসের পাশাপাশি আমি যেটা করতে চাই, সেটাই করব।”

ঝর্ণা বেগম ছেলের এই মুখের ওপর কথা বলা দেখে রেগেমেগে আরও কিছু বলতে যাবেন, তখনই বারিশ মেজাজ হারিয়ে ডাইনিং টেবিলে সজোরে একটা থাপ্পড় মেরে বসে। থালার চামচগুলো ঝনঝন করে কেঁপে ওঠে তার সেই চড়ের চোটে। বারিশ দাঁতে দাঁত চেপে কড়া গলায় সতর্ক করে দেয়,
_“আমি এই ব্যাপারে আর একটা শব্দও শুনতে চাই না আম্মা! অতীতে আমার ওপর জোর খাটানোর ফলাফল কী হয়েছিল, তা আশা করি তোমরা কেউ ভুলে যাওনি! ডোন্ট রিপিট দ্য সেইম মিসটেক।”

প্লেটের বাকি খাবার ওখানেই ফেলে রেখে চেয়ারটা ঝটকা মেরে পেছনে ঠেলে নিজের ঘরের উদ্দেশ্যে হনহন করে চলে যায় বারিশ।
ডাইনিং রুমে তখন পিনপতন নীরবতা। ঝর্ণা বেগম নিজের বড় ছেলে আর স্বামীর দিকে তাকিয়ে বলেন,
_“দেখলে তো? সাত বছর পার হয়ে গেল, কিন্তু একটুও বদলায়নি!”

লাইক কমেন্ট করবেন বেশি করে। গল্প নিয়ে দু’চার লাইন কমেন্ট করলে কী হয়? এতগুলো শব্দ লিখি আর আপনারা যন্ত্রের মতো একটা শব্দ লিখে চলে যান! পাঠকের সাপোর্ট ছাড়া লেখক লিখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে ভাইইইইই।

চলবে….

ভুল ক্রটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখিয়েন।

Address

Gazipur
গল্পেররাজ্য

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ভয়ংকর ভুত ও রোমান্টিক প্রেমের গল্প posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category