12/09/2026
সিডনি সুইনি মানেই যেন আলোচনা। কখনো তাঁর পর্দার নগ্ন দৃশ্য নিয়ে বিতর্ক হয়, কখনো আবার জিনসের বিজ্ঞাপন করে সমালোচনার মুখে পড়েন। তবে তাঁর জনপ্রিয়তার কথাও অস্বীকার করার উপায় নেই। ‘দ্য হাউসমেইড’ থেকে ‘ইউফোরিয়া’—গত এক বছরে দুটি আলোচিত প্রকল্প দিয়ে নিজের জনপ্রিয়তা যেন আরও বাড়িয়েছেন এই তরুণ অভিনেত্রী। আজ ১২ সেপ্টেম্বর, সিডনি সুইনির জন্মদিন। এ উপলক্ষে আলো ফেলা যাক তাঁর জীবন ও ক্যারিয়ারে।
গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা
১৯৯৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের স্পোকেনে জন্ম সিডনি বার্নিস সুইনির। তাঁর শৈশব কেটেছে স্পোকেনের কাছাকাছি, ওয়াশিংটন-আইডাহো সীমান্তের গ্রামীণ পরিবেশে। মা ছিলেন ক্রিমিনাল ডিফেন্স আইনজীবী, বাবা কাজ করতেন হসপিটালিটি ইন্ডাস্ট্রিতে। ছোটবেলায় খেলাধুলায়ও বেশ আগ্রহী ছিলেন সিডনি। ফুটবল, সফটবল, স্কি, ওয়েকবোর্ডিংয়ের পাশাপাশি তায়কোয়ান্দো, জুজিৎসু, গ্র্যাপলিং ও কিকবক্সিংও শিখেছেন। স্কুলে পড়াশোনাতেও ছিলেন মেধাবী; গণিত ও রোবোটিকসের মতো বিষয়েও আগ্রহ ছিল তাঁর।
অভিনয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ অবশ্য আরও ছোটবেলা থেকেই। পরিবারের কাছে নানা চরিত্রে অভিনয় করতেন, নিজের কল্পনার জগৎ তৈরি করতেন। কিন্তু মা–বাবার কাছে অভিনয় ছিল অনেকটা শিশুর ‘রাজকন্যা হওয়ার’ স্বপ্নের মতো—সত্যিকারের পেশা হিসেবে তাঁরা শুরুতে বিষয়টি দেখেননি।
পরিস্থিতি বদলে যায় যখন তাঁদের এলাকায় একটি ছোট বাজেটের সিনেমার শুটিং শুরু হয়। তখন সিডনির বয়স ১০ থেকে ১২ বছর। সিনেমাটিতে অডিশন দেওয়ার অনুমতি পেতে তিনি মা–বাবার সামনে রীতিমতো একটি পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন তৈরি করেন। সেখানে পাঁচ বছরের একটি ব্যবসায়িক পরিকল্পনার মতো করে বুঝিয়েছিলেন—কীভাবে অডিশন দেবেন, কীভাবে বিজ্ঞাপন ও ছোট চরিত্রে কাজ করবেন, এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন এবং ধীরে ধীরে হলিউডে পৌঁছাবেন।
অভিনয়ের জন্য একটি শিশুর এমন পরিকল্পনা দেখে শেষ পর্যন্ত রাজি হন তাঁর বাবা-মা। সেই ছোট সিনেমায় সুযোগও পান সিডনি। এরপর আর থামেননি।
মাত্র ১৩ বছর বয়সে পরিবার নিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে চলে আসেন তিনি। কিন্তু স্বপ্নের শহরে পৌঁছানো মানেই সাফল্য নয়—বরং শুরু হয় কঠিন সংগ্রাম। একের পর এক অডিশন, প্রত্যাখ্যান আর অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। বহু বছর ধরে ছোট চরিত্রে কাজ করেছেন। ‘প্রিটি লিটল লায়ার্স’, ‘গ্রেস অ্যানাটমি’, ‘ক্রিমিনাল মাইন্ডস’, ‘দ্য হ্যান্ডমেইডস টেল’সহ বিভিন্ন সিরিজে দেখা গেলেও বড় সুযোগ আসতে সময় লেগেছে।
সিডনি নিজেই বলেছেন, তাঁর পাঁচ বছরের পরিকল্পনা বাস্তবে পূরণ হতে সময় লেগেছিল প্রায় ১০ বছর। কিশোরী বয়সে বারবার ‘না’ শুনতে হওয়া ছিল কঠিন। ছোট শহর থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসে গিয়ে তিনি দেখেছেন, একই স্বপ্ন নিয়ে হাজারো তরুণ-তরুণী প্রতিদিন অডিশন দিচ্ছেন। ফলে প্রতিযোগিতা ছিল তীব্র।
এ সময় সিডনির পরিবারের ওপরও আর্থিক চাপ তৈরি হয়। লস অ্যাঞ্জেলেসে থাকা, অডিশন দেওয়া ও অভিনয়ের পেছনে অর্থ ব্যয় করতে গিয়ে পরিবারকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। একপর্যায়ে তাঁর মা–বাবার বিচ্ছেদ হয় এবং পরিবার দেউলিয়াত্বের আবেদনও করে। সিডনি পরে বলেছেন, সেই সময়টা পরিবারের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। কিন্তু এই কঠিন অভিজ্ঞতাই তাঁকে আরও দৃঢ় করে।
ধীরে ধীরে বড় সুযোগ আসতে শুরু করে। ২০১৮ সালে ‘এভরিথিং সাক্স!’ ও ‘শার্প অবজেক্টস’-এ অভিনয় সিডনিকে দর্শকের নজরে আনে। এরপর ‘দ্য হ্যান্ডমেইডস টেল’-এ কাজ করে পরিচিতি বাড়ান। তবে তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায় ২০১৯ সালে এইচবিওর ‘ইউফোরিয়া’ দিয়ে।