Entertainment BD

Entertainment BD Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Entertainment BD, Arts and entertainment, Dhaka.
(3)

আমার পেইজে আপনাদের সকলকে স্বাগতম। যারা সুন্দর নতুন রোমান্টিক হট থ্রিলার গল্প পছন্দ করেন।তারা সবাই অনুগ্রহ করে পেইজটি ফলো করে সাথে থাকুন। অসংখ‍্য ধন‍্যবাদ আপনাদেরকে যারা ফলো করে সাথে আছেন । সবার জন‍্য দোয়া ও শুভকামনা রইলো। সবাই ভালো থাকবেন সবসময় ।

♥️♥️ #“ডাক্তার_ও_নার্স”♥️♥️ পর্ব — ৩তাবাসসুম।একজন অবিবাহিত নার্স।শান্ত, দায়িত্বশীল, খুব বেশি কথা না বলা একজন মানুষ।কিন্ত...
01/06/2026

♥️♥️ #“ডাক্তার_ও_নার্স”♥️♥️ পর্ব — ৩
তাবাসসুম।

একজন অবিবাহিত নার্স।

শান্ত, দায়িত্বশীল, খুব বেশি কথা না বলা একজন মানুষ।

কিন্তু তার উপস্থিতি কেন যেন শরিফুলের মনে আলাদা প্রভাব ফেলে।

একদিন রাতে ডিউটির শেষে কেবিনে বসে তিনি নিজের সাথে কথা বলতে শুরু করলেন।

“আমি কি ভুল কিছু ভাবছি?”

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই।

কারণ এটি কোনো রোগ বা ফাইলের সমস্যা নয়।

এটি এক ধরনের মানসিক টানাপোড়েন।

পরের দিন হাসপাতালে তাবাসসুম যথারীতি কাজ করছিল।

তার মুখে কোনো পরিবর্তন নেই।

সবকিছু আগের মতোই পেশাদার।

কিন্তু শরিফুল যখন তাকে দেখলেন, তিনি চোখ নামিয়ে নিলেন।

কারণ নিজের ভেতরের অস্থিরতা তিনি প্রকাশ করতে চান না।

তাবাসসুম সেটা বুঝতে পারল না, এমন নয়।

সে লক্ষ্য করছিল, শরিফুল আগের মতো স্বাভাবিক নেই।

কিন্তু সে কিছু জিজ্ঞেস করল না।

কারণ সে জানে—সব প্রশ্নের উত্তর জোর করে পাওয়া যায় না।

কখনো কখনো সময় নিজেই উত্তর তৈরি করে।
দিনগুলো কেটে যাচ্ছে।

কিন্তু একটা পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

ডঃ শরিফুল এখন আগের মতো তাবাসসুমের সাথে খোলামেলা কথা বলেন না।

কাজের বাইরে কোনো কথা প্রায় হয় না।

শুধু প্রয়োজনীয় নির্দেশ, জরুরি তথ্য—এটাই সীমাবদ্ধ।

হাসপাতালের অন্য স্টাফরাও এটা লক্ষ্য করতে শুরু করেছে।

একদিন ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডে ব্যস্ততা চলছিল।

তাবাসসুম দ্রুত কাজ করছে।

হঠাৎ একজন নার্স ফিসফিস করে বলল—

“স্যার আর আপুর মধ্যে কি কিছু হয়েছে নাকি?”

তাবাসসুম শুনল, কিন্তু কিছু বলল না।

শুধু কাজ চালিয়ে গেল।

কিছুক্ষণ পর শরিফুল পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন।

তাবাসসুম হালকা করে ডাকল—

“স্যার।”

তিনি থামলেন।

“রোগীর রিপোর্টটা চেক করবেন?”

“ঠিক আছে।”

এটাই ছিল তাদের পুরো কথোপকথন।

কিন্তু দুজনের চোখে কিছু না বলা কথা ছিল।

রাতের শেষে শরিফুল বাসায় ফিরলেন।

কিন্তু শান্তি পেলেন না।

কারণ তিনি জানেন, দূরত্ব তৈরি করা সহজ।

কিন্তু ভেতরের অনুভূতি বন্ধ করা কঠিন।
এক গভীর রাতে হাসপাতাল প্রায় ফাঁকা।

বাইরে হালকা বৃষ্টি।

ভেতরে করিডোরে নীরবতা।

ডঃ শরিফুল তাবাসসুমকে ডাকলেন কেবিনে।

এই ডাকটা সাধারণ ছিল না।

তাবাসসুম ঢুকে দাঁড়াল।

“স্যার, কিছু বলবেন?”

শরিফুল কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।

তার চোখ টেবিলের ফাইলে, আবার জানালার বাইরে।

তারপর বললেন—

“আমি কিছুদিন ধরে একটা মানসিক চাপের মধ্যে আছি।”

তাবাসসুম চুপ।

সে বুঝতে পারছিল, এটা শুধু কাজের কথা না।

“কিছু অনুভূতি… মানুষকে বিভ্রান্ত করে,” শরিফুল ধীরে বললেন।

ঘরে নীরবতা নেমে এলো।

তাবাসসুম এবার আস্তে করে বলল—

“স্যার, জীবন সবসময় সহজ হয় না।”

“কিন্তু আমরা কীভাবে সামলাই, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।”

শরিফুল মাথা নিচু করলেন।

এই কথাগুলো তাকে আরও ভাবিয়ে তুলল।

কারণ তিনি জানেন—তিনি দোটানার মধ্যে আছেন।

একদিকে দায়িত্ব, পরিবার।

অন্যদিকে এক অজানা মানসিক টান।

কিন্তু তিনি কাউকে আঘাত দিতে চান না।

তাবাসসুমও নীরবে দাঁড়িয়ে রইল।

তারও মনে প্রশ্ন আছে।

কিন্তু সে সেটাকে শব্দ দেয় না।

কারণ কিছু অনুভূতি নীরব থাকলেই নিরাপদ।
পরের কয়েকদিন শরিফুল ইচ্ছা করেই দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করলেন।

তিনি আগের মতো তাবাসসুমের সাথে বেশি কথা বলেন না।

শুধু কাজ।

শুধু দায়িত্ব।

তাবাসসুম সেটা স্পষ্ট বুঝতে পারছিল।

কিন্তু সে কোনো অভিযোগ করল না।

একদিন হাসপাতালের ছাদে দেখা হলো।

আকাশ পরিষ্কার, বাতাস হালকা।

তাবাসসুম বলল—

“স্যার, আপনি কি আমাকে এড়িয়ে যাচ্ছেন?”

প্রশ্নটা সরাসরি।

শরিফুল থেমে গেলেন।

দীর্ঘ নীরবতা।

তারপর বললেন—

“আমি চেষ্টা করছি সবকিছু ঠিক রাখতে।”

“কিন্তু সব ঠিক রাখা সবসময় সম্ভব না।”

তাবাসসুম একটু চুপ থেকে বলল—

“তাহলে সত্যিটা কী?”

এই প্রশ্নের কোনো সহজ উত্তর নেই।

শরিফুল আকাশের দিকে তাকালেন।

তিনি বুঝলেন—
কিছু সিদ্ধান্ত কেবল যুক্তি দিয়ে হয় না।

কিছু সিদ্ধান্ত জীবনের ভারসাম্য ভেঙে দেয়।

তবুও মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতেই হয়।
সময় ধীরে ধীরে এগোতে লাগল।

