15/06/2026
যারা অন্যের হক মেরে খাওয়ার জন্য বা কাউকে ঠকানোর জন্য ফন্দি আঁটে, তাদের অবস্থা কেমন হয় দেখুন!
এক গ্রামে এক চতুর ধনী ব্যক্তি বাস করত। একদিন সে এক সাধারণ কৃষকের কাছে গিয়ে বলল, "টাকা আমার আর খাটুনি তোমার! তবে শর্ত হলো, ফসল যখন পেকে যাবে, তখন মাটির ভেতরের অংশটুকু হবে তোমার আর মাটির ওপরের পুরো অংশটা হবে আমার।"
ধনী লোকটি এই চাল চেলেছিল কারণ সে জানত, মাটির নিচে তো শুধু গাছের অকেজো মূল বা শিকড় থাকে, যা ওই বোকা কৃষকের ভাগে পড়বে। আর মাটির ওপরের আসল দামী ফসলটা সে নিজেই হাতিয়ে নেবে। কৃষক কিছুক্ষণ ভাবল এবং হাসিমুখে এই শর্ত মেনে নিল।
ফসল কাটার সময় যখন এলো, চতুর ধনী ব্যক্তি নিজের ভাগের ফসল নিতে মহাআনন্দে মাঠে এসে হাজির হলো। কিন্তু মাঠে এসে নিজের কপালে হাত দিয়ে সে স্তব্ধ হয়ে বসে রইল! কারণ, চালাক কৃষক এবার জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছিল! চুক্তি অনুযায়ী মাটির নিচের আসল পেঁয়াজ চলে গেল কৃষকের ঘরে, আর মাটির ওপরের মূল্যহীন পাতাগুলো জুটল সেই ধূর্ত ধনীর কপালে।
প্রথমবারে হেরে গিয়েও লোভী ধনী লোকটির শিক্ষা হলো না। সে এবার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আরেকটি নতুন চাল চালল। সে কৃষককে বলল, "ঠিক আছে ভাই, এবার আমাদের শর্ত উল্টে যাবে। এবার মাটির ভেতরের অংশ হবে আমার আর মাটির ওপরের অংশ হবে তোমার।" কৃষক এবারও রাজি হয়ে গেল।
কয়েক মাস পর যখন ফসল কাটার সময় হলো, ধনী লোকটি বুক ফুলিয়ে মাঠে এলো। কিন্তু জমিতে পা রাখামাত্রই তার চোখ চড়কগাছ! কৃষক এবার চাষ করেছিল আখ। যার ফলে মাটির নিচের অকেজো শিকড়গুলো জুটল ধনীর ভাগে, আর মাটির ওপরের মিষ্টি ও অত্যন্ত মূল্যবান আখগুলো চলে গেল কৃষকের গোলায়।
কৃষকের বুদ্ধিমত্তার কাছে পরপর দুবার ধরা খেয়েও ধনী লোকটির চালাকি কমেনি। সে আগের সব লোকসান একবারে উসুল করার জন্য এবার কৃষককে অগ্রিম টাকা দিয়ে বলল, "আমি দুবার লস খেয়েছি। তাই এবার শর্ত হলো, ফসলের একদম নিচের অংশ এবং একদম ওপরের অংশ হবে আমার; আর মাঝখানে যা থাকবে, তা হবে তোমার!" কৃষক এবারও শর্ত মেনে নিল।
এবার ফসল কাটার দিন চতুর ধনী নিশ্চিত মনে মাঠে এলো যে, এবার লাভ শুধু তারই হবে। কিন্তু ক্ষেতে পৌঁছানো মাত্রই তার মুখের রঙ ফ্যাকাশে হয়ে গেল! কারণ, চতুর কৃষক এবার চাষ করেছিল ভুট্টা!
ভুট্টার একদম নিচের অংশ (গাছের গোড়া) এবং একদম ওপরের অংশ (ফুল ও পাতা) সম্পূর্ণ মূল্যহীন, যা ধনী লোকটির ভাগে পড়ল। আর মাঝখানের আসল দামী ও পুষ্ট ভুট্টার মোচাগুলো কৃষকের ঘরে উঠে গেল। এভাবেই এক সাধারণ কৃষকের উপস্থিত বুদ্ধির কাছে ধনীর সব চতুরতা ও লোভ ধূলিসাৎ হয়ে গেল।
চালাকি আর বুদ্ধিমত্তা এক জিনিস নয়। চতুর মানুষ সবসময় অন্যকে ঠকানোর ফাঁদ পাতে, কিন্তু সুস্থ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ নিজের মেধা দিয়ে সেই ফাঁদ ভেঙে বেরিয়ে আসে।
বুদ্ধি ও বিবেক মহান আল্লাহর দেওয়া সবচেয়ে বড় নেয়ামত। এটা সম্পূর্ণ মানুষের ওপর নির্ভর করে যে, সে এই বুদ্ধিকে পজিটিভ কাজে লাগাবে নাকি নেগেটিভ কাজে; মানুষকে সাহায্য করতে ব্যবহার করবে নাকি চালবাজি করে ধোঁকা দিতে ব্যবহার করবে!
যারা অন্যের হক মেরে খাওয়ার জন্য বা কাউকে ঠকানোর জন্য ফন্দি আঁটে, ভাগ্য কোনো না কোনোভাবে তাদের এমন শিক্ষা দেয় যে, শেষ পর্যন্ত তাদের নিজেদেরই বড় লোকসান গুনতে হয়।
© Salman Farsi
-- ইবরতনাক ওয়াকিয়াত