16/08/2026
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি কালচারাল ক্লাব (DIUCC)-এর উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্র-নজরুল উৎসব ১৪৩৩ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী সাহিত্যকর্ম, সংগীত, দর্শন ও সাংস্কৃতিক অবদানকে স্মরণ এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে তাঁদের সৃষ্টিশীল চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজ এর চেয়ারম্যান শামীম হায়দার পাটোয়ারী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক মো. জাহিদুল ইসলাম। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
উৎসবের সাংস্কৃতিক পর্বে পরিবেশিত হয় রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্যসহ বিভিন্ন মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা। শিক্ষার্থী ও শিল্পীদের সৃজনশীল উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনমেলায়। তাঁদের পরিবেশনায় রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের কালজয়ী সৃষ্টির সৌন্দর্য, মানবিকতা, সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতা ও মুক্তচিন্তার চেতনা অত্যন্ত নান্দনিকভাবে প্রতিফলিত হয়।
উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত বাংলাদেশের বিশিষ্ট নজরুলসংগীত শিল্পী খায়রুল আনাম শাকিল এবং স্বনামধন্য রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী মহুয়া মঞ্জুরী সুনন্দা। তাঁদের উপস্থিতি ও শিল্পীসুলভ অভিব্যক্তি অনুষ্ঠানের মর্যাদা ও সৌন্দর্য বহুগুণে বৃদ্ধি করে। বাংলা সংগীতের দুই অনন্য ধারার এই বিশিষ্ট শিল্পীদের অংশগ্রহণ উপস্থিত দর্শক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে বিশেষ উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানটির সার্বিক পরিকল্পনা, তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন শর্মিষ্ঠা দাস, সহকারী অধ্যাপক ও মেন্টর, ডিআইইউ কালচারাল ক্লাব। তাঁর সঙ্গে সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সহযোগী অধ্যাপক তানিয়া মান্নান, মেন্টর, ডিআইইউ কালচারাল ক্লাব; ওমর ফারুক, সহকারী অধ্যাপক ও চিফ অ্যাডভাইজার, ডিআইইউ কালচারাল ক্লাব; দোয়েল আক্তার, সহকারী অধ্যাপক ও অ্যাসিস্ট্যান্ট চিফ অ্যাডভাইজার, ডিআইইউ কালচারাল ক্লাব; এবং এস. এম. মেহেদী হাসান, লেকচারার ও অ্যাডভাইজার, ডিআইইউ কালচারাল ক্লাব। তাঁদের সম্মিলিত দিকনির্দেশনা, আন্তরিক প্রচেষ্টা ও সাংগঠনিক দক্ষতার মাধ্যমে উৎসবটি সুষ্ঠু ও সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
এ উৎসবের মাধ্যমে কালচারাল ক্লাব শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক চর্চা, সৃজনশীল বিকাশ এবং নিজস্ব ঐতিহ্যের প্রতি গভীর অনুরাগ সৃষ্টির পাশাপাশি বাংলা সংস্কৃতির সমৃদ্ধ উত্তরাধিকার সংরক্ষণ ও বিকাশে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
পরিশেষে, রবীন্দ্র-নজরুল উৎসব ১৪৩৩ সাংস্কৃতিক ঐক্য, সৃজনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং বাংলা ঐতিহ্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার এক অনন্য প্রকাশ হিসেবে সফলভাবে সমাপ্ত হয়। এ আয়োজন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংস্কৃতিক পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মাঝে শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার নতুন অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছে।