ধূলো জমা ডায়েরি

ধূলো জমা ডায়েরি “কিছু গল্প শুনলে চুপ হয়ে যেতে হয়…”
“প্রতিটা গল্পের পেছনে একটা অনুভূতি আছে �”

🌸 গল্পের নাম: “ভুল নম্বরের মানুষটা”পার্ট–১রাত তখন প্রায় ১১টা।মায়া বিছানায় শুয়ে ফোন স্ক্রল করছিল। হঠাৎ একটা অচেনা নম্বর থ...
25/05/2026

🌸 গল্পের নাম: “ভুল নম্বরের মানুষটা”
পার্ট–১
রাত তখন প্রায় ১১টা।
মায়া বিছানায় শুয়ে ফোন স্ক্রল করছিল। হঠাৎ একটা অচেনা নম্বর থেকে কল এলো।
— "হ্যালো?"
ওপাশ থেকে একজন ছেলের কণ্ঠ।
— "সরি, আমি কি রাহাত ভাইয়ের সাথে কথা বলছি?"
— "না, ভুল নম্বর।"
— "ওহ! আচ্ছা, দুঃখিত।"
মায়া কল কেটে দিল।
কিন্তু দুই মিনিট পর একটা মেসেজ এলো।
"আবারও সরি। ভুল করে বিরক্ত করলাম।"
মায়া রিপ্লাই দিল না।
পরদিন দুপুরে আবার মেসেজ।
"আপনি কি রাগ করেছেন?"
মায়া অবাক হয়ে উত্তর দিল,
— "না। কিন্তু আপনি কে?"
— "আমি আরিয়ান। গতকাল ভুল নম্বরে কল দিয়েছিলাম।"
সেখান থেকেই শুরু।
প্রথমে শুধু "কেমন আছেন?", "খেয়েছেন?" এসব কথা।
ধীরে ধীরে দুজনের কথার সময় বাড়তে লাগল।
একদিন আরিয়ান জিজ্ঞেস করল,
— "আপনার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন কী?"
মায়া কিছুক্ষণ চুপ থেকে লিখল,
— "কেউ যেন আমাকে সত্যি সত্যি বুঝতে পারে।"
ওপাশে অনেকক্ষণ কোনো উত্তর নেই।
তারপর একটা মেসেজ এলো।
— "তাহলে আমি চেষ্টা করতে পারি?"
মায়ার অজান্তেই ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠল।
এরপর প্রায় প্রতিদিনই কথা হতো।
মায়া জানত না আরিয়ান দেখতে কেমন।
আরিয়ানও জানত না মায়া দেখতে কেমন।
তবুও যেন দুজন দুজনের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছিল।
কিন্তু একদিন...
হঠাৎ করেই আরিয়ানের কোনো মেসেজ এলো না।
একদিন...
দুইদিন...
এক সপ্তাহ...
ফোন বন্ধ।
মেসেজের উত্তর নেই।
মায়ার বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা শূন্যতা তৈরি হলো।
যে মানুষটার সাথে প্রতিদিন কথা হতো, সে যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে।
ঠিক তখনই এক অচেনা নম্বর থেকে একটা মেসেজ এলো—
"আপনি কি মায়া? আমি আরিয়ানের বোন। আপনার সাথে খুব জরুরি কথা আছে..."
মায়ার হাত কাঁপতে শুরু করল।
মেসেজের নিচে আরেকটা লাইন—
"আরিয়ান আপনার কাছে একটা সত্য লুকিয়েছিল..."
🌸 চলবে...

💖 ভার্সিটির সেই মেয়েটা🌸 পার্ট ২পরের দিন সকাল থেকেই আরিফের মন অদ্ভুত ভালো ছিল।যে ছেলে প্রতিদিন ক্লাস শুরুর পাঁচ মিনিট আগ...
23/05/2026