কিন্তু শরিফুল আর আগের মতো থাকতে পারলেন না।

তিনি দীর্ঘ সময় ভাবলেন।

নিজের জীবন, দায়িত্ব, সম্পর্ক—সবকিছু নিয়ে।

শেষ পর্যন্ত তিনি একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেন।

তার বিবাহিত জীবনের অধ্যায় শেষ করার পথে এগোলেন।

এটা সহজ ছিল না।

অনেক কথা, অনেক ব্যথা, অনেক নীরবতা ছিল।

কিন্তু তিনি মনে করলেন—
সবাইকে একসাথে ধরে রাখার চেষ্টা করলে কেউই সুখী থাকে না।

কিছু মাস পরে হাসপাতালের পরিবেশ আবার আগের মতো হলেও কিছুটা আলাদা।

তাবাসসুম তার কাজে ব্যস্ত।

হঠাৎ একদিন শরিফুল তার সামনে এসে দাঁড়ালেন।

“সব কিছু পরিষ্কার করেছি,” তিনি শান্তভাবে বললেন।

তাবাসসুম চুপ করে রইল।

“আমি নতুনভাবে শুরু করতে চাই,” তিনি যোগ করলেন।

দীর্ঘ নীরবতা।

তারপর তাবাসসুম হালকা মাথা নাড়ল।

এই সিদ্ধান্তটা কোনো নাটক ছিল না।

না কোনো হঠাৎ আবেগ।

এটা ছিল সময়, পরিস্থিতি আর বাস্তবতার তৈরি একটি পরিণতি।

হাসপাতালের সেই একই করিডোরে এবার নতুন একটা অধ্যায় শুরু হলো।

যেখানে অতীত আছে, কিন্তু সেটা আর শৃঙ্খল নয়।

আর সামনে আছে নতুন সম্ভাবনা।

cted
#রোমান্টিক_প্রেম #আবেগঘন_গল্প #ডাক্তার #নার্স

 #ডুবে_ডুবে_ভালোবাসি #পর্বঃ২৬পুরো বাড়িতে মেহমান গিজগিজ করছে।শোয়ার জায়গা নেই।সব রুম ভরা।ইরিনকে খুঁজে পাচ্ছে না তখন থেকে।ক...
01/06/2026

#ডুবে_ডুবে_ভালোবাসি
#পর্বঃ২৬

পুরো বাড়িতে মেহমান গিজগিজ করছে।শোয়ার জায়গা নেই।সব রুম ভরা।ইরিনকে খুঁজে পাচ্ছে না তখন থেকে।কোথায় যে আছে!কিন্তু এখন ঘুমাবে কোথায়?ইরিনের রুমেও জায়গা নেই।গেস্টরুমও খালি নেই।মধু ইরিনকে খুঁজতে খুঁজতে দুইতলায় এলো।হঠাৎ কিছু বুঝে ওঠার আগেই হ্যাঁচকা টান মারে হাতে।

ইয়াদ নিজের ঘরের দরজাটা বন্ধ মধুর কাছে এসে দাড়ালো।তারপর দুষ্টহাসি দিয়ে বলল,'কি যেনো বলছিলে,খেয়ে দেখতে হবে তাই না?এবার তো কেউ নেই।খেয়ে দেখতে পারো।'

মধু ভীত গলায় বলল,'কি শুরু করেছেন আপনি?কেউ দেখে ফেললে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে।'

ইয়াদ আশে পাশে একবার তাকিয়ে বলল,'দরজা, জানালা সব বন্ধ।এইরুমে আমরা ছাড়া কেউ নেই।তাহলে কে দেখবে?'

'আপনার মাথায় আজ ভুত ভর করেছে শিউর।'

ইয়াদ হুট করে মধুর কোমড় জড়িয়ে ধরে নিজের কপালটা ওর কপালে ঠেকিয়ে বলল,'হ্যাঁ,সেই ভুত টা তুমি।তুমি ভর করেছ আমার মাথায়।'

মধু কিছু বলতে যাবে তার আগেই দরজায় কেউ নক করলো।ইয়াদ বিরক্তিতে কপাল কুঁচকে ফেললো।তারপর মধুকে ছেড়ে দিয়ে দরজা খুললো।ততক্ষণে মধু ওয়াশরুমে লুকিয়ে লুকালো।দরজার বাইরে ইরিন দাঁড়িয়ে আছে।ইয়াদ ভ্রু কুঁচকে বলল,'কি হইছে?'

'ভাইয়া মধুকে দেখছো?'

'না তো।আমি তো শুয়ে পড়ছিলাম।'

'ওহ!আজকে তুমি ভাইয়ার রুমে শোও না প্লিজ।নিচে জায়গা নেই।আমি আর মধু তোমার ঘরে শুবো।'

ইয়াদ কিছু একটা ভেবে বলল',আচ্ছা তার আগে মধুকে খুঁজে আন।দরজা লক করে শুবি।আর শোন তুই আর মধু ছাড়া আর কেউ যেনো এ ঘরে না আসে।স্পেশালি কোনো মেয়ে!আসলে তোকে উল্টো ঝুলিয়ে পিটাবো।'

'আচ্ছা।আসবে না।'

এটা বলেই ইরিন সরল মনে মধুকে খুঁজতে গেলো।আর এদিকে ইয়াদ আবার ঘরে এসে ওয়াশরুমের সামনে দাড়িয়ে বলল,'ইরিন চলে গেছে।এখন বের হও।'

মধু বাইরে থেকে ইয়াদের কথা শুনে বেরিয়ে আসলো।
------------------
ইরিন আবার খুজেও মধুকে পেলো না।তাই ইয়াদের রুমের কাছে যেতেই দেখলো মধু ছাদের সিড়ি ধরে নামছে।ওকে দেখে ইরিন বলল,'তুমি ছাদে ছিলে?আর আমি তোমাকে সারা বাড়ি তন্ন তন্ন করে খুঁজেছি।'

মধু নিচে নেমে এসে বলল,'আমিও তো তোমাকে খুঁজতে ছাদে গিয়েছিলাম।'

বলা বাহুল্য মধুর মিথ্যাটা ইরিন ধরতেই পারলো না।একটু আগেই ইয়াদ চলে গেছে।ও যাওয়ার পর মধু খেয়াল রেখেছিলো কখন ইরিন আসে।যেই ইরিনকে উপরে আসতে দেখলো সেই মধু ছাদের সিড়িতে দাড়ালো।তারপর ও ওপরে আসতে আসতে মধু নিজেও নিচে নামতে শুরু করলো।

'ওহ!আচ্ছা চলো।আজকে আমরা ইয়াদ ভাইয়ার রুমে ঘুমাবো।নিচে তো জায়গা নেই সেইজন্য।'

'ওহ!আচ্ছা তাহলে উনি কোথায় ঘুমাবেন?'

ইরিন হেসে বলল,'তোমার উনি ইফাজ ভাইয়ার সাথে ঘুমাবে।'

'ওহ!"
তারপর ইরিন আর মধু ইয়াদের রুমে ঢুকে ইয়াদের কথা মতো দরজা লক করে শুয়ে পড়লো।
------------------
ইয়াদ ঘুমিয়ে গেছে।কিন্তু ইফাজের চোখে ঘুম নেই।ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছে একধ্যানে।ইতিমধ্যে চোখ থেকে গড়িয়ে দু'ফোটা পানিও স্ক্রিনের ভেসে থাকা মানুষটার ওপরে পড়েছে।

এতক্ষণ বসে বসে মধুর সবগুলো ছবি ডিলেট করেছে।যে ডাইরিতে ওকে নিয়ে লিখতো সেটাও পুড়িয়ে ফেলেছে।শুধু এই ছবিটাই আছে ওর ফোনে।এই ছবিটা যেদিন তুলেছিলো সেদিন ইফাজ রাস্তা দিয়ে আসছিলো আর মধু ছাদে চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে ছিলো।ওর চুলগুলো মাতাল হাওয়ায় উড়ছিলো।দূর থেকে দেখে ইফাজ দ্রুত পিকটা তুলেছিলো।প্রতিদিন রাতে শুতে যাওয়ার আগে ওর ছবি দেখা আর না বলা কথাগুলো ডায়েরীর পাতায় লিখা যেনো ইফাজের অভ্যাস হয়ে গিয়েছিলো।কিন্তু ইয়াদের সাথে রিলেশন এটা জানার পর থেকে নতুন করে ডায়েরিতে আর কিছুই লিখতে পারে নি ইফাজ।পারবেই বা কিভাবে!লিখতে গেলেই হৃদয় ফেটে যাওয়ার উপক্রম হয়।তবে আজ সবকিছুর অবসান করতেই মধুর সাথে সম্পৃক্ত সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছে ইফাজ।

কাপাকাপা হাতে মধুর শেষ ছবিটাও ডিলেট করে দিলো।কিন্তু যেখান থেকে ডিলেট করা জরুরী সেখান থেকেই পারবে না।হায় আফসোস!
এখন মধুকে নিয়ে ভাবাও উচিত না কিন্তু মনের ওপর কি কারো জোর চলে!
----------------
মধু বুঝতে পারছে না কোন শাড়িটা পড়বে!সবগুলোই সুন্দর!ইয়াদের মা এগুলো দিয়ে গেছে।এখান থেকে যেটা পছন্দ সেটা পরার জন্য।কিন্তু মধুরতো সবগুলোই তো পছন্দ!সব'তো আর একসাথে পরা যাবে না।এই সময়ে ইরিন ওয়াশরুম থেকে বের হলো চুল মুছতে মুছতে।মধুকে ভাবুক চেহারায় শাড়ির দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে বলল,'এখনো শাড়ি পছন্দ করতে পারলে না?'

