21/04/2026
স্মৃতির বারান্দায় কিছুক্ষণ ।
মাঝে মাঝে জীবনটা বড় অদ্ভুত মনে হয়। আমরা সারাদিন কতশত কাজের ভিড়ে নিজেদের লুকিয়ে রাখি, ব্যস্ততার চাদরে ঢেকে দিই মনের সবটুকু ক্ষত। কিন্তু দিনশেষে যখন চারপাশটা নিঝুম হয়ে আসে, যখন আকাশের এককোণে একলা চাঁদটা উঁকি দেয়, তখন বুকের ভেতর জমানো সেই পুরনো আবেগগুলো অবাধ্য হয়ে ওঠে।
কিছু স্মৃতি থাকে যা চাইলেও ভোলা যায় না। কোনো এক প্রিয় মানুষের ফেলে আসা হাসি, আধো আলোতে দেখা কোনো পরিচিত মুখ, কিংবা মাঝপথে থেমে যাওয়া কোনো অসমাপ্ত গল্প—এসবই আমাদের আবেগের মূল কারিগর। আমরা অনেক সময় বলি, "আমি এখন অনেক শক্ত হয়ে গেছি," কিন্তু সত্যি বলতে, কেউ কখনো পুরোপুরি শক্ত হতে পারে না। কোথাও না কোথাও, কোনো এক সুরের মূর্ছনায় বা বৃষ্টির শব্দে আমাদের সেই ‘শক্ত’ আবরণটা মুহূর্তেই ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।
আবেগ মানে কেবল দুর্বলতা নয়; আবেগ মানে হলো আপনি এখনো বেঁচে আছেন, আপনার হৃদস্পন্দন এখনো কারো জন্য বা কোনো কিছুর জন্য অনুভব করতে জানে। এই যে অকারণে কখনো বুকটা হু হু করে ওঠা, কিংবা কারো কথা মনে পড়ে চোখের কোণ ভিজে যাওয়া—এটাই তো মানুষের সার্থকতা। পৃথিবীর সব অঙ্ক যেমন মেলে না, তেমনি সব আবেগেরও কোনো ব্যাখ্যা থাকে না। কিছু আবেগ শুধু অনুভবের, কোনো শব্দে তাকে প্রকাশ করা যায় না।
জীবনের কিছু সহজ সত্য:
কান্না কোনো লজ্জা নয়: চোখের জল মনের জমে থাকা ধুলোবালি পরিষ্কার করে দেয়।
স্মৃতি আঁকড়ে ধরা ভুল নয়: তবে স্মৃতির অতল গহ্বরে হারিয়ে গিয়ে বর্তমানকে ভুলে যাওয়াটা ভুল।
প্রকাশ করতে শিখুন: মনের ভেতরে চেপে রাখা আবেগগুলো মাঝেমধ্যে বিষ হয়ে দাঁড়ায়। তাই প্রিয় মানুষকে বা প্রিয় ডায়েরিকে নিজের কথাগুলো বলতে শিখুন।
মানুষ হিসেবে আমাদের শ্রেষ্ঠত্ব এখানেই যে, আমরা ভালোবাসতে পারি, আমরা কাঁদতে পারি এবং আমরা একে অপরের আবেগ অনুভব করতে পারি। দিনশেষে এই আবেগটুকুই আমাদের পরিচয়।