28/03/2026
গল্পের নাম: নিশিরাতের মায়া
পর্ব-৪: কবরের ওপার থেকে ডাক
পুরান ঢাকার সূত্রাপুর আর ধোলাইখালের মোড়ে তখন রাত গভীর। গতরাতের সেই প্রলয়ঙ্করী ঝড়ে ‘লালকুঠি’র দালানটি ধসে পড়ার পর পুরো এলাকা জুড়ে এক অদ্ভুত থমথমে ভাব বিরাজ করছে। পুলিশ দালানের ধ্বংসস্তূপের চারপাশ হলুদ ফিতা দিয়ে ঘিরে রেখেছে। ক্রেন দিয়ে ইটের স্তূপ সরানো হচ্ছে, কিন্তু বিস্ময়কর ব্যাপার হলো—ভেতরে কোনো মানুষের দেহাবশেষ পাওয়া যায়নি। না সায়মন, না অন্য কেউ। শুধু পাওয়া গেছে সেই পুরনো আমলের একটি মরচে ধরা লোহার শিকল আর সায়মনের ডিজিটাল ক্যামেরাটি।
রাসেল গত ২৪ ঘণ্টা ধরে এক মুহূর্তের জন্যও চোখের পাতা এক করতে পারেনি। সে পুলিশের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি নিয়ে সায়মনের ক্যামেরাটা উদ্ধার করে নিজের বাসায় নিয়ে এসেছে। তার বারবার মনে হচ্ছে, সায়মন কোথাও হারিয়ে যায়নি; সে হয়তো আমাদের এই পরিচিত জগতের খুব কাছেই কোথাও আটকা পড়ে আছে। রাসেল ল্যাপটপে ক্যামেরার মেমোরি কার্ডটা ইনসার্ট করল। ভিডিও ফাইলগুলো চেক করতে গিয়ে তার হাত কাঁপতে শুরু করল। শেষ ভিডিওটি ছিল মাত্র ৪৪ সেকেন্ডের।
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে—সায়মন অন্ধকার একটি টানেলের ভেতর দিয়ে দৌড়াচ্ছে। পেছনে হাজার হাজার নূপুরের শব্দ। হঠাৎ সায়মন ক্যামেরার দিকে তাকাল। তার চোখগুলো একদম সাদা হয়ে গেছে, কোনো মণি নেই। সে ফিসফিস করে বলল, "রাসেল, সত্যটা ডায়েরিতে নেই। সত্যটা আছে দালানের নিচের সেই অন্ধকূপে। মায়া আমাকে মুক্তি দেয়নি, সে আমাকে তার অতীতের সঙ্গী করে নিয়েছে। বাঁচা আমায়..." ভিডিওটি একটি বিকট চিৎকারের সাথে শেষ হয়ে গেল।
রাসেল বুঝতে পারল, সায়মন এখন এক 'লিমিিনাল স্পেস' বা ছায়া জগতে বন্দি। তাকে ফিরিয়ে আনতে হলে সেই অভিশপ্ত লালকুঠির মাটির নিচে নামতে হবে। কিন্তু একা যাওয়া আত্মহত্যার শামিল। রাসেল তখনই যোগাযোগ করল শাঁখারীবাজারের সেই বৃদ্ধ তান্ত্রিকের সাথে, যার নাম অঘোরী বাবা।
রাত দুইটার সময় রাসেল আর অঘোরী বাবা লালকুঠির ধ্বংসস্তূপের সামনে এসে দাঁড়ালেন। অঘোরী বাবা একটা মাটির প্রদীপ জ্বালালেন। প্রদীপের শিখাটা অদ্ভুতভাবে নীল হয়ে জ্বলছে। তিনি ধ্বংসস্তূপের এক কোণে ইশারা করে বললেন, "এখানেই ছিল সেই গুপ্ত কুঠুরি। নীলকণ্ঠ রায় তার মেয়ের ভালোবাসাকে এখানেই জ্যান্ত সমাধি দিয়েছিলেন। আজ একশ বছর পর সেই মাটি আবার রক্ত চাইছে।"
