23/02/2021
৪ মার্চ ১৯৯৮-এ ইমপ্রেস টেলিফিল্মে Nazrul Quraishi ভাই'র সাথে সহকারী পরিচালক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করি।
তখন আমাদের দেশের নাটক দেখে ওপার বাংলার মানুষজন হিংসে করতেন- কীভাবে আমরা এত ভালো মানের নাটক তৈরি করি!
আর এখন আমাদের নাটক-সিনেমার দর্শক নাই!
একটা ৫২ মিনিটের নাটক নির্মাণ করতে আগে ভালো গল্প বাছাই হতো, তারপর লোকেশন, চরিত্রানুযায়ী শিল্পী বাছাই হতো। অন্তত ২ থেকে ৩ দিন রিহার্সেল হতো।
রওশন জামিল, আসাদুজ্জামান নূুর, ড. এনামুল হক, দিলারা জামান, আবুল হায়াত, বুলবুল আহমেদ, শর্মিলী আহমেদ, হুমায়ুন ফরিদী, আফজাল হোসেন, সুবর্না মুস্তাফা, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, ডলি জহুর, জহির উদ্দিন পিয়ার, আফরোজা বানু, পীযুষ বন্দোপাধ্যায়, আফজাল শরীফ, আজিজুল হাকিম, শমী কায়সার, তৌকির আহমেদ, বিপাশা হায়াত, জাহিদ হাসান, বিজরী বরকত উল্লাহ্, শামস সুমন-সহ দেশের প্রায় সব গুণী অভিনয় শিল্পীরা রিহার্সেলে অংশ নিতেন।
এখান থেকেই পরিচালক তাঁর চরিত্রানুযায়ী অভিনয় বুঝে নিতেন। কোনো ছাড় দেয়া হতো না।
প্রি-প্রোডাকশনের জন্য সময় নিতেন। ৫২ মিনিটের নাটকের জন্য ৩ দিন শুটিং করতেন। ওই সময় একটা নাটক নির্মাণ করতে যে শ্রম দেয়া হতো তা এখন আর দেয়া হয় না বা দিতে পারেন না!
একদিনের ঘটনা। Ferdous Hassan Rana ভাই'র লেখা একটি নাটকের পরিচালক আবুল হায়াত। আমি ছিলাম ২য় সহকারী পরিচালক। রাত ১০/১১ টার দিকে একটা দৃশ্য ধারণ হচ্ছে। বার বার কাট করছেন হায়াত ভাই। সংলাপ বলার ধরন তাঁর পছন্দ হচ্ছে না। বিপাশা হায়াত সারাদিন শুটিং করে টায়ার্ড। একই সংলাপ বার বার দিয়ে যখন আর পারছিলেন না তখন একটু বিরক্ত হয়েই হায়াত ভাইকে বললেন- আব্বু, অনেকগুলো টেক আছে, ওখান থেকে একটা নিয়ে নিও। তোমার পছন্দ মতন একটা না একটা পাবা। হায়াত ভাই তখন একটু কঠিন গলায় বললেন- না, আমি যেভাবে ভাবছি, সেভাবে পাইনি। আমি ডিরেক্টর। আমি যেভাবে চাচ্ছি, সেভাবেই তোমাকে করতে হবে...।
শুভাষ দত্ত, আতিকুল হক চৌধুরী- ওঁনাদের সাথেও প্রধান সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে। তাঁদেরকে দেখেছি অভিনয় পছন্দ না হলে অভিনয় করে দেখিয়ে দিতেন।
এখন এমন পরিচালক খুব কমই আছেন। শিল্পী নির্ভর নাটক বানানো হয়। সময় ও বাজেটের সীমাবদ্ধতার কথা চিন্তা করে অন্যান্য চরিত্র কম রাখতে হয়, প্রধান চরিত্রে কাকে পাওয়া যাবে বা নিতে পারবেন- এমন ভাবনা নিয়েই গল্প লেখেন অধিকাংশ লেখক/পরিচালক।
কিছু টেলিভিশনের প্রোগ্রাম হেড ও মার্কেটিং হেডরা তাদের কাছের পরিচালকদের ডেকে বলে দেন যে, কার গল্প ও কোন কোন শিল্পী নিবেন! তাহলে কীভাবে দেশিয় নাটকের মান থাকবে!
এতো শিল্পের একটি শাখার কথা বললাম। এমন অবস্থা কম-বেশি সব শাখাতেই আছে।
দেশে মেধাবী ও গুণী নির্মাতা অনেক আছেন। এদের ক্ষুদ্র একটি অংশ হয়ত কাজের সুযোগ পান। বাকিদেরও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেয়া উচিত।
শুধুমাত্র শিল্পী, প্রোগ্রাম হেড আর মার্কেটিং হেড নির্ভর মিডিয়া দিয়ে কিছু মানুষের পকেট ভারী হওয়া ছাড়া শিল্প টিকানো সম্ভব না।
জাকির হোসেন জ্যাকি
২০/০২/২০১৯ এর লেখা।