01/06/2026
♥️♥️ #“ডাক্তার_ও_নার্স”♥️♥️ পর্ব — ৩
তাবাসসুম।
একজন অবিবাহিত নার্স।
শান্ত, দায়িত্বশীল, খুব বেশি কথা না বলা একজন মানুষ।
কিন্তু তার উপস্থিতি কেন যেন শরিফুলের মনে আলাদা প্রভাব ফেলে।
একদিন রাতে ডিউটির শেষে কেবিনে বসে তিনি নিজের সাথে কথা বলতে শুরু করলেন।
“আমি কি ভুল কিছু ভাবছি?”
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই।
কারণ এটি কোনো রোগ বা ফাইলের সমস্যা নয়।
এটি এক ধরনের মানসিক টানাপোড়েন।
পরের দিন হাসপাতালে তাবাসসুম যথারীতি কাজ করছিল।
তার মুখে কোনো পরিবর্তন নেই।
সবকিছু আগের মতোই পেশাদার।
কিন্তু শরিফুল যখন তাকে দেখলেন, তিনি চোখ নামিয়ে নিলেন।
কারণ নিজের ভেতরের অস্থিরতা তিনি প্রকাশ করতে চান না।
তাবাসসুম সেটা বুঝতে পারল না, এমন নয়।
সে লক্ষ্য করছিল, শরিফুল আগের মতো স্বাভাবিক নেই।
কিন্তু সে কিছু জিজ্ঞেস করল না।
কারণ সে জানে—সব প্রশ্নের উত্তর জোর করে পাওয়া যায় না।
কখনো কখনো সময় নিজেই উত্তর তৈরি করে।
দিনগুলো কেটে যাচ্ছে।
কিন্তু একটা পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
ডঃ শরিফুল এখন আগের মতো তাবাসসুমের সাথে খোলামেলা কথা বলেন না।
কাজের বাইরে কোনো কথা প্রায় হয় না।
শুধু প্রয়োজনীয় নির্দেশ, জরুরি তথ্য—এটাই সীমাবদ্ধ।
হাসপাতালের অন্য স্টাফরাও এটা লক্ষ্য করতে শুরু করেছে।
একদিন ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডে ব্যস্ততা চলছিল।
তাবাসসুম দ্রুত কাজ করছে।
হঠাৎ একজন নার্স ফিসফিস করে বলল—
“স্যার আর আপুর মধ্যে কি কিছু হয়েছে নাকি?”
তাবাসসুম শুনল, কিন্তু কিছু বলল না।
শুধু কাজ চালিয়ে গেল।
কিছুক্ষণ পর শরিফুল পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন।
তাবাসসুম হালকা করে ডাকল—
“স্যার।”
তিনি থামলেন।
“রোগীর রিপোর্টটা চেক করবেন?”
“ঠিক আছে।”
এটাই ছিল তাদের পুরো কথোপকথন।
কিন্তু দুজনের চোখে কিছু না বলা কথা ছিল।
রাতের শেষে শরিফুল বাসায় ফিরলেন।
কিন্তু শান্তি পেলেন না।
কারণ তিনি জানেন, দূরত্ব তৈরি করা সহজ।
কিন্তু ভেতরের অনুভূতি বন্ধ করা কঠিন।
এক গভীর রাতে হাসপাতাল প্রায় ফাঁকা।
বাইরে হালকা বৃষ্টি।
ভেতরে করিডোরে নীরবতা।
ডঃ শরিফুল তাবাসসুমকে ডাকলেন কেবিনে।
এই ডাকটা সাধারণ ছিল না।
তাবাসসুম ঢুকে দাঁড়াল।
“স্যার, কিছু বলবেন?”