💖 ভার্সিটির সেই মেয়েটা
🌸 পার্ট ২
পরের দিন সকাল থেকেই আরিফের মন অদ্ভুত ভালো ছিল।
যে ছেলে প্রতিদিন ক্লাস শুরুর পাঁচ মিনিট আগে আসত, সে আজ পুরো আধা ঘণ্টা আগে ক্যাম্পাসে এসে বসে আছে।
নিজের উপরই বিরক্ত লাগছিল তার।
— "আমি কেন এত আগে চলে আসলাম?" 🤦‍♂️
কিন্তু মনের ভেতর উত্তরটা সে নিজেও জানত।
সে অপেক্ষা করছিল... মুনের জন্য।
হঠাৎ দূর থেকে একটা পরিচিত কণ্ঠ ভেসে এলো—
— "এই যে মিস্টার চুপচাপ!" 🌸
আরিফ ঘুরে তাকিয়ে দেখল, মুন হাসতে হাসতে তার দিকেই আসছে।
আজ তার পরনে ছিল হালকা গোলাপি রঙের ড্রেস।
আরিফের বুকটা কেমন যেন ধক করে উঠল।
— "আপনি এত সকালে?"
মুন হেসে বলল,
— "আসলে কাউকে খুঁজছিলাম।"
— "কাকে?"
— "একজন খুব রাগী আর চুপচাপ ছেলেকে।" 😄
আরিফ না চাইলেও হেসে ফেলল।
দুজন একসাথে ক্লাসে গেল।
দিন যত যাচ্ছিল, তাদের বন্ধুত্বও তত গভীর হচ্ছিল।
ক্যাম্পাসের লাইব্রেরি, ক্যান্টিন, করিডোর...
যেখানেই মুন, সেখানেই যেন আরিফ।
আর যেখানেই আরিফ, কিছুক্ষণ পর দেখা যেত মুনও সেখানে হাজির।
একদিন ক্যান্টিনে বসে চা খাচ্ছিল তারা।
হঠাৎ মুন জিজ্ঞেস করল—
— "আপনার কি কোনো বেস্ট ফ্রেন্ড নেই?"
— "না।"
— "কেন?"
— "মানুষ বেশি কাছাকাছি এলে একদিন না একদিন দূরে চলে যায়।"
মুন কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর ধীরে বলল—
— "সবাই যায় না।"
আরিফ মুনের চোখের দিকে তাকাল।
মেয়েটার চোখে তখন অন্যরকম একটা শান্তি ছিল।
সেদিন বাসায় ফেরার সময় মুন বলল—
— "আজকে বাসায় গিয়ে একটা মেসেজ দিবেন।"
— "কেন?"
— "কারণ আমি জানতে চাই আপনি বাসায় ঠিকঠাক পৌঁছেছেন কিনা।"
— "আপনি চিন্তা করবেন?"
— "হয়তো..." 😊
সেদিন রাতে অনেকক্ষণ ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ছিল আরিফ।
শেষমেশ সাহস করে লিখল—
"বাসায় পৌঁছেছি।"
সেন্ড করার মাত্র কয়েক সেকেন্ড পর রিপ্লাই এলো—
"জানতাম আপনি মেসেজ দিবেন।"
আরিফ অবাক হয়ে গেল।
— "কিভাবে জানলেন?"
মুন লিখল—
"কারণ আপনি যতটা চুপচাপ, ততটা খারাপ না।" ❤️
মেসেজটা পড়ে আরিফের ঠোঁটের কোণে অজান্তেই হাসি ফুটে উঠল।
কিন্তু সে জানত না...
সেই সময় দূরে কোথাও আরেক জোড়া চোখও মুনকে দেখছিল।
একটা ছেলে...
যে অনেক দিন ধরেই মুনকে পছন্দ করে।
আর মুনের পাশে আরিফকে দেখে তার মুখটা অন্ধকার হয়ে গেল...
🌸 চলবে... (পার্ট ৩-এ নতুন চরিত্রের আগমন ও প্রথম বড় টুইস্ট) 💔✨

20/05/2026

🙂 “সংসার টিকিয়ে রাখতে রাখতে…
অনেক মেয়েই নিজের ভেতরটা হারিয়ে ফেলে…”


#চুপচাপ_ভালোবাসা #ত্যাগ #অপূর্ণ_ভালোবাসা #বাংলা_গল্প #ইমোশনাল_স্টোরি #ভালোবাসার

“ভার্সিটির সেই মেয়েটা”🌸 পার্ট ১ঢাকার একটা নামকরা ভার্সিটি…নতুন সেমিস্টারের প্রথম দিন। চারদিকে নতুন মুখ, নতুন বন্ধু, নতু...
20/05/2026

