Jashim Gazi

Jashim Gazi Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Jashim Gazi, Poet, gulshan 1, dhaka, Dhaka.

'প্রস্তুত হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা  উপলক্ষ্যেজসিম গাজী'র লেখা 'রক্তজবা'প্রচ্ছদ : ফাইজা ইসলাম প্রকাশনা: রয়েল পাবলিকেশন প্রক...
12/11/2025

'প্রস্তুত হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা উপলক্ষ্যে

জসিম গাজী'র লেখা
'রক্তজবা'
প্রচ্ছদ : ফাইজা ইসলাম
প্রকাশনা: রয়েল পাবলিকেশন
প্রকাশক: মো. মনিরুল ইসলাম (রয়েল)
মুদ্রিত মূল্য: ৯০০৳

প্রি-অর্ডার করুন প্রকাশনার অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে

রয়েল পাবলিকেশন -এর যে কোনো বই অফলাইন লাইব্রেরির পাশাপাশি ঘরে বসেই অর্ডার করতে পারেন আমাদের ইনবক্সে অথবা রকমারি ডটকম, বইসদাই ডটকম, পিবিএস ডটকম, বইফেরী, বাতিঘর, প্রথমা, বই বাজার, বিডি বুকস, ই-বইঘর, পাঠক পয়েন্ট, বইয়ের দুনিয়া,পাঠক সমাবেশ-সহ যে কোনো অনলাইন বুকশপে।

ফ্ল্যাপ:
‘জবা’ — এক নারীর জাগরণের উপন্যাস।
জবার জন্ম যেন ছিল এক অভিশাপ। দরিদ্র পিতা-মাতার অবহেলায়, সমাজের তুচ্ছতাচ্ছিল্যে, সে বড় হয়েছে অবদমিত এক জীবনের ছায়ায়। কিন্তু সেই ছায়ার মধ্যেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে তার প্রতিবাদী সত্তা।

যৌবনের প্রারম্ভে, এক বিশ্ববিদ্যালয়-পড়ুয়া ছেলের সঙ্গে জবার প্রেম—একটি নিষ্পাপ স্বপ্নের মতো শুরু হলেও সমাজের কঠিন নিয়ম, শ্রেণি-বিভাজন ও পরিবারের শাসনে তা ভেঙে যায়। পরে জবার বিয়ে হয়, কিন্তু সংসারের সুখ তার কপালে লেখা ছিল না। প্রবাসী স্বামী সাত বছর পর ফিরে এলে, বিয়ের এগারো বছরে জমে ওঠা দুঃখ, অবহেলা ও নিপীড়নের ভারে জবা নিজেই সিদ্ধান্ত নেয়—তালাকই তার মুক্তি।

তালাকের পর জবা নিজের ভেতরে এক নতুন আলো খুঁজে পায়। সে প্রতিষ্ঠা করে ‘নারী জাগরণ ক্লাব’, যার মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদের পাশে দাঁড়ায়—অন্যায়, কুসংস্কার, যৌতুক, ও পুরুষতান্ত্রিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালায়। জবা হয়ে ওঠে সেই কণ্ঠস্বর, যা এতদিন নীরব ছিল।

উপন্যাসের শেষ অধ্যায়ে, সমাজকেও হতবাক করে জবার আরেকটি কঠিন সিদ্ধান্ত—সে নিজের পুত্রকেই ত্যাজ্য ঘোষণা করে। কারণ, যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সে সারা জীবন লড়েছে, সেই অন্যায়েরই প্রতিফলন সে দেখে নিজের সন্তানরূপে।

‘জবা’ শুধু এক নারীর গল্প নয়—এ এক সময়ের, এক সমাজের, এক জাতির বিবেকজাগানিয়া প্রতিরোধের কণ্ঠস্বর।

— রয়েল সম্পাদনা পর্ষদ

'প্রস্তুত হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা  উপলক্ষ্যেজসিম গাজী'র লেখা উপন্যাস 'মৌন আলোর মানুষ'প্রচ্ছদ : ফাইজা ইসলাম প্রকাশনা: রয়েল...
10/11/2025

