08/09/2015
--কিরে আজকে কলেজ আসবি না?
--হ্যা যাব তো। কেন?
--আয় তোকে আজকে কিছু কথা বলবো।
--কিসের কথা?
--আয় তারপর বলি। এখন বলা যাবে না।
--আচ্ছা ঠিক আছে।
>রাসেল ফোন কেটে দিল। সে ভাবছে
আজকে আশাকে বলবেই যে তাকে
ভালবাসে। অনেক দিন থেকে সে
ভাবছে কথাটা বলবে। কিন্তু বলবো
বলবো করেও কেন যেন বলা হয় না।
কিসের যেন একটা ভয়। এত কথা তাকে
বলতে পারে কিন্তু এই কথাটাই কেন যেন
বলতে পারে না।
'
অপর দিকে আশা ভাবে এই ছেলেটা এত
বোকা কেন! সামান্য ভালবাসার কথা
বলতেই এত ভয় পায়! আশা জানে রাসেল
ওকে ভালবাসে। আশাও তাকে
ভালবাসে। সেটা এক দুই দিন থেকে নয়।
সেই প্রথম থেকে। যার ফলে রাসেল ওকে
ফ্রেন্ড হওয়ার কথা বললে খুব সহজেই
রাজি হয়ে যায়। তারপর থেকে তারা
এক সাথেই যাওয়া-আসা করে। কলেজে এক
সাথে খাতা শেয়ার করা থেকে
যাবতীয় কাজ করে থাকে।
'
সারা রাত অনেক চিন্তা করলো
রাসেল। সে
ভেবে পাচ্ছে না আশাকে কেমনে
কথাটা বলবে। তাছাড়া আশা যদি
আবার রাজি না হয়? তাইলে তো সে আর
আশার সামনে গিয়ে দাড়াতে পারবে
না। আশাকে দেখে অবশ্য মনে হয় না সে
রাজি হবে। তার মধ্যে আজ পর্যন্ত সেরকম
কোন ভাব দেখে নি সে। মেয়েটা
কেমন যেন চাপা স্বভাবের। সব সুন্দরী
মেয়েরা বেশী কথা বলে। কিন্তু আশা
তার বিপরিত। কোন কথাই বলতে চায়
না। চুপ করে থাকে। আশাকে সে অনেক
কয়বার বলতে চেয়েছে ও তাকে
ভালবাসে। আশা বুঝেও যেন বুঝে না।
অনেক কিছু ভাবলো সে। যাইহোক না
কেন বলবেই কালকে। কপালে কি আছে
থাক, বলবেই।
'
পরের দিন একটু তারাতারিই কলেজ চলে
গেল রাসেল। সকালে বার বার
প্রাকটিস করেছে সে। যে ভাবেই
হোক আজ বলবেই। অনেক কয়ভাবে প্রপোজ
করার সিস্টেম শিখেছে। শেষ পর্যন্ত
একটা সিলেক্টও করে নিয়েছে।
সেভাবেই আজ মনের সব কথা বলে দিবে।
এখনই ভয়ে তার পা কাঁপছে। কে জানে
তখন কি অবস্থা হবে।
'
অনেক কষ্টে সব গুলা ক্লাস করে নিল।
কলেজ ছুটি হবার পর তারা এক সাথে
হাঁটতে হাঁটতে বাড়ি ফিরছে। আশা
রিকশা নিতে চাইলেও রাসেল না
করে দিল। তার কথা গুলো আজ বলতেই
হবে। কিন্তু কিছুতেই কথা বের করতে
পারছে না। সকালে যা কিছু শিখে
আসছে এখন যেন সব কিছুই ভুলে যেতে
লাগলো। আশার দিকে তাকাতেও
পারছে না। নিচের দিকে তাকিয়ে
হাঁটতে থাকলো। শেষ পর্যন্ত আশাই বলে
উঠলো,
--কিরে কোন কথা বলছিস না! কাল যেন
কি বলতে চাইছিলি তাও বলছিস না?
--আশা, আসলে না মানে হয়েছে কি!.......
তুই ভাল আছিস?
--হ্যা ভাল আছি। তুই কি এইটাই বলবি? আর
এরকম ঘামতেছিস ক্যান? আজব! আমি মনে
হচ্ছে তোর অপরিচিত কেউ যে কথা
বলতে ভয় পাচ্ছিস!