“ভার্সিটির সেই মেয়েটা”
🌸 পার্ট ১
ঢাকার একটা নামকরা ভার্সিটি…
নতুন সেমিস্টারের প্রথম দিন। চারদিকে নতুন মুখ, নতুন বন্ধু, নতুন স্বপ্ন। ☁️
ক্যাম্পাসে তখন হালকা শীতের সকাল। গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে রোদ পড়ছে। সবাই ব্যস্ত নিজেদের ক্লাস খুঁজতে।
আরিফ তখন ডিপার্টমেন্টের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। হাতে ফাইল, চোখে বিরক্তি। কারণ সে মানুষের সাথে খুব একটা মিশত না। শান্ত স্বভাবের ছেলে।
হঠাৎ পিছন থেকে একটা মেয়ের কণ্ঠ—
— “এক্সকিউজ মি… CSE বিল্ডিংটা কোন দিকে বলতে পারবেন?” 🌸
আরিফ ঘুরে তাকাতেই কয়েক সেকেন্ড চুপ হয়ে গেল।
মেয়েটার চোখ দুটো অদ্ভুত সুন্দর। মুখে কোনো ভারী মেকআপ নেই। সাদা-নীল ড্রেসে খুব সাধারণ… তবুও চোখ সরানো যায় না।
— “জি… আমি ওই দিকেই যাচ্ছি। চাইলে আসতে পারেন।”
মেয়েটা মিষ্টি করে হেসে বলল—
— “থ্যাংক ইউ। আমি নতুন তো… কিছুই চিনিনা।”
হাঁটতে হাঁটতে দুজনের পরিচয় হলো।
— “আমি মুন।”
— “আরিফ।”
মুন খুব সহজেই কথা বলছিল। আরিফ শুধু ছোট ছোট উত্তর দিচ্ছিল।
— “আপনি এত চুপচাপ কেন?”
— “এমনিই।”
— “নাকি সিনিয়র ভাইসুলভ ভাব নিচ্ছেন?” 😄
আরিফ হালকা হাসল। অনেকদিন পর কেউ তাকে হাসালো।
ক্লাসে ঢোকার পরও আরিফের মন অদ্ভুত হয়ে ছিল। সে বারবার মুনের দিকেই তাকাচ্ছিল।
মেয়েটা সবার সাথে মিশে গেল খুব দ্রুত। কিন্তু মাঝে মাঝেই সে আরিফের দিকে তাকিয়ে হাসছিল।
দিন শেষে ক্যাম্পাসের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল আরিফ। তখন হঠাৎ মুন এসে বলল—
— “একটা কথা বলি?”
— “হুম?”
— “আজকে আপনি না থাকলে আমি প্রথম দিনেই হারিয়ে যেতাম।” 🌸
আরিফ কিছু বলল না। শুধু মাথা নাড়ল।
মুন চলে যাচ্ছিল…
হঠাৎ আবার পিছনে ফিরে বলল—
— “কালকে দেখা হবে তো?” 💖
আরিফের বুকের ভেতর কেমন যেন ধক করে উঠল।
সে শুধু ধীরে বলল—
— “হয়তো…”
আর সেদিন রাতেই অনেকদিন পর আরিফ কারো কথা ভেবে হাসল… 🌙

19/05/2026

| চুপচাপ ভালোবাসা | পার্ট - ০১ |
"চুপচাপ কিছু ভালোবাসা থাকে…
যেগুলো কখনো জোরে বলা হয় না " 💔🌙


#চুপচাপ_ভালোবাসা #ত্যাগ #অপূর্ণ_ভালোবাসা #বাংলা_গল্প #ইমোশনাল_স্টোরি #ভালোবাসার_গল্প #কাজিন_লাভ

পার্ট – ৩ : আয়নার ভেতরের মেয়েলাইব্রেরির ভেতরটা হঠাৎ আরও ঠান্ডা হয়ে গেল।মেহরিন ডায়েরিটা শক্ত করে ধরে দাঁড়িয়ে আছে। ত...
18/05/2026

