20/06/2021
[কেসিমিরো বেস্ট চয়েজ "
কিন্ত ফাবিনহো টক্কর দিতে জানে সমানে সমান!]
বর্তমান বিশ্বের সেরা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারদের তালিকা করলে উপরের সারিতে পাশাপাশি অবস্থায় থাকেন কাসেমিরো ও ফাবিনহো৷ ব্রাজিল দলে এরকম ২ জন মিডফিল্ডার একসাথে পাওয়াটা ব্রাজিলের জন্য আশীর্বাদ স্বরুপ। অভিজ্ঞতা,ফর্ম সবমিলিয়ে কাসেমিরোকে নাম্বার ওয়ান চয়েজে রাখা হয়। কিন্তু ফাবিনহো কি খুব পিছিয়ে আছেন? তাদের দুজনকে একসাথে খেলানো যায় না?
২৯ বছর বয়সী কাসেমিরোর বর্তমান মার্কেট ভ্যালু ৭০ মিলিয়ন৷ ক্লাব ক্যারিয়ারের শুরুটা সাও পাওলোতে। এরপর পোর্তোতে ঘুরে রিয়াল মাদ্রিদের বি টিম কাস্তিয়ায় জয়েন করেন। এরপর খুব তাড়াতাড়িই রিয়াল মাদ্রিদের মেইন দলে প্রমোশন পান৷ রিয়াল মাদ্রিদের স্কোয়াডে এসে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। বর্তমান মর্ডান ফুটবলে তার মতো ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার একটা সোনার খনির মতো। ৪ জন ডিফেন্সের ব্যাকলাইনের সামনে তিনি এক্সট্রা ছায়া প্রদান করেন। ফলে দুইজন ফুলব্যাক যদি আক্রমণ করতে উপরে উঠে যায়, তাহলে তিনি ডিফেন্সের নিচে বাড়তি সিবি হিসেবে প্রটেকশন দান করেন। কাসেমিরোর খেলাতে প্রথমেই যে জিনিসটা চোখে পড়বে সেটা হলো তার চিন্তাশক্তি এবং বুদ্ধিমত্তা৷ গেম রিড করতে দক্ষ এ মিডফিল্ডার মাঝমাঠে প্রচন্ড হার্ড ওয়ার্ক করেন। বল পজিশন দ্রুত কেড়ে নিতে পারেন এবং অফেন্সিভলি অপারেট করা মিডফিল্ডারদেরকে দ্রুত পাস দিতে তিনি দারুণ দক্ষ৷ হার্ড-ট্যাকেল তার খেলার অন্যতম অংশ৷ এর বাহিরে তিনি ডি বক্সের বাহিরে থেকে পাওয়ারফুল শট করে গোল করতে সিদ্ধহস্ত। ক্লাব ক্যারিয়ারে ৩৩১ টি ম্যাচ খেলে তিনি ৩৪টি গোল করেছেন এবং ২৭টি এসিস্ট করেছেন৷ জিদান কোচ থাকাকালীন নিজেকে বেশ আপগ্রেড করেছেন তিনি। একইসাথে বক্স টু বক্স মিডফিল্ডার হিসেবেও খেলতে সক্ষম। তার ক্যারিয়ারে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সম্ভাব্য সবকিছুই জিতেছেন। এই দলের হয়ে ২৮৬ ম্যাচে ৩০ গোলের পাশাপাশি ২৪টি এসিস্ট করেছেন তিনি। "দ্যা ট্যাংক" নামে পরিচিত এই মিডফিল্ডার বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্লেয়ার।
দেশের হয়ে ২০১১ সালে অভিষেক হলেও ব্রাজিলের জার্সিতে ম্যাচ খেলেছেন মোটে ৫১টি যেখানে ৩টি গোল করেছেন তিনি। ব্রাজিল দলে তিনি বেশ কয়েক বছর ধরেই প্রথম চয়েস মিডফিল্ডার। তার অনুপস্থিতিতে গত ২ বিশ্বকাপে বেশ ভুগেছে ব্রাজিল।
অন্যদিকে ২৭ বছর বয়সী ফাবিনহো গত ৩ বছরে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা হিসেবে উন্নীত করেছেন। এর আগে মোনাকোতে তিনি রাইটব্যাক হিসেবেও খেলেছেন। বর্তমানে তার মার্কেট ভ্যালু ৬০ মিলিয়ন। তিনিও কাসেমিরোর মতোই দক্ষ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার । তিনি মাঠে থাকলে ২ ফুলব্যাক এক্সট্রা এডভান্টেজ পায় উপরে ওঠার। লিভারপুলে এই সিজনে তিনি সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবেও খেলেছেন। তিনি ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হলেও উপরে ওঠেন খুবই কম। তিনিও বল পজিশন কেড়ে নিতে দারুন দক্ষ। ১ বনাম ১ সিচুয়েশনে তার থেকে বল কেড়ে নেওয়া রীতিমতো কঠিন। ৬ ফিট লম্বা প্রচন্ড