রাসেল বেলচা দিয়ে মাটি সরাতে শুরু করল। কয়েক ঘণ্টা হাড়ভাঙা খাটুনির পর তার হাতের তলায় শক্ত কাঠের কিছু একটা ঠেকল। একটা পুরনো কাঠের দরজা, যা মাটির গভীরে লুকানো ছিল। দরজাটা খুলতেই একটা ভ্যাপসা, পচা মাংসের গন্ধ রাসেলের নাকে ধাক্কা দিল। নিচে নামার জন্য একটা সরু সিঁড়ি চলে গেছে। অঘোরী বাবা সাবধান করে দিলেন, "নিচে যা দেখবে, তাতে বিচলিত হবে না। যদি একবার তোমার মনে ভয় ঢোকে, তবে তুমিও আর কোনোদিন উপরে ফিরতে পারবে না।"
রাসেল টর্চ নিয়ে নিচে নামল। নিচের ঘরটা অদ্ভুত। দেয়ালগুলো পাথরের তৈরি, আর সেখানে খোদাই করা আছে মায়ার বাবার তান্ত্রিক সাধনার নানা চিহ্ন। ঘরের মাঝখানে একটা পাথরের বেদী, আর তার ওপর শুয়ে আছে সায়মন। সায়মনের শরীরটা বরফের মতো ঠাণ্ডা, কিন্তু তার হৃদপিণ্ড এখনো ধুকপুক করছে। তার পাশে বসে আছে মায়া। তবে এবারের মায়া কোনো সুন্দরী তরুণী নয়, বরং এক ধোঁয়াটে কুয়াশার মতো অবয়ব।
মায়া রাসেলের দিকে তাকিয়ে এক অমানুষিক গলায় বলল, "কেন এসেছ এখানে? ও এখন আমার। অনিরুদ্ধর আত্মা ওর শরীরে ফিরে এসেছে। আমরা এখন অনন্তকালের জন্য এক হব।"
রাসেল দেখল সায়মনের গলার চামড়া ফেটে রক্ত বেরোচ্ছে, আর সেই রক্ত দিয়ে মায়ার ছায়া অবয়বটি যেন ধীরে ধীরে রক্ত-মাংসের মানুষে পরিণত হচ্ছে। মায়া সায়মনের জীবনীশক্তি শুষে নিচ্ছে নিজেকে জীবিত করার জন্য।
অঘোরী বাবা উপর থেকে চেঁচিয়ে বললেন, "রাসেল, দেরি করো না! ওই বেদীর নিচে অনিরুদ্ধর কঙ্কাল আছে। ওটাকে জ্বালিয়ে দাও। যতক্ষণ অনিরুদ্ধর অবশিষ্টাংশ থাকবে, ততক্ষণ মায়ার মায়া কাটবে না!"
রাসেল পাগলের মতো বেদীর নিচের মাটি খুঁড়তে লাগল। মায়া এক বিকট চিৎকার করে রাসেলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার চেষ্টা করল, কিন্তু অঘোরী বাবার দেওয়া সুরক্ষাবলয়ে সে ধাক্কা খেয়ে পিছিয়ে গেল। রাসেলের হাত এক সময় অনিরুদ্ধর কঙ্কালের মাথার খুলি খুঁজে পেল। কঙ্কালটার বুকে এখনো সেই মরচে ধরা ছুরিটা বিঁধে আছে।
রাসেল তার পকেট থেকে লাইটার বের করল। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে মায়া তার রূপ পাল্টে সায়মনের মায়ের রূপ ধরল। সে কান্নাকাটি করে বলতে লাগল, "বাবা রাসেল, আমার ছেলেকে মেরো না! আমি সায়মনকে নিয়ে চলে যাব, ও ভালো থাকবে।"
রাসেল এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। মায়ার এই মায়াবী রূপ বা ইলিউশন এতটাই বাস্তব যে যে কেউ বিভ্রান্ত হয়ে যাবে। কিন্তু সে দেখতে পেল সায়মনের হাতটা কাঁপছে, আর সায়মন অস্ফুট স্বরে বলছে— "রাসেল... জ্বালিয়ে দে... সব শেষ করে দে..."