পার্ট – ৩ : আয়নার ভেতরের মেয়ে
লাইব্রেরির ভেতরটা হঠাৎ আরও ঠান্ডা হয়ে গেল।
মেহরিন ডায়েরিটা শক্ত করে ধরে দাঁড়িয়ে আছে। তার চোখ বারবার সেই ছেলেটার দিকে যাচ্ছে।
— “আপনি কে?”
ছেলেটা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল—
— “আমার নাম আরিব।”
— “আপনি এসব কীভাবে জানেন?”
আরিব গভীর নিশ্বাস ফেলল।
— “কারণ… আমি সেদিন সেখানে ছিলাম।”
মেহরিনের বুক কেঁপে উঠল।
— “কোন দিন?”
আরিব ধীরে ধীরে সিঁড়ির দিকে তাকাল। যেন পুরনো কোনো স্মৃতি তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।
— “যেদিন তুমি হারিয়ে গিয়েছিলে।”
চারপাশের বাতাস ভারী হয়ে উঠল।
মেহরিন বিরক্ত গলায় বলল—
— “আমি কখনো হারাইনি! সবাই কেন একই কথা বলছে?!”
হঠাৎ—
ঠাস!
লাইব্রেরির একটা দরজা নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে গেল।
মেহরিন চমকে উঠল।
তারপর একটার পর একটা বুকশেলফ কাঁপতে শুরু করল। ধুলো উড়ে পুরো ঘর অন্ধকার হয়ে গেল।
দূর থেকে ভেসে এল কারও ফিসফিস শব্দ—
“মেহরিন…”
মেহরিন জমে গেল।
কণ্ঠটা একদম তার মায়ের মতো।
— “মা…?”
আরিব হঠাৎ চিৎকার করে উঠল—
— “ওর কথা শুনো না!”
ঠিক তখনই উপরের তলায় একটা আয়না ঝনঝন করে কেঁপে উঠল।
পুরনো, বড় একটা আয়না।
আয়নার কাঁচে ফাটল।
কিন্তু…
ফাটলের ভেতর কেউ দাঁড়িয়ে আছে।
একটা মেয়ে।
লম্বা চুল।
সাদা পোশাক।
মুখটা অন্ধকারে ঢাকা।
মেহরিনের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে এল।
কারণ মেয়েটা ধীরে ধীরে মাথা তুলল।
আর সেটা…
তার নিজের মুখ।
মেহরিন পিছিয়ে গেল।
— “না… না এটা সম্ভব না…”
আয়নার ভেতরের মেয়েটা হঠাৎ হাসল।
একটা অস্বাভাবিক, ভয়ংকর হাসি।
তারপর রক্তমাখা হাত দিয়ে কাঁচে লিখল—
“তুমি আমাকে ভুলে গেছো।”
হঠাৎ পুরো লাইব্রেরির লাইট একসাথে জ্বলে উঠল।
তারপর আবার নিভে গেল।
এক সেকেন্ডের জন্য মেহরিন দেখল—
চারপাশে অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে আছে।
সবাই সাদা পোশাক পরে।
সবাই তার দিকে তাকিয়ে।
কারও চোখ নেই।
কারও মুখ কাটা।
কারও শরীর রক্তে ভেজা।
মেহরিন চিৎকার করে উঠল।
আরিব দৌড়ে এসে তার হাত ধরল।
— “চলো এখান থেকে!”
দুজন দৌড়াতে শুরু করল অন্ধকার করিডোর দিয়ে।
পিছন থেকে পায়ের শব্দ।
অনেকগুলো।
যেন কেউ তাদের পেছনে ছুটছে।
মেহরিন হাঁপাতে হাঁপাতে বলল—
— “ওগুলো কী?!”
আরিব আতঙ্কিত চোখে পিছনে তাকাল।
— “ওরা মানুষ না…”
হঠাৎ সামনে দেয়ালে একটা ছবি চোখে পড়ল।
ছবিটা দেখে দুজনই থেমে গেল।
ছবিতে ছোট্ট মেহরিন দাঁড়িয়ে আছে।
তার পাশে একটা মেয়ে।
হুবহু একই চেহারা।
নিচে লেখা—
“মেহরিন ও মাহা — শেষ রাত”
মেহরিন কাঁপতে লাগল।
— “মাহা কে…?”
ঠিক তখনই পিছন থেকে ঠান্ডা একটা হাত এসে তার কাঁধে পড়ল।
আর কানে ফিসফিস করে একটা কণ্ঠ বলল—
“আমি মাহা…”
চলবে…

পার্ট – ২ : পুরনো লাইব্রেরির দরজারাত ঠিক বারোটায় মেহরিন বাড়ি থেকে বের হলো।চারপাশ অস্বাভাবিক নীরব। দূরের কুকুরের ডাক আর...
18/05/2026

