27/04/2026
শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হককে।
তিনি ছিলেন বাংলার গণমানুষের নেতা এবং নিপীড়িতের কণ্ঠস্বর। তার রাজনীতি ছিল মানুষের অধিকার ও মর্যাদার জন্য নিবেদিত। ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের জন্য তিনি রাজনীতি করেছেন। সাধারণ মানুষের ভাষা তিনি বুঝতেন। তাই তারা তাকে নিজেদের মানুষ মনে করত।
কৃষক-প্রজার অধিকার প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা ছিল অসাধারণ। জমিদারি শোষণের বিরুদ্ধে তিনি দৃঢ় অবস্থান নেন। কৃষকের ঘাম যেন শোষিত না হয়, সে জন্য তিনি সংগ্রাম করেন। কৃষক প্রজা পার্টির মাধ্যমে তিনি এই আন্দোলনকে সংগঠিত করেন। গ্রামবাংলার মানুষের মধ্যে তিনি অধিকার সচেতনতা তৈরি করেন। তার এই সংগ্রাম বাংলার রাজনীতিতে নতুন দিশা দেয়।
মুসলিম জাতিসত্তার প্রশ্নেও তিনি ছিলেন স্পষ্ট ও দৃঢ়। উপমহাদেশের মুসলমানদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি গভীরভাবে চিন্তা করেছেন। ১৯৪০ সালে লাহোর অধিবেশনে তিনি ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এই প্রস্তাব একটি একক রাষ্ট্রের ধারণায় সীমাবদ্ধ ছিল না। এতে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে ভিত্তি করে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের দিকনির্দেশনা ছিল।
লাহোর প্রস্তাবে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের জন্য পৃথক রাষ্ট্রিক কাঠামোর চিন্তা উঠে আসে। বাংলা-আসাম অঞ্চলের স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হওয়ার সম্ভাবনাও এতে নিহিত ছিল। “independent states” ধারণাটি তার রাজনৈতিক দূরদর্শিতার প্রমাণ। প্রতিটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনপদের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার একটি বাস্তব রূপরেখা তিনি তুলে ধরেন। এটি ছিল নিরাপত্তা, মর্যাদা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন।
শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক ছিলেন ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তার একজন রূপকার। তার রাজনীতি ছিল শোষণের বিরুদ্ধে, মানুষের পক্ষে। তিনি ইতিহাসে শুধু একজন নেতা নন, একটি চিন্তার ধারার নাম। আজ তার মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাকে স্মরণ করি। আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করুন। তার আদর্শ আমাদের ভবিষ্যৎ নির্মাণে পথ দেখাক।