24/08/2026
"ওয়েক আপ সিড" সিনেমায় আয়শার জন্মদিনের রাতে সিড যখন জিজ্ঞাসা করে তাদের দুজনের মধ্যে কখনো বন্ধুত্বের চেয়ে বেশি কিছু হওয়া সম্ভব কিনা, আয়শা তাকে না করে দেয়। কারণ একটাই। সিড তার কল্পনাপুরুষের মতো নয়। যে তার চেয়ে বয়সে বড় হবে, কাজপাগল হবে, নিজের কিছু গম্ভীর ভাবনা কিংবা জীবন সম্পর্কে একটা স্বচ্ছ এইম যার থাকবে, তাকেই আয়শার চাই। আয়শার ভাষ্যমতে,
"I guess somebody who is... independent, for starters. Someone with a career, a goal in life. Somebody I can relate to. In short, a man, not a boy."
ম্যাগাজিন অফিসে চাকরি পাবার পর আয়শার দেখাও হয় কাবীর নামে ঠিক তেমন একজনের সাথে। পেশায় লেখক, উচ্চ মিউজিক টেস্ট, জীবন সম্পর্কে সিরিয়াস কাবীরকে বহুদিন পর্যন্ত ক্রাশ ভেবে তাকে নিয়ে ফ্যান্টাসাইজ করে যাওয়া আয়শা, সেই মানুষটাকে শেষ অবধি ভালোবাসতে পারেনা। কারণ একটাই। কাবীর কোনোদিন আয়শাকে তার নিজস্ব কমফোর্ট জোন দিতে পারেনাই। রাতের বেলা বকে ধমকে, ঝগড়া করে, সকালেই সেই মানুষটার সাথে একসাথে চা খেতে খেতে গল্প করার স্বাদ আয়শাকে সিড দিয়েছে। সারাদিনের ঘর্মাক্ত চেহারা নিয়ে সিডের সামনে বিছানায় লেপটে ঘুমিয়ে পড়তে আয়শার লজ্জা করতোনা। যা সে জানেনা, যা সে বোঝেনা তা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিতে পারতো সিডকে। অহেতুক রাগ ঝাড়ার পরও সে চোখ বুজে বলে দিতে পারতো সিড আর তার সম্পর্কে এটা ছাপ ফেলবে না। পকেটে দশ টাকা থাকুক কিংবা দশ হাজার, শোলে সিনেমার গান হোক কিংবা ওয়েস্টার্ন জ্যাজ- সবকিছুতেই আয়শা ছিলো মুক্ত পাখির মতো সিডের সামনে। একইসাথে সিড গড়েছে নিজেকে একটু একটু করে আয়শার স্বপ্নপুরুষের মতো। He learned, and became a better person not losing his own charm.
ভালোবাসা এটাই। যেই মানুষটা আপনার নিজস্বতাকে আরামদায়ক করে তুলবে, যার কাছে গিয়ে অযৌক্তিকভাবে কেঁদে ফেলা যাবে, যার কাছে গেলে আপনি ঘর খুঁজে পাবেন, যাকে নিয়ে আপনার মাথা কম কাজ করবে, মন বেশি শ্রম দেবে, সারাদিনের কাহিল ঘাম যার শার্টে মুছে সেখানেই ঘুমিয়ে যেতে পারবেন, সেখানেই থেমে যান। এই মেলানকোলিক পৃথিবীতে আপনাকে দুরন্ত হৃদকম্পন অনেকেই দেবে, কিন্তু মন শান্ত করবে বিরল কেউ, ভালোবাসার কেউ।
~Poddo Alam