পার্ট – ২ : পুরনো লাইব্রেরির দরজা
রাত ঠিক বারোটায় মেহরিন বাড়ি থেকে বের হলো।
চারপাশ অস্বাভাবিক নীরব। দূরের কুকুরের ডাক আর মাঝেমধ্যে হাওয়ার শব্দ ছাড়া পুরো শহর যেন ঘুমিয়ে আছে। আকাশে সত্যিই নীলচে একটা চাঁদ উঠেছে। এমন চাঁদ সে আগে কখনো দেখেনি।
মেহরিন ওড়নাটা শক্ত করে জড়িয়ে হাঁটছিল।
তার বুকের ভেতর বারবার একটা প্রশ্ন ঘুরছে—
“মা কী লুকিয়ে গিয়েছিলেন?”
পুরনো লাইব্রেরিটা সামনে দেখা যেতেই তার পা থেমে গেল।
ভাঙা গেট। দেয়ালে শ্যাওলা। জানালাগুলো অন্ধকার। মনে হচ্ছে বহু বছর কেউ এখানে আসেনি।
কিন্তু…না
আজ দরজাটা আধখোলা।
মেহরিন ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকল।
সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডা বাতাস তার গায়ে লাগল। যেন পুরো ঘরটা বরফের মতো শীতল। পুরনো বইয়ের গন্ধে ভরে আছে চারপাশ।
হঠাৎ—
ধাপ!
উপরে কোথাও যেন কিছু পড়ে গেল।
মেহরিন চমকে উঠল।
— “কে… কে ওখানে?”
কোনো উত্তর নেই।
সে মোবাইলের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে সামনে এগোল। তাকের পর তাক পুরনো বই। ধুলো জমে আছে। অনেক বইয়ের পাতা ছিঁড়ে গেছে।
হঠাৎ তার আলো একটা ছবির ওপর পড়ল।
দেয়ালে ঝুলছে সাদা-কালো একটা ছবি।
ছবিতে কয়েকজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। মাঝখানে একটা ছোট মেয়ে…
মেহরিনের নিঃশ্বাস আটকে গেল।
কারণ ছোট মেয়েটা দেখতে হুবহু তার মতো।
একই চোখ।
একই মুখ।
একই চুল।
কাঁপা হাতে সে ছবিটার নিচে লেখা নাম পড়ল—
“চাঁদের পাঠাগার — ২০০১”
তার নিচে ছোট করে লেখা—
“মেহরিন আক্তার”
মেহরিন পিছিয়ে গেল।
— “অসম্ভব…!”
কারণ ২০০১ সালে তার জন্মই হয়নি।
ঠিক তখনই লাইব্রেরির উপরের তলা থেকে কারও হাঁটার শব্দ ভেসে এল।
ধীরে…
ধীরে…
ধাপে ধাপে কেউ নিচে নামছে।
মেহরিনের গলা শুকিয়ে গেল।
সে ফ্ল্যাশটা উপরের সিঁড়ির দিকে ধরল।
অন্ধকারের ভেতর থেকে একটা ছায়া বেরিয়ে এল।
কালো শার্ট।
এলোমেলো চুল।
স্টেশনের সেই ছেলেটা।
ছেলেটা নিচে নেমে এসে থামল।
তার চোখে আজ অদ্ভুত বিষণ্নতা।
— “তুমি এসেছো…”
মেহরিন কাঁপা গলায় বলল—
— “এই ছবিতে আমার নাম কেন?”
ছেলেটা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর ধীরে বলল—
— “কারণ এই শহরে তুমি আগেও এসেছিলে।”
— “কি?!”
— “বারো বছর আগে… তুমি হঠাৎ একদিন নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলে।”
মেহরিনের মাথা ঘুরে উঠল।
— “আপনি কি আজেবাজে বলছেন?! আমি কখনো হারাইনি!”
ছেলেটা এবার তার হাতে একটা পুরনো ডায়েরি দিল।
ডায়েরির মলাটে ধুলো জমে গেছে।
মেহরিন ধীরে খুলল সেটা।
প্রথম পাতায় বড় করে লেখা—
“যদি আমি আবার সব ভুলে যাই… তাহলে এই ডায়েরিটা আমাকে সত্যিটা মনে করিয়ে দেবে।”
নিচে স্বাক্ষর—
মেহরিন।
তার হাত কাঁপতে লাগল।
কারণ… লেখাটা তার নিজের হাতের লেখার মতো।
চলবে…

