29/01/2026
একদিন নবী করীম ﷺ সাহাবায়ে কেরামকে নিয়ে মসজিদে নববীতে বসে ছিলেন। এমন সময় হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সেখানে উপস্থিত হলেন। তাঁর পোশাকে ধনসম্পদের কোনো জৌলুস ছিল না, অথচ তিনি ছিলেন সাহাবিদের মধ্যে অন্যতম ধনী ব্যক্তি।
নবী করীম ﷺ তাঁর দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বললেন—
“হে আব্দুর রহমান (রাঃ), তুমি জানো কি, আল্লাহ তোমাকে কেন এত সম্পদ দিয়েছেন?”
হযরত আব্দুর রহমান (রাঃ) বিনীতভাবে বললেন—
“আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ﷺ–ই ভালো জানেন।”
তখন নবী ﷺ বললেন—
“আল্লাহ তোমাকে দিয়েছেন, যাতে তুমি আমার উম্মতের জন্য রহমতের দরজা খুলে দাও।”
এই কথা শুনে হযরত আব্দুর রহমান (রাঃ)–এর হৃদয় কেঁপে উঠল। তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেন—
“হে আল্লাহর রাসুল ﷺ! আজ আমি আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি—আমার অর্ধেক সম্পদ আমি আল্লাহর পথে দান করে দিলাম।”
নবী করীম ﷺ তাঁর জন্য দোয়া করলেন—
“হে আল্লাহ! আব্দুর রহমানের দানে বরকত দান করো।”
সেদিন থেকেই আশ্চর্য এক বরকত নেমে এলো তাঁর সম্পদের ওপর। যত দানই করতেন, ততই তাঁর সম্পদ বৃদ্ধি পেত। তিনি মদিনার গরিব, এতিম ও মিসকিনদের খোঁজে খোঁজে সাহায্য করতেন—এমনকি অনেক সময় দান গ্রহণকারীরা বুঝতেও পারত না কে তাদের সাহায্য করছে।
একদিন হযরত আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) নবী করীম ﷺ–কে বললেন—
“ইয়া রাসুলাল্লাহ ﷺ, আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাঃ) তো প্রায় পুরো মদিনাকে দান করেই চলেছেন!”
নবী ﷺ তখন বললেন—
“তোমরা কি জানো, কেন সে এত দান করছে?”
সবাই বললেন—
“আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ﷺ–ই ভালো জানেন।”
নবী ﷺ বললেন—
“একদিন সে আমার একটি দোয়া শুনেছিল—সেই দোয়ার বিনিময়ে সে দুনিয়াকে তুচ্ছ মনে করে ফেলেছে।”
এরপর নবী করীম ﷺ বললেন—
“কিয়ামতের দিন আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাঃ) এমনভাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে, যে তাঁর দানের আলোয় বহু গুনাহগার উম্মত পথ খুঁজে পাবে।”
এই কথা শুনে সাহাবায়ে কেরাম কেঁদে ফেললেন—কারণ তারা বুঝে গেলেন, রাসুল ﷺ–এর ভালোবাসা কেবল ইবাদতে নয়, উম্মতের জন্য ত্যাগে প্রকাশ পায়।
📖 (জামিউল মুজিজাত, অনুবাদ, পৃষ্ঠা ২৬৩)©
fans