28/08/2024
এলাকা বন্যায় প্লাবিত,সাপের উপদ্রব বাড়ছে এবং আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে সারাদেশ থেকেই।
★সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসায় এন্টিভেনম নাকি ওঝা?
★কোনটা বেশি কার্যকরী?
গ্রামে এই বিতর্কও বেশ চাঙ্গা। এই বিতর্কের জবাবে চলতি লেখা।
★ওঝা কি বিষ নামাতে পারেন?
- এই প্রশ্নের বিশুদ্ধতম উত্তর হলো না।
ওঝা কখনই বিষ নামাতে বা বিষমুক্ত করতে পারেন না।
অনেক সময় দেখা যায় গোখরার (কুলিম) কামড় দিয়েছে কিন্তু ওঝা বিষমুক্ত করে দিয়েছেন। রোগী সুস্থ হয়েছেন।
এরকম ঘটনা সমাজে ঘটতে দেখা যায়। আর তার জোরেই সমাজের লোকেদের ওঝার উপর এতো আস্থা। এই ঘটনার
আসল ব্যাপার অন্যখানে। পরিনত গোখরা কামড়ানোর সময় বিষ প্রয়োগ না করে কামড়ায় ৭০%+ ক্ষেত্রে। এটাকে বলা হয় ড্রাইবাইট।এক্ষেত্রে ভয় দেখানোই তাদের উদ্দেশ্য।এছাড়াও বিষ সাপের শরীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া সচল রাখতে সহায়ক।তাই পরিনত সাপ বিষ সংরক্ষণ করে রাখতে চায়। কিন্তু বাচ্চা সাপ এই ড্রাই বাইটা মেনে চলে না। তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কামড় দিলেই বিষ প্রয়োগ করে। তাই গ্রামীণ প্রবচণে বলা হয়- "ছোট সাপের বিষ বেশি।" ড্রাইবাইট দিলে কিচ্ছু না করলেও রোগির কোনো ক্ষতি হবে না। ওঝা শুধু ড্রাই বাইট ঘটনা গুলোকেই সারিয়ে তোলেন এবং ক্রেডিট নেন। অন্যদিক এন্টিভেনম উপযুক্ত সময়ে দিতে পারলে শতভাগ রোগীর সুস্থ হওয়ার রেকর্ড আছে।
যে কোনো সাপ যখন নিজেদের অরক্ষিত মনে করলে, আক্রান্ত মনে করে কেবল তখনই কামড়ায় । সাপকে না বিরক্ত করলে সাধারণত এরা কামড়ায় না।
পদ্মানদীর অবহাহিকায় বিষধর সাপের মধ্যে মাত্র ৪-৫ ধরণের সাপের অধিক্য দেখা যায়। গোখরার ৩ প্রজাতি - (খৈয়াং, পদ্ম, কেউটে) শঙ্ক্ষিনী এবং এলাকায় নতুন সংযোজন বানে ভেসে আসা রাসেলস ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া।
এই ৫ জাতিই বিষধর এবং সময় মতো পদক্ষেপ না নিলে এক ছোবলেই আপনি ছবি (মৃত)হয়ে যেতে পারেন।
#আক্রান্ত_হলে_কী_করবেন?
১. শান্ত থাকবেন। যতই বিষধর সাপ হোক রোগিকে মৃত্যু পর্যন্ত নিতে সাপের বিষভেদে ৩-১০ ঘন্টা এমনকি আরো বেশি সময় লাগে। যদি কামড়ানোর ৩ঘন্টা আগে রোগির মৃত্যু হয় তাহলে ভাববেন রোগির ভীতির কারণে স্টোক করে মারা গেছেন বা অন্য কারণে মারা গেছেন।
২. কামড়ানোর স্থানের উপরে হালকা বাধন দিবেন, দড়ি বা স্যালাইনের পাইপ দিয়ে নয় গামছা বা নরম উড়না দিয়ে। এতে করে অঙ্গহানির সম্ভবনা কমে।
৩. রোগীকে অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া করাবেন না। শান্ত হয়ে বসিয়ে রাখবেন।
৪. কালক্ষেপণ না করে দ্রুত হাসপাতালে নিবেন। ১০০ মিনিটের মধ্যে নিতে পারলে উত্তম।
৫ . কামড় দেয়া সাপ ধরে বা মেরে নিয়ে হাসপাতালে যেতে চান অনেকে।তাদের ধারণা ডাক্তার সাপ চিনে এন্টিভেনম দিবেন। কিন্তু যেই ডাক্তার সাপে কাটা রোগির চিকিৎসা দেন তিনি বিশেষ ভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন। তিনি বিশেষ পরীক্ষা মাধ্যমে বুঝতে পারেন কোন এন্টিভেনম দিতে হবে। তাই সাপ ধরে নিয়ে যাওয়া বোকামি এবং সময় অপচয়।
৫. মনে রাখবেন কামড়ানোর পরে আপনার প্রধান দায়িত্ব হলো সময় নষ্ট না করে রোগিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া।
৬. সাপ খুবই ভীত প্রাণী। এদের বুদ্ধি বা স্মৃতিখুবই দুর্বল। সাপের মাত্র কয়েকটা প্রজাতি জীবনঘাতী হয়। কিন্তু আপনার সচেতনতা আপনাকে নিরাপদে রাখবে। সাপ যদি না চেনেন সাপের কাছে ঘেসবেন না। মনের গহীন কোনে হিরোগিরি দেখানোর সুপ্ত বাসনা থাকলেও তা দমন করে সাপের কাছে ঘেসবেন না। (তরুনেরা এটা এখন করতে চায় এবং আক্রান্তও হয়)
#চিকিৎসা :
রোগিকে দ্রুত জেলার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাবেন। এখানে প্রায় সব সাপের এন্টিভেনম আছে। সম্প্রতি রাসেলস ভাইপারের কামড়েও ২০২১-২০২৪ সালে সারা দেশে ১৮ টি ঘটনায় ১০০% সুস্থ হওয়ার রেকর্ড আছে। সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ জীবন বাঁচাতে পারে।
#সচেতনতাঃ
★সাপ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এবং কৃষি ক্ষেত্রে সহযোগী তাই এদের মারবেন না। সাপ মারা কোনো সমাধান নয়।
★এন্টিভেনমে নির্ভরতা বাড়ান, ওঝা বা গুনিনে নয়।
©নিজস্বী।