মধু অসহায় মুখে বলল,'না গো।সবগুলোই পরতে ইচ্ছে করছে আমার।'

মধুর কথা শুনে ইরিন হাসতে হাসতে খাটে বসে পড়লো।তারপর বলল,'দাড়াও ইয়াদ ভাইয়াকে বলি তোমাকে শাড়ি সিলেক্ট করে দিতে।'

ইরিনের কথা শেষ হতে না হতেই ইয়াদ ওদের ঘরে উঁকি দিয়ে বলল,'কি কথা হচ্ছে আমাকে নিয়ে?'

'আরে ভাইয়া,মধু একটাও শাড়ি পছন্দ করতে পারছে না।তুমি একটা পছন্দ করে দাও।'

ইয়াদ একটা শাড়ির ব্যাগ নিয়ে মধুর হাতে দিয়ে বলল,'ওইগুলা পড়া লাগবে না তুমি এটা পড়ো।'

আরেকটা ব্যাগ ইরিনের হাতে দিয়ে বলল,'এটা তোর জন্য।'

ইরিন বলল,'বাহ!ভাইয়া তুমি আমাকে শাড়ি গিফট করছো!'

'আমার'তো টাকা গাছে ধরে যে আমি শাড়ি গিফট করবো।এই দুইটাই ইফাজ ভাই দিছে তোদের।'

'ওহ!আচ্ছা।'
তারপর ইয়াদ চলে যেতেই মধু আর ইরিন শাড়ির ব্যাগ খুললো।এই শাড়ি দুইটা আগের গুলোর থেকে আরো বেশি সুন্দর।মধুরটা জাম কালারের আর ইরিনেরটা কালো।দুজনেই শাড়ী পড়ে তৈরি হলো।

বরযাত্রীদের মধ্যে প্রথম গাড়িতে ইফাজ,ওর দুই বন্ধু,আর ইয়াদ গেছে।দ্বিতীয়টায় মধু, ইয়াদের মা,ইরিন,ইয়াদের চাচি,মামি,ফুপুরা।এরপরের গাড়িতে ইয়াদের বাবা,খালু,মামা,চাচারা আর শেষের মাইক্রোতে ইয়াদের কাজিনরা।মোট তিনটা মাইক্রো আর একটা ফিয়াট গেলো নিহাদের বাড়ির উদ্দেশ্যে।
------------------
বিয়ে পড়ানো শেষ।নিহা ইফাজের সাথে সেলফি নিচ্ছে।কিন্তু ইফাজের সেদিকে মন নেই।ও তো মধুকে দেখছে।এই শাড়িতে ভালোই মানিয়েছে মধুকে।এই শাড়িটা ইফাজ কিনেছিলো মধুকে যেদিন ভালোবাসি বলবে সেদিন দিবে।নিজের হাতে আর দেওয়ায় হলো না,বলা ও হলো না ভালোবাসি।কালকে রাতে এই শাড়িটাও ফেলে দিতে চেয়েছিলো ইফাজ কিন্তু পরে ভাবলো থাক না নিজের দেওয়া কিছু একটা ওর কাছে।এইজন্যই আর শাড়িটা পোড়ায় নি ইফাজ।হঠাৎ ইফাজের ধ্যান ভঙ্গ করে নিহা বলল,'মধুকে দেখছো?'

ইফাজ নিহা কথায় হকচকিয়ে গেলেও নিজেকে সামলে বলল,'না'
নিহা বুঝতে পারলেও প্রসঙ্গ পাল্টিয়ে বলল,'হসপিটাল থেকে কয়দিনের ছুটি নিয়েছো?'

'এক সপ্তাহের।এতোদিন নিতে চাই নি।আম্মুর জোরাজোরিতে নিতে হলো।'

নিহা কিছু বলার আগেই ইফাজকে ঘিরে ধরলো নিহার কাজিন'রা।এরপরই ওদের মজা নেওয়া শুরু।
------------------
মধু ওয়াশরুম খুঁজে পাচ্ছে না।কিন্তু এখন ওয়াশরুমে যাওয়া জরুরি।এদিকে ইরিন বা ইয়াদের মা কাউকেই পাচ্ছে না।ইয়াদ ও গুম হয়ে আছে।অগত্যা ছেলেকে এদিকে আসতে দেখে বলল,'এক্সকিউজ মি।'

'জ্বি বলুন।'

'ওয়াশরুমটা কোথায় একটু বলতে পারবেন?'

'সোজা গিয়ে ডানে।'

'আচ্ছা ধন্যবাদ।'
মধু ওয়াশরুমে গিয়ে দেখলো ইরিনও এখানে মুখ ধুচ্ছে।তারপর দু'জনেই প্রসঙ্গ ছাড়া কথা বলতে বলতে ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে এলো।একটু যেতে না যেতেই ইরিনের কাজিন এসে ওকে কি যেনো বলতে নিয়ে গেলো।এখন মধু কি এখানে একলা দাঁড়িয়ে থাকবে!তাই ও সামনে হাটা শুরু করলো।
--------------
খোঁজাখুজি করার পরও ইয়াদকে পেলো না।কোথায় যে গেলো!মধু এক কোণায় মুড অফ করে চুপটি করে দাঁড়িয়ে রইলো।হঠাৎ কেউ ওর পাশে এসে দাড়াতেই মধু পাশ ফিরে চাইলো।এটাতো ওই ছেলেটা যে ওকে একটু আগে ওয়াশরুমের খোঁজ দিয়েছিলো।ছেলেটা সামনের দিকে তাকিয়েই বলল,'আপনি ছেলের কি হন?'

'কাজিন'।আবারো সংক্ষিপ্ত উত্তর দিলো মধু।ইয়াদের মা বলেছিলো কেউ কিছু জিগ্যেস করলে কাজিন বলতে।তবে মনেমনে মধু বিরক্ত বোধ করছিলো ছেলেটা উপস্থিতিতে।এসেই পিতলা আলাপ শুরু করেছে।মনে হচ্ছে না এ থামবে।ছেলেটা আবারও বলল,'ওহ!আপনার জানতে পারি?'

'মধু।'

'বাহ,অনেক সুন্দর নাম।'

'ধন্যবাদ।'
ছেলেটা বুঝতে পারছে মধু যে বিরক্ত বোধ করছে তবুও বেহায়ার মতো দাঁড়িয়ে আছে।কথা বাড়ানোর জন্য আবার বলল,'আমার নাম অন্তর।'

মধু মনে মনে দাঁত খিঁচিয়ে বলল,'তোর নাম অন্তর নাকি বন্দর আমি জানতে চাইছি।বেশরম পোলা।'কিন্তু মুখে বলল,'ও।'

ইয়াদের ওপর প্রচুর রাগ হচ্ছে মধুর।না জানি কোথায় গিয়ে আড্ডা দিচ্ছে।আর এদিকে আরেকজন এসে ফ্লাট করছে।
কিন্তু মধু জানেই না ইয়াদ বিয়ে বাড়িতে নেই।ইয়াদ আর রাসেল বিয়ে বাড়িতেই নেই।ওদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাসর সাজানোর জন্য।তাই ওরা খেয়েই বেরিয়ে পড়েছে।আশেপাশে মধুকে খুঁজে পায় নি তাই জানাতেও পারে নি।তবে ইরিনকে বলে গিয়েছিলো যেনো মধুকে বলে।কিন্তু ইরিন ভুলে গেছে মধুকে বলতে।

ছেলেটা আরো কিছু বলার আগেই ইরিন এসে বলল,'মধু চলো তোমাকে মা ডাকছে।'

মধু যেনো এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিলো।ইরিনের সাথে অন্যদিকে চলে গেলো।
-----------
বাড়িতে আসার পর থেকে মধু শুধু দূরে দূরে থাকছে।হাসছে না,কথাও বলছে না।শুধু এড়িয়ে যাচ্ছে।হঠাৎ কি হলো ইয়াদের মাথায় ঢুকছে না।

চলবে...