রাসেল আর দেরি করল না। সে কঙ্কালটার ওপর স্পিরিট ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিল। সাথে সাথে পুরো ভূগর্ভস্থ ঘরটা কেঁপে উঠল। মায়া এক আকাশ ফাটানো আর্তনাদ করে উঠল। তার শরীর থেকে আগুনের শিখা বেরোতে লাগল। সে সায়মনকে ছেড়ে দিয়ে ছটফট করতে করতে ধুলোয় মিশে যেতে লাগল। কিন্তু যাওয়ার আগে সে রাসেলের চোখের দিকে তাকিয়ে এক অভিশপ্ত হাসি দিল।
"আমি একা যাচ্ছি না রাসেল। অনিরুদ্ধর অভিশাপ এই বংশের সবার রক্তে মিশে আছে। সায়মন বেঁচে ফিরলেও ও আর কোনোদিন সাধারণ মানুষ হতে পারবে না। ও এখন থেকে অন্ধকারের বাহক!"
ঘরটা ধসে পড়ার উপক্রম হলো। রাসেল কোনোমতে সায়মনকে কাঁধে তুলে নিয়ে সেই সরু সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে এল। তারা উপরে আসার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই নিচের সেই গোপন কুঠুরি চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল।
সায়মনকে হাসপাতালে নেওয়া হলো। ডাক্তাররা অবাক হয়ে দেখলেন সায়মনের শরীরে কোনো গুরুতর আঘাত নেই, কিন্তু তার স্মৃতিশক্তি পুরোপুরি হারিয়ে গেছে। সে কাউকে চিনতে পারছে না, এমনকি নিজের নামও মনে নেই তার। সে শুধু সারাদিন হাসপাতালের জানালার দিকে তাকিয়ে থাকে আর বিড়বিড় করে কী যেন বলে।
রাসেল একদিন সায়মনের কানে কান পেতে শোনার চেষ্টা করল সে কী বলছে। সায়মন যা বলছিল, তা শুনে রাসেলের গায়ের রক্ত হিম হয়ে গেল। সায়মন বলছিল— "ও আসছে... মায়া একা যায়নি... ও আমার ভেতরেই লুকিয়ে আছে। আজ রাতে যখন চাঁদ উঠবে, তখন আমি আর আমি থাকব না..."
রাসেল লক্ষ্য করল, সায়মনের হাতের নখগুলো অস্বাভাবিক লম্বা আর কালো হয়ে যাচ্ছে। তার গায়ের চামড়া কেমন যেন তামাটে রঙ ধারণ করছে। ঠিক তখনই হাসপাতালের করিডোরে সেই পরিচিত নূপুরের শব্দ শোনা গেল। কিন্তু এবার শব্দটা বাইরে থেকে আসছে না, শব্দটা আসছে সায়মনের নিজের শরীরের ভেতর থেকে!
রাসেল বুঝতে পারল, খেলা এখনো শেষ হয়নি। মায়া সায়মনকে মুক্তি দেয়নি, বরং সায়মনের শরীরকে তার নতুন আবাস বানিয়ে নিয়েছে। পুরান ঢাকার এই অন্ধকার দালানের রহস্য এখন সায়মনের ধমনীতে বইছে।
(চলবে...)
মায়া কি সায়মনকে মুক্তি দিল নাকি সায়মন নিজেই হয়ে উঠল এক জ্যান্ত শয়তান? ৪র্থ পর্বের টুইস্ট আপনার মাথা ঘুরিয়ে দেবে!"
আপনি কি মনে করেন মায়া সত্যিই ধ্বংস হয়ে গেছে? নাকি সায়মনের ভেতরে সে আবার ফিরে আসবে?
