15/11/2024
দেখেন, হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য করতে পারসে কি পারে নাই, আমি জানি না। আমার জানার দরকারও নাই।
আমি শুধু জানি, আমার যখন কিছু পড়তে ইচ্ছে করে না, চূড়ান্ত রিডার্স ব্লকে থাকি, তখনও হুমায়ূন নিয়ে বসলে আমি ঘন্টার পর ঘন্টা পড়ে যাইতে পারি।
আমার যখন হাইলি ইন্টেলেকচুয়াল মুভিগুলো দেখতে ক্লান্ত লাগে, আমি হুমায়ূনের নয় নম্বর বিপদ সংকেত দেখতে বসি। দশ মিনিটে আমার মন ভালো হয়ে যায়।
আমার যখন এমনকি মানুষ অসহ্য লাগে, ঘুম অসহ্য লাগে, এমন বহু রাত আমি শুধু আজ রবিবার বা উড়ে যায় বকপক্ষী দেখে কাটাইয়া দিই।
যখন পৃথিবীর সমস্ত সুর অসহ্য লাগে, আমি হুমায়ূনের এক যে ছিলো সোনার কন্যা শুনতে শুরু করি। আমার অসহ্য মুহূর্তগুলো কাইটা যায়, আমি গুণগুন করে গাইতে শুরু করি, হাত ইশারায় ডাকে, কিন্তু মুখে বলে না, আমার কাছে আইলে বন্ধু, আমারে পাইবা না......
হুমায়ূনের সাহিত্য আসল সাহিত্য নাকি নকল সাহিত্য হইসে, তারে আর একশো বছর পর কেউ মনে রাখবে কি রাখবে না, এই প্রশ্ন আপনারা সিরিয়াস সাহিত্যবোদ্ধারা করেন।
আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কাছে হুমায়ূন একটা কম্ফোর্ট জোন, পৃথিবীর সব মহান সাহিত্য এক করেও আমরা এই কম্ফোর্ট কোথাও পাই না, যে কম্ফোর্ট আমরা হুমায়ূনের মধ্যে পাই।
এতে যদি পাঠক হিসেবে আমাদের মান কমে যায়, আমাদের জাত চলে যায়, তো যাক না!!
আমরা হুমায়ূনকে ভালোবাসি। আমরা হুমায়ূনকে ওউনও করি। ওতে যদি সাহিত্যের অনুরাগীদের কাতার থেকে আমাদের নাম কাটা যায়, যাক।
আমরা অত্যন্ত খুশিমনেই হুমায়ূনের তথাকথিত "আবেগী", "সস্তা", "বাজারি" লেখার অনুরাগী হয়ে আজীবন থাইকা যাইতে রাজি আছি।
আপনাদের মতো মহান মহান সাহিত্য প্রেমি, সিরিয়াস বই পড়ুয়া বা বোদ্ধাদের জন্য অনেক লেখকই তো আছে।
আমরা যারা শুধু আনন্দ পাওয়ার জন্য পড়ি, ভালো লাগার জন্য পড়ি, বাস্তবতা থেকে পালানোর জন্য পড়ি, হুমায়ূন নাহয় আমাদের মতো সাধারণ মানুষের লেখক হইয়াই থাকুক, ক্ষতি কী?