18/05/2025
বাবা, তুমিই যাবা না”
(আড়াই বছরের মেয়ের মুখে এক মায়াবী অনুরোধ)
আজ সকালটা ছিল একটু অন্যরকম। খুব তাড়াতাড়ি ঘুম ভেঙে গেল, কারণ মনটা সারারাত অস্থির ছিল। আজ আমার আড়াই বছরের ছোট্ট মেয়ে নীলা, আমার বুকের ধন, নানুর সঙ্গে গ্রামের বাড়ি যাবে। ওর ব্যাগ গুছানো শেষ, জামা পরানো শেষ, পুতুলটাও সঙ্গে দেওয়া হয়েছে—কিন্তু ওর চোখে কিছু একটা অজানা ভয়।
আমি ওকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম, গাড়ি আসছে। ও আমার গলা শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো, ঠোঁট ভাঙা ভাঙা করে বললো, “বাবা, তুমিই যাবা না…”
আমি থমকে গেলাম।
এই একটুখানি কথা যেনো বুকের ভেতর সুনামির মতো আছড়ে পড়লো। ওর কচি মুখটা আমার বুকে লুকিয়ে, চোখে পানি। আমি মাথায় হাত বুলিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করি, কিন্তু নিজেকে শান্ত রাখা তখন অসম্ভব।
ওর মা বললো, “নীলা তো বুঝতে পারছে না কেন একা যেতে হচ্ছে।” আমি ওকে বুঝিয়ে বললাম, “মা, তুমি কিছুদিন ঘুরে এসো, বাবা আছে এখানেই, আবার নিয়ে আসবে।” কিন্তু ও কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিল না। ওর দুনিয়া মানেই তো আমি। আমি যাকে জড়িয়ে ঘুমোই, যাকে ডেকে বলি “পান খাই”, “গোসল চাই”, সে-ই যদি দূরে সরে যায়, তাহলে একটা শিশু কীভাবে বুঝবে এটা সাময়িক?
ওর ছোট হাতগুলো আমার গলা জড়িয়ে ছিল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। গাড়িতে ওঠার পরও বারবার পেছন ফিরে তাকাচ্ছিল, আর আমার মনে হচ্ছিল, একেকবার তাকানোর সঙ্গে সঙ্গে ও আমার বুকের ভেতর থেকে কিছু কেটে নিয়ে যাচ্ছে।
গাড়িটা দূরে চলে গেল। আমি দাঁড়িয়ে আছি দরজায়, নিঃশব্দে।
এখন ঘরে নীরবতা, খেলনাগুলো নিঃসঙ্গ, ওর কোলঘড়িটাও থেমে আছে বলে মনে হয়। চারপাশে শুধু একটাই শব্দ বারবার কানে বাজছে—“তুমি যাবা না…”
আমি জানি, ও খুব ছোট, কয়েকদিন পর হয়তো ভুলে যাবে এই মুহূর্ত। কিন্তু আমি কোনোদিন ভুলবো না। আমার জীবনের সবচেয়ে মায়াবী অনুরোধ ছিল এইটুকু—একটা ভাঙা ভাষায় বলা, বুকফাটা ভালোবাসা:
“বাবা, তুমিই যাবা না,