28/11/2024
#ভ্রম পর্ব : ১
আমি মানুষ টা খুব একটা ভাল যে তা কিন্তু না। মোটামুটি নেশা পানি ভালই করি,, আসলে আসক্তি নেই, তা কিভাবে থাকবে,, আসক্তি ছিল এক নারীর প্রতি তার আসক্তি আমায় নেশার জগতে পরিপক্ত করেছে আর করছে প্রতিনিয়ত।
যাইহোক কাহিনী তে ফেরা যাক।। এই গল্প টা বাস্তব । অই সময় আমার কাছে এটা ছিল আমার হ্যালুসিনেশন তাই আলহামদুলিল্লাহ আমি এই অনুভূতি টা অনুভব করেছি যা আজ একটু শেয়ার করবো।
রাতের সমর আবছা ঠান্ডা, মাস টা নভেম্বর এই তো কিছু দিন আগের কথা। সবাই কেবল কাথা কম্বল বের করতেছে, ঢাকা তে বরাবর এর মতো কম ঠান্ডা। রাত বাজে প্রায় ১১ টা। মন টা কেমন জানি করে,, কাওকে যেন কাছে পাওয়ার জন্য মনটা ছটফট করতেছে। চোখ এ বার বার পানি জমতেছে। বেরোয় পরলাম বাসা থেকে। বাবা কে বললাম, " আব্বু অফিসে খানিক টা কাজ বাকি আছে আমি কাল রাত নাগাদ চলে আসবো ” আব্বুর চোখে বিরক্তি,, কিন্তু কিছুদিন আগে জগড়া হওয়ায় না বললো নাহ। যেতে দিল। বেরোলাম,,, হাটতে হাটতে মিরপুর ১০ - ১২ করে উত্তরা চলে গেছি,, রাত বাজে ১ টা মতো। মন শান্ত হওয়ার নাম মাত্র নেই। এক এক করে ১ প্যাকেট সিগারেট শেষ। পরে ম্যাপ দেখে লেট নাইট একটা বার এ গেলাম, মদ্যপান জানি ক্ষতিকর কিন্তু তা আমার কাছে প্যারাসিটামল এর মতোই আপন। এক বোতল নিয়ে একটু একটু করে খাচ্ছি আর আমার প্রিয় মানুষ টার গাওয়া একটা গান শুনতেছি ইয়ারবাডস এ। একটু চরতেই লাগতেছিল আমার পাশে বসে সে গাইতেছে। একটু পর এক বার গার্ল আমার কাধে হাত দেয়, হা খুব স্বাভাবিক কিন্তু আমার কেমন যেন গায়ে আগুন জ্বলে উঠলো। বোতল থেকে সব টুকু মদ ব্যাগ এ থাকা ফ্লাস্কে ধেলে বেরয় গেলাম। ছিলাম রাজলক্ষী, বের হতেই এক বাস সামনে পায়। নাম হয়তো বলাকা নাকি কি ঠিক খেয়াল নাই। মহাখালী তে নামলাম। আরেক বার এর উদ্দেশ্যে কিন্তু সেখানে আমার ঢুকা হলোনাহ কারন গায়ে ছিল পাঞ্জাবি আর পায়ে ছিল স্যান্ডেল হিমুর মতো গেটআপ এ কি সব যায়গায় যাওয়া যায়। ওটা ছিল ভি আই পি। রাগারাগি করে এক রিকশা তে উঠলাম তখন ভাড়া অনেক কম ই পরে মহাখালী থেকে ধানমন্ডি ১০০ টাকা ঠিক করে গেলাম। রবীন্দ্রসরবর এর সামনে নেমে, এক সাইড এ বসলাম ফোন এ এক টা গান বাজায় পা ২ টা পানিতে দিলাম একটু পর পিছ থেকে কেও জানি বকে উঠলো যে এই পানিতে পা দিবিনা, ঠান্ডা লাগবে, আমি আওয়াজ শুনেই বুঝলাম এ তো আমার প্রিয়তমা,, পিছে না তাকায় বলে উঠলাম এই তুই কে রে আমাকে বলার। সে আমার হাত টেনে আমার গাল এ আস্তে করে থাপ্পড় দিয়ে চোখ গরম করে বললো আমি কে মানে? একটা থাপ্পড় দিব। আমার অধিকার আছে বলে বলছি। আমি হুম বললাম। হটাৎ করে অনেক শীত লাগছিল আমাদের ২ জন এর। ব্যাগ এ হাত দিয়ে শাল পেলাম, তার পরনে ছিল সালোয়ার। তাকে ছেড়ে আমি শাল গা তে দেই তা কি হয়? আমি তাকে দিলাম শাল,, সেও তো আমার ভালোবাসা,, আমাকে টেনে শাল বড় করে আমাকেও নিল তার কাছে আমার বুকে মাথা দিয়ে আমার দিকে তাকায় হিহি বললো আর খেলার ছলে বললো পিউ পিউ। আমি অনেক বিরক্ত হয়তেছিলাম কিন্তু বুকে আহ কি শান্তি।। আমি তার মাথায় আসতে আসতে হাত বুলায় কি এক মিষ্টি সুবাস তার গায়ে আহা। একটু পরে দেখলাম পাশে কিছু শুকনো ডাল আর পাতা আমি ওটা দেখে কাছে এনে লাইটার দিয়ে আগুন জ্বালালাম,, ভালো মতো আগুন জ্বালার পর তার পাশে ফিরে গেলাম। সে আমার বুকে হেলান দিয়ে পাশের লেক দেখতেছে। আমি একটু করে মদের বোতলে চুমুক দিচ্ছি। পুরো জায়গায় আমি আর ও ছাড়া কেও নাই। সে রাগ করতেছে আমার মদ আর সিগারেট খাওয়াতে কিন্তু মুখে কিছু বলতেছে নাহ। সে সামনে শাপলা ফুল দেখে তা এনে দেওয়ার বায়না করে। আমার দিকে ঠোট উল্টায় বাচ্চা বিড়াল এর মতো তাকায় উ উ করে।। তার কি চোখ আহা। তার চাহুনি এতটা মায়াবী না করতে পারিনাই। পা থেকে প্যান্ট গুটায় নামলাম পানিতে তাকে শাপলা এনে দিলাম। সে কি খুশি। লাফায় লাফায় আমাকে জড়িয়ে ধরে।। আধঘন্টা মতো আমার পাশে আমাকে জরিয়ে ধরে বসে থাকে। এরপর দেখি আমার বানানো বোন ফায়ার নিভার পথে আবারো কিছু ডাল পালা কুড়িয়ে দিলাম অখানে। সে আমাকে মজা করে বললো কাল এখানে যে বসবে তার পিছন পুরো লাল হয়ে যাবে। শুনে আমিও তার সাথে হাসাহাসি করলাম। সে সারাদিন কি বালছাল করছে আমাকে সব বলতেছে। যদিও জানি কিন্তু শুনতে মজা লাগে,, আগ্রহ নিয়ে শুনতেছি, যাতে তার খারাপ না লাগে।। একপর্যায় আমার মাথা অনেক ঘুরতেছিল আমি তাকাতে পারতেছিলাম না।। মদ এর বোতল অ খালি।। আমি তার কোল এ শুইলাম,, সে আমার লম্বা চুল এ হাত দিয়ে বুলাচ্ছে একটু পর পর কানের কাছে চুমু দিচ্ছে আমি তার কোমর জড়িয়ে ধরে আছি তার চিকন পেটে নাক মুখ গুজে।। হয়তো অনেকের কাছে বাজে লাগে কিন্তু তার ঘাম আমার কাছে আতর এর মতোন। আমি তাকে রীতিমতো শুকতেছিলাম,,অসম্ভব ভালো লাগে বলে কথা। সে আমাকে আবার আসতে থাপ্পড় দিয়ে বল্লো ঘুমা,, আমিও ঘুমের ঘোড়ে ডান বাম বলতে বলতে ঘুমায় গেলাম।। ফজরের আযান শুনে আমার ঘুম ভাঙলো। চোখ মিলে দেখলাম সে নেই আমি ব্যাগ এ মাথা দিয়ে ছিলাম ব্যাগ এর উপর শাল রাখা,, আমার মুখের উপর তার এ একটা ওড়না ভাজ করা,, যা আমি সবসময় সাথে রাখতাম। পাশে আগুন নিভে গেছে,পায়ে এক সের মশার কামড়। একটু পাশে সেই শাপলা যা আমি একটু আগেই আনলাম। কিন্তু সে কোথাও নায়। কিছু সময় চিল্লায় কান্না করলাম। কেও শুনার নেই। ব্যাগ থেকে পানির বোতল বের করে পানি মুখে দিলাম,, অ্যাংজাইটি এর একটা ওষুধ খেলাম। হাত অনেক কাপতেছিল।। এরপর সিগারেট টানতে টানতে রাস্তায় নামলাম।অনেকেই নামাজের জন্য বেরোয় ছিল তখন। আমি চলে গেলাম নতুন গন্তব্য তে সেই ভ্রম টুকু ফিরে পেতে। জানি সব টাই ছিল হ্যালুসিনেশন কিন্তু শান্তি পাইছিলাম,পাইছিলাম সুখ।।
টু বি কন্টিনিউ