BD

(ভুলত্রুটি ক্ষমা করবেন।

#আবেগঘন_গল্প
#রোমান্টিক_প্রেম




ভাবির বোন মাইশা সবার সামনে একি করল,, গল্প_ভাবির বোনের সাথে প্রেমপর্ব "০৭গল্পের মূল পর্বে যাওয়ার আগে আমার প্রিয় পাঠকদের উ...
31/05/2026

ভাবির বোন মাইশা সবার সামনে একি করল,,

গল্প_ভাবির বোনের সাথে প্রেম
পর্ব "০৭

গল্পের মূল পর্বে যাওয়ার আগে আমার প্রিয় পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু জরুরি কথা বলতে চাই। দেখুন বন্ধুরা, আপনারা অনেকেই প্রায়শই ইনবক্সে আর কমেন্ট বক্সে রাগ করে বলেন, "অভি ভাই, এই গল্পটা এত দেরি করে কেন আসে? আপনি কি আমাদের ভালোবাসেন না?"

​আসল কারণটা আজ আপনাদের খোলাসা করেই বলি। কারণটা হচ্ছে—আপনারা গল্প পড়েন ঠিকই, কিন্তু লাইক, কমেন্ট কিংবা পোস্টগুলো শেয়ার করেন না। আপনারা শুধু গল্পটা পড়ে চলে যান, যার কারণে পেজের রিচ দিন দিন কমে যাচ্ছে। আর যখন দেখি এত কষ্টের একটা লেখার পর কমেন্ট বক্সে আপনাদের কোনো সাড়া নেই, তখন সত্যি বলতে গল্প লেখার মনটাই উঠে যায়।

একজন লেখকের আসল অনুপ্রেরণা কিন্তু পাঠকদের ভালোবাসা। তো বুঝতেই পারছেন, সবকিছুই এখন আপনাদের হাতে। আপনারা যদি মন খুলে লাইক, কমেন্ট আর শেয়ার করে পাশে থাকেন, তবে প্রতিদিন গল্প আসবে নয় তো এভাবেই ৩'৪দিন পর পর গল্প আসবে।
এবার চলুন ফিরে যাওয়া যাক অভির জীবনের সেই অন্ধকার ও অপরাধবোধের অধ্যায়ে।

মায়ের মুখে মাইশার বিষ খাওয়ার কথা শুনে আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছিল। আমরা আর এক মুহূর্তও দেরি না করে পুরো পরিবার মিলে তক্ষুনি শহরের মেডিকেল হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।

হাসপাতালের করিডোরে পা রাখতেই এক অদ্ভুত আর ভয়ার্ত নীরবতা আমাদের গ্রাস করল। কেবিনের ভেতরে ঢুকতেই দেখতে পেলাম, মাইশা সাদা বিছানায় নিথর হয়ে শুয়ে আছে। ওর ফর্সা মুখটা একদম ফ্যাকাশে, ঠোঁট দুটো শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে।

​পরিবারের সবাই যার যার মতো মাইশার বিছানার পাশে গিয়ে বসছিল, ওকে সান্ত্বনা দিচ্ছিল। ওর মা-বাবা কেঁদে কেঁদে বারবার একটা প্রশ্নই জিজ্ঞেস করছিলেন, "মা রে, তুই কেন নিজের জীবনের ওপর এমন চরম সিদ্ধান্ত নিতে গেলি? কীসের এত অভাব ছিল তোর?" কিন্তু মাইশা কারো কোনো প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিল না।

ও পুরো কেবিনের সবাইকে উপেক্ষা করে এক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। ওর সেই চাহনিতে কোনো রাগ ছিল না, ছিল এক অদ্ভুত শূন্যতা আর এক বুক অভিমান। ওর ওই অপরূপ কিন্তু ভেজা চোখের দিকে তাকিয়ে নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অপরাধী মনে হচ্ছিল। আজ আমার একটা ভুলের জন্য মাইশার এই অবস্থা!

সঠিক সময়ে যদি ওকে হাসপাতালে নিয়ে আসা না হতো, তবে হয়তো আজ ও এই পৃথিবীতেই থাকত না। নিজেকে আর ধরে রাখতে পারছিলাম না, বুকের ভেতরটা ফেটে যাচ্ছিল। আমি আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়িয়ে থাকার সাহস পেলাম না। সবার অলক্ষ্যে চুপটি করে কেবিন থেকে বের হয়ে এলাম।

বাড়ি ফিরে নিজের অন্ধকার ঘরে বসে আমি শুধু ছটফট করছিলাম আর ভাবছিলাম—এ কী করলাম আমি! সব দোষ আমার, একবারে সব দোষ আমার! আমি যদি সেদিন রাতে কবিতার সেই কুপ্রস্তাবের ভিডিও কলটা না ধরতাম, আমি যদি কামনার বশে ওর সাথে ওই জঘন্য কাজটা না করতাম, তবে আজ মাইশাকে এই মৃত্যুর মুখে দাঁড়াতে হতো না।

আমার পবিত্র ভালোবাসাটাকে আমি নিজেই নিজের হাতে জবাই করেছি। যেমন করেই হোক, মাইশা সুস্থ হলে আমাকে ওর মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে, ওর পায়ে ধরে হলেও আমাকে ক্ষমা চাইতে হবে।

​এভাবেই নারকীয় যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে আরও দুটো দিন পার হয়ে গেল। আল্লাহর অশেষ রহমতে মাইশা আস্তে আস্তে সুস্থ হয়ে উঠল এবং ডাক্তাররা ওকে রিলিজ দিলে ওর পরিবার ওকে বাড়িতে নিয়ে গেল। এই দুই দিনের মধ্যে আমি অন্তত একশবার মাইশার ফোনে কল দিয়েছি, মেসেজ করেছি। কিন্তু মাইশা একবারের জন্যও আমার ফোন ধরেনি, কোনো মেসেজের রিপ্লাই দেয়নি। ও যেন আমাকে নিজের জীবন থেকে চিরতরে মুছে ফেলেছে।

​অবশেষে কোনো উপায় না পেয়ে, নিজের ভেতরের ছটফটানি কমাতে আমি সোজা ওদের বাড়িতে গিয়ে হাজির হলাম। ড্রয়িংরুমে আমার ভাবির মা-বাবা অর্থাৎ মাইশার বাবা-মা বসে ছিলেন। হঠাৎ করে আমাকে তাদের বাড়িতে দেখে তারা বেশ অবাক হলেন। মাইশার বাবা বললেন, "কী ব্যাপার অভি? হঠাৎ আমাদের বাড়িতে? কোনো দরকার আছে বাবা?"

​আমি একটু আমতা আমতা করে নিজের নার্ভাসনেস আড়াল করে বললাম, "আসলে আঙ্কেল, মাইশাকে দেখার জন্যই আসলাম। ও তো হাসপাতাল থেকে এসেছে, এখন ওর শরীরটা কেমন আছে?"

​আমার কথা শুনে মাইশার মা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, "এইতো বাবা, শরীরটা এখন আগের চেয়ে একটু ভালো। কিন্তু মনটা যে কী হয়েছে, তা তো বুঝতেই পারছি না।"

​আমি সুযোগ বুঝে তাদের কাছে জানতে চাইলাম, "আঙ্কেল, মাইশা কি আপনাদের কিছু বলেছে? ও কেন হঠাৎ এমন একটা কাজ করতে গেল?"

​ওর বাবা-মা দুজনেই ভীষণ চিন্তিত মুখে বললেন, "না রে বাবা, আমরা অনেকবার ওর কাছে জানতে চেয়েছি। কিন্তু ও মুখে একবারে কুলুপ এঁটে বসে আছে, কিচ্ছু বলছে না।

ওর বাবা তো ওকে এটাও বলেছে—'মা রে, তুই যদি কোনো ছেলেকে পছন্দ করে থাকিস, আর তার জন্য যদি এমনটা করে থাকিস, তবে আমাদের খোলাখুলি বল। আমরা নিজেরা দাঁড়িয়ে থেকে তোর পছন্দের মানুষের হাতে তোকে তুলে দেব। তাও তুই নিজের জীবনটা এভাবে শেষ করিস না।' কিন্তু ও কোনো কথাই বলছে না, শুধু চুপ করে কাঁদছে।"

​আমি তখন ভাবির বাবা-মাকে উদ্দেশ্য করে বললাম, "আঙ্কেল-আন্টি, আপনারা যদি কিছু মনে না করেন, তবে আমি কি মাইশার সাথে একা ঘরে গিয়ে কিছু কথা বলতে পারি? আসলে আমরা তো সমবয়সী আর খুব ভালো বন্ধুও। হয়তো বাবা-মাকে যা বলতে পারছে না, ফ্রেন্ড হিসেবে আমাকে ও সেটা বলে দিতে পারে। আমি একটু চেষ্টা করে দেখব?"