পার্ট – ১ : হারিয়ে যাওয়া চিঠিবিকেলের আকাশটা সেদিন অদ্ভুত রকমের নীল ছিল। যেন কেউ যত্ন করে আকাশে পানি মেশানো রঙ ছিটিয়ে ...
17/05/2026

পার্ট – ১ : হারিয়ে যাওয়া চিঠি
বিকেলের আকাশটা সেদিন অদ্ভুত রকমের নীল ছিল। যেন কেউ যত্ন করে আকাশে পানি মেশানো রঙ ছিটিয়ে দিয়েছে। ছোট্ট শহরটার মানুষজন তখন নিজেদের মতো ব্যস্ত—কেউ বাজারে, কেউ দোকানে, কেউবা রিকশায় চেপে বাড়ি ফিরছে।
শুধু মেহরিন দাঁড়িয়ে ছিল পুরনো রেলস্টেশনের পাশে।
তার হাতে একটা সাদা খাম। খামের ওপর কালো কালি দিয়ে লেখা—
“যদি কখনো আমাকে খুঁজতে ইচ্ছে করে, তবে নীলচে চাঁদ ওঠা রাতে পুরনো লাইব্রেরিতে এসো।”
চিঠিটার নিচে কোনো নাম নেই।
মেহরিন গত তিনদিন ধরে একই চিঠি বারবার পড়ছে। অথচ সে জানেই না কে পাঠিয়েছে। প্রথম দিন ভেবেছিল মজা করছে কেউ। দ্বিতীয় দিন একটু ভয় পেয়েছিল। আর তৃতীয় দিনে এসে তার বুকের ভেতর অদ্ভুত এক কৌতূহল জন্ম নিল।
পুরনো লাইব্রেরিটা শহরের একদম শেষ মাথায়। অনেক বছর আগে বন্ধ হয়ে গেছে। লোকজন বলে সেখানে রাতে অদ্ভুত শব্দ শোনা যায়।
মেহরিন এসব বিশ্বাস করে না।
তবুও আজ তার হাত কাঁপছে।
হঠাৎ পিছন থেকে একটা কণ্ঠ ভেসে এল—
— “তুমি কি সত্যিই যাবে?”
মেহরিন চমকে পিছনে তাকাল।
একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। কালো শার্ট, এলোমেলো চুল, চোখদুটো গভীর অন্ধকারের মতো। ছেলেটাকে সে আগে কখনো দেখেনি।
— “আপনি কে?”
ছেলেটা একটু হাসল।
— “যে তোমাকে ওই চিঠিটা পাঠায়নি।”
মেহরিন ভ্রু কুঁচকে তাকাল।
— “মানে?”
— “মানে, চিঠিটা যে পাঠিয়েছে… সে এখন আর বেঁচে নেই।”
চারপাশের বাতাস হঠাৎ ঠান্ডা হয়ে গেল।
দূরে ট্রেনের হুইসেল শোনা গেল। অথচ এই লাইনে বহু বছর ধরে কোনো ট্রেন চলে না।
মেহরিন ধীরে ধীরে পিছিয়ে গেল।
— “আপনি কি পাগল?”
ছেলেটা এবার সরাসরি তার চোখের দিকে তাকাল।
— “আজ রাতে যদি লাইব্রেরিতে যাও… তাহলে হয়তো তোমার জীবনের সবচেয়ে বড় সত্যিটা জানতে পারবে।”
এই বলে ছেলেটা হাঁটা শুরু করল।
মেহরিন ডাক দিল—
— “এই শুনুন!”
কিন্তু ছেলেটা আর পিছনে তাকাল না।
কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই কুয়াশার ভেতর মিলিয়ে গেল সে।
মেহরিনের বুক ধুকপুক করছে।
তার হাতে ধরা চিঠিটার কোণ হঠাৎ বাতাসে উল্টে গেল।
পেছনে ছোট করে আরেকটা লাইন লেখা—
“মেহরিন… তোমার মা মারা যাওয়ার আগে একটা সত্য লুকিয়ে গিয়েছিলেন।”
মেহরিনের চোখ বড় হয়ে গেল।
কারণ তার মা মারা গেছেন ঠিক দশ বছর আগে।
আর এই কথাটা শহরের খুব কম মানুষ জানে…।
চলবে…??

