অযাচিত কালিদাস

অযাচিত কালিদাস প্রতীক্ষমাণ মোহগ্রস্ত (Expectant Narcissist)!
(1)

এমনকি মধ্যবিত্তের স্বপ্ন-সাধও– ইএমআই-তে কিনতে হয়।জীবনের বৃত্তাকার ধুলোজমা সংস্কারেতাতে জন্মেরও আগে থেকেইঅনাগত অতিথিকে নি...
04/08/2026

এমনকি মধ্যবিত্তের স্বপ্ন-সাধও–
ইএমআই-তে কিনতে হয়।

জীবনের বৃত্তাকার ধুলোজমা সংস্কারে
তাতে জন্মেরও আগে থেকেই
অনাগত অতিথিকে নিয়ে
বসে যায় পারিবারিক বাজেট।
'চলো এ মাসেই...!'
'নাহ, থাক এই আয় দিয়ে, এই শহরে....!'
'....বরং, আরেকটু গুছিয়ে নেই।'
'আগামী বছর, কী বলো?'

তারপর কোনো এক অনিদ্রা রাতে
সব হিসেবকে অপ্রস্তুত করে
দেহের গোপন জোয়ারে, জরায়ুর নীরবতায়-
বাসা বাঁধে, এক একটি হৃদস্পন্দন।

কপালের ভাঁজ নিয়ে, ফের আবার–
খতিয়ানে দাগ টানে;...রাখবে?
নাকি রাখবে না?
ধর্ম এসে বসে যায় এক পাশে,
পরিবার আর সমাজ আরেক পাশে,
অভাব দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসে দরজায়,
আর মা তার মমতার পরম নিশ্চিন্ত কুঠুরিতে,
আপন মনন আর শরীরের ভেতর
নিজেকেই বোঝাতে থাকে।

অতঃপর, জন্মের পর
প্রথম যে কান্নাটুকু,
সেও যেন অদৃশ্য কোনো কিস্তিতে বাঁধা।
ছোট্ট প্রাণ, ধাপে ধাপে শিখে নেয় জ্ঞাতি ব্যাকরণ।

এরপর শুরু হয় কিস্তির ঘূর্ণন–
দুধের কৌটা..., টিকার তারিখ...,
স্কুলের ভর্তি..., টিউশনি, কোচিং...,
বাবার ওষুধ..., মায়ের চশমা...,
ঈদের জামা..., পার্বণে গিফট...,
গ্যাস, বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট, বাড়িভাড়া,....
আর প্রতিটি মাসের শেষে
বকেয়ার অনাদায়ে, ...দীর্ঘশ্বাসের জের টানা।

মধ্যবিত্তরা
খুব কমই স্বপ্ন দেখে।
তারা স্বপ্নেরও মাসিক কিস্তি হিসেব করে।
লৌকিক অনেক কিছুই অলৌকিক ভেবে থামে।
ভালোবাসলেও ভাবে,
ঘুরতে গেলেও ভাবে,
বই কিনলেও ভাবে,
অসুখ করলেও ভাবে,
মরে গেলেও ভাবে,
জন্ম দিলেও ভাবে,
ভাবে কতোটা বাকি হলো;
আর কিস্তি কতোটা বৃদ্ধি পেলো।

নিজের শখগুলো
আলমারির লকারে তালাবদ্ধ করতে করতে
একদিন তারা আবিষ্কার করে,
সেগুলোতে ধুলো নয়, সময় জমেছে।

তবু তারা
অন্যের প্রাপ্য কেড়ে নেয় না,
রাতের ঘুম বন্ধক রেখেও
আমানতের খেয়ানত করে না।
নিজেদের অভাবকে জোড়া-তালি দিয়ে
ভদ্রতার পোশাক ভেবে পরে থাকে।

এর মাঝেই, ভাগ্যবান সেই,
যে অন্ধকারে সুযোগমতো কাঁদতে পারে।
কিন্তু যে মানুষটির কান্নাই আসে না,
কিংবা কান্নার কারণগুলো
এতটাই শিকড় গজিয়ে ফেলে-
যে, আলাদা করে কোনো একটি দুঃখকে আর
চেনাই যায় না?

তখন, ঘরের দেওয়ালগুলো
ধীরে ধীরে ক্যালেন্ডারের পাতায় বদলে যায়।
মাসগুলো, কিস্তির রসিদ হয়ে উড়ে বেড়ায়।
স্নানঘরে ছোট্ট আয়নায়
মানুষটি নিজের মুখ নয়,
একটি হিসাবের খাতা দেখতে পায়।
যার পরতে পরতে কিস্তি;
সেখানে জমার চেয়ে বাকীই বেশি।

অবশেষে,
জীবনের পাড়ে বসে
ভেঙে যাওয়া চশমায়
সে মানুষ কী দেখার অপেক্ষাতে থাকে?

এতদিন কিস্তির ঘানি টেনে
বেলা শেষে, ঘোলা চোখে,
সে কী খোঁজে ওপারের তরী?
কেউ জানে না তা।
জানে কি?

