21/07/2026
পাখিদের কী নির্মল জীবন, তাই না?
পাখিদের জীবনটা আমার বড্ড পছন্দের৷ দুই ডানা প্রসারিত করে খোলা আকাশে মনের আনন্দে উড়ে বেড়ানো, গাছের এই ডাল হতে ওই ডালে, এদিক থেকে ওদিকে কী পরম আনন্দ নিয়েই না তারা ছুটে বেড়ায়!
তবে, সবচেয়ে আশ্চর্য লাগে তাদের রিযিকের প্রতি। একটা পাখি রোজ ভোরবেলা কতো শান্ত মন নিয়েই না ঘর থেকে বের হয়। পাখিটা নিশ্চিতভাবেই জানে যে—দুনিয়ার কোথাও না কোথাও, কোনো না কোনো উদ্যানে, কোনো না কোনো জঙ্গলে, কোনো না কোনো গৃহের উঠোনে তার রিযিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। রিযিক যে পাবে সে ব্যাপারে পাখিটার মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। তার কেবল একটাই কাজ—সেই রিযিকের সন্ধানে বেরিয়ে পড়া।
পাখিটা রোজ এই কাজটাই করে৷ রোজ ভোরবেলা সে নিশ্চিন্তমনে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে৷ সারা দিনমান তার কেটে যায় গাছে গাছে, ডালে ডালে, পাতায় পাতায়। কখনো-বা গৃহস্থের উঠোনে, কখনো-বা নদীর ধারে, কখনো-বা কৃষকের শস্যের ক্ষেতে।
তারপর, সন্ধ্যেবেলা ভরপেটে ফিরে আসে নীড়ে। তার আর কোনো কাজ নেই, আর কোনো ব্যস্ততা নেই। কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট, কোনো অ্যালার্ম, কোনো ডেডলাইন নেই তাকে বিরক্ত করার।
এই যে রিযিকের ব্যাপারে পেরেশান হতে হচ্ছে না, আগামিকাল কী খাব—এই চিন্তায় যে পাখিটা বুড়িয়ে যাচ্ছে না, সঞ্চয় ফুরিয়ে যাওয়ার দুশ্চিন্তায় তার যে রাতের ঘুম হারাম হয়ে যাচ্ছে না—এই সবটাই কী অদ্ভুত প্রশান্তির, তাই না?
আপনিও কি পাখির মতো রিযিক লাভ করতে চান? পাখির মতো দুশ্চিন্তা-মুক্ত হয়ে জীবন কাটাতে চান? আল্লাহর রাসুল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসটাতে তবে আপনার জন্য একটা চমৎকার উপায় বলা আছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—
‘তোমরা যদি আল্লাহর উপর সেভাবে তাওয়াক্কুল করতে, তবে তিনি তোমাদের সেভাবে রিযিক দিতেন, যেভাবে তিনি পাখিদের রিযিক দান করে থাকেন। তারা সকালে খালি পেটে (নীড় হতে) বের হয় এবং সন্ধ্যায় ভরা পেটে ফিরে আসে।’
আপনার রিযিক তো যমিনে ছিটানোই আছে। আপনাকে কেবল দুটো কাজ করতে হবে।
১. পাখিদের মতো তাওয়াক্কুল তথা আল্লাহর উপর ভরসা করতে হবে।
২. পাখিরা যেভাবে যমিনে বেরিয়ে পড়ে, সেভাবে আপনাকেও বেরিয়ে পড়তে হবে।
পাখিদের মতো ডানা হয়তো আমাদের নেই উড়বার জন্য। কিন্তু অন্তর তো আছে তাদের মতো তাওয়াক্কুল করার, তাই না?