Deen View

Deen View আমার লেখা সব গল্প পেতে পেজে ফলো দিবেন সাথে ভিডিও পাবেন ইং শা আল্লাহ্ ফি আমানিল্লাহ দোয়ায়
রাখবেন,আপনাদের প্রিয় লেখিকাকে।

23/06/2026

আর যে ব্যক্তি এই কালেমার কথা গুলো প্রচার করে দিবে
সেও এই উভয় সমান সওয়াব পেতে থাকবে ইং শা আল্লাহ 🥹🌸✅

আমার সংসার নষ্ট করে দেওয়ার ভয়ঙ্কর খেলায় মেতে উঠেছিল,, আমি হয়তো একবারে শেষ হয় যেতাম;যেতাম,যদি সেদিন আল্লাহ্ আমায় না...
23/06/2026

আমার সংসার নষ্ট করে দেওয়ার ভয়ঙ্কর খেলায় মেতে উঠেছিল,,


আমি হয়তো একবারে শেষ হয় যেতাম;
যেতাম,যদি সেদিন আল্লাহ্ আমায় না বাঁচিয়ে দিত।

"হতে পারে তোমরা কোনো বিষয়কে অপছন্দ করছ, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হতে পারে তোমরা কোনো বিষয়কে পছন্দ করছ, অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। আল্লাহ জানেন, আর তোমরা জানো না।"
— (সূরা আল-বাকারা: ২১৬)

রুহ থেকে মিশ্রিত কিছু শব্দ...

আপনারা জেনে রাখুন, আমি মনে করি যারা স্রষ্টার শিল্প নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে, তারা আসলে স্রষ্টার নিপুণ সৃষ্টি নিয়েই প্রশ্ন তোলে। অথচ আল্লাহ প্রত্যেক মানুষকে নিজস্ব সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্য দিয়ে সৃষ্টি করেছেন।

আমার আম্মু প্রায়ই আমাকে বলেন, "যারা তোর চেহারা নিয়ে উল্টোপাল্টা কথা বলে, তারা যদি নিজেদের আয়নায় দেখে, তাহলে বুঝতে পারবে এই বাড়িতে সবচেয়ে সুন্দর চেহারাটা তোরই। কিন্তু মনে রাখিস, ফর্সা হলেই মানুষ সুন্দর হয় না। মানুষের আসল সৌন্দর্য তার চরিত্রে, তার ব্যবহারে, তার অন্তরে।"

আম্মু আরও বলেন, "তুই কেন মানুষের কথায় ভেঙে পড়িস? আমি তোকে ভালো শিক্ষা দিয়েছি, ভালো ঘরে বিয়ে দিয়েছি। মানুষের তুচ্ছ কথায় নিজের মূল্য কমিয়ে ফেলিস না।"

বলা বাহুল্য, আমার শ্বশুর মশাই একজন অত্যন্ত ভালো মানুষ। আমি তাঁকে নিজের বাবার মতোই শ্রদ্ধা করি। তিনি অন্যদের মতো নন। আমি কিছু না খেলে রাগ করেন, জোর করে হলেও খাইয়ে দেন। তাঁর এই স্নেহ আমাকে বারবার মুগ্ধ করে।

আমার প্রতি যাদের আপত্তি, তারা মূলত অন্যের ভালো সহ্য করতে পারে না। আমার স্বামী যদি আমার সঙ্গে কিছু ভালো সময় কাটায়, সেটাও তাদের সহ্য হয় না। কখনো কখনো এমন কথাও শুনেছি, "রূপক তোমাকে যতটা ভালোবাসে, আমাদের স্বামীরা তার বিন্দুমাত্রও ভালোবাসে না।"

সেদিন বুঝেছিলাম, হিংসা সব সময় গোপনে থাকে না; কখনো কখনো তা কথার মাঝেই প্রকাশ পেয়ে যায়।

