11/01/2025
টানা ৫দিন কেস চলল। শিশিরের ফুফু কাকলী খায়ের তার একমাত্র ছেলের এই বেহাল দশা করার জন্য শুভ্রকে কঠিন শাস্তি দিতে চাইছিলেন। তিনি পুলিশের পিছনে টাকার পর টাকা ঢাললেন,,কিন্তু লাভের লাভ কিছুই হলো না। ছেলের এই অবস্থায় শুভ্রর বাবাও দেশে আসলেন। এবং তিনি কেস সম্পুর্ণ নিজের পক্ষে করে ফেললেন। কাকলী খায়ের শুধু টাকার পর টাকাই ঢাললেন,,কিন্তু কোন কৌশলে কার কাছে গেলে সাহায্য পাওয়া যাবে তিনি কিছুই জানেন না। অপর দিকে শুভ্রর বাবা দেশের বড়মানের ব্যাবসায়ী,, তিনি উপরের মহলের সাথে কথা বলে খুব সহজেই ছেলেকে ছাড়িয়ে নিলেন। তিনি চাইছিলেন উল্টো কেস করে কাকলী খায়ের আর আরিফকে ফাসিয়ে দিবেন,,কিন্তু শুভ্র মানা করল।কিন্তু তিনি ছেলের পিছনে লোক লাগিয়ে দিলেন, কার জন্য তার ছেলে এভাবে মারামারি করে বেড়াচ্ছে,, এই খোজ খবর না জানলেই নয়।
সাজেদ শুভ্রকে সম্পুর্ণ ঘটনা খুলে বলেছে সেদিন কি হয়েছিল। শুভ্রর মাথায় হাত পড়ল, কিভাবে এখন ও কি করবে,,,!! সব যেন ওর হাত থেকে ফোসকে যাচ্ছে।
আরিফের অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও ওকে হাসপাতালেই রেখেছেন কাকলী খায়ের। শিশিরও খুব অসুস্থ ছিল কয়দিন, গলা ব্যাথায় ওর খাওয়া দাওয়া বন্ধ প্রায়। নরম খাবার দিলেও ও খেতে পারতো না। গলায় আংগুলের দাগ বসে গেছে। বাসার সবাই হাজার হাজার প্রশ্ন করলেও শিশির ছিল নির্বাক। কি বলবে ও!! একটা সাইকো ছেলে ভালোবাসার নামে ওকে আর ওর ভাইকে এভাবে মেরেছে!! কিভাবে বলবে এই ছেলের সাথে ও সম্পর্কে জড়িত!! ১সপ্তাহ যাবৎ শিশির বাসায় নিজের রুমে নিজেকে বন্দি করে রেখেছে। শিশিরের ফুফু ভাইয়ের ছেলেমেয়েগুলোকে অনেক ভালোবাসেন। প্রতিবছর দেশে চলে আসেন ওদের জন্যই। তাই ছেলের এতো বড় দুর্ঘটনার পরও শিশিরকে কোনো প্রকার জেরা করেননি। বরং ভাইকে বলে দিয়েছেন মেয়ের সাথে ধীরেসুস্থে কথা বলতে।
আকাশটা অন্ধকার হয়ে আছে,এই বুঝি ঝুম করে নামবে। শিশির বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে,ঠিক সেই সময় ওর ফোন বেজে উঠল,
-কেমন আছো?
-কেনো ফোন করেছো?
-………….ক্যাম্পাসে কেনো আসো না?
-আমার ইচ্ছা,কেনো ফোন করেছো বলো!
-………………..শিশির একটু দেখা করতে চাই। কথা বলতে চাই তোমার সাথে, সামনা সামনি।
-……………হুম,,কথা আমারো আছে। দেখা আমিও করতে চাই।
-তাহলে আজকে দেখা করবে? আমি তোমাকে পিক করতে আসি?
-কোনো প্রয়োজন নেই,আমি একা আসতে পারবো। ক্যাম্পাসের পুকুরপাড়ে দেখা হবে। ১ঘন্টার মধ্যে আসছি।
শুভ্রর জবাবের অপেক্ষা না করেই ফোন রেখে দিলো শিশির। হুম,,,যেতে হবে। কথাতো অবশ্যই বলতে হবে! আজ এর একটা দফারফা করতেই হবে।হয়তো এসপার নয়তো ওসপার!!!
শিশির রুম থেকে বের হয়ে দেখে মা আর ফুফু সোফায় বসে কথা বলছে। ও বের হওয়ার সময় মা এগিয়ে এসে বললেন, “কই যাস?”,,,”আজকে তোমাদের সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবে” এতোটুকু বলেই শিশির বের হয়ে গেল।
সামনা সামনি দাড়িয়ে আছে শিশির আর শুভ্র। শুভ্রর নজর শিশিরের গলায়। দাগ এখনো স্পষ্ট। শুভ্রর ইচ্ছা করছে নিজের হাত কামড়ে ধরতে,,কিভাবে পারলো ও!!! শুভ্র হাত বাড়িয়ে শিশিরের গলায় স্পর্শ করতে যাবে, তখনই শিশির
ঝারা মেরে ওর হাত সড়িয়ে দিলো,
-খবরদাড় আমায় হাত লাগাবে না,,,,
-শিশির আমার কথাটা একটু শোনো…..
-হুম, বলো,,, তোমার কথা শোনার জন্যই তো আজ দেখা করলাম।বলো,,বলো,,,
-শিশির আমার মাথা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। আমি জানি না হঠাৎ কেনো……কিন্তু তোমার সাথে অন্য এক ছেলেকে দেখে আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম শিশির,,তোমাকে হারানোর ভয়!!
-(নিশ্চুপ)
-আমি মনে হচ্ছিল আমি………………..তুমি যদি আমাকে ছেড়ে দাও!
-এজন্য তুমি এভাবে মারধোর করেছো!!
-শিশির আমি……
-মেরেই চুপ থাকো নি,,,অপরাধী হওয়ার পরেও বিনা শাস্তিতে ঘুরে ফিরছো!!!
-(নিশ্চুপ)
-তোমার মধ্যে কি অনুতপ্ত বোধ নেই!!!
-(নিশ্চুপ)
-তোমার মত একটা একগুয়ে, রগচটা,বেপরোয়া মানুষ আমি দেখি নি। তুমি বলো,,, তুমি আমাকে ভালোবাসো!!!! আসলে তুমি নিজেকে ভালোবাসো,,তাই তুমি নিজের অপমান সইতে পারো না,,,,তোমাকে ফেলে অন্য ছেলের হাত ধরবো এর চেয়ে বড় অপমান আর কি আছে বলো,,, তাই তুমি এই কাজগুলা করো।