18/08/2026
গতকাল ঠিক যে সময়ে আমি IUB থেকে মাস্টার্স শেষ করার আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছিলাম, ঠিক সেই সময়ই IUB এর আরেকজন ছাত্র ওলি নুর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছিলেন।
আমাদের সরকার, আইনপ্রণেতা আর প্রশাসনের চেয়ে কি মোটরচালিত রিকশা চালকেরা বেশি শক্তিশালী, যে তাদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায় না?
আমাদের এই চাওয়াটা তো বহুদিনের, ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে আমরা মোটরচালিত/ব্যাটারি চালিত রিকশা দেখতে চাই না।
এটা কি খুব বড় কোনো দাবি?
কিছুদিন আগে ৩০০ ফিটের একটা ভিডিও দেখছিলাম। AI ক্যামেরা বসানোর পর রাস্তা ফাঁকা থাকলেও গাড়িচালকেরা সিগন্যাল মেনে থামছেন। ভাবছিলাম , প্রযুক্তি এ কয়েকদিনের মধ্যে মানুষের আচরণ কি চমৎকার ভাবে বদলে দিতে পারে, আর তখনই চোখে পড়ে আমাদের ‘বিশেষ’ কিছু মোটর রিকশা চালক।
গাড়ি থেমে আছে, সিগন্যাল লাল, কিন্তু তারা দিব্যি চলে যাচ্ছে।
তাদের আবার কিসের সিগন্যাল?
তারা বাংলার শেষ নবাবের বংশধর!
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সিগন্যালে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে পারেন, কিন্তু তারা পারেন না!
ব্যাটারি চালিত রিকশা নিয়ে নিয়ন্ত্রণ, নিবন্ধন, লাইসেন্সিং ও রুট নির্ধারণের কথা বহুদিন ধরেই হচ্ছে। কিন্তু পরিকল্পনা আর বাস্তবায়নের মধ্যে যে বিশাল ফারাক, তার মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
প্রশ্ন হলো, নুরের মতো আর কতজনের মৃত্যুর পর একটা solid decision নেওয়া হবে?
আর কত পরিবার তাদের সন্তান, স্বামী, বাবা কিংবা ভাইকে হারানোর পর আমরা বলব, “দুঃখজনক দুর্ঘটনা”?
নাকি শাহবাগে রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলন শুরু হলে তবেই আমাদের policy makers দের মনে হবে, এবার কিছু একটা করা দরকার?
কারও জীবিকা কেড়ে নেওয়ার কথা বলছি না।
আমরা চাই নিয়ন্ত্রিত, নিরাপদ ও আইনসম্মত ব্যবস্থা।
কিন্তু মানুষের জীবনের চেয়ে কোনো গোষ্ঠীর রাস্তার ওপর প্রভাব যদি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়, তাহলে প্রশ্নটা শুধু সড়ক নিরাপত্তার থাকে না প্রশ্নটা হয়ে যায়, এই শহরের রাস্তায় আসলে কার অধিকার বেশি?
আর কত মৃত্যু লাগবে উত্তরটা পাওয়ার জন্য?