'প্রস্তুত হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা উপলক্ষ্যে

জসিম গাজী'র লেখা উপন্যাস
'মৌন আলোর মানুষ'
প্রচ্ছদ : ফাইজা ইসলাম
প্রকাশনা: রয়েল পাবলিকেশন
প্রকাশক: মো. মনিরুল ইসলাম (রয়েল)
মুদ্রিত মূল্য: ৮৫০৳

প্রি-অর্ডার করুন প্রকাশনার অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে

রয়েল পাবলিকেশন -এর যে কোনো বই অফলাইন লাইব্রেরির পাশাপাশি ঘরে বসেই অর্ডার করতে পারেন আমাদের ইনবক্সে অথবা রকমারি ডটকম, বইসদাই ডটকম, পিবিএস ডটকম, বইফেরী, বাতিঘর, প্রথমা, বই বাজার, বিডি বুকস, ই-বইঘর, পাঠক পয়েন্ট, বইয়ের দুনিয়া,পাঠক সমাবেশ-সহ যে কোনো অনলাইন বুকশপে।

প্রস্তুত হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উপলক্ষ্যেজসিম গাজী'র লেখা উপন্যাস 'রুদ্রের অনুস্তর'প্রচ্ছদ : ফারহান শিব্বির প্রকাশন...
06/11/2025

প্রস্তুত হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উপলক্ষ্যে

জসিম গাজী'র লেখা উপন্যাস
'রুদ্রের অনুস্তর'
প্রচ্ছদ : ফারহান শিব্বির
প্রকাশনা: রয়েল পাবলিকেশন
প্রকাশক: মো. মনিরুল ইসলাম (রয়েল)
মুদ্রিত মূল্য: ৭৫০৳

রয়েল পাবলিকেশন -এর যে কোনো বই অফলাইন লাইব্রেরির পাশাপাশি ঘরে বসেই অর্ডার করতে পারেন আমাদের ইনবক্সে অথবা রকমারি ডটকম, বইসদাই ডটকম, পিবিএস ডটকম, বইফেরী, বাতিঘর, প্রথমা, বই বাজার, বিডি বুকস, ই-বইঘর, পাঠক পয়েন্ট, বইয়ের দুনিয়া,পাঠক সমাবেশ-সহ যে কোনো অনলাইন বুকশপে।

ফ্ল্যাপ:
"রুদ্রের অনুস্তর" উপন্যাসটি রুদ্র নামের এক যুবকের জীবন সংগ্রামের গল্প। শৈশব থেকে শুরু করে জীবনের নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে তার বেড়ে ওঠার চিত্র এই উপন্যাসে তুলে ধরা হয়েছে। রুদ্রের জীবনে বারবার নেমে এসেছে বিচ্ছেদ আর হারানোর বেদনা। তার মা, বাবা, বোন ও দুলাভাইকে হারানোর পর সে সম্পূর্ণ একা হয়ে যায়।
প্রেমের ক্ষেত্রেও সে বারবার হোঁচট খেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনে অঞ্জলি নামের এক মেয়ের সাথে তার সম্পর্ক হয়, কিন্তু ধর্মীয় ভিন্নতার কারণে তাদের সম্পর্ক পূর্ণতা পায়নি। এরপর রুদ্রের জীবনে আসে সাইকোলজিস্ট তণু। তণুর চিকিৎসায় সে মানসিক অবসাদ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠে এবং পরে তাকেই বিয়ে করে। কিন্তু রুদ্রের দুই সন্তানকে রেখে তণু হঠাৎই নিখোঁজ হয়ে যায়, যা তার জীবনে আরেক রহস্যের জন্ম দেয়।
ব্যবসায়িক জীবনেও রুদ্রকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক মন্দা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তার কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে যায় এবং তাকে জেলে যেতে হয়। সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব রুদ্র তার দুই কন্যাকে নিয়ে নতুন করে বাঁচার পথ খুঁজতে থাকে। এই সময়েই আবার তার জীবনে ফিরে আসে অঞ্জলি, যে নিজেও মানসিক অবসাদের শিকার। রুদ্র তাকে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করে।
সবশেষে, রুদ্রের জীবনের গল্পটি এক অদ্ভুত সমীকরণের সামনে এসে দাঁড়ায়। একের পর এক প্রিয়জন হারানো, ব্যবসায়ে বিপর্যয় এবং মানসিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে সে নিজেকে একাকী এবং হতাশ দেখতে পায়।