শরিফুল কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।
তার চোখ টেবিলের ফাইলে, আবার জানালার বাইরে।
তারপর বললেন—
“আমি কিছুদিন ধরে একটা মানসিক চাপের মধ্যে আছি।”
তাবাসসুম চুপ।
সে বুঝতে পারছিল, এটা শুধু কাজের কথা না।
“কিছু অনুভূতি… মানুষকে বিভ্রান্ত করে,” শরিফুল ধীরে বললেন।
ঘরে নীরবতা নেমে এলো।
তাবাসসুম এবার আস্তে করে বলল—
“স্যার, জীবন সবসময় সহজ হয় না।”
“কিন্তু আমরা কীভাবে সামলাই, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।”
শরিফুল মাথা নিচু করলেন।
এই কথাগুলো তাকে আরও ভাবিয়ে তুলল।
কারণ তিনি জানেন—তিনি দোটানার মধ্যে আছেন।
একদিকে দায়িত্ব, পরিবার।
অন্যদিকে এক অজানা মানসিক টান।
কিন্তু তিনি কাউকে আঘাত দিতে চান না।
তাবাসসুমও নীরবে দাঁড়িয়ে রইল।
তারও মনে প্রশ্ন আছে।
কিন্তু সে সেটাকে শব্দ দেয় না।
কারণ কিছু অনুভূতি নীরব থাকলেই নিরাপদ।
পরের কয়েকদিন শরিফুল ইচ্ছা করেই দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করলেন।
তিনি আগের মতো তাবাসসুমের সাথে বেশি কথা বলেন না।
শুধু কাজ।
শুধু দায়িত্ব।
তাবাসসুম সেটা স্পষ্ট বুঝতে পারছিল।
কিন্তু সে কোনো অভিযোগ করল না।
একদিন হাসপাতালের ছাদে দেখা হলো।
আকাশ পরিষ্কার, বাতাস হালকা।
তাবাসসুম বলল—
“স্যার, আপনি কি আমাকে এড়িয়ে যাচ্ছেন?”
প্রশ্নটা সরাসরি।
শরিফুল থেমে গেলেন।
দীর্ঘ নীরবতা।
তারপর বললেন—
“আমি চেষ্টা করছি সবকিছু ঠিক রাখতে।”
“কিন্তু সব ঠিক রাখা সবসময় সম্ভব না।”
তাবাসসুম একটু চুপ থেকে বলল—
“তাহলে সত্যিটা কী?”
এই প্রশ্নের কোনো সহজ উত্তর নেই।
শরিফুল আকাশের দিকে তাকালেন।
তিনি বুঝলেন—
কিছু সিদ্ধান্ত কেবল যুক্তি দিয়ে হয় না।
কিছু সিদ্ধান্ত জীবনের ভারসাম্য ভেঙে দেয়।
তবুও মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতেই হয়।
সময় ধীরে ধীরে এগোতে লাগল।
কিন্তু শরিফুল আর আগের মতো থাকতে পারলেন না।
তিনি দীর্ঘ সময় ভাবলেন।
নিজের জীবন, দায়িত্ব, সম্পর্ক—সবকিছু নিয়ে।
শেষ পর্যন্ত তিনি একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেন।
তার বিবাহিত জীবনের অধ্যায় শেষ করার পথে এগোলেন।
এটা সহজ ছিল না।
অনেক কথা, অনেক ব্যথা, অনেক নীরবতা ছিল।
কিন্তু তিনি মনে করলেন—
সবাইকে একসাথে ধরে রাখার চেষ্টা করলে কেউই সুখী থাকে না।
কিছু মাস পরে হাসপাতালের পরিবেশ আবার আগের মতো হলেও কিছুটা আলাদা।
তাবাসসুম তার কাজে ব্যস্ত।
হঠাৎ একদিন শরিফুল তার সামনে এসে দাঁড়ালেন।
“সব কিছু পরিষ্কার করেছি,” তিনি শান্তভাবে বললেন।
তাবাসসুম চুপ করে রইল।
“আমি নতুনভাবে শুরু করতে চাই,” তিনি যোগ করলেন।
দীর্ঘ নীরবতা।
তারপর তাবাসসুম হালকা মাথা নাড়ল।
এই সিদ্ধান্তটা কোনো নাটক ছিল না।
না কোনো হঠাৎ আবেগ।
এটা ছিল সময়, পরিস্থিতি আর বাস্তবতার তৈরি একটি পরিণতি।
হাসপাতালের সেই একই করিডোরে এবার নতুন একটা অধ্যায় শুরু হলো।
যেখানে অতীত আছে, কিন্তু সেটা আর শৃঙ্খল নয়।
আর সামনে আছে নতুন সম্ভাবনা।
cted
#রোমান্টিক_প্রেম #আবেগঘন_গল্প #ডাক্তার #নার্স