06/08/2026
🚨 অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগে হিসাব নয়, মিলছে হুমকি!
আমার প্রশ্ন ছিল একটাই—৫ থেকে ৮ হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিল মাত্র সাত মাসের ব্যবধানে ৩৮ হাজার টাকায় পৌঁছাল কীভাবে?
এই প্রশ্ন শুধু আমার নয়; সারা দেশের হাজারো গ্রাহকেরও একই অভিযোগ। কিন্তু অভিযোগের জবাবে বিদ্যুৎ বিভাগের কাছ থেকে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা নয়, বরং এসেছে অস্বীকার ও হুমকি। পরে জনসমালোচনার মুখে সেই হুমকির ভাষা পোস্ট থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও মূল প্রশ্নের উত্তর আজও পাওয়া যায়নি।
📊 গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে বিলের চিত্র উদ্বেগজনক—
২০২৫ সালের মে–জুলাই: মোট বিল ৫৩,৬২৩ টাকা
২০২৬ সালের মে–জুলাই: মোট বিল ৯৪,৮৩৬ টাকা
অর্থাৎ, একই বাসা, একই দুটি মিটার এবং প্রায় একই ধরনের ব্যবহার থাকা সত্ত্বেও এক বছরের ব্যবধানে বিল বেড়েছে প্রায় ৪১ হাজার টাকা।
চলতি বছরের মাসভিত্তিক বিলও অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে—
▪️ জানুয়ারি: ৫,৪২০ টাকা
▪️ ফেব্রুয়ারি: ৮,৫৪৪ টাকা
▪️ মার্চ: ১৩,৩৪০ টাকা
▪️ এপ্রিল: ২৪,৫০৪ টাকা
▪️ মে: ২১,৮৪৩ টাকা
▪️ জুন: ৩৪,৭২৯ টাকা
▪️ জুলাই: ৩৮,২৬৪ টাকা
গত বছরও এই অস্বাভাবিক বিলের বিষয়ে অভিযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগের কোনো কার্যকর তদন্ত হয়নি, মিটার পরীক্ষা হয়নি, বিলিং প্রক্রিয়াও যাচাই করা হয়নি। বরং দায় চাপানো হয়েছে গ্রাহকের ওপর।
এখন প্রয়োজন স্বচ্ছ তদন্ত, হুমকি নয়।
আমার দাবি—
🔹 দুই মিটারের প্রতিটি মাসের রিডিং, ব্যবহৃত ইউনিট, ট্যারিফ ও বিলের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করতে হবে।
🔹 সারা দেশে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের স্বাধীন অডিট পরিচালনা করতে হবে।
🔹 বিলিং সফটওয়্যার, মিটার রিডিং ও আনুমানিক বিলের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে।
🔹 অতিরিক্ত আদায় করা অর্থ গ্রাহকদের ফেরত দিতে হবে।
🔹 দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
🔹 অভিযোগকারীদের ভয় দেখানোর পরিবর্তে জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
প্রশ্ন করা অপরাধ নয়।
জনগণ কর দেয় সেবা পাওয়ার জন্য, হুমকি শোনার জন্য নয়।
স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক। জনগণের ন্যায্য প্রশ্নের উত্তর তথ্য-প্রমাণ দিয়েই দিতে হবে।