24/07/2026
প্রিয়,
একটি খোলা চিঠি তোমার জন্য। জানি না তুমি চিঠিটা পাবে কি-না, পেলেও পড়বে কি-না, পড়লেও বুঝবে কিনা এটা তোমার জন্য লিখা। আমিতো আর তোমায় কখনো তুমি করে বলিনি তেমন। সবসময় ডেকেছি তুই করে। আমার একান্তই আপন শব্দ, সম্বোধন ও মানুষ বলেই তুমি ছিলে আমার খুব কাছের তুই।
আমাদের বহুদিন যোগাযোগ নেই। আর হবেও না হয়ত কখনো। যোগাযোগের সমস্ত পথ থাকতেও কোনো এক গাঢ় অভিমান নিয়েই সরে এসেছি আমি। আমার যে এমন আর স্বাচ্ছন্দময় ঠাঁই কোথাও হবে না। এমন একটা তুই আর না-ও পেতে পারি। তুমি হলে ভীষণ বুঝদার মানুষ। কিন্তু আমি যে বেশিই অবুঝ, তাই চাইলেও মুছে ফেলতে পারি না তোমায়। দূরছাই করতে পারি না সে সমস্ত ভালো স্মৃতি যা আমি তোমার সাথে কাটিয়েছি গল্পে গল্পে।
আমার মহাকাশ সম্পর্কে ধারণা ছিলো না, ধারণা ছিলো না পাহাড় সম্পর্কে, সমুদ্রের শব্দ যে জীবনে একটিবার হলেও শুনতে হয় তা নিয়ে মাথাব্যথা ছিলো না। কিন্তু জানো? আজ আমি সে সমস্ত নিয়ে ভাবি রাত্রিদিন। ভাবতে ভাবতে মাথা ধরে যায়। স্বপ্নও যে এত বড়ো বড়ো দেখা যায় তোমায় না পেলে জানা হতো না। এখন আমি বরফের পাহাড় ঘোরার স্বপ্ন দেখি, সমুদ্রে এক ডুবে জীবন ভাসানোর স্বপ্ন দেখি আর স্বপ্ন দেখি একদিন সূর্যাস্তের ঠিক পূর্বমুহূর্তে, ঝিম ধরা বিকেলে তোমার সাথে একটি সাক্ষাৎ এর। অদ্ভুত স্বপ্ন!
সেই অনির্দিষ্ট বিকেলটিতে সাক্ষাৎ হলে আমরা অনুভব করব তুমি আর আমি মিলে ‘আমরা' হওয়া হয়নি। আর একটা আমরা না হওয়া গল্প নিয়ে আমাদের জীবন এগিয়ে গিয়েছে বহুদূর। তোমার ভাষ্যমতে অবুঝ ছেলেটি নিশ্চয় ততদিনে একা একাই পাহাড়, সমুদ্র ঘোরা হয়ে যাবে! তোমারও নিশ্চয় সমুদ্র দেখা হয়ে যাবে আমি বিহীন! আগেতো বলতে, আমায় নিয়ে একদিন সন্ধ্যায় সমুদ্র দেখতে যাবে! কথাগুলো থেকেই যাবে অথচ আমরা কেউ কারো হবো না, এরচেয়ে দুঃস্বপ্নের, দুঃসংবাদের কিছু আছে, বলো? নেই। তবুও তো বাঁচতে হয়। আর আমরা ভালো ভাবেই বাঁচব। কেবল একদিন দেখা হলে আমি তোমায় প্রাণ ভরে দেখব।
জানো? আমার ভালো সময়গুলোতে আজও আমার তোমার কথা ভীষণ মনে পড়ে। খারাপ সময়গুলোতে আর পড়ে না যদিও। তুমি আমায় এমন সুন্দর করে তৈরি করে দিয়ে গিয়েছ যে খারাপ সময়গুলো লড়তে পারি বেশ। কিন্তু ভালো সময়গুলোতেই হয় যত যন্ত্রণা। কেবল মনে হয় তুমি থাকলে ভালো সময়গুলো আরও দুর্দান্ত হতো নিশ্চয়। তুমি আদর করে বলতে, একদিন তোর সব