22/08/2026
শুভ জন্মদিন
রুমানা রশীদ ঈশিতা।
মধ্যবিত্ত পরিবারের এক মেয়ের বিয়ে হয় বিত্তবান ক্ষমতাশালী এক লোকের ছেলের সাথে।কিন্তু বিয়ের পর উচ্চশিক্ষার অজুহাতে ছেলেটি কে বিদেশ পাঠিয়ে দেয়া হয়। আর মেয়েটির উপর নেমে আসে নির্যা/তন। বের করে দেয়া হয় তাকে।মেয়েটি প্রতিজ্ঞা করে যতদিন স্বামী ফিরে আসবেনা,কোন কথা বলবেনা।
দুই বোন। বড় বোন যৌতুক এর কারনে স্বামীর ঘর ছাড়া। শ্বশুর শর্ত দেন যদি ছোট বোন তিথির সাথে বড় বোনের বিপত্নীক ভাশুর এর বিয়ে দেন তবেই যৌতুক এর দাবী ছেড়ে দেবেন।প্রথমে কেউ রাজি না থাকলেও বড় বোনের সুখের কথা ভেবে তিথি রাজি হয় শর্তে। বিয়ের পর একদিন রাতে যাত্রা দেখে বাড়ি ফিরে আসার সময় খু/ন হন সেই ভাশুর, যার দায় পড়ে তিথির উপর কারণ তিথির হাতে পাওয়া যায় র/ক্তমা/খা ছো/রা।
গ্রামের এক মেয়ের বিয়ে হয়।স্বামীর অনেক বড়লোক হবার শখ।একদিন স্বামীর বিজনেস পার্টনার মেয়েটির স্বামীকে বলে মেয়েটিকে নিয়ে আসতে।অর্থ বিত্তের লোভে মেয়েটিকে তুলে দেয় সেই পার্টনার এর হাতে। কিন্তু সম্মান বাঁচাতে সেই রাতে আত্মহত্যা করে মেয়েটি।
নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়ে এইভাবে নানারকম ভিন্ন মাত্রার চরিত্র দিয়ে দর্শকমহল আসন গড়েছিলেন যিনি,তিনি হলেন রুমানা রশীদ ঈশিতা।
১৯৮০ সালের ২২ শে আগস্ট ২৭ রোজার দিনে তার জন্ম। মায়ের ছিল গান গাইবার শখ।আর তার সেই শখ তিনি পূরণ করতে চেয়েছেন মেয়ের মধ্য দিয়ে।
ছোটবেলায় বেড়াতে গিয়েছিলেন মা বাবার সাথে। ফিরে আসার অনেকদিন পর মা দেখলেন মেয়ের সবকিছু মনে আছে। বুঝলেন এই মেয়ের স্মৃতিশক্তি দারুন।আস্তে আস্তে মেয়েকে পরিচয় করিয়ে দিলেন শিল্পের সব শাখার সাথে- নাচ,গান, অভিনয়। আর নতুন কুড়িতে সেরা শিশুশিল্পীর চ্যাম্পিয়ন সহ প্রেসিডেন্ট কাপ জিতে ঈশিতা বুঝিয়ে দিলেন মায়ের ধারনা ভুল নয়।ঈশিতাকে একবার জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, নাচ,গান, অভিনয় এর মধ্যে তিনি কোনটা বেছে নেবেন। উত্তর দিয়েছিলেন,একজন শিল্পী হিসেবে শিল্পের সব শাখায় তিনি বিচরণ করতে চান,ঠিক যেমন ক্রিকেট এ শচীন টেন্ডুলকার সবকিছুতেই দক্ষ তেমনি।
টিভিতে ছোটবেলায় প্রথম "সূর্য এলো ফিরে" নাটক দিয়ে অভিষেক হয় অভিনয়ে। আর বড়বেলায় শহীদুল হক খানের " তিথি" দিয়ে অভিনেত্রী হিসেবে যাত্রা শুরু করেন।
দেশের প্রথম ডেইলি সোপ "জোয়ার ভাটা" র অভিনেত্রী ছিলেন তিনি। আবদুল্লাহ আল মামুনের পছন্দের অভিনেত্রীদের একজন। আর তাই বড় পর্দায় "বিহঙ্গ " মুভিতে তার অভিষেক হয়েছিল আবদুল্লাহ আল মামুনের হাত ধরেই। অভিনয়ের পাশাপাশি মডেলিং করতেন। হয়েছেন লাক্সের মডেল। ঈশিতা যখন নায়িকা চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন তখন টিভিতে বিপাশা,শমী, মিমিদের দাপট। আবার তাদের সময় শেষ হতে হতে অপি,রিচি,শ্রাবন্তী চলে এসেছেন। তবুও ঈশিতা কাজ করে গেছেন। ক্যারিয়ার এর মধ্যগগন এ বিয়ে করে সংসারে থিতু হয়ে হয়েছেন।আস্তে আস্তে কাজ কমিয়ে দিয়েছেন। ব্যক্তিজীবন ও ক্যারিয়ার এর মাঝামাঝি একটি সরল রেখা টেনে দিয়েছেন যাতে একটি অন্যটিকে স্পর্শ না করে। শোবিজের তারকাদের নিয়ে যখন হাজারো গুঞ্জন, তখন ঈশিতার স্বচ্ছ জীবনযাত্রা অনেকের জন্যই ইতিবাচক আশ্বাস দেয়।
অনেক বছর পর ফিরে এসেছেন রেদওয়ান রনির "ঝরা পাতার দিন" নাটক দিয়ে।আর সেখানে তার সু অভিনয়ের স্বীকৃতি মিলেছে। এই প্রজন্মের কাছে তিনি হয়ত "আমাদের গল্প, ঝরা পাতার দিন, কাঠপেন্সিল " এর মত নাটকের অভিনেত্রী। কারণ তার সেরা কাজগুলোর বেশিরভাগ অনলাইনে নেই। কিন্তু বাংলাদেশের একটা প্রজন্মের কাছে তিনি প্রথম সুপারস্টার শিশুশিল্পী, যার কথা উঠলেই মিষ্টি হাসি মাখা মুখ চোখে ভেসে ওঠে। আর এই কারণেই তিনি টেলিভিশন দর্শক দের কাছে আজীবন চিরসবুজ হয়ে থাকবেন।
© Niaz Morshed