08/08/2026
ত্রিশ পেরোনো মেয়েগুলো অসম্ভব রকম সুন্দর। সুন্দর বলতে স্কিন, চুল, গড়নে সুন্দর সেটা না। ওদের বেঁচে থাকা সুন্দর। ওদের জীবন যাপনের ধরণ সুন্দর।
ত্রিশ পেরোলে ওরা বুঝতে পারে, ভালোভাবে বেঁচে থাকার মূলমন্ত্র হলো নিজের যত্ন করা। নিজের শিক্ষা, স্কিল, স্বাস্থ্যের যত্ন নেয়া।
ত্রিশের কোঠায় মেয়েরা বুঝে জীবনে ভালো থাকতে খুব বেশি মানুষ প্রয়োজন হয়না। অল্প কিছু সুন্দর মনের মানুষ হলেই হয়। ত্রিশের পরে বন্ধুত্বের গন্ডি ছোট হয়। এসময় কারো সাথে কারো বন্ধুত্ব আছে মানে বুঝে নিও এই বন্ধুত্বও দামী।
এসময় মেয়েরা স্বাবলম্বী হওয়ার আনন্দ টের পায়। এই সময় রেস্টুরেন্টে বিল দেয়া, কোথাও পরিবার নিয়ে ঘুড়তে গেলে প্ল্যান করা, মাসের বেতনের টাকা বা হাতখরচ পেয়ে শখের লিস্টে রাখা শাড়িটা কিনে ফেলাতে আনন্দ খুঁজে পায়।
ত্রিশের পর অকারণ ইগো, লজ্জা, অকারণ "কে কী ভাববে" থাকে না। এর বদলে সেখানে জায়গা নেয় আত্মসম্মান, কোথাও আঘাত পেলে সেখান থেকে সরে আসার সুন্দর নীরব কৌশল।
এসময় কাজের ফাকে কফিমগ হাতে নিয়ে বই পড়তে ভালো লাগে। এসময় রাস্তায় চলতে আগের চেয়ে সেফ লাগে, এসময় নিজেকে শক্ত রাখতে পারলেই আশেপাশের সব জঞ্জাল এড়ানো যায়। নিজেকে মেয়ে মনে হয়না, নারী মনে হয়। কেউ তাকালে তার দিকেও সোজা তাকানো যায়। অফিস শেষে বাসায় ফেরার পথে রিকশায় খোলাচুলে হালকা বাতাস লাগলে জীবন সুন্দর মনে হয়। এসময় নিজের ইনকামের টাকা থেকে কাউকে হেল্প করতে পারলেও খুশি লাগে।
এসময় নিজের ছোটখাটো সব অর্জন সেলিব্রেট করতে ইচ্ছা হয়। নিজেকে আচমকা একটা দুটো আড়ংয়ের আংটি বা ব্রেসলেট গিফট করতে ভালো লাগে। ত্রিশের পর নিজেকে ভালোবাসতে সবচেয়ে বেশি ইজি লাগে অন্যদের পেছনে এনার্জি ব্যায়ের চেয়ে।
ত্রিশের পর বোকা বোকা কারণে কান্না পায়না, অকারণ মন খারাপ হয়না। পঁচিশে কেউ দোলনচাঁপা দেয়নি বলে সব শূন্য লাগা মেয়েটা ত্রিশে এসে পরিপূর্ণ নারী হয়। নিজের জন্য কখনো দোলনচাঁপা বা লিলি সে নিজেই কিনতে শিখে। বিশের ভুলগুলোও শুধরে নেয়া হয়। বিশে যাকে সহজেই কষ্ট দেয়া যেতো তাকে ত্রিশে দেয়া যায়না। এসময়ের মেয়েগুলোকে মূল্য দিয়ে কথা বলতে হয়, কাজের মূল্যায়ন ও করতে হয়। এদের সাথে সিদ্ধ জলপাই কালার জামদানীর কাউন্ট নিয়েও কথা বলা যায়, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে পৃথিবীর অর্থনীতি কেমন হবে এটাও আলোচনা করা যায়।
এ সময়ের এলোচুল সুন্দর , এলোমেলো হাতখোঁপাও সুন্দর। একটা দুইটা পাকা চুলের আভাস ও সুন্দর। চোখের পাশের রিঙ্কেলস সুন্দর। ঠোঁটের পাশে হাসির দাগ সুন্দর। এসময় চিকন পাড়ের সুতি শাড়ি সুন্দর। হালকা খয়েরী লিপস্টিক শেড সুন্দর। শীতের আগেই নিজের পছন্দে কেনা লোশনের স্মেল সুন্দর। রান্নার তেলে পেয়াজ আর এলাচ দারুচিনি ভাজার ঘ্রাণ সুন্দর।