​তারা তখন বললেন, "ঠিক আছে বাবা, তুমি ওর ঘরে যাও। একটু চেষ্টা করে দেখো ও কিছু বলে কি না।"

আমি বুকভরা ভয় আর কাঁপা কাঁপা পায়ে মাইশার ঘরের দিকে এগিয়ে গেলাম। দরজার লকটা ঘুরিয়ে ভেতরে ঢুকে দরজাটা আলতো করে চাপিয়ে দিলাম। ঘরের ভেতর এক অদ্ভুত নীরবতা। মাইশা বিছানায় হেলান দিয়ে বসে চুপচাপ একটা বই পড়ছিল। আমি ঘরে ঢোকার পর ও একবার চোখ তুলে আমার দিকে তাকাল, কিন্তু কোনো কথা বলল না। যেন কোনো এক অপরিচিত মানুষ ওর ঘরে এসে দাঁড়িয়েছে, এমন একটা ভাব করে ও আবার বইয়ের পাতায় মনোযোগ দিল।

​আমি ওর বিছানার পাশে গিয়ে বসলাম। ওর এত কাছাকাছি বসে আমার নিজেরই দম বন্ধ হয়ে আসছিল। আমি খুব নিচু স্বরে বললাম, "মাইশা, এমনটা করা কি তোমার খুব দরকার ছিল? তুমি কি জানো তোমার এই অবস্থার জন্য আমি নিজেকে কতটা দোষী মনে করছি? আমার ভেতরটা ছিঁড়ে যাচ্ছে মাইশা।"

​আমার কথা শুনে মাইশা আস্তে করে বইটা বন্ধ করল। ওর মুখটা তখন বরফের মতো ঠান্ডা। ও আমার দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত শীতল গলায় বলল, "আপনি কেন নিজেকে দোষী মনে করবেন বিয়াই সাহেব? আপনি কি আমাকে বিষ এনে দিয়েছিলেন? নাকি আমাকে মরতে বলেছিলেন? আপনি তো আমাকে এমনটা করতে শিখিয়ে দেননি। আমার নিজের যেটা ইচ্ছে হয়েছে, আমি সেটাই করেছি। এর মধ্যে আপনাকে জড়ানোর কোনো প্রয়োজন নেই।"

​ওর এই "বিয়াই সাহেব" সম্বোধনটা আমার বুকে তীরের মতো বিঁধল। আমি ব্যথিত গলায় বললাম, "মাইশা, তুমি কি আমার ওপর খুব বেশি রাগ করেছ? প্লিজ আমাকে একটা শেষ সুযোগ দাও।"

​মাইশা এক জোড়া নির্লিপ্ত চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, "রাগ? না তো! রাগ তো আপন মানুষের ওপর করা যায়। আপনি হলেন আমার দুলাভাইয়ের ছোট ভাই, আর সম্পর্কে আপনি আমার বিয়াই। এর বাইরে আপনার আর আমার মাঝে কোনো সম্পর্ক নেই, আর কোনোদিন থাকবেও না।"

আমি মরিয়া হয়ে কাঁদো কাঁদো গলায় বললাম, "তাহলে আমাদের সেই এতদিনের ভালোবাসা, মাইশা? সব কি এভাবে শেষ হয়ে যাবে?"

​মাইশা আমার দিকে তাকিয়ে এক চিলতে বিষাক্ত হাসি হেসে বলল, "কিসের ভালোবাসা! আপনি তো কোনোদিন একজনকে ভালোইবাসতে পারেননি। হয়তো আমার মতো মাইশা আর কবিতা আপনার জীবনে আরও অনেক আছে।

তবে আমি কিন্তু আপনাকে একবারে মন থেকে ভালোবেসেছিলাম। আমার জীবনে আপনিই ছিলেন প্রথম আর শেষ ভালোবাসা। আপনাকে দিয়েই আমি জীবনে প্রথম ভালোবাসতে শিখেছিলাম, আর আজ আপনাকে দিয়েই এত বড় কষ্ট পাওয়াটাও শিখে ফেললাম।"

​ওর মুখে এই কথাগুলো শুনে আমার বুকটা ভেঙে চৌচির হয়ে গেল। আমি আর নিজের অহংকার ধরে রাখতে পারলাম না, সোজা বিছানা থেকে নেমে মাইশার পা দুটো জড়িয়ে ধরলাম। কান্নায় ভেঙে পড়ে বললাম, "মাইশা, আমি হাত জোড় করে বলছি আমাকে একটা শেষ সুযোগ দাও। আমি ভুল করেছি, আমাকে ক্ষমা করে দাও।"

​কিন্তু মাইশা পা দিয়ে ধাক্কা মেরে সেখান থেকে আমাকে সরিয়ে দিল এবং অত্যন্ত শক্ত গলায় বলল, "আপনি আমার পবিত্র ভালোবাসাকে অসম্মান করেছেন। আর এমন একটা মানুষকে আমি আর কোনোদিন ভালোবাসতে পারব না।

আপনি জানতে চাচ্ছিলেন না আমি কেন আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলাম? শুনুন তবে—কারণ আমি মস্ত বড় ভুল করেছিলাম। আপনার মতো একটা মানুষকে বিশ্বাস করে যে ভুল আমি করেছি, সেই ভুলের শাস্তি আমি নিজেকে নিজে দিতে চেয়েছিলাম। আর এই একই ভুল আমি জীবনে দ্বিতীয়বার করব না।"

​আমি যখন আবারো ব্যাকুল হয়ে মাইশার পায়ে ধরে মাফ চাইতে যাব, ঠিক তখনই মাইশা হঠাৎ করে জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে প্রচণ্ড জোরে জোরে তার বাবা-মাকে ডাকতে শুরু করল, "আম্মু! আব্বু! জলদি এই ঘরে এসো!"

​মাইশার ওই চিৎকার শুনে আমি তো ভয়ে একবারে কাঠ হয়ে গেলাম। মনে মনে ভাবলাম, ব্যস! এবার বুঝি সব শেষ। মাইশা এখন ওর বাবা-মাকে আমাদের সম্পর্কের কথা, কবিতার সেই ভিডিও কলের কথা—সব কিছু বলে দেবে। ভয়ে আমার চোখ দুটো বন্ধ হয়ে এল।

​কিন্তু ওর বাবা-মা যখন হন্তদন্ত হয়ে ঘরে ঢুকলেন আর জিজ্ঞেস করলেন, "কী হয়েছে মা? কিছু হয়েছে?" তখন মাইশা আমার দিকে এক পলক তাকাল। ওর চোখে তখন এক চরম প্রতিশোধের আগুন। ও নিজেকে সামলে নিয়ে ওর বাবা-মাকে বলল, "আম্মু-আব্বু, বিয়াই সাহেব আমাকে অনেকক্ষণ ধরে বুঝিয়েছেন।

ওনার কথা শুনে আমার ভুল ভেঙেছে। আমি বুঝতে পেরেছি এমনটা করা আমার একদম উচিত হয়নি। তাই আমি তোমাদের সবার কাছে ক্ষমা চাইছি। আর... তোমাদের কাছে আমার একটা অনুরোধ আছে—যত দ্রুত সম্ভব তোমরা আমার বিয়ে দিয়ে দাও।"

​মাইশার মুখে এই কথা শুনে আমার পাশাপাশি তার বাবা-মা, পুরো পরিবার সবাই একবারে অবাক হয়ে গেল! কেউ ভাবতেই পারেনি একটা মেয়ে হাসপাতাল থেকে ফিরে এসেই এভাবে হুট করে নিজের বিয়ের কথা বলবে।

​তখন ওর মা ওর কাছে এসে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলে বললেন, "ঠিক আছে মা, তুই যেটা চাইবি সেটাই হবে। আমরা আজ থেকেই ছেলে দেখা শুরু করব। কিন্তু তারপরেও দয়া করে আমাদেরকে ছেড়ে এভাবে কোথাও যাওয়ার পাগলামি করিস না।"

​আমি তখনো একবারে হতবাক হয়ে পাথরের মতো মাইশার দিকে তাকিয়ে আছি। ও আমার সম্পর্কের কথা সবাইকে বলে দিলে হয়তো আমি এত বড় ধাক্কা খেতাম না। কিন্তু ও আমাকে ক্ষমা তো করলই না, উল্টো এমন একটা জীবন্ত চিতার শাস্তি দিয়ে দিল যা আমি কোনোদিন সইতে পারব না। আমার নিজের চোখের সামনে, আমার ভালোবাসার মাইশাকে অন্য কেউ বিয়ে করে নিয়ে যাবে—এই দৃশ্য আমি কীভাবে সইব?