আমার ফারিয়া জীবনের নতুন ছন্দ ভোরের আলোফাগুন ফুলের গন্ধ
06/11/2025

আমার ফারিয়া
জীবনের নতুন ছন্দ
ভোরের আলো
ফাগুন ফুলের গন্ধ

সময়কত দ্রুত চলে সময়ের ঘণ্টা,বেয়াল্লিশ বসন্ত খেয়ে গেল!কারেন্টর মত চলে গেলো পেছনে আমি দেখলাম, এই তো সেদিন।একটা দিন এলো, আম...
05/11/2025

সময়

কত দ্রুত চলে সময়ের ঘণ্টা,
বেয়াল্লিশ বসন্ত খেয়ে গেল!
কারেন্টর মত চলে গেলো পেছনে
আমি দেখলাম, এই তো সেদিন।

একটা দিন এলো, আম কুড়াবার,
এক বিকেল, ঘনমেঘের সন্ধ্যা-বেলা-
সব গিলে নিয়েছে এই সময়...

~জসিম গাজী

প্রস্তুত হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উপলক্ষ্যেজসিম গাজী এর রহস্য উপন্যাস 'অশনাক্ত যাত্রা'প্রচ্ছদ : ফারহান শিব্বির প্রকাশ...
05/11/2025

প্রস্তুত হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উপলক্ষ্যে

জসিম গাজী এর রহস্য উপন্যাস
'অশনাক্ত যাত্রা'

প্রচ্ছদ : ফারহান শিব্বির
প্রকাশনা: রয়েল পাবলিকেশন
প্রকাশক: মো. মনিরুল ইসলাম (রয়েল)
মুদ্রিত মূল্য: ৬০০৳

প্রি-অর্ডার করতে প্রকাশনার অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে ম্যাসেজ করুন অথবা প্রকাশনার নিজস্ব সাইটে অর্ডার কনফার্ম করুন।

রয়েল পাবলিকেশন -এর যে কোনো বই অফলাইন লাইব্রেরির পাশাপাশি ঘরে বসেই অর্ডার করতে পারেন আমাদের ইনবক্সে অথবা রকমারি ডটকম, বইসদাই ডটকম, পিবিএস ডটকম, বইফেরী, বাতিঘর, প্রথমা, বই বাজার, বিডি বুকস, ই-বইঘর, পাঠক পয়েন্ট, বইয়ের দুনিয়া,পাঠক সমাবেশ-সহ যে কোনো অনলাইন বুকশপে।

ফ্ল্যাপ:

'অশনাক্ত যাত্রা' সিরিজের প্রথম পর্বটি শুরু হয় এক গভীর রাতে, যখন ঢাকা শহরে প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। গল্পের প্রধান চরিত্র ডিটেকটিভ রফিক আহমেদ তার আরামদায়ক চেয়ারে বসেছিলেন। তিনি এমন এক রহস্যের গভীরে প্রবেশ করেন যা সাধারণ মানুষের ধারণার বাইরে।
এই গল্পের প্লটটি একটি প্রাচীন রহস্যময় জাতি, রুদ্রবংশ, এবং তাদের হারিয়ে যাওয়া জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে তৈরি। রফিক আহমেদ বুঝতে পারেন যে এই আধুনিক সভ্যতার আড়ালে লুকানো আছে এমন কিছু প্রাচীন শক্তি যা এখনও পৃথিবীর উপর প্রভাব বিস্তার করে চলেছে। এই শক্তি মানবমনের গভীরের লুকানো ক্ষমতা এবং কিছু অশুভ সত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত।
রফিক আহমেদ একটি নতুন ফাইল হাতে নেন যা একটি গ্রামে ঘটে যাওয়া অদ্ভুত ঘটনা নিয়ে। গ্রামের মানুষরা দাবি করে যে তাদের গ্রামে কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটছে। ডিটেকটিভ রফিক আহমেদ এই 'অশনাক্ত যাত্রা' শুরু করেন, যা একটি অন্তহীন অন্বেষণ। প্রতিটি সমস্যার সমাধান তাকে নতুন একটি রহস্যের দিকে ঠেলে দেয়।