সে মানুষ একান্তে ভাবে-
এমনকি মধ্যবিত্তের স্বপ্ন-সাধও–
কিনতে হয় ইএমআই-তে।

~ মধ্যবিত্তের কিস্তিনাম ~

© অযাচিত কালিদাস #অযাচিত_কালিদাস

০৩ আগস্ট ২০২৬ | ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ | ২০ সফর ১৪৪৮

অতঃপর–মানুষ শূন্যতায় ডুবে মরে।নিঃশব্দে, হিমঘরে,মাটির স্পর্শ নিয়ে।একটি নামযাকে ঘিরে জমে ওঠে বসবাস;ধীরে ধীরে সেই নাম খসে য...
30/07/2026

অতঃপর–
মানুষ শূন্যতায় ডুবে মরে।
নিঃশব্দে, হিমঘরে,
মাটির স্পর্শ নিয়ে।

একটি নাম
যাকে ঘিরে জমে ওঠে বসবাস;
ধীরে ধীরে সেই নাম খসে যায়।
অজান্তে, নিজে থেকে
পড়ে থাকে ঘরের টেবিলকোণে।
তারপর ঠাঁই নেয় দেয়ালের আঁকশিতে।

কেউ বুঝি সেই নামে ডাকে নাকো আর;
শুধু বাতাস দেয়ালে ঠেকে
অনভ্যাসে–
মাঝে মাঝে প্রতিধ্বনি তোলে।

চশমার পুরু কাঁচে
একজোড়া চোখের গরহাজির,
আলগোছে জমে থাকে।
আলনায় ঝোলানো পোশাক,
সে-ও শরীরের অপেক্ষায়।

একটি দরজা ফির
প্রতিদিন সন্ধ্যায়–
নিজেই একটু যেন ফাঁকা হয়ে থাকে।
যেন কেউ ফিরবে বলে নয়,
বরং, ফিরে না-আসাতেও
অভ্যেস থেকে যায় বুঝি।

মুঠোফোনে
সেই একটি নামের পাশে
সবুজ আলো আর জ্বলে নাকো।
আঙুলের অভ্যেস, তবু–
ভুল করে
সেদিকে এগোয়।

আরশিও ধীরে ধীরে
ভুলে যায় মুখ।
শূন্য প্রতিচ্ছবি শিখে নেয়;
মানুষ হারিয়ে গেলে–
আলোর ছায়াও বুঝি
একাকী দাঁড়াতে শেখে!

তারপর
মাটি শুধু ধরাতে বিলীন।
ধুলো তবু
বালি কণা খুঁজে নেয়।
বাতাস কী–
কারও নাম বয়ে চলে!

অতঃপর
যেই নামে ডেকেছে সবাই;
যে মানুষ পরিজন-সাথে ছিল;
হয়তো সে যায় না কোথাও।
শুধু, মুছে যায়;
অনুচ্চারিত হয়ে, তবু রয়ে যায়।

একটি সে নাম;
পৃথিবীর বুক হতে
ধীর লয়ে খসে যায়।
নক্ষত্রও ঝরে যায়;
শূন্য সে; শূন্যই বুঝি!

যেন–
শূন্যতায় ডুবে মরে।
হিমঘরে, নিঃশব্দে,
মাটির স্পর্শ নিয়ে
নামহীনে, অতলান্তে।

~ একটি নামের পরে ~

© অযাচিত কালিদাস #অযাচিত_কালিদাস

৩০ জুলাই ২০২৬ | ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ | ১৫ সফর ১৪৪৮

ভুবনজোড়া ধুলোর পরে, কেউ হাঁটে, কেউ পথ হয়ে;শেষ গোধূলির আলো জানে, কে-বা কাহার রথ হয়ে।ভেবেছিল নদী চুপে, নৌকা ভাসে তারই বুকে...
26/07/2026

ভুবনজোড়া ধুলোর পরে, কেউ হাঁটে, কেউ পথ হয়ে;
শেষ গোধূলির আলো জানে, কে-বা কাহার রথ হয়ে।

ভেবেছিল নদী চুপে, নৌকা ভাসে তারই বুকে;
শান্ত সুরে নৌকা শোনায়, 'স্রোত-লহরের নিগুঢ় টানে'।

যে পাখিটি বসল এসে, ডানায় সে কি আকাশ বয়?
ডানা শুধু বাতাস চেনে; আকাশ কাহার, কে-বা কয়?

জীবনজোড়া দেহের মাঝে, একটি সে নাম অন্দরে;
ঝরে গেলেই নামটি, শেষে, নীরবতা ভীড়ের ঘরে।

পথিক ভুলে পথ হারালেও, পথটা যেমন তেমনি রয়;
পায়ের চিহ্ন নিয়ে ধুলো অসীম পানে বিলীন হয়।

জীবন নদীর দেহতরী, হাওয়ার টানে ভেসে যায়;
জলের খেলায় আপন ভুলে, অতল তলে ডুবে যায়।

আরশিখানা ভাঙলে পরে, হরেক ছবি ফুটে ওঠে;
প্রতিচ্ছবির আড়ালে কে অন্য ছবি আঁকছে বসে?

দিল খুলে কেউ সিজদা দিলেই নতুনভাবে পরিচয়;
ছায়া হয়ে গোপন সে রূপ চতুর্পাশে বলয় রয়।

কে-বা যাত্রী, কে-বা মাঝি, কে-বা নদীর আপন ক্ষণ?
শেষ গোধূলির আলো জানে, কে কার ভেতর, সঙ্গোপন।

~ কে কার ভেতর? ~

(একটি গীতিকবিতা লেখার প্রচেষ্টা)

© অযাচিত কালিদাস #অযাচিত_কালিদাস

২৬ জুলাই ২০২৬ | ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ | ১২ সফর ১৪৪৮

25/07/2026

"Oh...
That ancient light, it weighs
On your shoulders,
And the river of time
Love is all that's left to lose
Love is all that's left to lose"

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when অযাচিত কালিদাস posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category