08/06/2026
পুরো চারদিন ধরে একজন মানুষ নিজের ঘরে নিথর পড়ে ছিলেন।
কেউ দরজায় কড়া নাড়েনি। কেউ ফোন করে জানতে চায়নি, "আপনি কেমন আছেন?" কেউ খেয়াল করেনি যে মানুষটা আর সাড়া দিচ্ছেন না।
তিনি কোনো অপরাধী ছিলেন না, কোনো পথের মানুষও ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন ডাক্তার। জীবনের বহু বছর অন্যের ব্যথা কমাতে, অন্যের জীবন বাঁচাতে ব্যয় করেছেন।
ছবিটা দেখে বারবার একটা কথাই মনে হচ্ছে...
আমাদের বাবা-মায়েরাও কি এমন একাকীত্বের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন না?
যে বাবা সারাজীবন নিজের শখ বিসর্জন দিয়ে সন্তানের পড়াশোনার খরচ চালিয়েছেন, যে মা রাত জেগে সন্তানের জ্বর দেখেছেন, না খেয়ে থেকেও সন্তানের পাতে ভালো খাবার তুলে দিয়েছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারাই সবচেয়ে বেশি অবহেলার শিকার হন।
আমরা ব্যস্ত হয়ে যাই নিজের সংসার, চাকরি, ব্যবসা আর সামাজিক পরিচয় নিয়ে।
কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছি, বৃদ্ধ বাবা-মা সারাদিনে হয়তো শুধু একটা ফোনকলের অপেক্ষায় থাকেন?
তাদের প্রয়োজন দামি উপহার নয়। প্রয়োজন একটু সময়। দুই মিনিট কথা বলা।
একবার জিজ্ঞেস করা,
"খেয়েছো?" একবার বলা, "তোমাদের কথা মনে পড়ছে।"
জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো, জীবিত থাকা অবস্থায় আপন মানুষদের কাছে গুরুত্ব হারিয়ে ফেলা।
আজ যারা বাবা-মাকে সময় দিতে পারছি না, কাল আমাদের সন্তানরাও হয়তো আমাদের কাছ থেকেই সেই শিক্ষা নেবে।
তাই ব্যস্ততার অজুহাত নয়, আজই বাবা-মায়ের খোঁজ নিন।
একদিন আফসোস করার সুযোগ থাকলেও, সময়টা আর ফিরে আসবেনা...
ডা.আব্দুর রহমান