--নাহ তা নয়। আসলে গলাটা শুকিয়ে
যাচ্ছে। পানি আছে তোর কাছে?
--না নেই।
--ও আচ্ছা।
--তুই কি কিছু বলবি? আমি রিকশা নিয়ে
চলে যাব। আমার বাসায় কাজ আছে।
তারাতারি ফিরতে হবে।
--আরে দাঁড়া না।কি এমন কাজ আছে! আজ
সারা রাস্তা হেঁটে যাব।
--আমি পারবো না।
--এমন করস ক্যান? এমনিতে আমি কথাটা
বলতে পারছি না।
--কি কথা হ্যা, কি কথা?
--না কিছু না।
--আচ্ছা ঠিক আছে যা। আজ হেঁটে যাব।
কি কথা এইখানে আগে বলবি তারপর
যাব।
--কালকে বলি?
--না আজকেই বলবি। এত ভয় পাচ্ছিস ক্যান?
আমি কি তোকে খাব নাকি?
--তুই রাগ করবি না তো?
--এত প্যাচাইস ক্যান?
--আচ্ছা ঠিক আছে। বলছি,
>রাসেল চোখ বন্ধ করলো। হাটু ফেলে
ধীরে ধীরে বলার চেষ্টা করলো।
কিন্তু তার গলা দিয়ে কোন কথা বের
হচ্ছে না। ভয়ে তার শরীর কাঁপছে।
চোখ খোলারও সাহস পাচ্ছে না। সে
যা কিছু প্রাকটিস করে এসেছিল এখন আর
মনে নাই। কথা গুলোও সাজাতে
পারছে না। আমতা আমতা করতে
থাকলো। শেষ পর্যন্ত ডাইরেক্ট বলে
ফেললো আমি তোকে ভালবাসি।
'
রাসেল খুব ভয়ে ভয়ে চোখ খুললো।
নাজানি আশা তাকে কি বলে। কিন্তু
চোখ খুলে সে হতোবাক হয়ে গেল। আসে
পাশে কোথাও আশা নেই। সে বুঝতে
পারলো যখনি সে চোখ বন্ধ করে হাটু
ফেলে বসেছে, তখনি আশা চলে গেছে।
তার যেহেতু দির্ঘ্য সময় লেগেছে তাই
সে বুঝতেই পারে নি আশা কখন গেছে।
রাসেলের মনটা চরম খারাপ হয়ে গেল।
সে এত কষ্ট করে শেষ পর্যন্ত ভালবাসি
কথাটা বলতে পারলো। কিন্তু তাও আশা
শুনে গেল না।
'
রাসেল হাঁটছে। তার পা একটুও আগাতে
চাচ্ছে না। মনের ভিতরে কষ্টের
হাওয়া বয়ে চলছে। আবার কবে এইভাবে
বলতে পারবে তার কে জানে! মনটাই
খারাপ হয়ে গেল তার।
'
কিছুক্ষন পরেই রাসেলের ফোনটা
কেঁপে উঠলো। একটা মেসেজ এসেছে।
রিরক্তি সহ ফোনটা হাতে নিল সে।
আশার মেসেজ, পড়তে লাগলো রাসেল,
"জানি না, তুই আজকেও কথাটা বলতে
পরেছিস কিনা। আরে গাধা একটা কথা
বলতে এত ভয় পাস কেন? আমি কি তোকে
ছেড়ে কখনো যাব? তুই বুঝিস না! আমি
তোকে অনেক ভালবাসি। আবার শোন,
আমি তোকে ভালবাসি। হইলো এবার?
তোর বলতে হবে না। আমি জানি তুই
আমাকে ভালবাসিস। শোন রাতে ফোন
দিবি, কথা আছে। মনে থাকে যেন!
ভুলে গেলে কিন্তু খবর আছে। ভাল করেই
জানোস, গার্লফ্রেন্ডদের কথা না
শুনলে ছেলেদের কি অবস্থা হয়।""
'
রাসেল কি করবে বুঝতে পারছে না।
মনের ভিতরে আনন্দের হাওয়া বয়ে
যাচ্ছে। তার চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা
করছে "ইয়া হু, আজকের পৃথিবী শুধুই আমার""
'
'
-------আধার রাতের হিমু