21/06/2026
গ্রামের নাম ছিল মাঝের চর। নদীর ধারে বটগাছ আর কাশবনের ভেতর দিয়ে সন্ধ্যা নামলেই এক অদ্ভুত নীরবতা নেমে আসত।
বুড়ো জালিয়ার রহমান প্রতিদিনের মতো সেই রাতে নদীতে জাল ফেলেছিল। চাঁদের আলো পানির ওপর রুপার মতো চিকচিক করছিল। হঠাৎ জালটা টানতেই মনে হলো—আজ মাছ অনেক বেশি ধরা পড়েছে। কিন্তু জালটা তুলতেই তার বুক কেঁপে উঠল… মাছ নয়, জালের ভেতর কেবল ঠান্ডা শ্যাওলা আর অদ্ভুত একটা কুয়াশার মতো জিনিস।
ঠিক তখনই নদীর ওপার থেকে কারও হাঁটার শব্দ শোনা গেল।
সাদা কাপড় পরা একজন নারী… না, পুরোপুরি মানুষও যেন না। ভিজে চুল, মুখ দেখা যাচ্ছে না, কিন্তু তার উপস্থিতিতেই চারপাশের বাতাস ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।
সে ধীরে ধীরে বলল—
“আমার মাছ দে…”
বুড়ো জালিয়ার রহমান ভয় পেয়ে বলল,
“আমি তো কিছু পাই নাই মা… শুধু শ্যাওলা উঠছে…”
সেই মুহূর্তে নদীর পানি গর্জে উঠল। ঢেউয়ের ভেতর থেকে আরও অনেক সাদা ছায়া উঠে আসতে লাগল। পুরো নদী যেন জীবিত হয়ে গেছে।
সাদা কাপড় পরা সেই ছায়া আবার বলল—
“এই নদীর মাছ আমাদের… অনেকদিন ধরে কেউ দেয় নাই…”
বুড়ো বুঝতে পারল, আজ শুধু মাছের গল্প না—এটা অন্য কিছুর শুরু।
হঠাৎ তার জালটা নিজে থেকেই আবার পানিতে নেমে গেল। আর সেই সাথে নদীর গভীর থেকে ভেসে এল অদ্ভুত ফিসফিস শব্দ…
পরদিন সকালে গ্রামবাসী দেখল—নদীর ধারে বুড়ো জালিয়ার রহমান নেই। শুধু তার জালটা শুকনো হয়ে পড়ে আছে… আর তার ভেতরে একটা ছোট সাদা শাঁখের মতো জিনিস, যেটা রাতের অন্ধকারেও নাকি নিজে নিজে শব্দ করে।
তারপর থেকে কেউ আর সেই নদীতে রাতের বেলা মাছ ধরতে যায় না…
#রোমাঞ্চকরগল্প
#ভূতেরগল্প
#বাংলাগল্প
#নদীরগল্প
#অতিপ্রাকৃত