​প্রিয় পাঠক, মাইশা কি সত্যিই অন্য কাউকে বিয়ে করে অভির জীবন থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে?
সব কিছুই জানতে পারবেন পরবর্তী পর্বে।

​আর আপনারা যদি চান আগামী ৮ম পর্বটি খুব তাড়াতাড়ি চলে আসুক, তবে বেশি বেশি করে এই গল্পটায় লাইক, কমেন্ট এবং শেয়ার করে দিন।

​সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। দেখা হবে খুব তাড়াতাড়ি পরবর্তী পর্বে।❤️
#আবেগঘন_গল্প
#রোমান্টিক_প্রেম






মোহ পর্ব ০২মৃদুলার সেই স্বাভাবিক গলার উত্তর—"আজকালকার যুগের ছেলেদের বিশ্বাস নেই অবশ্য"—শুনে আমার ভেতরে একটা পৈ*শাচিক হাস...
31/05/2026

মোহ
পর্ব ০২

মৃদুলার সেই স্বাভাবিক গলার উত্তর—"আজকালকার যুগের ছেলেদের বিশ্বাস নেই অবশ্য"—শুনে আমার ভেতরে একটা পৈ*শাচিক হাসির জন্ম হলো। যে মেয়েটি মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে সেই অবিশ্বাসের সাগরে নিজে ডুব দিয়ে এসেছে, সে কত সহজে অন্যকে নিয়ে নীতিবাক্য শোনাচ্ছে!
আমি ডাইনিং টেবিলের আলো-আঁধারিতে ওর মুখের প্রতিটি পেশির নড়াচড়া দেখছিলাম। ও খুব সাবধানে নিজের স্বাভাবিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করছিল, কিন্তু ওর চোখের কোণ দিয়ে আমাকে পরখ করে নেওয়ার সেই চতুর চাউনিটা আমার চোখ এড়ায়নি।

​"হুম, ঠিকই বলেছ। আসলে মানুষের ওপরের রূপ দেখে ভেতরের মনটা চেনা বড় কঠিন," আমি ভাতের শেষ লোকমাটা মুখে তুলতে তুলতে খুব স্বাভাবিক গলায় বললাম। আমার কণ্ঠস্বরে একটুও রাগ বা সন্দেহের আভাস পেতে দিলাম না।
​মৃদুলা আমার দিকে তাকিয়ে একটু হাসল। সেই চেনা মায়াবী হাসি, যা সাত বছর ধরে আমার সমস্ত ক্লান্তি দূর করে এসেছে। কিন্তু আজ সেই হাসিটা আমার কাছে প্লাস্টিকের তৈরি বিষাক্ত কিছুর মতো মনে হলো।
​খাওয়াদাওয়া শেষ করে ও যখন রান্নাঘরে গোছগাছ করতে গেল, আমি ড্রয়িংরুমে সোফায় এসে বসলাম। চার বছরের ছেলেটা আমার কোলে এসে ঝাঁপিয়ে পড়ল। ওর নিষ্পাপ মুখটার দিকে তাকিয়ে বুকের ভেতরটা হু হু করে উঠল। এই ছোট্ট বাচ্চাটার কথা ভেবেও কি মৃদুলার হাত একবার কাঁপল না? পাশের ফ্ল্যাটের ওই ২১ বছরের ছোকরার মধ্যে ও এমন কী খুঁজে পেল, যার জন্য আমাদের এই সাজানো সংসারটাকে ও বাজি ধরে ফেলল?
​রাত এগারোটা। আমরা বিছানায় শুয়ে আছি। মৃদুলা আমার বুকের ওপর হাত রেখে ঘুমানোর ভান করছে, আর আমি সিলিং ফ্যানের ঘোরার দিকে তাকিয়ে মনে মনে আমার পরবর্তী চাল সাজাচ্ছি। ও ভাবছে ও এক দক্ষ চালক, কিন্তু ও জানে না ও এখন আমার বিছানো দাবার ঘুঁটি মাত্র। হুট করে কোনো হুলুস্থুলু করলে ও সতর্ক হয়ে যাবে, প্রমাণ সব মুছে ফেলবে। আমাকে এমন এক ফাঁদ পাততে হবে যেখানে ও নিজেই এসে ধরা দেবে।
​পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আমি অন্য এক মানুষ। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চেহারাটা নিজেই চিনতে পারছিলাম না। এত নিখুঁত অভিনয়ের ক্ষমতা আমার মধ্যে কবে থেকে এলো?
​"আজ অফিসে একটা বড় মিটিং আছে মৃদুলা, ফিরতে একটু রাত হতে পারে," ব্রেকফাস্ট টেবিলে পরোটা মুখে দিতে দিতে বললাম।
​মৃদুলা আমার চায়ের কাপটা এগিয়ে দিয়ে বলল, "তাই? আচ্ছা, সাবধানে যেও। দুপুরে ঠিকঠাক খেয়ে নিও কিন্তু।" ও আমার কপালে একটা হালকা চুমু খেল। ওর ঠোঁটের সেই স্পর্শে আমার সারা শরীর ঘৃণায় রি রি করে উঠল, কিন্তু আমি মুখে এক গাল হাসি নিয়ে ওর গালে হাত বুলিয়ে দিলাম।

​বাসা থেকে বের হয়ে আমি সোজা অফিসে গেলাম না। অফিসের মোড় থেকে একটা সিএনজি নিয়ে আবার আমাদের এলাকার দিকে ব্যাক করলাম। তবে সরাসরি আমাদের গলিতে ঢুকলাম না। গলির মুখের একটা ছোট চায়ের দোকানে গিয়ে বসলাম, যেখান থেকে আমাদের অ্যাপার্টমেন্টের মেইন গেটটা পরিষ্কার দেখা যায়।
​অপেক্ষা করতে লাগলাম। তপ্ত রোদে ঘামছি, কিন্তু ভেতরের জিদ আমাকে বসিয়ে রাখল। ঘড়িতে তখন বেলা সাড়ে এগারোটা। ঠিক তখনই দেখলাম আমাদের গেট দিয়ে মৃদুলা বের হচ্ছে। পরনে একটা হালকা নীল রঙের জর্জেট শাড়ি, চোখে সানগ্লাস। এত সেজেগুজে ও কোথায় যাচ্ছে? ও কি জানে না ওর স্বামী এখন অফিসে?
​ও গলি থেকে বের হয়ে একটা রিকশা নিল। আমি আর দেরি না করে একটা খালি মোটরবাইক ওয়ালাকে টাকা বাড়িয়ে দিয়ে বললাম, "ভাই, ওই রিকশাটার পিছু নেন। ও যেন বুঝতে না পারে।"
​রিকশাটা ধানমন্ডি লেকের দিকে এগোতে লাগল। আমার বুকের ভেতর হার্টবিট আবার সেই দুপুরের মতো ওঠানামা করতে শুরু করল। লেকের পাড়ের একটা নিরিবিলি গাছের ছায়ায় গিয়ে মৃদুলার রিকশাটা থামল। ও নামার ঠিক দুই মিনিটের মাথায় একটা লাল রঙের পালসার বাইক এসে থামল ওর সামনে। বাইক থেকে যে নামল, তাকে চিনতে আমার এক সেকেন্ডও সময় লাগল না। আকাশ!
​আকাশ বাইক পার্ক করে মৃদুলার দিকে এগিয়ে গেল। মৃদুলা ওর দিকে তাকিয়ে এমন একটা চওড়া হাসি দিল, যা ও ইদানীং আমার দিকে তাকিয়েও হাসে না। আকাশ ওর হাত থেকে ভ্যানিটি ব্যাগটা নিজের হাতে নিল। তারপর দুজনে পাশাপাশি হেঁটে লেকের ভেতরের দিকে চলে গেল।
​আমি বাইক থেকে নেমে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে ওদের পেছনে হাঁটতে লাগলাম। ওরা একটা বেঞ্চে গিয়ে বসল। লেকের মৃদু বাতাসে মৃদুলার শাড়ির আঁচল উড়ছিল, আর আকাশ অপলক দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে ছিল। একপর্যায়ে দেখলাম, আকাশ পকেট থেকে ছোট একটা মখমলের বক্স বের করল। বক্সটা খুলতেই রোদের আলোয় একটা আংটি চকচক করে উঠল।
​মৃদুলা দুই হাতে মুখ ঢেকে ফেলল, ঠিক যেমনটা কোনো তরুণী তার প্রেমিকের কাছ থেকে সারপ্রাইজ পেয়ে করে থাকে। আকাশ পরম মমতায় মৃদুলার ডান হাতের অনামিকায় আংটিটা পরিয়ে দিল। আর মৃদুলা? ও লোকলজ্জার তোয়াক্কা না করে আকাশের কাঁধে মাথাটা এলিয়ে দিল।
​গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে দৃশ্যটা দেখে আমার হাত দুটো মুষ্টিবদ্ধ হয়ে গেল। নখগুলো হাতের তালুতে দেবে গিয়ে র**ক্ত বের হওয়ার উপক্রম। চোখের সামনে সাত বছরের বিশ্বাসের দেয়ালটা তাসের ঘরের মতো ভেঙে গুঁড়িয়ে গেল। যে হাত দিয়ে ও আমার সংসারের হাল ধরে আছে, সেই হাতে আজ অন্য এক যুবকের ভালোবাসার আংটি!
​আমি পকেট থেকে আমার ফোনটা বের করলাম। হাত কাঁপছিল, কিন্তু আমি নিজেকে শক্ত রাখলাম। ক্যামেরাটা জুম করে ওদের সেই অন্তরঙ্গ মুহূর্তের পরপর কয়েকটা ছবি আর একটা ছোট ভিডিও ক্লিপ তুলে নিলাম। এটাই আমার প্রথম অ*স্ত্র।
​ভিডিওটা শেষ করে আমি ফোনটা পকেটে রাখলাম। মুখে এক ক্রুর হাসি ফুটে উঠল আমার। মৃদুলা, তুমি তোমার এই 'মোহ' এর খেলাটা খুব সুন্দর করে খেলছ, কিন্তু তুমি জানো না—তোমার এই সাজানো নাটকের শেষ দৃশ্যটা আমি নিজের হাতে লিখব।
​আমি আর সেখানে দাঁড়ালাম না। ধীর পায়ে লেক থেকে বের হয়ে এলাম। আজ রাতে বাসায় ফিরে দেখার পালা, আমার এই 'সতী-সাধ্বী' স্ত্রী আংটিটা কোথায় লুকিয়ে রাখে, আর আমার সামনে নতুন করে কী অভিনয়টা ফাঁদে।