ধীরে ধীরে আমি উপলব্ধি করলাম, এভাবে চলবে না। ওদের কথার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে জেতা যাবে না। ওরা আপন হওয়ার জন্য নয়। ওদের জন্য চোখের পানি ফেলে কোনো লাভ নেই; বরং ক্ষতিটা আমারই হয়। তাই আমি আমার কষ্টগুলো আল্লাহর কাছেই সঁপে দিয়েছিলাম।

অনেক রাত আমি কান্না করতে করতে বলেছি—

"হে আল্লাহ! আজ আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। আমি যে মানুষটাকে এত ভালোবাসলাম, সে কেন এমন হয়ে গেল? কেন এত বদলে গেল? বিয়ের পর এক বছর আমি বাড়িতে ছিলাম। আর সেই সময়ে আমার স্বামী যখন বাড়ি যেত, তখন যেন বদলে যেত। আমি শুধু কারণ খুঁজে বেড়াতাম।"

সেদিন গভীর রাতে বুকভরা কষ্ট নিয়ে বলেছিলাম—

"হে আল্লাহ! আজ কি তুমি আমাকে একটু জড়িয়ে ধরবে? আমার হৃদয়টা খুব ক্লান্ত..."

তখন মনে পড়ল—

"নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।"
— (সূরা আল-বাকারা: ১৫৩)

আর আমি চোখের পানি মুছে আবার আল্লাহর দিকেই ফিরে দাঁড়ালাম।

চলবে... ইন শা আল্লাহ।

যে গল্প কেউ জানতো না
লেখা: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

" মুসলমান হয়ে জন্মগ্রহণ করার চেয়ে মুসলমান হয়ে মৃত্যুবরণ করতে পারাটাই অধিক গুরুত্বপূর্ণ "
22/06/2026

" মুসলমান হয়ে জন্মগ্রহণ করার চেয়ে মুসলমান হয়ে মৃত্যুবরণ করতে পারাটাই অধিক গুরুত্বপূর্ণ "

ইস্তেগফার করো
22/06/2026

ইস্তেগফার করো

নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি। নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি।"— (সূরা আল ইনশিরাহ: ৫-৬)নতুন বউয়ের নাকি শ্ব...
22/06/2026

নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি। নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি।"
— (সূরা আল ইনশিরাহ: ৫-৬)

নতুন বউয়ের নাকি শ্বশুরবাড়িতে অনেক কদর হয়।
হ্যাঁ, আমারও হয়েছিল। তবে আমার কদর হয়েছিল কাজের মাধ্যমে। আমি কিছু মনে করিনি। শাশুড়ি যে কাজই দিয়েছেন, হাসিমুখে করার চেষ্টা করেছি। বারবার বলেছি, "আম্মু এটা দেন, আম্মু ওটা দেন।"

তারপর এলো সেই দিন, যেদিন আমার দাদি শাশুড়ি ইন্তেকাল করলেন। বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন এলো। আমি সবাইকে সালাম দিয়ে নাস্তা পরিবেশন করলাম। কিন্তু কিছু মানুষ আমার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে হাসছিল, আমার চেহারা নিয়ে মন্তব্য করছিল।

আমার এক মামী শাশুড়ি তো সরাসরি শাশুড়ির সামনেই বললেন, "সব বউ ভালো, কিন্তু এই বউ ভালো না।" অথচ যাওয়ার সময় আবার বললেন, "কিছু মনে করো না বউ।"

আমি উজ্জ্বল শ্যামলা। কিন্তু আমাকে কুৎসিত প্রমাণ করার চেষ্টা চলল। বাইরের মানুষগুলোও আমার সম্পর্কে উল্টো-পাল্টা কথা বলে গেল।
যেখানে আপনারা থেমে যাবেন, সেখানেই আমার কষ্টের শুরু।
সেদিন আমার স্বামীকে বলা হয়েছিল, "ওকে তো যৌতুকের আশায় বিয়ে করেছে। না হলে এই বিয়ে কোনোদিন হতো না।"

