11/04/2017
*** # হৃদয়স্পর্শী_গল্প 'অনাথ' #***
রাস্তাড় মোড়ে একটা চায়ের দোকানে বসে
সিগারেট টানছি,,!
হঠাৎ একটা মেয়ে এসে সামনে দাড়াল।
বয়স পাঁচ থেকে সাত এর মধ্যে হবে,,
মেয়েটার গায়ের জামাটা ছেড়া,,
দেখেই বোঝা যায় কোন এক গরিব ঘরের সন্তান।
মেয়েটা বললো...
__ভাইয়া একটা রুটি কিনে দিবেন?
__একটা রুটি দিয়ে কি করবা?
__মাকে খাওয়াব,,
দুই দিন ধইরা মায়ের অনেক জ্বর,, ঘরে কিছুই নাই
খাওয়ার,,
দেন না ভাইয়া।
__তুমি খাবে না?
__না,,, মা খাইলেই, আমার খাওয়া হইবে।
''বুকের ভিতর একটা ব্যাথা অনুভব করলাম,,এই টুকু একটা
মেয়ের তার মায়ের প্রতি কত ভালবাসা,,,
নিজে খাওয়ার আগে মা এর কথা ভাবে ,,! মায়ের
জন্য অন্যের কাছে হাত পাতে।
আমি টাকার অভাবটা কখনই বুঝিনি,,, কিন্তু ভালবাসার অভাবটা
খুব ভালভাবেই বুঝতে পেরেছি,,!
ওদের টাকার অভাব থাকতে পারে ,,কিন্তু ভালবাসার
কোন অভাব নেই।
__নাম কি তোমার?
__রুপা,,,
__বাড়িতে কে,কে, আছে তোমার?
__মা ছাড়া আর কেউ নাই!
__থাক কোথায়?
__(একটা বস্তি দেখিয়ে) ঐই খানে!
__তোমার আম্মু কি করে?
__বাড়িতে বাড়িতে কাজ করে,, জ্বর এর জন্য দুই দিন
কাজে যাইতে পারেনা!
দেন না ভাইয়া!
'যেই মেয়েটার এখন বই হাতে স্কুলে যাবার কথা,,
খেলাধুলা করে বেড়ানোর কথা,,
আর সে কিনা?
পেটের দায় রাস্তায়, রাস্তায়, ভিক্ষা করছে।
__হ্যাঁ দিব,,যদি তুমি আমাকে তোমাদের বাসায় নিয়ে
যাও?
__(অবাক হয়ে)সত্যি বলছেন? আপনি আমাদের বাড়ি
যাবেন?
__হ্যাঁ,,
রুপা ছুটে চলল বস্তিটার দিকে ,,
আমিও ওর পিছন পিছন এগিয়ে গেলাম ,,!
দেখলাম ছোট্ট একটা ঘরের ভিতর ঢুকল,,
আমিও ঢুকলাম । ঘরে তেমন কিছুই চোখে পাড়ল
না,, !
ঘড়ের মেঝেতে একজন মহিলা শুয়ে আছে,,,!
রুপা বলছে...
_মা মা,,দেখ কে আইছে আমাদের বাড়িতে ,,!
জ্বর এর কারনে ঠিক মত কথাও বলতে পারছেনা ওর
মা ,,অনেক কষ্ট করে উঠে আমার দিকে তাকাল!
__কে বাবা আপনি?
__জ্বি আমি অয়ন,,,,আপনার এত জ্বর,,ডাক্তার
ডাকেন নি?
__কপালে এক বেলা ঠিক মত খাওন জোডেনা,, আর
ডাক্তার
__আমি ঔষধ নিয়ে আসছি।
আমি রুপাকে নিয়ে বেরিয়ে, কিছু ঔষধ,,আর কিছু
ফল কিনে নিয়ে এলাম,,
ঔষধ খাওয়ানোর ঘন্টা খানেকের মধ্যে জ্বর
কমে গেল,,!
ঘরে রান্না করার কিছুই নেই,, তাই বাজারে গিয়ে ,চাল
আরো টুকিটাকি জিনিস পত্র নিয়ে আসলাম।
আমি বল্লাম...