​চলবে....

খুব শ্রীঘ্রই তৃতীয় পর্ব পড়তে চাইলে কমেন্টে জানাবেন প্লিজ তাহলে খুব শীঘ্রই তৃতীয় পর্ব পোস্ট করা হবে।
পেজটা ফলো করে রাখুন
BD


#আবেগঘন_গল্প



#রোমান্টিক_প্রেম


আমার এক হাত তিশার কোমরে আর আমার ঠোঁট ওর ঠোঁটের উপরে উফ,,তারপর যা হল।গল্প_কাছাকাছি আসার গল্প প্রথম" পর্ব আমি রৌদ্র। সেদিন...
31/05/2026

আমার এক হাত তিশার কোমরে আর আমার ঠোঁট ওর ঠোঁটের উপরে উফ,,তারপর যা হল।

গল্প_কাছাকাছি আসার গল্প
প্রথম" পর্ব

আমি রৌদ্র। সেদিন ছিল শ্রাবণের এক মেঘলা বিকেল। অফিস শেষ করে ক্লান্ত শরীরে বাইক নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলাম। কিন্তু মাঝরাস্তায় আসতেই কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আকাশ কালো করে নামল মুষলধারে বৃষ্টি। চারপাশটা যেন মুহূর্তের মধ্যে অন্ধকারে ঢেকে গেল। আমার সাথে কোনো ছাতা বা রেইনকোট ছিল না, তাই বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশে একটা ছোট্ট পুরোনো চায়ের দোকানের টিনের চালার নিচে বাইকটা দাঁড় করালাম।

​দোকানটা বন্ধ ছিল আর জায়গাটা ভীষণ ছোট ছিল। চারপাশের এই নির্জনতায় আমি দেয়ালের এক কোণ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে নিজের ভেজা শার্টটা একটু ঝাড়া দিচ্ছিলাম।

​ঠিক তখনই, ঝুম বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে মাথা নিচু করে দৌড়ে এক তরুণী এসে সেই চালার নিচে ঢুকল।জায়গাটা ছোট আর অন্ধকার থাকায়
ও ভেতরে ঢোকার সাথে সাথেই ভারসাম্য রাখতে পারল না, ভেজা মেঝেতে পা হড়কে ও সরাসরি এসে আছড়ে পড়ল আমার বুকের ওপর।

​মুহূর্তের মধ্যে এক অদ্ভুত মাদকময় সুবাস আমার নাকে এসে ধাক্কা দিল। ও সম্পূর্ণ ভেজা ছিল। ওর ভেজা চুলের কটা ফোঁটা জল এসে পড়ল আমার ঠোঁটে আর গলায়। আমি কিছু বলার আগেই ও চমকে উঠে আমার দিকে তাকাল। এক জোড়া ডাগর ডাগর চোখ, বড় বড় চোখের পাপড়ি বেয়ে তখনো বৃষ্টির জল গড়িয়ে পড়ছে।

​ও অত্যন্ত অপ্রস্তুত হয়ে আমার বুক থেকে এক পা পিছিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করল। কিন্তু মেঝের ওপর জমে থাকা বৃষ্টির জলে ওর ভেজা পা আবারও হড়কে গেল। ও পড়ে যেতে নিলে আমি চট করে দুহাতে ওর নরম কোমর জড়িয়ে ধরে ওকে নিজের দিকে টেনে নিলাম।

​এবার ও আর একটুও দূরে সরতে পারল না, বরং আরও শক্তভাবে আমার বুকের সাথে লেপ্টে গেল। বৃষ্টিতে ভেজার কারণে ওর গায়ের পাতলা কামিজটা ওর শরীরের সাথে একবারে মিশে গিয়েছিল। এত কাছ থেকে ওর শরীরের তীব্র উষ্ণতা আর নিখুঁত গড়ন আমার ভেতরের সমস্ত অনুভূতিকে এক নিমেষে ওলটপালট করে দিল। লজ্জায় আর সংকোচে ও মাথা নিচু করে আমার শার্টের কলারটা খামচে ধরে কাঁপা গলায় বলল, "আই অ্যাম সো সরি! আসলে মেঝেটা খুব পিচ্ছিল..."

​আমি ওর মুখের দিকে তাকিয়ে মোহাচ্ছন্ন গলায় কিছু একটা বলতে যাব, ঠিক তখনই আকাশ কাঁপিয়ে একটা বিকট শব্দে বজ্রপাত হলো। পুরো এলাকা যেন মুহূর্তের জন্য তীব্র আলোয় চমকে উঠল।

​তিশা ভয়ে একটা ছোট চিৎকার দিয়ে দুচোখ বন্ধ করে ফেলল এবং আরও তীব্রভাবে আমার বুকের মধ্যে মুখ লুকাল। ও এতটাই শক্ত করে আমাকে জড়িয়ে ধরেছিল যে, ওর হৃদস্পন্দনের দ্রুত ওঠানামা আমি আমার নিজের বুকে স্পষ্ট অনুভব করতে পারছিলাম।

​আমি আর নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলাম না। আমার এক হাত ওর কোমরে শক্ত হয়ে বসল, আর অন্য হাতটা আলতো করে ওর ভেজা পিঠের ওপর উঠে এল। পাতলা ভেজা কাপড়ের ওপর দিয়ে ওর শরীরের সেই মসৃণ আর উষ্ণ ছোঁয়া আমার ভেতরে এক তীব্র কামনার আগুন জ্বালিয়ে দিল। নির্জন সেই বন্ধ চায়ের দোকানে, বাইরের ঝুম বৃষ্টির শব্দের মাঝে আমরা দুজন এক তীব্র আকর্ষণে একাকার হয়ে গেলাম।