কমেন্টে আপনার ধারণা জানান।
ফেসবুকে ভিউ কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো অ্যালগরিদম যখন দেখে মানুষ পোস্টে রিঅ্যাক্ট বা কমেন্ট করছে না। আপনার শেষ পর্বটি (Episode 5) এমনভাবে লিখতে হবে যেন মানুষ বাধ্য হয় কমেন্ট করতে।
নিচে ৫ম ও শেষ পর্ব এবং ভিউ বাড়ানোর জন্য স্পেশাল হ্যাশট্যাগ ও স্ট্র্যাটেজি দেওয়া হলো।
গল্পের নাম: নিশিরাতের মায়া
পর্ব-৫: শেষ সীমানায় রক্তরাঙা প্রেম (উপসংহার)
পুরান ঢাকার আকাশ আজ যেন ছিঁড়ে পড়বে। হাসপাতালের ৪ নম্বর কেবিনে সায়মন শুয়ে আছে, কিন্তু তার শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ কোনো মানুষের মতো নয়। মনে হচ্ছে যেন কোনো হিংস্র জন্তু খাঁচায় বন্দি হয়ে ফুঁসছে। রাসেল দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে অঘোরী বাবার জন্য অপেক্ষা করছিল। হঠাৎ ভেতর থেকে একটা কাঁচ ভাঙার শব্দ এল। রাসেল দৌড়ে ভেতরে ঢুকে দেখল সায়মন নেই। জানালার গ্রিলগুলো দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে আছে। তিন তলার এই জানালা দিয়ে কোনো মানুষের পক্ষে লাফিয়ে নামা অসম্ভব, কিন্তু সায়মন নেমেছে। মাটিতে পড়ে আছে শুধু সায়মনের সেই ক্যামেরাটা।
রাসেল বুঝতে পারল সায়মন কোথায় গেছে। সে পাগলের মতো একটা রিকশা নিয়ে লালকুঠির সেই ধ্বংসস্তূপের দিকে রওনা হলো। বৃষ্টির ঝাপটায় রিকশাওয়ালার মুখ দেখা যাচ্ছে না, কিন্তু তার গায়ের থেকে সেই পরিচিত পচা মাংসের গন্ধ আসছে। রাসেল চিৎকার করে বলল, "থামো! আমি এখানেই নামব!" কিন্তু রিকশাওয়ালা থামল না। সে ঘাড় না ঘুরিয়েই অমানুষিক গলায় বলল, "আজ বাসর রাত, মেহমানদের তো যেতেই হবে।"
রাসেল লাফ দিয়ে চলন্ত রিকশা থেকে নেমে পড়ল। সামনে তাকিয়ে দেখল সেই ধ্বংসস্তূপ আর নেই। সেখানে দাঁড়িয়ে আছে এক বিশাল রাজপ্রাসাদ, যা আলোকসজ্জায় ঝলমল করছে। লালকুঠি যেন পুনর্জন্ম নিয়েছে। গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে সায়মন। তার পরনে সেই ১৯২৪ সালের অনিরুদ্ধর মতো ধুতি আর পাঞ্জাবি। সায়মনের চোখ থেকে টপটপ করে তাজা রক্ত পড়ছে, কিন্তু তার মুখে এক স্বর্গীয় হাসি।
সে রাসেলের দিকে তাকিয়ে বলল, "রাসেল, তুই এসেছিস? দেখ, মায়া আমাকে ফিরিয়ে এনেছে। আমরা আর আলাদা হব না।"
রাসেল কাঁদতে কাঁদতে বলল, "সায়মন, ফিরে আয়! ওটা মায়া নয়, ওটা তোর মৃত্যু!"
ঠিক তখনই অঘোরী বাবা সেখানে পৌঁছালেন। তার হাতে এক কলস গঙ্গাজল আর তান্ত্রিক দণ্ড। তিনি উচ্চস্বরে মন্ত্র পড়তে শুরু করলেন। হঠাৎ মায়া আবির্ভূত হলো সায়মনের পাশেই। এবার মায়ার রূপ ভয়ঙ্কর। তার মাথাটা ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেছে, বুক চিরে বেরিয়ে আছে পচা হৃৎপিণ্ড। সে অঘোরী বাবার দিকে তাকিয়ে এক হুঙ্কার দিল। পুরো এলাকা কেঁপে উঠল।
অঘোরী বাবা চিৎকার করে বললেন, "রাসেল, ওই ক্যামেরাটা! সায়মনের ক্যামেরাটা ভেঙে ফেল! ওর ভেতরেই সায়মনের আত্মা বন্দি করে রেখেছে মায়া। ক্যামেরাটা ভাঙলে সায়মন মুক্তি পাবে, কিন্তু মায়া তাকে নিয়ে যেতে পারবে না!"
