01/05/2026
দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ধর্মপুর বিট, একটা সময় যেখানে বনভূমির চেয়ে দখলদারদের প্রভাবই ছিল বেশি। বছরের পর বছর ধরে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় পড়ে থাকা শত শত একর জমি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছিল প্রকৃতির মানচিত্র থেকে।
এই বাস্তবতার মাঝেই ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেন বিট কর্মকর্তা মহসিন আলী। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শুরু হয় এক কঠিন লড়াই। যেটা শুধু প্রশাসনিক ছিল না, বরং ছিল অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম। হুমকি, চাপ, এমনকি শারীরিক হামলার মুখেও থেমে যাননি তিনি।
বারবার আহত হয়ে হাসপাতালে যেতে হলেও থামেনি বনভূমি রক্ষার কাজ। মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে ৩২৫ একর দখলকৃত জমির মধ্যে ২০৮ একর জমি দখলমুক্ত করেছেন তিনি। উদ্ধার হওয়া জমিতে গড়ে উঠছে নতুন বনভূমি, সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে যার সুফল এখন পেতে শুরু করেছেন স্থানীয় মানুষরাও।
এই ঘটনাটি শুধু একজন কর্মকর্তার সাহসিকতার গল্প নয় এটি আমাদের দেখিয়ে দেয় যে সঠিক উদ্যোগ, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা এবং দৃঢ় অবস্থান থাকলে হারিয়ে যাওয়া বনভূমিও ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় বনভূমি যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা আমরা প্রায়ই ভুলে যাই। অথচ প্রতিটি উদ্ধার হওয়া একর জমি মানে ভবিষ্যতের জন্য আরও একটু নিরাপদ পরিবেশ, আরও কিছু বন্যপ্রাণীর বেঁচে থাকার সুযোগ।