কথাগুলো যখন আমার কানে পৌঁছাল, তখন আমি চিৎকার করে কাঁদতেও পারিনি। শুধু নীরবে ফ্লোরে বসে পড়েছিলাম। বুকের ভেতর ব্যথা হচ্ছিল, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল, মাথা ঘুরছিল।

কেউ দেখেনি আমার ভেতরের ভাঙন।
ভাবলাম, যে সম্পর্কের জন্য আমার বাবা-মাকে অপমান করা হয়, সেই সম্পর্ক আর রাখব না। স্বামীকে বললাম, "যদি বাড়ির কেউ আমাকে মেনে না নেয়, তবে আমাকে ছেড়ে দাও।"

কিন্তু সে বলল, "আমি পরিবারের পছন্দে নয়, নিজের পছন্দে তোমাকে বিয়ে করেছি। একটু ধৈর্য ধরো, সব ঠিক হয়ে যাবে।"
আমি বিশ্বাস করেছিলাম।

কিন্তু সব ঠিক হয়নি।
কিছু মানুষের ঈর্ষা, হিংসা আর কটূক্তি দিন দিন আমার সংসারকে বিষাক্ত করে তুলল। আমার ছোট ছোট ভুল বড় করে বলা হতো। আমার স্বামীর কান ভাঙানো হতো। এমনকি আমার বাবা-মাকেও অপমান করা হতো।

একদিন ঝগড়ার সময় সে বলল, "আমি শুধু তোমার জন্যই সংসার করি। তোমার বাবার দিকে তাকালে কখনোই থাকতাম না।"

কথাটা শুনে আমার চোখ থেকে অঝোরে পানি ঝরছিল।
কোনো মেয়ের কাছে তার বাবা-মাকে নিয়ে কটু কথা বলা যে কত বড় আঘাত, তা কি সবাই বুঝতে পারে?
"আর ধৈর্য ধারণ করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের প্রতিদান নষ্ট করেন না।"
— (সূরা হূদ: ১১৫)

অনেকবার মনে হয়েছে, সব শেষ করে দিই। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই মনে পড়েছে, একজন মুমিনের আশ্রয় আল্লাহর কাছেই।
তাই আত্মহত্যার চিন্তা ঝেড়ে ফেলে বলেছি— না, আমাকে বাঁচতে হবে। ধৈর্য ধরতে হবে। আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে হবে।

আমি কাউকে বদদোয়া করি না। আমি শুধু আমার কান্নাগুলো আল্লাহর কাছে তুলে ধরি। কারণ আমি জানি—
"নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথেই আছেন।"
— (সূরা আল-বাকারা: ১৫৩)

আজও আমার চোখের পানি সাক্ষী, একজন নারীর হৃদয় ভাঙা কত সহজ। কিন্তু সেই ভাঙা হৃদয় নিয়েই আমি আল্লাহর দিকে ফিরে যাই।
আমার প্রতিটি অশ্রুবিন্দু শুধু এই দোয়াই করে—

হে আল্লাহ! আমার মতো কষ্ট যেন আর কোনো নিরপরাধ মেয়ের ভাগ্যে না আসে। আর যারা অন্যের সংসার ভাঙাকে খেলায় পরিণত করে, তাদের তুমি হেদায়েত দান করো।

"আর যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।"
— (সূরা আত-তালাক: ২-৩)

চলবে,,,ইং শা আল্লাহ

"আর যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে...
22/06/2026

"আর যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।"
— (সূরা আত-তালাক ৬৫:২-৩)

জানুয়ারির ২৪ তারিখে বিয়ের প্রস্তাব এলো। কোথা থেকে যেন বিষয়টি দ্রুতই পরিবার পর্যন্ত পৌঁছে গেল। পরিবার ছেলেকে দেখতে চাইল। ছেলেও যথারীতি এলো। ফল-মিষ্টি খাওয়া হলো, পরিবারের সবার সঙ্গে গল্প-আড্ডা হলো।