প্রস্তুত হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উপলক্ষ্যেজসিম গাজী এর রহস্য উপন্যাস 'অশনাক্ত যাত্রা'প্রচ্ছদ : ফারহান শিব্বির প্রকাশ...
01/09/2025

প্রস্তুত হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উপলক্ষ্যে

জসিম গাজী এর রহস্য উপন্যাস
'অশনাক্ত যাত্রা'

প্রচ্ছদ : ফারহান শিব্বির
প্রকাশনা: রয়েল পাবলিকেশন

রয়েল পাবলিকেশন -এর যে কোনো বই অফলাইন লাইব্রেরির পাশাপাশি ঘরে বসেই অর্ডার করতে পারেন আমাদের ইনবক্সে অথবা রকমারি ডটকম, বইসদাই ডটকম, পিবিএস ডটকম, বইফেরী, বাতিঘর, প্রথমা, বই বাজার, বিডি বুকস, ই-বইঘর, পাঠক পয়েন্ট, বইয়ের দুনিয়া,পাঠক সমাবেশ-সহ যে কোনো অনলাইন বুকশপে।

ফ্ল্যাপ:

'অশনাক্ত যাত্রা' সিরিজের প্রথম পর্বটি শুরু হয় এক গভীর রাতে, যখন ঢাকা শহরে প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। গল্পের প্রধান চরিত্র ডিটেকটিভ রফিক আহমেদ তার আরামদায়ক চেয়ারে বসেছিলেন। তিনি এমন এক রহস্যের গভীরে প্রবেশ করেন যা সাধারণ মানুষের ধারণার বাইরে।
এই গল্পের প্লটটি একটি প্রাচীন রহস্যময় জাতি, রুদ্রবংশ, এবং তাদের হারিয়ে যাওয়া জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে তৈরি। রফিক আহমেদ বুঝতে পারেন যে এই আধুনিক সভ্যতার আড়ালে লুকানো আছে এমন কিছু প্রাচীন শক্তি যা এখনও পৃথিবীর উপর প্রভাব বিস্তার করে চলেছে। এই শক্তি মানবমনের গভীরের লুকানো ক্ষমতা এবং কিছু অশুভ সত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত।
রফিক আহমেদ একটি নতুন ফাইল হাতে নেন যা একটি গ্রামে ঘটে যাওয়া অদ্ভুত ঘটনা নিয়ে। গ্রামের মানুষরা দাবি করে যে তাদের গ্রামে কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটছে। ডিটেকটিভ রফিক আহমেদ এই 'অশনাক্ত যাত্রা' শুরু করেন, যা একটি অন্তহীন অন্বেষণ। প্রতিটি সমস্যার সমাধান তাকে নতুন একটি রহস্যের দিকে ঠেলে দেয়।

জুলাই ২০২৪ : এক অগ্নিপর্বের ইতিহাসবাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রতিটি দশক যেন রেখে গেছে কিছু না কিছু গভীর দাগ। ১৯৭১ আমাদ...
31/08/2025

জুলাই ২০২৪ : এক অগ্নিপর্বের ইতিহাস

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রতিটি দশক যেন রেখে গেছে কিছু না কিছু গভীর দাগ। ১৯৭১ আমাদের দিয়েছে স্বাধীনতা, ১৯৭৫ আমাদের দিয়েছে শোক আর বিভক্তি, ১৯৯০ দেখিয়েছে গণআন্দোলনের শক্তি। ২০১৩–১৪ সালের শাহবাগ বা রাজনৈতিক অস্থিরতাও রেখেছিল কিছু স্মৃতি। কিন্তু জুলাই ২০২৪ এমন এক সময়কাল হয়ে উঠেছে, যা অন্য সবকিছুকে ছাড়িয়ে আলাদা জায়গা দখল করেছে। কারণ এই মাস শুধু প্রতিবাদের নয়, ছিল রক্ত, আত্মত্যাগ, প্রত্যাশা, পুনর্জন্ম আর নতুন ভবিষ্যতের দরজা খোলার মাস।