17/05/2026

“একটা মেয়ের নীরব যুদ্ধ” | Part-02 |
“এই গল্পটা শুধু একটা গল্প না…
অনেক মেয়ের না বলা বাস্তবতা। 💔”

Part 8 — “চিঠির শেষ লাইন”হাসপাতালের করিডোরে তখন ভোরের আলো।নীরা এখনো ছবিটার দিকে তাকিয়ে আছে।“একদিন কেউ ওকে খুব ভালোবাসবে...
14/05/2026

Part 8 — “চিঠির শেষ লাইন”
হাসপাতালের করিডোরে তখন ভোরের আলো।
নীরা এখনো ছবিটার দিকে তাকিয়ে আছে।
“একদিন কেউ ওকে খুব ভালোবাসবে।”
লাইনটা বারবার তার মাথায় ঘুরছে।
আরিয়ানের মা ধীরে বললেন—
“মেহরিন তোমাকে কখনো দেখেনি… তবুও তোমার মতো একটা মেয়ের কথাই সবসময় বলত।”
নীরা অবাক হয়ে তাকাল।
“মানে?”
তিনি মৃদু হেসে বললেন—
“ও বলত, পৃথিবীতে অনেক কালো মেয়ে আছে যারা প্রতিদিন একটু একটু করে ভেঙে যায়… শুধু কেউ তাদের সুন্দর বলে না।”
নীরার চোখ আবার ভিজে উঠল।
ঠিক তখনই নার্স এসে বলল—
“Patient party?”
আরিয়ান দ্রুত এগিয়ে গেল।
“জি?”
“উনার জ্ঞান ফিরেছে। একজন দেখা করতে পারবেন।”
সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।
আরিয়ানের বাবা তাড়াতাড়ি ভেতরে ঢুকে গেলেন।
কিছুক্ষণ পর ভেতর থেকে উচ্চস্বরে কান্নার শব্দ ভেসে এলো।
নীরা ভয় পেয়ে দাঁড়িয়ে গেল।
আরিয়ান দৌড়ে ভেতরে ঢুকতেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সে থমকে গেল।
বিছানায় শুয়ে থাকা তার মা কাঁপা হাতে একটা কাগজ ধরে আছেন।
আর বারবার বলছেন—
“এটা… নীরাকে দাও…”
আরিয়ান ধীরে কাগজটা নিল।
পুরনো… ভাঁজ করা একটা চিঠি।
উপরে লেখা—
“যে মেয়েটা নিজেকে ঘৃণা করে…”
নীরার বুক কেঁপে উঠল।
আরিয়ান আস্তে করে চিঠিটা তার হাতে দিল।
কাঁপা হাতে নীরা খুলল।
চিঠিটা মেহরিনের লেখা।
“প্রিয় অচেনা মেয়ে,
যদি কোনোদিন তুমি এই চিঠি পড়ো, তাহলে হয়তো তুমিও আমার মতো নিজের রঙ নিয়ে কষ্ট পাও।
মানুষ তোমাকে কালো বলবে। অপমান করবে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তুমি নিজেকেই প্রশ্ন করবে— ‘আমি কি সত্যিই সুন্দর না?’
কিন্তু বিশ্বাস করো… সমস্যা তোমার রঙে না। সমস্যা মানুষের চোখে।
একদিন কেউ তোমার চোখের ভিতরের মানুষটাকে ভালোবাসবে।
আর সেদিন তুমি বুঝবে—
কালো মানে অন্ধকার না।
কালো মানে গভীরতা।”
চিঠির নিচের অংশটা পানিতে ভিজে ঝাপসা হয়ে গেছে।
শুধু শেষ লাইনটা স্পষ্ট—
“আমি বাঁচতে পারিনি…
তুমি বেঁচে থেকো।” 🖤
নীরার হাত কাঁপছিল।
তার চোখ থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে চিঠির উপর।
ঠিক তখনই হঠাৎ হাসপাতালের বাইরে হৈচৈ শুরু হলো।
একজন নার্স দৌড়ে এসে চিৎকার করে বলল—
“এক্সিডেন্ট কেস! তাড়াতাড়ি স্ট্রেচার আনুন!”
সবাই চমকে তাকাল।
আর পরের মুহূর্তেই নীরা দেখল—
স্ট্রেচারে রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছে…
তার নিজের বাবা।

Address

Mirpur
Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ধূলো জমা ডায়েরি posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share