ছেলেটিকে দেখে পরিবারের সবারই ভালো লেগেছিল। তাদের মুখে বারবার শুনছিলাম, "মাশাআল্লাহ, ছেলে তো খুব ভালো।"

কিন্তু আমি তাড়াহুড়ো করতে চাইনি। ভাবলাম, একটু সময় নিয়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাই। তাঁর ইচ্ছা কী, সেটাই জানতে চাই। তাই কিছু সময় নিলাম, নামাজে দাঁড়ালাম এবং দোয়া করলাম।

পরের দিন ছেলে জানালো, তারা প্রাথমিকভাবে রাজি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সে কিছু খোঁজখবর নিতে চায়।

আমি বিষয়টি পরিবারকে জানালাম। কিন্তু আমার পরিবার ছেলেটির বাড়িতে গিয়ে একবারও খোঁজখবর নিল না। যেন আমাকে অজানা এক স্রোতে ভাসিয়ে দিল।

অবশেষে আমার বিয়ে হলো একজন জেনারেল লাইনে পড়াশোনা করা ছেলের সঙ্গে। বিয়ের আগে শুনেছিলাম, সে নামাজি, নিয়মিত নামাজ পড়ে। আমাকে দেখতে এসে সে বলেছিল,

"পর্দা করতে আপনার কোনো সমস্যা হলে, আমার পক্ষ থেকে কখনো বাধা আসবে না।"

আরও বলেছিল,

"বিয়ের জন্য আপনার পরিবারের কাছ থেকে আমি এক টাকাও নেব না। আপনার বাবাকে একটি টাকাও খরচ করতে দেব না।"

আলহামদুলিল্লাহ, অন্তত এই কথাটি সে রেখেছিল। কোনো যৌতুক ছাড়াই সে আমাকে বিয়ে করেছিল।

কিন্তু গল্প এখানেই শেষ নয়।

একদিন সে বলল, এখনই আমাকে তাদের বাড়িতে নেবে না, আরও কিছুদিন পর নিয়ে যাবে। আমি বিশ্বাস করলাম। কারণ বিয়ের আগেই সে বলেছিল, সে এখনও ছাত্র। পড়াশোনা শেষ করবে, নিজের অবস্থান গড়বে, তারপর আমাকে স্থায়ীভাবে তুলে নেবে।

আমি অপেক্ষা করলাম।

দিন গেল, মাস গেল, সময় ফুরিয়ে গেল।

অবশেষে একদিন প্রথমবারের মতো তার বাড়িতে গেলাম। তার মাকে "আম্মু" বলে ডাকলাম, তার বাবাকে "আব্বু" বলে ডাকলাম। মনে মনে ভেবে নিলাম, এটাই আমার দ্বিতীয় পরিবার। এরা আমার দ্বিতীয় মা-বাবা।

তার ভাবীদের আপন করে নিলাম। ভাবলাম, তারা শুধু ভাবী নন, আমার নিজের বোনের মতো।

কিছুদিন সেখানে কাটিয়ে ফিরে আসার পর এমন একটি কথা শুনলাম, যা আমাকে ভেতর থেকে ভেঙে দিল।

শুনলাম, তার পরিবারের কেউ নাকি এই বিয়েতে রাজি ছিল না!

আমি হতবাক হয়ে গেলাম।

তাহলে কেন বলা হয়েছিল যে পরিবার রাজি? কেন আমার বাবাকে জানানো হয়েছিল যে তাদের সম্মতি আছে? কেন তাদের পক্ষ থেকে মানুষ এসে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করল?

পরে জানতে পারলাম, ছেলেটি নাকি নিজের সিদ্ধান্তেই আমাকে বিয়ে করেছে। সে পরিবারকে জানিয়েছিল যে সে আমাকে বিয়ে করবেই। এরপর পরিবারও নাকি বলেছিল, "ঠিক আছে, তাহলে করো।"

বিয়ের পর তাদের অনেক আত্মীয়-স্বজন আমাকে দেখতে এলেন। মামী শাশুড়ি, খালা শাশুড়ি, দাদি শাশুড়ি—অনেকে আমার পাশে বসে গল্প করলেন।

হঠাৎ একজন বললেন,

"রূপকের সঙ্গে কি তোমার আগে প্রেম ছিল?"

আমি থমকে গেলাম।

দৃঢ় কণ্ঠে বললাম,

"অসম্ভব। প্রেম নয়, এটি বিয়ে। আর এই বিয়েতে তার মা-বাবার সম্মতি ছিল বলেই তো আমি জানতাম।"

কিন্তু কিছুক্ষণ পর যা শুনলাম, তাতে যেন পায়ের নিচের মাটি সরে গেল।

আমার শাশুড়ি নিজেই বললেন,

"আমরা কেউ রাজি ছিলাম না। ছেলে নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করেছে।"

সেদিন বুকের ভেতরটা হুহু করে উঠেছিল।

এরপর তার ভাবিরা আমাকে আলাদা করে ঘরে ডেকে নিয়ে বলল,

"আচ্ছা, রূপক কি তোমাকে দেখে বিয়ে করেছিল, আরশি?"

আমি বললাম,

"হ্যাঁ, দেখে-শুনেই বিয়ে করেছে।"

তারা মৃদু হেসে একে অপরের দিকে তাকালো।

সেই হাসির অর্থ আমি বুঝতে পারিনি, কিন্তু অনুভব করেছিলাম বুকের ভেতর জমে থাকা কষ্টের ভার।

চোখের কোণে পানি এসে গিয়েছিল।

আমি মুখ লুকিয়ে ফেলেছিলাম।

সেদিন আমার কান্না কেউ দেখেনি—

না আমার বিয়ে করা স্বামী,

না আমার বাবা-মা।

শুধু আল্লাহ দেখেছিলেন।

"নিশ্চয়ই আল্লাহ অন্তর সমূহের গোপন কথা জানেন।"
— (সূরা আল-মুলক ৬৭:১৩)

সেদিন ঘরে ফিরে আমি অনেক কেঁদেছিলাম।

জায়নামাজে সিজদায় পড়ে চিৎকার করে কেঁদেছিলাম। আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়ার কেউ ছিল না। বুকের ভেতর জমে থাকা ভয়, কষ্ট আর অনিশ্চয়তা নিয়ে শুধু আল্লাহর কাছেই কথা বলেছিলাম।

আমি বলেছিলাম—

"হে আল্লাহ! আমি তো তাকে ভালোবেসে ফেলেছি। যদি সে আমার জীবন থেকে চলে যায়, আমি কীভাবে থাকব? যদি তার পরিবার তাকে আমার থেকে দূরে সরিয়ে নেয়, তবে আমি কোথায় যাব?

হে আমার রব! তুমি তো সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। তুমি শুধু 'কুন' বললেই সব হয়ে যায়। তুমি আমার জীবনটাকে ঠিক করে দাও। তুমি আমাকে পথ দেখাও। আমি ভেঙে পড়ছি, তুমি আমাকে সামলে নাও।"

দোয়া শেষ করে আমি ফিরে গেলাম বাবার বাড়িতে। আম্মু-আব্বুর কাছে কিছুই বললাম না। চোখের পানি লুকিয়ে রাখলাম। বুকের ভেতর ঝড় বয়ে যাচ্ছিল, অথচ মুখে হাসির অভিনয় করছিলাম।

বাস্তবে আমার রুহ যেন ছিঁড়ে যাচ্ছিল।

আমি বুঝতে পারছিলাম না, কোথায় যাব, কী করব, কার কাছে আমার কষ্টের কথা বলব।

তার ভাবিরা শুধু আমাকে অপমান করেনি, তারা আমার চেহারা, আমার গায়ের রঙ, আমার অস্তিত্ব—সবকিছুকে তুচ্ছ করার চেষ্টা করেছিল।

আমি নীরবে সব সহ্য করেছিলাম।

"নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি। নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি।"