পটভূমি : ক্ষোভের বীজ

জুলাইয়ের অগ্নিঝড় হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। বরং বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা অন্যায়, অবিচার আর শোষণের আগুন ধিকিধিকি জ্বলছিল।

বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্ম দীর্ঘদিন ধরে একটি সংকটের ভেতর ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে সেশনজট, শিক্ষাব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা, চাকরির বাজারে হতাশা—সব মিলিয়ে তাদের ভেতর ক্রোধ জমা হচ্ছিল। অন্যদিকে সাধারণ মানুষ প্রতিদিন বাজারে গিয়ে দেখত নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া, অথচ আয়ের কোনো উন্নতি নেই। রাজনৈতিক পরিসরে ভিন্নমত প্রকাশ করা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছিল।

সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে মানুষের হতাশা। নির্বাচনকে ঘিরে বিতর্ক, বিরোধীদের দমন, সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের ওপর চাপ—সব মিলে মানুষ অনুভব করেছিল তাদের কণ্ঠ রুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই ক্ষোভই একসময় বিস্ফোরণে রূপ নেয়।

জুলাইয়ের সূচনা : অস্থির রাজপথ

জুলাই ২০২৪-এর প্রথম সপ্তাহেই রাজধানী ঢাকা অস্থির হয়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রথমে ক্যাম্পাসভিত্তিক ছোট ছোট মিছিল শুরু করে। তাদের দাবি ছিল মূলত শিক্ষা ও চাকরির নিশ্চয়তা নিয়ে। কিন্তু শিগগিরই সেই মিছিল রাজনীতিক রূপ নেয়।

রাজধানীর শাহবাগ, গুলিস্তান, ফার্মগেট, মতিঝিল—প্রতিটি জায়গায় ভিড় জমতে থাকে। প্রথমদিকে এটি ছিল শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, যেখানে শিক্ষার্থীরা গান গাইছিল, কবিতা পড়ছিল, স্লোগান দিচ্ছিল। কিন্তু পুলিশের বাধা আসতেই পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

একদিনেই কয়েকশো শিক্ষার্থী আটক হয়, কেউ কেউ আহত হয়। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে আন্দোলন থেমে যায়নি। বরং গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবিতে আরও বেশি মানুষ রাস্তায় নামে।

প্রতিদিনের বিস্তার : ঢাকার বাইরে আন্দোলন

জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে আন্দোলন ঢাকার বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর—সব শহরেই মানুষ নেমে আসে। এই আন্দোলনের একটি বিশেষ দিক ছিল গ্রামীণ অংশগ্রহণ। ইউনিয়ন, উপজেলা পর্যায়ের মানুষজনও মিছিল করতে শুরু করে।

কৃষকরা মাঠে হাল ছেড়ে মিছিলে যোগ দেয়। রিকশাওয়ালা ভাড়ার বদলে প্রতিবাদে যায়। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে। দেশজুড়ে এক ধরনের অঘোষিত ধর্মঘটের আবহ তৈরি হয়।

দমননীতি বনাম প্রতিরোধ

সরকার ভেবেছিল শক্তি প্রয়োগ করলেই আন্দোলন ভেঙে পড়বে। টিয়ার গ্যাস, গুলি, লাঠিচার্জ—সব কিছুই ব্যবহার করা হলো। অনেক জায়গায় প্রাণ হারাল নিরীহ তরুণেরা।

কিন্তু এ মৃত্যুই আন্দোলনকে আরও প্রবল করে তোলে। শহীদদের রক্ত যেন জনতাকে নতুন শক্তি দেয়। একেকটি জানাজা পরিণত হয় বিশাল সমাবেশে। একেকটি শহীদ কণ্ঠহীন কোটি মানুষের হয়ে কথা বলে ওঠে।

সামাজিক মাধ্যমের ঝড়

এই সময়ে সামাজিক মাধ্যম ছিল আন্দোলনের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। যখন রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম আন্দোলনকে অবমূল্যায়ন করার চেষ্টা করছিল, তখন সাধারণ তরুণদের মোবাইল ক্যামেরাই সত্যের দলিল হয়ে দাঁড়ায়।