ত্রিশের পরের স্বপ্নগুলো সুন্দর। নিজের ক্যারিয়ার, বাবা মা, স্বামী সন্তানদের নিয়ে ভালো থাকার ইচ্ছেগুলো সুন্দর। গোছানো সংসার হলে সারাদিন ঘরে পড়ে থাকাও সুন্দর। আবার একা থাকা, সোলো ট্রিপে যাওয়াও সুন্দর।
বাসার যে কোনো কিছুতে মতামত দিতে পারার মতো ম্যাচুরিটি আসে এসময়। কাকে কতটুকু মূল্য দিতে হবে এসময় শিখে মেয়েরা। শেখার পর আর পেছন ফিরে তাকায় না। এসময় মানুষ ক্ষমা করতে শিখে। মনে রেখে মন ভারী করাটা ভুল- এটা বুঝে। এসময় যে লাইফ থেকে চলে যায় তাকে এগিয়ে দেয়া শিখে। ত্রিশের পর নতুন সংসার শুরু করা মেয়েরা খুব গুছিয়ে শুরু করে। আবার যারা আগে শুরু করেছে তারাও এসময় আরো গোছানো হয়ে ওঠে। মাসের বাজেট করাও শিখে আবার শখ পূরণও শিখে। মায়ের ওষুধ, বাবার লোনের ইন্সটলমেন্ট সব এদের মাথায় থাকে।
এবয়সে নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চাওয়া যায়। এতে ছোট হতে হয়না। বরং আরো শক্ত ব্যাক্তিত্ব ফোটানো যায়। মেয়েরা পছন্দের মানুষের ছোট ছোট দায়িত্ব নিতে শিখে এবয়সে। প্রিয় মানুষকে একটা পাঞ্জাবী বা মানিব্যাগ কিনে দিতে ভালো লাগে। এসময় স্বাবলম্বী হওয়ার প্রবল ঝোক থাকে। কারো ঘাড়ে চেপে বসাটা যে চিরস্থায়ী বস্তু না এসময়ই উপলব্ধি হয়।
ত্রিশের পর অকারণ আদিখ্যেতা থাকে না। অস্থানে দুটো বাক্য বেশি ব্যায়ের ইচ্ছা থাকে না। কিন্তু ভালো বন্ধুর সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা গল্প করা যায়। ত্রিশের পর মেয়েরা জানে জীবনে কি রাখতে হবে কি সরাতে হবে। জানে কিছুতে দু:খ পেয়ে কতক্ষণ কাঁদলে মানায়, তারপর উঠে দাঁড়িয়ে কি করতে হয়। শৈশব কৈশোরে আঘাত পাওয়া মেয়েরা এবয়সে সামলে যায়। আঘাত যে তাকে কষ্ট দিলেও থামাতে পারেনি এটা সে প্রমাণ করতে শিখে।
ত্রিশ পেরোনো মেয়েরা সুন্দর। সদ্য ফোটা অর্কিডের শক্ত ডাটার মত সুন্দর। ফুটন্ত ফুল, দীর্ঘস্থায়ীত্ব আর মজবুত সুন্দর। নকশিকাঁথার সেলাইয়ের ফোড়ের মত সুন্দর। মায়ের আঁচলের মত যত্নবান এরা আবার বাবার চশমার মত দায়িত্বশীল।
নতুন গজানো চারাগাছের মত কোমল এরা।
চকচকে হীরের মত কঠিনও এরা।
ত্রিশ পেরোনো মেয়েরা বৃষ্টি ভেজা পৃথিবীর মত সুন্দর। পাতায় পাতায় আগের জমা ধূলা ধুয়ে গিয়ে নতুন পাতা গজানো জারুল গাছের মত সুন্দর।
শোনো, ত্রিশ পেরোনো মেয়েরা, আনন্দ নিয়ে বাঁচো। যে জীবনে আসতে চায়, থাকতে চায় তাকে থাকতে দাও, চলে গেলেও যেতে দাও। সব জঞ্জাল এড়ানো শিখে নিজের বেঁচে থাকাকে সেলিব্রেট করো।