আমাদের মুখের দূরত্ব তখন এতটাই কম যে, ওর ঠোঁটের কাঁপন আর ভেজা নিঃশ্বাসের তীব্রতা আমার ঠোঁটের ওপর এসে আছড়ে পড়ছিল। নির্জন সেই বন্ধ চায়ের দোকানের আলো-আঁধারিতে আমাদের দুজনের ঠোঁট যেন এক অলিখিত আকর্ষণে একে অপরের আরও অনেক কাছাকাছি চলে এল।

এবং নিজেদের অজান্তেই আমাদের ঠোঁট একে অপরের সাথে মিশে গেল। এক গভীর, তীব্র আর উষ্ণ চুম্বনে আমরা দুজনে হারিয়ে গেলাম। বাইরের বৃষ্টির শব্দ তখন যেন আমাদের চারপাশের সময়টাকে এক জায়গায় থামিয়ে দিয়েছিল।

​কিন্তু চুমুটা শেষ হওয়ার পরপরই তিশা যেন সটান বাস্তবে ফিরে এল। ও হুট করে আমার বুক থেকে ছিটকে সরে গেল। ওর বুকের ধকধকানি তখন স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। ও বুঝতে পারলো ও একী করলো! সম্পূর্ণ অপরিচিত একটা ছেলেকে ও এভাবে কিস করে ফেলেছে! চরম লজ্জা আর সংকোচে ওর ফর্সা মুখটা মুহূর্তের মধ্যে লাল হয়ে উঠল। ও আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়াল না। চায়ের দোকান থেকে একরকম ছুটে বের হয়ে গেল এবং ঝুম বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে নিজের বাড়ির দিকে হাঁটতে শুরু করল।

​আমি পেছন থেকে চিৎকার করে বললাম, "আমি কি আপনাকে বাইকে করে বাড়িতে পৌঁছে দেবো?"

​আমার কথা শুনে ও থমকে দাঁড়াল। ওর সেই ডাগর ডাগর চোখ দুটো দিয়ে পেছন ফিরে আমার দিকে তাকাল। ওর চোখে তখন লজ্জার এক অদ্ভুত মায়া। ও মাথা নেড়ে বলল, "প্রয়োজন নেই।"

​আমি মরিয়া হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, "আমাদের কি আর কোনোদিন দেখা হবে না?"

​তিশা একটু থামল, তারপর হালকা হেসে বলল, "দেখা যাক, কিসমতে কী আছে!"

ও চলে যাচ্ছিল দেখে আমি দ্রুত বললাম, "যাওয়ার আগে আপনার মিষ্টি নামটা তো শুনিয়ে যান!"

​ও হালকা ঘুরে দাঁড়িয়ে বলল, "আমার নাম তিশা।"

তিশা চলে যাওয়ার পর আমি সেই নির্জন চায়ের দোকানে একাই দাঁড়িয়ে রইলাম। পুরো শরীরটা কেমন যেন অবশ লাগছিল। জীবনে এই প্রথম আমি কাউকে কিস করলাম, তাও আবার এত সুন্দরী আর মায়াবী একটা মেয়েকে! ওর ঠোঁটের সেই মিষ্টি ছোঁয়া তখনো আমার ঠোঁটে লেগেছিল।

​ধীরে ধীরে চারপাশের বৃষ্টি থেমে গেল। আমিও বাইক স্টার্ট দিয়ে নিজের বাড়িতে ফিরে এলাম। কিন্তু রাতে নিজের ঘরে বিছানায় শুয়েও আমি কিছুতেই তিশার কথা মাথা থেকে বের করতে পারছিলাম না। আমার কেবলই মনে হচ্ছিল, কীভাবে ওর সাথে আবার দেখা করা যায়? কীভাবে কথা বলা যায়? কিন্তু এই এত বড় শহরে সেটা কীভাবে সম্ভব?

​আমি আর থাকতে না পেরে নিজের ল্যাপটপটা খুললাম। তারপর ফেসবুকে গিয়ে 'তিশা' নামে খোঁজ করতে শুরু করলাম। আমি মনে মনে খুব ভালো করেই জানতাম, এই নামে ফেসবুকে লক্ষ লক্ষ আইডি আছে। এত মানুষের ভিড়ে আমার তিশার আইডি খুঁজে পাওয়া জাস্ট একটা পাগলামি ছাড়া আর কিছুই নয়। কিন্তু তারপরেও মন তো আর বাধা মানে না! আমি প্রতিদিন নিয়ম করে তিশাকে খুঁজতে শুরু করলাম।

​দেখতে দেখতে একটা মাস পার হয়ে গেল। আমি যখনই অফিসের কেবিনে একা থাকি, আমার পুরো মন জুড়ে শুধু তিশার স্মৃতি ভেসে ওঠে। ও কি এখন আমার কথা একটুও ভাবে? নাকি আমাকে একটা অভিশপ্ত অতীত ভেবে ভুলে গেছে? এই একটা কথা আমার খুব জানতে ইচ্ছে করত।

এভাবে দীর্ঘ ছয়টি মাস কেটে গেল। সেদিনও আকাশ কালো করে রিমঝিম বৃষ্টি নামতে শুরু করেছিল। আমি আমার অফিসের বারান্দায় এসে দাঁড়ালাম। বৃষ্টি দেখলেই আমার তিশার কথা মনে পড়ে যায়, মনে পড়ে যায় সেই চায়ের দোকানের মধুর আর তীব্র স্মৃতিগুলোর কথা।

​আমি যখন মনে মনে তিশার কথা ভাবছিলাম, ঠিক তখনই অলৌকিকভাবে আমার নজরে পড়ল অফিসের ঠিক নিচে, রাস্তার পাশের বাসস্ট্যান্ডে একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ভালো করে লক্ষ্য করতেই আমার বুকটা ধক করে উঠল—আরে, এ তো তিশা!

​আমি নিজের চোখ দুটো কচলে আবারো সেদিকে তাকালাম। এটা আমার চোখের ভুল না তো? কিন্তু না, ও সত্যিই তিশা! সেখানে দাঁড়িয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করছে।

​আমি আর এক মুহূর্তও দেরি করলাম না। office থেকে এক ছুটে নিচে নেমে এলাম। ছাতা নেওয়ারও সময় পাইনি, বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতেই পাগলের মতো দৌড়াতে শুরু করলাম সেই বাসস্ট্যান্ডের দিকে। আমার মন বলছিল, আজ আমি ওকে আর হারাতে দেব না।

​কিন্তু কপাল খারাপ! আমি বাসস্ট্যান্ডের কাছাকাছি পৌঁছানোর ঠিক আগের মুহূর্তেই তিশার কাঙ্ক্ষিত বাসটা সেখানে চলে এল। তিশা চট করে বাসে উঠে বসল। আমি পেছন থেকে গলা ফেড়ে চিৎকার করে ডাকতে লাগলাম, "তিশা! তিশা!" কিন্তু চারপাশের বৃষ্টির শব্দ আর বাসের ইঞ্জিনের আওয়াজে তিশা আমার ডাক কিছুই শুনতে পেল না। বাসটা স্টার্ট দিয়ে তিশাকে নিয়ে আমার থেকে অনেক দূরে চলে গেল।

​আমি একটুর জন্য তিশাকে ধরতে পারলাম না। বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে হাঁটু গেড়ে রাস্তার মাঝেই বসে পড়লাম। কিন্তু আমি এত সহজে হার মানার পাত্র নই। আমি মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম—এই বাসটা যেসব রুটে যায়, সেসব রুটে আমি তিশাকে প্রতিদিন খুঁজব। আমার মনে এক দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছে, তিশাকে আমি একদিন ঠিকই খুঁজে পাব!

প্রিয় পাঠক =রৌদ্র কি পারবে এই বিশাল শহরে তিশাকে খুঁজে পেতে? তিশা কি সত্যিই রৌদ্রকে ভুলে গেছে, নাকি তার মনেও রৌদ্রের জন্য কোনো জায়গা তৈরি হয়েছে? আপনাদের কী মনে হয়? ঝটপট কমেন্ট করে জানান! আর পরবর্তী ২য় পর্ব যদি খুব দ্রুত চান, তবে এই পর্বে এখনই
বেশি বেশি লাইক কমেন্ট শেয়ার করে দিন। ধন্যবাদ!

পেজটা ফলো করে রাখুন
BD

#আবেগঘন_গল্প



Address

Dhaka
1213

Telephone

+8801979607564

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Entertainment BD posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Establishment

Send a message to Entertainment BD:

Share