ফেসবুক, টুইটার (এক্স), ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিও সারা দেশকে নাড়িয়ে দেয়। এক তরুণীর রক্তাক্ত ছবি, এক মায়ের কান্না, এক শিশুর প্রশ্ন—এসব মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।

আসলে সামাজিক মাধ্যম আন্দোলনকে এক জায়গায় সীমাবদ্ধ রাখেনি, বরং প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিয়েছে।

শিল্প ও সংস্কৃতির শক্তি

জুলাইয়ের আন্দোলনে গান, কবিতা, নাটক বিশাল ভূমিকা রাখে। রাজপথে দাঁড়িয়ে তরুণেরা গাইছিল পুরোনো গণসংগীত—“তোমায় দিলাম এ জীবনের সবটুকু ভালোবাসা”—অথবা নতুনভাবে রচিত প্রতিবাদের গান।

শাহবাগের দেয়ালে আঁকা হয়েছিল রঙিন গ্রাফিতি। কেউ লিখেছিল: “আমার রক্তের বিনিময়ে চাই সত্যের জয়।” এই শিল্প আন্দোলনকে শুধু রাজনৈতিক রাখেনি, দিয়েছে আবেগ ও সৌন্দর্য।

পারিবারিক কাহিনি : আন্দোলনের ভেতরের মানবিক দিক

জুলাই ২০২৪-এর সবচেয়ে মর্মস্পর্শী দিক ছিল পারিবারিক কাহিনি। প্রতিটি শহীদ একেকটি পরিবারের ভরসা।

এক মা সংবাদপত্রের ক্যামেরার সামনে চিৎকার করে বলেছিলেন: “আমার ছেলে যদি না-ও ফিরে আসে, তার রক্ত বৃথা যাবে না।”
এক নববিবাহিত স্ত্রী তার শহীদ স্বামীর রক্তাক্ত জামা বুকে চেপে ধরে মিছিলে দাঁড়িয়েছিলেন।
একজন বৃদ্ধ কৃষক বলেছিলেন: “আমার ছেলের প্রাণ গেছে, কিন্তু আমি আবারও রাস্তায় নামব। কারণ সে দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছে।”

এই গল্পগুলো মানুষকে আরও ঐক্যবদ্ধ করেছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

জুলাই ২০২৪ আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। বিশ্বের বড় বড় সংবাদমাধ্যম প্রতিদিন শিরোনামে আনছিল বাংলাদেশের খবর। আল-জাজিরা, বিবিসি, সিএনএন, নিউ ইয়র্ক টাইমস—সবাই লিখছিল একবাক্যে: বাংলাদেশের মানুষ ইতিহাস রচনা করছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো সরকারের দমননীতি নিয়ে সমালোচনা করে। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক চাপও ক্রমশ বাড়তে থাকে। এর ফলে সরকার আরও চাপে পড়ে।

আন্দোলনের বৈশিষ্ট্য

জুলাইয়ের আন্দোলনের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য আলাদা করে উল্লেখযোগ্য—

অংশগ্রহণের ব্যাপকতা – ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, নারী, প্রবীণ—সব শ্রেণি-পেশার মানুষ যুক্ত হয়েছিল।

অরাজনৈতিক চরিত্র – আন্দোলনটি ছিল মানুষের আন্দোলন, কোনো দলের ক্রীড়ানক নয়।

শহীদদের আত্মত্যাগ – প্রতিটি মৃত্যু আন্দোলনকে আরও দৃঢ় করেছে।

তরুণ নেতৃত্ব – নতুন প্রজন্ম নেতৃত্ব দিয়েছে, যা দেশের ভবিষ্যতের জন্য নতুন আশা জাগিয়েছে।

আগামীর প্রশ্ন

সবাই জানত, আন্দোলন সফল হলেও চ্যালেঞ্জ কম নয়। শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা দেওয়া, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা—এসব বিশাল দায়িত্ব সামনে দাঁড়ায়।

প্রশ্ন ছিল, মানুষ কি এবার সত্যিই তাদের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন পাবে? নাকি আবারও রাজনীতি পুরোনো চক্রে ঘুরবে?

