20/11/2024
মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব বলা হয়, কিন্তু এই পৃথিবীতে সে একা নয়। আমাদের চারপাশে কত রকমের প্রাণী আর উদ্ভিদ রয়েছে! তাহলে, এই অদ্ভুত জীববৈচিত্র্যের পিছনে আসলে কার হাত? কে সেই মহাজ্ঞানী, যার উদ্দেশ্যে এই পৃথিবীতে প্রাণের সূচনা? এলিয়েন কি আদৌ আছে, নাকি তাদের ডিএনএ থেকেই মানুষের সৃষ্টি? এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্যই বানানো হয়েছে এই সিনেমা। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, সৃষ্টিকর্তাকে খুঁজে বের করার মিশন নিয়েই এগোচ্ছে গল্প!
তাহলে, কি হয়? পৃথিবীর সেরা বিজ্ঞানীদের দল কি খুঁজে পায় সৃষ্টিকর্তাকে? নাকি তারা পড়ে যায় নারকীয় সব ঘটনায়? এসব জানার জন্য আপনাদের এই অসাধারণ সাইফাই মুভিটি দেখতে হবে।
চলচ্চিত্র: প্রমিথিউস / Prometheus
পরিচালক: রিডলি স্কট
জনরা: সাই-ফাই, হরর, ড্রামা
{নো_স্পয়লার}
ছবিটা আমি অনেক আগেই দেখেছিলাম কিন্তু লেখার সুযোগ হয়নি। প্রমিথিউস হচ্ছে গ্রিক পুরাণের একজন দেবতা, যিনি ঈশ্বরের কাছে থেকে আগুন চুরি করে মানবজাতিকে দেন। এরপর ঈশ্বর তাঁকে শাস্তি দিতে হাত-পা বেঁধে ঈগল দিয়ে হৃদপিণ্ড বের করে। ঠিক এই মুভিতেও মানুষের সঙ্গেও ঘটবে এমন বর্বরতা। এটি একেবারে ভিন্নধর্মী সাই-ফাই মুভি, যা সচরাচর দেখা যায় না। অন্তত আমার দেখা সাই-ফাই তালিকায় এটি এক নতুন অভিজ্ঞতা।
রিডলি স্কট ছবিটি বানাতে অনেক কষ্ট করেছেন। তাঁর অবিশ্বাস্য পরিচালনা, গল্প বলার ধরন, স্টোরি বিল্ডআপ, স্ক্রিনপ্লে—সব কিছুই মাইন্ড ব্লোয়িং। এর সাথে ছবির রঙের গ্রেডিং, ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর, সিনেমাটোগ্রাফি, ভিজুয়াল ইফেক্ট—সব মিলিয়ে এক অসাধারণ কাজ।
এটি এলিয়েন সিরিজের পঞ্চম কিস্তি এবং এতে অভিনয় করেছেন নুমি রেপেস, মাইকেল ফাসবেন্ডার, গাই পিয়ার্স, ইদ্রিস এলবা, লোগান মার্শাল-গ্রিন, এবং শার্লিজ থেরন—প্রতিটি শিল্পী দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন। প্রমিথিউসের প্রতিটি সিকুয়েন্স দেখার মতো। মুক্তির পর এটি রেকর্ড ব্যবসা করেছে এবং দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসাও পেয়েছে। অস্কার ও বাফটায় শ্রেষ্ঠ ভিজুয়াল ইফেক্টস বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে এবং বেশ কিছু চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃতও হয়েছে।
যারা একঘেয়েমিতে ক্লান্ত, তাদের জন্য এই মুভিটি বেশ আকর্ষণীয় হবে। বিশেষ করে সাই-ফাই প্রেমীদের জন্য এটি অবশ্যই দেখতে হবে। একবার শুরু করলে স্ক্রিন থেকে চোখ সরানো দায়!
আইএমডিবি রেটিং: ৭/১০
ব্যক্তিগত রেটিং: ৯/১০
হ্যাপি ওয়াচিং! 🌸🏵
হ্যাশট্যাগ: