02/12/2025
পাবনার ঈশ্বরদীতে একটি মা কুকুর সকাল থেকে অস্থির হয়ে চিৎকার করছিল। কেউ বুঝতে পারেনি, তার বুকের ভেতর কতটা হাহাকার জমে ছিল।
পরে যখন পুকুরপাড়ে গিয়ে মানুষ একটি বস্তা খুলল সেখানে ছড়িয়ে থাকা আটটি ছোট্ট, অসহায় কুকুরছানার নিথর দেহ যেন পুরো এলাকার ওপর নেমে আনল শোকের ছায়া। জন্মের কয়েক দিনেরও না হওয়া এই প্রাণগুলো কাউকে কখনো ক্ষতি করতে পারেনি, কারও পথে দাঁড়ায়নি তবু তাদের এভাবে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়েছে!
মানুষের মুখে মুখে শুধু একটাই প্রশ্ন কেউ এত নিষ্ঠুর হতে পারে কীভাবে?
সাবেক ইউএনও সুবীর কুমার দাশ নিজের কষ্ট লুকোতে পারেননি। তিনি লিখেছেন, এই নিষ্ঠুরতা কোনো সভ্য সমাজে মানায় না। তিনি যে কুকুরগুলোকে নিজের সন্তানসুলভ ভালোবাসতেন তার বদলির পর তাদের ওপর এমন অন্ধকার নেমে এসেছে জানার পর তিনি আঘাত পেয়েছেন ভীষণভাবে। তার কথায় যেন হাজার মানুষের ভেতরের ব্যথাটাই প্রতিধ্বনিত হয়।
স্থানীয়রা বলছেন, এই কুকুরগুলো কখনো কারও ক্ষতি করত না। প্রতিদিন পথচারীদের লেজ নাড়িয়ে স্বাগত জানাত। কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন তাদের দেখে ক্লাসে যেত। আজ সেই পথেই পড়ে আছে তাদের মৃত্যু নিষ্ঠুরতার সাক্ষ্য হয়ে।
যারা এই কাজটি করেছে, তারা শুধু প্রাণী হত্যা করেনি তারা একটি সমাজের সহমর্মিতা, মানবিকতা আর লজ্জাকে গভীরভাবে আহত করেছে।
প্রাণিসম্পদ বিভাগ বলছে, এই ঘটনা পশু কল্যাণ আইনে গুরুতর অপরাধ, আর পুলিশ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে অপরাধীদের খুঁজে বের করে আইনের মুখোমুখি দাঁড় করানোর।
কিন্তু আইনের বিচার যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও বড় কথা আমরা কি সত্যিই মানবিক সমাজ গড়তে পারছি?
আজ একটি মা কুকুর তার সন্তান হারিয়ে দিশেহারা হয়ে চিৎকার করেছে। আর আমরা মানুষ হয়েও, সেই কান্না কি সত্যিই শুনেছি?
এই ঘটনা মনে করিয়ে দেয় প্রাণীরাও প্রাণ। তাদেরও ব্যথা আছে, কষ্ট আছে, মমতা আছে। আর তাদের ওপর হাত তোলা মানেই মানুষের ভেতরের মানুষটাকে হত্যা করা।
এই নিষ্ঠুরতার বিচার হোক আইনে, সমাজে, বিবেকে। যাতে আর কোনো মা তার সন্তানকে এভাবে হারাতে না হয়।
আপনার একটি শেয়ার, একটি প্রতিবাদ, একটি প্রাণকে বাঁচাতে পারে আগামী দিনে।
প্রাণীরাও প্রাণ। তাদেরও কষ্ট আছে, ব্যথা আছে, ভালোবাসা আছে। আজ তাদের জন্য আওয়াজ তুলুন
কারণ নীরবতা অপরাধীদের শক্তিশালী করে, আর প্রতিবাদ সমাজকে বাঁচায়।