ফিজিক্যাল এই ফুটবলার হেডিংয়ে ভীষন দক্ষ৷ রাইটব্যাক হিসেবে খেলার অভিজ্ঞতা থাকায় তিনি দূর থেকে পাওয়ারফুল শট করতেও দক্ষ। ক্লাব ক্যারিয়ারের ৩৪৫ টি ম্যাচে তিনি ৩৪ টি গোলের পাশাপাশি ২৯টি এসিস্ট আছে তার। এখানে বলে রাখা ভালো,তার গোল ও এসিস্টের অধিকাংশই এসেছে মোনাকোতে থাকাকালীন। মোনাকোর হয়ে ২১টি এসিস্টের পাশাপাশি ৩১ টি গোল করেছেন৷ মোনাকো সেইসময়ে ফালকাও ও এমবাপ্পে দের মতো প্লেয়ার নিয়ে লীগ ওয়ানে যে বিপ্লব ঘটিয়েছিলো তার অন্যতম অংশীদার ছিলেন তিনি৷ লিভারপুলে এসে খেলার স্টাইল কিছুটা বদলেছে, তিনি লিভারপুলে খুব বেশি উপরে ওঠেন না৷ ২০১৮ তে চ্যাম্পিয়নস লীগ ফাইনালে হারার পর লিভারপুল সে সিজনেই এলিসন এবং ফাবিনহোকে কিনে নেয়। ফাবিনহোর অন্তর্ভূক্তিতে লিভারপুল ৩০ বছরের মধ্যে ১ম বার প্রিমিয়ার লীগ শিরোপা জেতে এবং আরাধ্যের চ্যাম্পিয়নস লীগও জিতে নেয় ।
এবার প্লেয়ার হিসেবে বিবেচনা করলে কাসেমিরো এবং ফাবিনহোর প্লেয়িং পজিশন প্রায় একই। দুজনেই সমানভাবে ভার্সেটাইল। তবে ক্যাসা বক্স টু বক্স সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে খেলতে পারেন,ফাবিনহো রাইট ব্যাক হিসেবে খেলতে পারেন৷ এই সিজনে ডিফেন্সিভ রোলে তারা ক্লাব লেভেলে প্রায় কাছাকাছি পারফরম্যান্স করেছেন। রিয়াল মাদ্রিদ এ সিজনে গোল স্কোরিং সমস্যায় ভুগছিলো,প্রয়োজনের সময় গোল করে দলের ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন কাসেমিরো। অন্যদিকে লিভারপুলের ডিফেন্ডারদের ইনজুরি সমস্যার কারনে ফাবিনহোকে এ সিজনে অনেকটা সময় সেন্টার ব্যাক হিসেবে খেলতে হয়েছে৷ সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার এবং এটাকিং মিডফিল্ডার দেরকে সাপোর্ট দিতে দুজনই সমানভাবে সফল।
ব্রাজিল দলে কাসেমিরো নিজেকে অপরিবর্তনীয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করলেও ফাবিনহো ব্রাজিল দলে সুজোগ পেয়েছেন কম৷ মাত্র ১৫ টি ম্যাচ খেলা ফাবিনহো ব্রাজিলের হয়ে গত ম্যাচেই প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে ছিলেন এবং পুরোটা সময় খেলেছেন। সাদা চোখে তিনি কাসেমিরোর যোগ্য রিপ্লেসমেন্ট । কাসেমিরো থেকে তিনি মোটেও পিছিয়ে নেই৷ ব্রাজিল দলে এলিসন ও এডারসনকে যেভাবে রোটেশন করে খেলানো হয়,সেভাবে তাদেরকেও খেলানো যায়।
সুজোগ থাকলেও ব্রাজিল দলে কখনোই তাদেরকে একসাথে খেলতে দেখা যায় নি। এর প্রধান কারন মিডফিল্ডার হিসেবে অন্য জায়গায় তারা তেমন একটা পরীক্ষিত নন৷ তাদের দুজনকে তখনি একসাথে নামানো সম্ভব হবে যখন তাদের মধ্যে কেউ সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে অপারেট করতে পারবেন। এ কাজে জিদানের অধীনে কাসেমিরো বেশ ভালোভাবে নিজেকে তৈরি করেছেন৷ ইউরোপের বড় বড় টিমের বিপক্ষে ভালো খেলতে গেলে তাদেরকে একসাথে মাঠে নামারও প্রয়োজন আছে। কোচ তিতের উচিত হবে এই দুজনকে একসাথে মাঠে নামিয়ে বাজিয়ে দেখা। এতে করে ব্রাজিলের ডিফেন্স যে আরো বেশি সাহায্য পাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
কাসেমিরো ও ফাবিনহো দুজনই বর্তমানে ব্রাজিলের বেস্ট ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার । কাসেমিরো অভিজ্ঞতায় এগিয়ে থাকলেও স্কিলে কেউ কারো চেয়ে পিছিয়ে নেই৷ নিয়মিত ফাবিনহোকে ব্রাজিল দলে দেখতে চাই।