হবে। নিজের শখটাকে ছাড়িস না.. এবং তোমার এই উৎসাহে আমি শখ নিয়ে বহুদূর যেতাম! আগেতো নিজেকে নেহাৎ তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতাম। ভাবতাম, খুঁতে ভরা একটা মানুষ আমি। কে আমার জন্য ভালোবাসা বুকে জমাবে? কে আমায় প্রেম দিবে সবটা দিয়ে! তুমি আমায় যে-বার প্রথম জানালে, মানুষের প্রথম প্রেমিক নিজেই নিজের হতে হয়, জানো? এরপর থেকে আর আমি আমাকে প্রেম দেওয়া ছাড়িনি। আজকাল নিজেকে এত ভালোবাসি যে শত্রুও দেখলে অবাক হয়। আমায় আজকাল কেউ বলতেও পারে না আমার কোনো কমতি আছে। ঐ যে আমি নিজেকে এত পরিপূর্ণ করে রেখেছি, মানুষের বলার সাধ্যই হয় না।
ভাগ্যিস তুমি এসেছিলে! নয়ত নিজেকেও যে নিজে এমন করে ভালোবাসতে পারে তা জানা হতো না কখনো।
তুমি শুনে খুশি হবে যে, আজকাল আমি কিছুটা বুঝদার হয়েছি। এই যে আমাদের একসাথে থাকা হলো না, পথ চলা হলো না জানার পরেও আমি এতটুকু চিরকাল মানবো যে, তুমি আমায় ভালোবাসতে, ভালোবাসো। অবুঝ থাকলে কেউ কি আর তোমার মতো শান্ত নদীর বুকে জমানো ভালোবাসাকে বুঝে? এবার আমাদের একসাথে থাকা হয়নি তো কী হয়েছে কোনো এক জন্মে নিশ্চয় হবে। নিশ্চয় স্রষ্টা আমার প্রেমে সন্তুষ্ট হয়ে তোমায় মিলিয়ে দিবেন। তাই এই জনমের আফসোসটুকু না-হয় গিলেই নিলাম। ভাগ্য বদলানোর সাধ্যিতো আর আমার নেই। থাকলে তোমায় পেতে চাইতাম হয়ত তৃতীয় বিশ্ব যু দ্ধের বিনিময়েও!
মাঝে মাঝে তোমার জন্য খুব চিন্তা হয়। বাবা ছাড়া তোমারতো আর কেউ নেই। এই এতো বড়ো পৃথিবীতে এমন নিঃসঙ্গ জীবন কাটাও কী করে? সেই ভাবনা থেকেই প্রতিবেলা স্রষ্টাকে বলি তোমার বাবাকে যেন তিনি অনেক অনেক বছর বাঁচিয়ে রাখেন। আর তোমার উপর থেকে আমার ভালোবাসার দাবি ছেড়ে দিয়ে স্রষ্টাকে বলেছি, তোমায় একটি লাল টুকটুকে বর যেন দেন। যে তোমার খোঁজ নিবে। বুকে ঠান্ডা জমলে মনে করিয়ে দিবে গরম জল খাওয়ার কথা। তুমি সুখী হও, তেমন কাউকে পাও যেমন কেউ আমার মতো অভিমানী নয়। আমার চেয়ে বেশি যে ভালোবাসবে…
ছাদে তো আমি একটা দোলনা লাগাতে চেয়েছিলাম, সেটা লাগাবে কি আর? লাগিও না। তোমার বুকের এক টুকরো জমিন আর ছাদের একটা পাশ না-হয় আমার জন্য খালিই রেখো। ভালোবেসে এতটুকু শূন্যস্থানতো আমার হতেই পারে তাই না বলো?
ভালো থেকো, যত্ন নিও নিজের। তোমার জন্য এখনও কারো কারো মাঝ রাতে ঘুম ভেঙে যায়। এক-আধ বেলা খাবার রোচে না মুখে।
ইতি
কে আমি? নামের অভাবে ভুগছি ভীষণ…😊B