29/10/2025
এমনও হয়!
এক রিকশাচালককে বললাম, বিমান জাদুঘর যাবেন?
বললেন, যাবো।
ভাড়া কত?
মুচকি হেসে বললেন, যা ভাড়া দিয়ে যান তাই দিয়েন। লোকটা দেখতে একটু বোকা বোকাও বটে।
ভাবলাম রাস্তা চিনে না। নতুন বোধহয়।
উঠলাম। খেয়াল করলাম, উনি এই গলি ঐ গলি নানান রকম গলি দিয়ে শর্টকাটে পৌঁছে দিলেন বিমান জাদুঘর।
নামলাম। বুঝেই ফেললাম যে নতুন চালক নন তিনি। সবই চিনেন। তবুও একটা ট্রিক্সস করলাম । দেখি কী বলেন।
৫০ টাকার ভাড়া দিলাম ৩০ টাকা। উনি মুচকি হেসে ভাড়াটা পকেটে রাখলেন।
একটু অবাক হলাম। কোনো কথাই বললেন না।
ত্রিশ টাকা ভাড়া কোনো চালকই মেনে নেবেন না। আমি চালক হলে নিজেই মানতাম না।
দাঁড়িয়ে রইলাম। বললাম, আপনি কি জানেন না এখানকার ভাড়া কতো?
বললেন, জানিতো মামা। কেন?
তাহলে ত্রিশটাকা নিয়েই মেনে নিলেন যে!
বললেন, সমস্যা নাই মামা। আপনার কাছে হয়তো এইটাই ইনসাফ মনে হইছে তাই দিছেন।
না না তা হয় না। আপনার বলা উচিৎ কিছু না কিছু। অন্তত বলতে পারতেন মামা ভাড়াতো এইটা না!
ফের মুচকি হাসলেন। বললেন, মামা এই জীবনে লাভ করার কোনো চিন্তা আর করি না। কে কারে ঠকায় বড় হয় কন? জীবনেতো কম ঠকিনি। কম কিছু দেখিনি।
আপনি কম দিলেন কেউ হয়তো বেশিও দিতে পারে কপালে থাকলে...
দিন দুনিয়ায় লাভ লসের হিসাব ছাইড়া দিছি সেই কবেই...আর মন টানে না।
লোকটার মন একটু খারাপ মনে হলো কথা শেষ হতেই।
আমি পকেট থেকে আরও ২০ টাকা তাকে বের করে দিলাম। উনি নিলেন । কারণ ন্যায্য ভাড়া আসলে ত্রিশ নয় ৫০ টাকাই।
থাকেন যাই বলে চলে গেলেন। তাকিয়ে রইলাম তার যাওয়ার দিকে।
কিছুদূর গিয়ে রিকশাটা থামিয়ে এক গাছের নিচে দাঁড়ালেন। উদাসভাবে তাকিয়ে রইলেন রাস্তার দিকে...
দুনিয়ায় কতো রকম মানুষ আছে। একেকজনের গল্প একেক রকম। একেকজনের দুঃখও একেক ধরনের। তার কয়টাই বা আমরা অনুমান করতে পারি।
রহস্যের দুনিয়ায় মানুষতো রহস্যময় হবেই।