07/04/2025
প্যালেস্টাইন আর হাইফা 🇵🇸 🥀
হাইফা শব্দের ইসলামিক অর্থ আরবি শিকড় সহ একটি মেয়ের নাম, যার অর্থ " পাতলা, সূক্ষ্ম ।"
কিছু খ্রিস্ট ধর্মে বিশ্বাসী মনে করেন এটি ধর্মযাজক সেইন্ট পিটারের নাম থেকে এসেছে। আরেকটি মাধ্যম থেকে জানা যায় হাইফা শব্দটি এসেছে হিব্রু শব্দ חפה (হাফা), অর্থাৎ সুরক্ষিত। আবার অন্য আরেক সূত্র থেকে জানা যায় এটি হিব্রু শব্দ חוֹף (হোফ), অর্থাৎ কূল অথবা חוֹף יָפֶה (হোফ ইয়াফে) অর্থাৎ সুন্দর সৈকত শব্দ থেকে এসেছে।
এছাড়া ফিলিস্তিনের একটি শহরের নাম হাইফা। এটি বর্তমানে ইহুদীদের দখলে।জেরুজালেম ও তেল আবিবের পর ইহুদিদের দখলে থাকা তৃতীয় বৃহত্তম শহর হাইফা।হাইফা শহরটি কারমেল পর্বতমালার সবুজ ঢালে একটি ক্যাসকেডিং জলপ্রপাতের মতো বিস্ময়কর নীল ভূমধ্যসাগরের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। শহরটিকে প্রায়শই ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পশ্চিমা এবং ইসরায়েলি মিডিয়া দ্বারা চিত্রিত করা হয় একটি হিপ এবং আধুনিক শহর হিসেবে। এছাড়া শহরটিকে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ‘সহাবস্থান’ এর একটি মডেল হিসাবে উল্লেখ করা হয়।
তবে হাইফাতে আকাশচুম্বী এবং সিমেন্টের বাড়িগুলো ১৯৪৮ সালের পূর্বে ফিলিস্তিনিদের একটি ভিন্ন গল্পের ইতিহাস বহন করে আছে।
১৯৪৮ সালের এপ্রিলে হাইফা জায়োনিস্ট বা ইহুদি সেনাবাহিনী দখলে নেয়। ওই একই বছরের ১৫ মে মধ্যরাতে ফিলিস্তিনে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হয়। তবে ব্রিটিশ শাসন অবসানের তিন সপ্তাহ আগে হাইফা শহরটি নিজেদের দখলে নিয়ে নেয় ইহুদি সেনাবাহিনী। এরই অংশ হিসেবে ১৪ মে এটিকে স্বাধীন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা দেয় ইসরায়েল। আর এই ১৫ মে কে ফিলিস্তিনিরা বিপর্যয়ের দিন বা নাকবা দিবস হিসেবে পালন করে। কারণ ১৫ মে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধভাবে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এর মধ্য দিয়ে নিজ দেশ থেকে ফিলিস্তিনিরা বিতাড়িত হতে থাকে।
১৫ মে এর পর জায়োনিস্ট বাহিনী হাইফা শহর থেকে প্রায় ৯৫ শতাংশ ফিলিস্তিনিদের বের করে দেয়। এই শহরটিতে ৭৫ হাজার ফিলিস্তিনিদের আবাসিক ভবন ছিল। পরে সে সংখ্যা দাঁড়ায় ৩ থেকে ৪ হাজারে। এছাড়া যাদেরকে বের করে দেওয়া হয় তারা পার্শ্ববর্তী দেশ লেবানন এবং সিরিয়াতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেন। এসব ফিলিস্তিনিদের ফিরে আসতে আজও বাধা দেওয়া হচ্ছে।
নাকবা দিবসের কয়েক দশক পর জায়োনিস্ট এবং ইসরায়েল বাহিনী হাইফা শহরে থাকা ফিলিস্তিনিদের অধিকাংশ ভবন দখল করে নেয়। এভাবে ফিলিস্তিনের ঐতিহাসিক এই শহরটির পতন ঘটে। বর্তমানে শহরটি ইসরায়েল সরকারের বাণিজ্যিক ভবন এবং আধুনিক পার্কিং এরিয়াতে পরিণত হয়েছে।
হাইফা-ভিত্তিক নগর পরিকল্পনাবিদ এবং মানবাধিকার কর্মী ওরওয়া সুইতাত বলেন, আরব-ফিলিস্তিনি ভবনগুলোর ধ্বংসাবশেষের উপর সরকারি ভবন তৈরি করা হয়েছে। যে ভবনগুলি নাকবার সময় ভেঙে ফেলা হয়েছিল এবং নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছিল।
তিনি আল জাজিরাকে বলেন, এত বড় একটা অপরাধের কোনো চিহ্ন আজ খুঁজে পাওয়া যাবে না। হাইফা শহরের ইতিহাসবিদ জনি মনসুর বলেন, শহরটিতে ২০ শতাংশ বাড়ি রয়েছে। যেগুলো ফিলিস্তিনিরা নির্মাণ করেছিল।
নাকবার পর এসব ভবনগুলো ইসরায়েল বাহিনী দখল করে নেয়। হাইফা শহরে থাকা অনেক ভবনে এখন ইসরায়েলিরা বসবাস করছেন। আবার অনেক ভবনকে বারে পরিণত করা হয়েছে। এছাড়া কিছু বাড়ি খালি পড়ে রয়েছে।
২০০০ সালের পর থেকে ইসরায়েল সরকার ফিলিস্তিনিদের এসব বাড়ি বেসরকারি এবং সরকারি রিয়েলস্টেট কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে। ইসরায়েলের রিয়েলস্টেট মার্কেটে এসব ভবন লাক্সারিয়াস হিসেবে পরিচিত।
ফিলিস্তিনের একটা শহর আমার নামে এটা যেমন আমাকে ভীষণভাবে আনন্দিত করে ঠিক তেমনিভাবে যখনই মনে পড়ে এটাই ইহুদীদের দখলে এটা ভীষণভাবে কষ্ট দেয় আমাকে। আমার নামের সাথে সম্পর্ক থাকায় হয়তো ফিলিস্তিনের প্রতি আমার একটা আলাদা টান অনুভূত হয়।আল্লাহ হাইফা সহ ফিলিস্তিনের প্রত্যেকটা শহরকে ইহুদিদের দখল মুক্ত করে দিক ।