03/03/2026
যোউবনের রঙমন্ত্র
মরমরে পাতার ভাজে চিঠি আসে আপনহারা প্রাণের,
হৃদয় আজ আয়নাসমুখে রূপ দেখে।
প্রাণ খুলে দীর্ঘ শ্বাস টেনে নেয়,
দোলা দেয় শাখে—
সবুজ লোমগুলোতে সুরসুরি দিয়ে ঢেউ খেলে।
সবুজ লোমগুলো মাথা নুইয়ে
চুমে ধরে ধরনীর বুক,
বাঁশরী বাজিয়ে সুর তুলে যায়
দূরদূরান্তে।
দিগন্ত রঙে সেজেছে,
নীল শাড়ির আঁচল বিছিয়ে দিয়েছে আকাশ।
গগন প্রদীপ মুক্ত হয়েছে—
ধরণীর চলার পথের কাঁটা ঘুচিয়েছে।
প্রাঙ্গণে রংখেলা উৎসবের দোল লেগেছে,
কে এসে রঙ ছিটিয়ে দিল পল্লবে পল্লবে?
কে গেঁথে দিল মিলনমালা
মধুর মিলন ঘটাতে?
হৃদয়ে প্রেমের জোয়ার তোলে,
প্রেমের উপাখ্যান রচনা করে।
শাখায় শাখায় ফুটেছে লাজ,
হৃদয় হতে ফোঁটায় ফোঁটায় রক্তে
প্রাঙ্গণ সজীব হয় প্রেমের সুরভি মেখে।
দোলা লাগালো—কে প্রেমের দোলনা সাজিয়ে?
দখিন দুয়ার খুলে দিয়েছে প্রকৃতি,
স্বপ্নের দেশে ভ্রমণ চলে।
রঙিন সুতোয় স্বপ্নের জাল বুনে,
প্রেমের সুতায় গাঁথা হলো মিলনমালা।
পত্রপুঞ্জে কাঁথা মুড়িয়ে ঘুমিয়ে রয়েছে আমের মুকুল,
যেন পত্রের আঁচলে জন্মেছে রাজপুত্র।
সুগন্ধি ছড়িয়ে প্রেম গাইছে,
সৌরভের নেশায় বুদ হয়ে আছে চারদিক।
সুবাস শুষেও তৃষ্ণা মেটে না,
নেশার জগতে বিচরণ—
কাটে না ঘোর।
কোন জাদুকর এমন পরশ ছোঁয়ালো?
কোন বিজ্ঞানীর আবিষ্কার এমন রূপ বদলেছে প্রকৃতির?
কোন দেবীর আশীর্বাদ বয়ে এনেছে এত পূণ্য?
কোন কারিগরের এত নিপুণ হাতের জাদু?
হৃদয়ে লেখা হলো প্রেমের কবিতা,
বাঁশরীর সুরে বাজে প্রেমের সুর।
কাননে উঁকি দেয় একগুচ্ছ ভালোবাসার কুঁড়ি,
জন্ম নেওয়া নবীন প্রাণেরা
ভালোবাসার জল পান করে বিকশিত হয়।
পূর্ণতা পেয়ে ছড়িয়ে দেয় বুকভরা সুবাস,
প্রেমের রসের অমৃতধারা
বয়ে যায় ভূবনজুড়ে।
পাখিদের কণ্ঠে অমৃতবাণী,
গানের সুরের সুধাধারে আকুল করে হিয়াখানি।
কোন মধুর লগনে রাঙিয়ে দিল প্রকৃতির সিঁথি?
পাতায় পাতায়, সিঁথিতে সিঁথিতে টকটকে সিঁদুর।
এই লগনেই সাজে মিলনের কুঞ্জ।
যৌবন পুলকিত ছন্দে ও গন্ধে,
হৃদয়ে বাজে প্রেমের মায়ামন্ত্র।
যৌবন দীপ্তি ছড়ায় প্রাণে,
যৌবন রসে ভিজে ওঠে অন্তর।
পাগলামি খেলায় মত্ত হয়েছে, দিন কাটছে হেলায়।
শৈশবের কোমল চাঞ্চল্যে মুখর।
শনশন করে বাজছে পরিনয়ের সুর,
মায়ার চাদর আকড়ে ধরেছে—বন্ধন হয়েছে মধুর।
তারুণ্যের হাসিতে ঝলসে দিচ্ছে সব,
প্রাণোবল হাস্যে কেঁপে উঠছে ক্ষণে ক্ষণে।
সূর্যের হাসি, অনুরাগের সুর বনে বনে।
উদাসীন হয়েছে কল্পনার রঙ মেখে।
পথবাশি বাজাতে বাজাতে বহুদূরে যায়,
বাঁশির সুর কড়া নাড়ে ধারে ধারে।
অস্তম