03/01/2022
এই ছবি দেখে যতই আপনি বিমোহিত হোন না কেন, আপনি যদি এই মুহুর্তে আমাদের দেশের "একমাত্র বার্ন ইনস্টিটিউট" শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউট-এর জরুরী বিভাগে আসেন আপনার বোধ অন্যরকম হতো।
একটা বাচ্চা এসেছে ফানুস উড়াতে গিয়ে মোম পড়েছে চোখে-মুখে, একজন তরুণের সরাসরি চোখেই আগুনের হালকা লেগেছে; কর্ণিয়া ইঞ্জুরি আছে, একজন পথচারী এসেছেন তারও মুখ ফানুসের আগুনে পুড়েছে, এক মাদ্রাসা ছাত্র ফানুসের আগুনে বৈদ্যুতিক তার পুড়ছে দেখে সেটা নেভাতে গিয়ে নিজের হাত ইলেকট্রিক বার্ন নিয়ে এসেছে (সেই হাতে একটা বড় অপারেশন লাগবে), একজন "বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু" আতশবাজি কাছ থেকে দেখতে গিয়ে চোখ - মুখ পুড়িয়েছে; বেচারা তার সমস্যার কথা বলতেও পারছে না, বেশ কয়েকজন এসেছে পটকায় এক বা একাধিক আঙ্গুল উড়ে গেছে, এমন আরও অনেকে এসেছে।
এগুলোতে যে চিত্র পাওয়া গেল সেগুলো হচ্ছে একান্ত নিরুপায় হয়ে, চোখ-মুখ আক্রান্ত হওয়ায় "আনন্দ উদযাপন উপেক্ষা করে" শীতের রাতে তারা হাসপাতালে এসেছে। এছাড়া এরা সবাই ঢাকার, যদিও ঢাকাতেই বোধকরি সবচে বেশি "আতশবাজি উদযাপন" হয় তাই বলে পুরো দেশের সংখ্যা আরো কয়েকগুণ। হয়ত হাসপাতালের পথে আছে আরো অনেকে। অনেকের অন্য অনেক ইঞ্জুরি নিয়ে কষ্ট পাচ্ছে, দু একটা হতাহত হয়নি তাও নিশ্চিত হয়ে বলা যায়না।
এমনিতেই শীতে গরম পানি, আগুন পোহানো এগুলোর জন্যে বার্ন অনেক বেশী হয়। বিশেষ করে আক্রান্ত হয় শিশুরা, এর উপরে এই উৎসব উদযাপনের সাইফ এফেক্ট! এত ত্রাহি অবস্থা!
আমাদের মাথাপিছু আয় বাড়ছে কিন্তু আমরা কি সভ্য হচ্ছি!? জলের ওপর থাকা জলযানে আগুন লেগে প্রাণ হারাচ্ছি, নতুন বছর উদযাপন করতে গিয়ে আহত হচ্ছি!
আমাদের মনে হয় আরও একটু মানবিক ভাবনা করা দরকার; আমার উৎসব যেন অন্য জনের সারা জীবনের কান্না না হয়।