কিছুদিন পর জানতে পারলাম, তার ভাবিরা আমার স্বামীর কাছে আমার সম্পর্কে এমন কিছু কথা বলেছে, যা আমার জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলতে শুরু করল।

আমি তখন বাবার বাড়িতে ছিলাম।

একদিন কোনো একটি বিষয় নিয়ে আমাদের কথা কাটাকাটি হলো। কথা বাড়তে বাড়তে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাল, যেখানে আমার স্বামী আমাকে হঠাৎ ব্লক করে দিল।

আমি হতবাক হয়ে গেলাম।

বারবার ফোন দিলাম।

ফোন বেজে গেল, কিন্তু সে ধরল না।

অনেকক্ষণ পর একবার ফোন ধরল।

কণ্ঠে ছিল অচেনা শীতলতা।

সে বলল,

— "ফোন দাও কেন?"

আমি কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করলাম,

— "আমার সঙ্গে আর সম্পর্ক রাখতে চাও না?"

সে এক মুহূর্তও দেরি না করে বলল,

— "না।"

শব্দটি যেন বজ্রপাত হয়ে আঘাত করল আমার হৃদয়ে।

আমি ফুপিয়ে কেঁদে উঠলাম।

কিন্তু আমার কান্নার শব্দ শেষ হওয়ার আগেই ফোনের লাইন কেটে গেল।

সেদিনও আমার কান্না শুধু একজনই দেখেছিলেন—

আমার রব।

"আর তোমরা নিরাশ হয়ো না এবং দুঃখ করো না। যদি তোমরা মুমিন হও, তবে তোমরাই বিজয়ী হবে।"
— (সূরা আলে ইমরান ৩:১৩৯)

চলবে...পরবর্তী পর্ব আসছে।

—যে গল্প কেউ জানতো না
—নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

পাঠকদের উদ্দেশে: এই গল্প পড়ে অনুগ্রহ করে লেখিকার ব্যক্তিগত পরিচয় জানার চেষ্টা করবেন না। আমি শুধু তার মুখে শোনা ঘটনা গুলো গল্পের আকারে আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি। এর বাইরে তার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না।এভাবে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ অধ্যায়ের মতো পড়তে সুন্দর লাগবে।

জিন সমস্যার বা যেকোনো সপ্নের সমস্যার জন্য আয়াতুল কুরসী আর ৪কুল যথেষ্ট। প্রতিবার শোয়ার আগে। দিন অথবা রাতে ঘুমান আয়াতুল কু...
22/06/2026

জিন সমস্যার বা যেকোনো সপ্নের সমস্যার জন্য আয়াতুল কুরসী আর ৪কুল যথেষ্ট। প্রতিবার শোয়ার আগে। দিন অথবা রাতে ঘুমান আয়াতুল কুরসী আর ৪কুল পরে বুকে ফু দিন আর হাতে ফু দিয়ে শরীর মুছে ফেলুন যতটা পারুন মাথা সহ।আমার রবের শপথ আমি ফলাফল পেয়েছি🥰

লেখা: মিশু আপু

✨ তাহাজ্জুদের মাধ্যমে দোয়া কবুলের গল্প ✨আসসালামু আলাইকুম।  অনেকেই তাহাজ্জুদের মাধ্যমে দোয়া কবুলের গল্প শুনতে চেয়েছেন। আম...
22/06/2026

✨ তাহাজ্জুদের মাধ্যমে দোয়া কবুলের গল্প ✨

আসসালামু আলাইকুম। অনেকেই তাহাজ্জুদের মাধ্যমে দোয়া কবুলের গল্প শুনতে চেয়েছেন। আমি নিজের কিছু কথা বলব যা শুনার পর আপনিও অনুপ্রেরণা পেতে পারেন।