রাসেল দেখল তার পায়ের কাছে সায়মনের ক্যামেরাটা পড়ে আছে। সে ক্যামেরাটা হাতে নিল। কিন্তু ক্যামেরার লেন্সের দিকে তাকাতেই সে থমকে গেল। লেন্সের ভেতরে সে দেখতে পেল সায়মন আর মায়া এক সুন্দর বাগানে হাত ধরাধরি করে হাঁটছে। সায়মন যেন সেখানে খুব সুখী। রাসেল দ্বিধায় পড়ে গেল। যদি সে ক্যামেরাটা ভাঙে, তবে সায়মন এই পৃথিবীতে ফিরে আসবে ঠিকই, কিন্তু সে কি আবার আগের মতো স্বাভাবিক হতে পারবে? নাকি মায়ার প্রেমে সে অন্য জগতেই বেশি ভালো আছে?
মায়া রাসেলের দিকে এগিয়ে এল। তার কণ্ঠস্বর এখন খুব নরম, "রাসেল, তুই কি চাস তোর বন্ধু এই নোংরা পৃথিবীতে ধুঁকে ধুঁকে মরুক? ওকে আমার সাথে থাকতে দে। আমরা একশ বছর ধরে এই মুহূর্তটার অপেক্ষা করেছি।"
অঘোরী বাবা চিৎকার করলেন, "ভুলিস না রাসেল, ওটা মায়া! ও সায়মনকে মুক্তি দেবে না, ওর আত্মা ছিঁড়ে খাবে!"
রাসেল এক মুহূর্ত ভাবল। তারপর সজোরে ক্যামেরাটা পাথরের ওপর আছাড় দিল। মুহূর্তের মধ্যে এক বিকট বিস্ফোরণ হলো। পুরো লালকুঠি ধসে পড়তে লাগল আগুনের লেলিহান শিখায়। মায়া এক আর্তনাদ করে বাতাসে মিলিয়ে গেল। সায়মন নিথর হয়ে মাটিতে পড়ে গেল।
এক মাস পর...
সায়মন এখন সুস্থ। কিন্তু সে আর কথা বলে না। সে শুধু সারাদিন তার ভাঙা ক্যামেরার লেন্সটা নিয়ে নাড়াচাড়া করে। ডাক্তাররা বলছেন এটা ট্রমা। কিন্তু রাসেল জানে আসল রহস্য কী। একদিন রাতে রাসেল সায়মনের ঘরে ঢুকে দেখল সায়মন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হাসছে। রাসেল আড়াল থেকে দেখল, আয়নায় সায়মনের কোনো প্রতিফলন নেই। পরিবর্তে আয়নায় দেখা যাচ্ছে এক সুন্দরী মেয়েকে—মায়া।
মায়া সায়মনের কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলছে, "ওরা ভেবেছে ক্যামেরা ভাঙলেই সব শেষ? ওরা জানে না, আমি এখন তোমার নিঃশ্বাসে বেঁচে আছি।"
সায়মন ঘুরে রাসেলের দিকে তাকাল। তার চোখ দুটো এখন পুরোপুরি কালো। সে মুচকি হেসে বলল, "রাসেল, তুই কি ছবি তুলবি? আমার ভেতরে মায়া খুব সুন্দর পোজ দিয়েছে।"
রাসেল বুঝতে পারল, সায়মন আর সায়মন নেই। সে এখন মায়ার জ্যান্ত আধার। পুরান ঢাকার এই গলিতে অন্ধকার আর প্রেম কখনো শেষ হয় না। এটা কেবল এক নতুন অধ্যায়ের শুরু।
(সমাপ্ত)
রিচ ও ভিউ বাড়ানোর জন্য সিক্রেট হ্যাশট্যাগ (Copy-Paste):
পোস্টের শেষে সরাসরি এগুলো দিন:
#নিশিরাতের_মায়া #সাসপেন্স #ভৌতিকগল্প #বাংলা_থ্রিলার