__আজ দুপুরে কিন্তু আমি এইখানেই খাব,
__(একটা হাসি দিয়ে)ঠিক আছে বাজান,
আমি রুপার সাথে গল্প করতেছি, কোনো তাড়া নেই
আমার,, কারন আমার জন্য চিন্তা করার মত এই
পৃথিবীতে কেউ বেচে নেই ,,!
সেই ছোট বেলাই বাবা মাকে হারিয়েছি,, মা বাবার
ভালবাসা কেমন হয়? কখন বুঝিনি,,!
যদি কখনও না খেয়ে থাকতাম,, কেউ বলতনা বাবা
খাইছত,, মাথায় হাত বুলিয়ে দিত না,, বলত না, বাবা মুখটা
শুকনা লাগছে কেন? মন খারাপ??
সবাই আমায় অনাথ বলত,,! বলত দেখ ওই ছেলেটা না
অনাথ,, বাবা মা কেউ নেই।
তখন খুব কাঁদতাম,, আমার বাবা মা কেন আমায় ফেলে
চলে গেল????
তাই একটু ভালবাসা পাবার লোভে এই বস্তিতে বসে
আছি
এর মধ্যে রান্না হয়ে গেল,
রুপার মা রুপাকে খাইয়ে দিচ্ছে,,!
আমার লোভ হচ্ছে,, আমাকেও যদি কেউ এইভাবে
খাইয়ে দিত,,!
আমি ভাত নিয়ে বসে আছি,, আর ভাবছি,, মা এর ভালবাসা
বুঝি এমনই হয়?
আমার মা বেঁচে থাকলে হয়ত আমায় এই ভাবে
খাইয়ে দিত,,!
চোখে পানি চলে এল ওদের ভালবাসা দেখে!
__বাজান তোমার চোখে পানি?
__(চোখটা মুছে)ও কিছুনা!
__তোমার মত সন্তান যেই মা পেটে ধরছে,, তার
মত সৌভাগ্যবান এই পৃথীবিতে কেউ নাই বাজান।
__(লোভটা আর সামলাতে পারলাম না, বলেই
ফেল্লাম) আমাকে একটু খাইয়ে দিবেন?
__(হেসে দিয়ে) ঠিক আছে বাজান.
তিনি আমায় ভাত তুলে খাইয়ে দিচ্ছেন,,. আর আমার
চোখ দিয়ে পানি ঝরছে,,
__যানেন এই ভাবে কেউ কোন দিন আমায় খাইয়ে
দেয়নি.
__তোমার কে,কে,আছে বাড়িতে?
__আমার কেউ নেই ।(অসহায়ের মত তার মুখের
দিকে তাকিয়ে আছি)
আমি আপনাকে মা বলে ডাকব?? (চোখের পানিতে
গায়ের গেন্জি অনেকটা ভিজে গেছে)
__ডাকো বাজান,,আজ থেকে তুমিও আমার,, আর
এক সন্তান!
আমি মা, মা ,বলে আরো জোরে কেঁদে আমি তার
পা জরিয়ে ধরলাম,,
তিনিও আমায় জরিয়ে ধরে,, কেঁদে দিলেন,,
এই মা ডাকটা যে, কত মধুর, কত শান্তির,, তা আগে জানা
ছিলনা!
(তাকিয়ে দেখি রুপা মিটি মিটি হাসছে)
এখন আমার চিৎকার করে সারা পৃথিবীকে বলতে
ইচ্ছে করছে,, এই যে তোমরা সুনছো???
আমি আর অনাথ, নই ,,,আমি অনাথ নই,,, আমি অনাথ
নই,,, আমার ও, মা আছে,, ছোট্টো একটা বোন
আছে,, আমি অনাথ নই...
আমি সারাটা বিকেল মা এর কোলে মাথা দিয়ে শুয়ে
ছিলাম,,,
এখন মনে হচ্ছে এই পৃথিবীতে আমিই সবচেয়ে
সুখি মানুষ!
ভাবছি, এখন আমার অনেক দায়িত্ব,, মা এর জন্য একটা
বাড়ি ঠিক করতে হবে,, মা এর দেখা শুনা করতে
হবে,,বোনটা কে স্কুলে ভর্তি করতে হবে,,
আরো অনেক কাজ বাকি...
মা এর মত আপন এই দুনিয়াতে কেউ নেই,,! যার মা
নেই সেই বোঝে,,মা কি জিনিস ।....