২০২১ সালে আমার ফেইসবুকে একটা ছেলের সাথে ফ্রেন্ডশিপ করি, কথা বলতে বলতে কীভাবে যেনো সম্পর্কে জড়িয়ে যাই। এর আগে কখনও কোনো ছেলের সাথে আমি সম্পর্কে ছিলাম না। আমি তার প্রতি অসম্ভব লয়াল ছিলাম। তার বাড়ি থেকে আমার বাড়ীর দূরত্ব ছিল ৪৮ মাইলের। ২২ সালে সে আমার সাথে দেখা করার জন্য আমার জেলায় আসে। আমি এতেটাই লয়াল ছিলাম যে ওর ফোন হাতে পেয়েও চেক করার প্রয়োজন মনে করি নি। মাথায়ও আসে নি কোনে কিছু কারন ওকে আমি খুব বিশ্বাস করতাম। সব ভালোই চলছিল। হঠাৎ তার অনেক বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করলাম৷ ঠিক মতো কথা বার্তা বলছে না। মনে হয় ছাড়লে বাঁচে। তারপর তার ফ্যামিলির দোহাই দেওয়া শুরু করল। তার পরিবারের দায়িত্ব তাকে নিতে হবে, সে বড় ছেলে। তার বাবা অসুস্থ। তাকে বিদেশে যেতে হবে।হ্যান ত্যান। আমি বোকার মতো বিশ্বাস করি, আর তাকে আশ্বাস দেই, আমি তোমার পাশে আছি। আমাকে খুব ইগনোর করতো, বলত আমি কাজে ছিলাম, যেখানে যা কাজ পাচ্ছি করছি।

তখন আমি তাহাজ্জুদ পড়ে আল্লাহকে বলতাম " এই মানুষটা আমার কপালে লিখা থাকলে তুমি তাকে আমার করে দেও। যদি না হয় তব এমন কোনো সত্যি আমার সামনে নিয়ে আসো যাতে এই মানুষটা আমার মুনাজাতে স্থান না পায়। তখন আমি টানা তাহাজ্জুদ পড়া শুরু করলাম।তারকয়েকদিন পর তার প্রেমিকা আমাকে মেসেজ দিয়ে তাদের ছবি + সব কিছু বলে। আমি খুব ভেঙে পড়েছিলাম৷ দিশেহারা হয়েছিলাম। শুধু তার মুখ থেকে সত্যি টা শুনার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলাম। চেয়েছি সে নিজেই বলুক। শতবার জিগ্যেস করার পর ও সে স্বীকার হচ্ছিল না। শুধু বলছিল আমাকে ছেড়ে দে। তখনই বুঝেছি।

যাকে অসম্ভব ভালেবাসতাম, তার জন্য তৈরি হলো ভংয়কর ঘৃণা। কিন্তুু কষ্ট, সেটা তীব্র আকার ধারণ করলো।আল্লাহকে বলতাম আমাকে ভুলিয়ে দেও। যেই আমি একটা মানুষকে পাগলের মতো চেয়েছি, সেই আমি দেয়া করতে শুরু করলাম, এমন একজনকে আমার লাইফে পাঠাও যাকে পেলে আমি এই মানুষকে ভুলে যেতে পারি। যে আমাকে ঠকানোর কথা ভুলেও চিন্তা করতে পারবে না। আমি হালাল ভাবে পেতে চাই। খুব ভালো একটা ফ্যামিলি চাই। আমি সবসময় আমার এই দোয়া সিজদাহ্ এ কন্টিনিউ রাখতাম। তারসাথে সম্পর্ক শেষ হওয়ার ১ বছর পর আমার বিয়ে হয়। আলহামদুলিল্লাহ। এমন একজন মানুষ পেয়েছি যে সবসময় আমার শখ পূরণ করছে। সুন্দর একটা পরিবার পেয়েছি। ঝামেলাহীন। তিনি আমার সব আবদার রাখছে৷ স্পেশাল ফিল করাচ্ছে। আমাকে ছাড়া বেশি সময় দেশের বাহিরে থাকতে পারে না। কয়েকমাস পর পরই সারপ্রাইজ দিতে হঠাৎ করে আসে।