জুলাইয়ের উত্তরাধিকার

যেভাবেই হোক, জুলাই ২০২৪ প্রমাণ করেছে—বাংলাদেশের মানুষ সহজে হার মানে না। তারা অন্যায়ের কাছে মাথা নোয়ায় না।

এটি আমাদের নতুন এক আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। ছাত্ররা আবারও প্রমাণ করেছে, তারা শুধু পাঠ্যবইয়ের ভেতরে সীমাবদ্ধ নয়; প্রয়োজনে তারা দেশের পথপ্রদর্শক।

জুলাই আমাদের শিখিয়েছে, সাহস মানে শুধু প্রতিবাদ নয়—সাহস মানে স্বপ্ন দেখা, নতুন পথের সন্ধান করা, এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

উপসংহার

জুলাই ২০২৪ একটি অগ্নিপর্ব। এটি একদিকে শোকের মাস, অন্যদিকে গৌরবের। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের সংগ্রাম কখনো শেষ হয় না। প্রতিটি প্রজন্মকে তাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হয়।

যখন ভবিষ্যতের পাঠ্যবইতে এই মাস নিয়ে লেখা হবে, তখন এক বাক্যে বলা হবে:
“জুলাই ২০২৪ ছিল বাংলাদেশের জনগণের অদম্য প্রতিরোধ ও মুক্তির মাস।”

"ধূসর আকাশের আর্তনাদ"--জসিম গাজী সবুজের চাদরে ঢাকা ছিল, আজ ধূলোয় মোড়া দেশ,বিষের ধোঁয়ায় হারায় ধরা, মুছে যায় আকাশের রেশ।তৃ...
12/08/2025

"ধূসর আকাশের আর্তনাদ"
--জসিম গাজী

সবুজের চাদরে ঢাকা ছিল, আজ ধূলোয় মোড়া দেশ,
বিষের ধোঁয়ায় হারায় ধরা, মুছে যায় আকাশের রেশ।
তৃষ্ণায় কাতর নদীর স্রোত, পাখির গানও থামে,
শুষ্ক মাটির বুকে ব্যথা, ফাটল ধরে ঘামে।
বনভূমি নিঃশেষ আজ, নেই ছায়ার আশ্রয়,
উজাড় করে লোভী হাতে, মৃত্যু আনে নিশ্চয়।
বরফ গলে সাগর উঠে, গিলছে তটের প্রাণ,
উষ্ণতার বিষবাষ্পে ডুবে যায় মানবজ্ঞান।
নগর জুড়ে ধোঁয়ার দেয়াল, শ্বাস নিতে লড়াই,
বাতাসও আজ খোঁজে মুক্তি, পায় না শান্তির ঠাঁই।
হারিয়ে গেছে পাখির সুর, নীরব ভোরের গান,
ক্ষুধায় কাঁদে শিশুর চোখ, আকাশে জ্বলে শোকের বান।
আগুনে পুড়ে অরণ্য কাঁদে, হরিণ শাবক ভীত,
মৃত্যু নামে ছায়ার মতো, পথ হয় অদ্ভুত হীত।
লোভে অন্ধ সভ্যতা খুঁড়ে নিজেরই কবর,
ভুলে ধরণীর মমতা, ভাসে লুণ্ঠনের খবর।
পাহাড়ের তুষার ভেঙে ঝরে, কাঁদে নদীর ঢেউ,
গ্রীষ্মে বৃষ্টি আসেনা আর, তৃষ্ণা তাড়ায় ঢেউ।
প্রকৃতির আর্তনাদ শোনে কে আজ মানবজাতি?
ধ্বংসের পথে সাজায় স্বপ্ন, ভোলে নিজ স্বরূপ ভ্রাতি।
তবুও আশা বেঁচে আছে, যদি ফিরি আবার,
হাতে হাতে গড়ি আমরা সবুজের সংসার।

11/08/2025

Address

Gulshan 1, Dhaka
Dhaka
1212

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Jashim Gazi posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category