18/09/2023
ইসলামে দেনমোহর কার অধিকার?
মানব ইতিহাসের মতো স্ত্রীর মোহরের ইতিহাসও পুরনো। হজরত আদম আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে হজরত মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত সবার ওপর দেনমোহর দেওয়া আবশ্যক ছিল। তাহলে স্বামীর জন্য স্ত্রীকে দেনমোহর দেওয়া কি ফরজ?
নামাজ রোজা হজ জাকাত যেমন ফরজ; স্ত্রীকে দেনমোহর দেওয়াও তেমন ফরজ। সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই দেনমোহরের প্রচলন ছিল। তাইতো বেহেশতের মধ্যে হজরত আদম ও হাওয়া আলাইহিস সালামের বিয়ে পড়ানোর পর আল্লাহ পাক বলেন, হে আদম! তুমি যতক্ষণ হাওয়ার দেনমোহর পরিশোধ না করবে ততক্ষণ তার কাছে যেতে পারবে না।
এমনিভাবে হজরত নুহ, হজরত শিশ, হজরত ইবরাহিম, হজরত ইসমাইল, হজরত মুসাসহ সব নবি-রাসুলের সময় দেনমোহরের প্রচলন ছিল। শেষ নবি ও রাসুল হজরত মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মতের ওপরও আল্লাহ তাআলা দেনমোহর ফরজ করেছেন। আল্লাহ তাআলা একাধিক আয়াতে নির্দেশ দিয়ে বলেন-
وَ اٰتُوا النِّسَآءَ صَدُقٰتِهِنَّ نِحۡلَۃً
‘তোমরা খুশি মনে তোমাদের স্ত্রীদের দেনমোহর দিয়ে দাও।’ (সুরা নিসা: আয়াত ৪)
فَمَا اسۡتَمۡتَعۡتُمۡ بِهٖ مِنۡهُنَّ فَاٰتُوۡهُنَّ اُجُوۡرَهُنَّ فَرِیۡضَۃً
‘তাদের মধ্যে (স্ত্রীদের) যাদের তোমরা সম্ভোগ করেছ তাদের দেনমোহর অর্পণ কর।’ (সুরা নিসা: আয়াত ২৪)
فَانۡکِحُوۡهُنَّ بِاِذۡنِ اَهۡلِهِنَّ وَ اٰتُوۡهُنَّ اُجُوۡرَهُنَّ بِالۡمَعۡرُوۡفِ
‘সুতরাং তোমরা তাদেরকে তাদের মালিকদের অনুমতিক্রমে বিয়ে করো এবং ন্যায়সঙ্গতভাবে তাদেরকে তাদের মোহর দিয়ে দাও।’ (সুরা নিসা: আয়াত ২৫)
দেনমোহর সম্পর্কে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো নারীকে কম বা বেশি দেনমোহরে বিয়ে করলো আর সে অন্তরে স্ত্রীকে দেনমোহর আদায় না করার ইচ্ছা পোষণ করলো, কেয়ামতের দিন সে আল্লাহর দরবারে ব্যভিচারী হিসাবে উপস্থিত হবে।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন, ‘যদি কোনো ব্যক্তি দেনমোহর নির্ধারণের মাধ্যমে কোনো নারীকে বিয়ে করে অথচ আল্লাহ তাআলা ওই ব্যক্তি সম্পর্কে জানেন যে, তার অন্তরে স্ত্রীকে দেনমোহর আদায়ের বিন্দুমাত্র ইচ্ছা নেই, তাহলে সে আল্লাহর নামে ওই নারীর সঙ্গে প্রতারণা করলো এবং অবৈধভাবে তার লজ্জাস্থানের মালিক হলো, এ কারণে সে কেয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে ব্যভিচারী হিসাবে উপস্থিত হবে।’ (মুসনাদে আহমদ, বায়হাকি)
কোরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনা থেকে প্রমাণিত যে, স্ত্রীকে দেন মোহর আদায় করা স্বামীর জন্য ফরজ কাজ। ইসলামে দেনমোহরের গুরুত্ব অনেক বেশি। কেননা যে দেনমোহর পরিশোধ করবে না সে হবে ব্যভিচারী। অথচ বর্তমান সময়েও সমাজে দেনমোহরের বিষয়টিকে তেমন গুরুত্বই দেওয়া হয় না। এমনকি অনেক স্ত্রী তার দেনমোহরের অধিকারের বিষয়টি জানেই না। উপরন্তু স্ত্রীরা যৌতুক নামক অভিশাপে জর্জরিত।
সুতরাং দেনমোহর ফরজ ইবাদত। স্ত্রীর হক। যা আল্লাহ তাআলা মাফ করেন না। তাই গুরুত্বের সঙ্গে স্ত্রীর দেনমোহর পরিশোধ করতে হবে। তবে দেনমোহর এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে যেন স্বামীর পক্ষে তা আদায় করা সম্ভব হয়। স্বামী-স্ত্রীর সার্বিক অবস্থার দিকে লক্ষ রেখে তা নির্ধারণ করতে হবে। দেনমোহরের সর্বনিম্ন সীমা হচ্ছে ১০ দিরহাম কিন্তু সর্বোচ্চ কোনো সীমা নেই।
দেনমোহর হালাল সব বস্তু দিয়ে পরিশোধ করা যায়। তা হতে পারে- নগদ অর্থ, দেনমোহরের সমপরিমাণ মূল্যের গাছ, কাপড়, স্বর্ণ, রুপা, জমি ইত্যাদি।