বিয়ের কিছু দিন পর সে দেশ থেকে চলে যায় প্রবাসে৷ তার বেবির খুব শখ ছিল প্রথম থেকেই। কিন্তুু ১৫ দিন ছিলাম আমরা একসঙ্গে বেবি না হওয়ায় সে একটু বিচলিত হয়ে পড়ে। সেখানে গিয়ে সব টেষ্ট করে, টেষ্টে তার সমস্যা ধরা পড়ে যে, বাবা হওয়াটা তার জন্য ডিফিকাল্ট। মেডিসিন দেয়। তিন মাস পরে আবার আসে দেশে। ২ সপ্তাহের জন্য। তখন ও কিছু লাভ হয় নি। আমি প্রতিনিয়ত দোয়া করতাম। যাতে আল্লাহ আমাদের একটা সন্তান দেন। সে আমাকে বলত" আপনি আমাকে ছেড়ে দেন, আমি চাই আপনি যেনো মা হতে পারেন। আমার জীবনে থাকলে আপনি খুব বড় ভুল করবেন৷ আপনার পরিবারকে জানান৷"

এসব শুনে আমি তাকে বুঝাতাম। তাহাজ্জুদ পড়া শুরু করলাম। এভাবে আরে চার মাস চলল। তারপর আমাকে তার কাছে নিয়ে গেলো। প্রতিবার সে দোয়া করত যেনো আল্লাহ একজন নেক সন্তান দান করে। আমাকে সবসময় বলত, " আপনি দোয়া করেন যেনো একটা নেক সন্তান দেয় আল্লাহ। "

তার কাছে যাওয়ার ২০ দিন পরে টেষ্ট করে দেখি পজিটিভ। আলহামদুলিল্লাহ। এখন আমরা একজন পুত্র সন্তানের মা-বাবা। আলহামদুলিল্লাহ। শুক্রিয়া। বিয়ের ৭ মাস পরে আমরা এই সুখবর পেয়েছি। ১ বছর ৩ মাস পর আল্লাহর নিয়ামত হাতে পাই।
আসলে আল্লাহর কাছে কোনো কিছু চাইলে তিনি খালি হাতে ফেরায় না। চাওয়ার মতো চাইলে অবশ্য ই তিনি দেন। তাই হাল ছাড়বেন না। তাওয়াক্কুলের সাথে হালাল ভাবে চাইতে থাকুন, অবশ্য ই পাবেন। আলহামদুলিল্লাহ শুক্রিয়া।

- Sidratul Muntaha Muntaha

বাবার ঝণ এখনো শোধ হয়নি!❤️‍🩹
22/06/2026

বাবার ঝণ এখনো শোধ হয়নি!❤️‍🩹

সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন আমলগুলো কোনোটা তিনবার, কোনোটা দশবার আর কোনোটা একশবার পড়তে হয়। অনেক সময় সংখ্যা বেশি দেখে ভয়ে বা আলস্...
22/06/2026

সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন আমলগুলো কোনোটা তিনবার, কোনোটা দশবার আর কোনোটা একশবার পড়তে হয়। অনেক সময় সংখ্যা বেশি দেখে ভয়ে বা আলস্যের কারণে একবারও পড়ি না। একেবারে না পড়ার চেয়ে অন্তত একবার বা দু তিনবার করে হলেও পড়তে পারি। বলাবাহুল্য, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যতবার পড়েছেন, ততবার পড়তে পারলে অবশ্যই ভালো। সুন্নতটাও পুরোপুরি আদায় হবে। সওয়াবও বেশি পাওয়া যাবে। ফযিলতও পুরো অর্জিত হবে।

ধরা যাক, সূরাতুল ইখলাস, ফালাক, নাস তিনবার করে পড়া সুন্নত। একদম ছেড়ে না দিয়ে অন্তত একবার করে পড়তে পারি। সকাল-সন্ধ্যাটা যেন মাসনুন আমল থেকে একেবারে খালি না যায়।

— কাওলান কারীমা বই থেকে।

Address

Dhaka New Market
Dhaka
1005

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Deen View posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share