অব্যক্ত কথা

অব্যক্ত কথা Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from অব্যক্ত কথা, Art, Dhaka.

10/08/2026

কাব্যগ্রন্থ
"চির ভাস্বর মানচিত্র"
(১২)

মায়ের ভাষা

আমার মায়ের ভাষা বাঁচবার আশা অরব মাঝে,
নিত্য স্বপ্ন আনে, অনুপ্রেরণা সর্বক্ষণ সর্ব-কাজে।
সরোজ ফোটা সরোবরে পাতি হাঁসের কোলাহল,
প্রেম-অশ্রুসিক্ত নব বধুর অধর চুম্বন অত্যুজ্জ্বল।

অভেদ জাতির অভিযাচন, কর্মানুরাগী কর্মগুণে,
সাফল্য-দ্বার উন্মুক্ত সহসা, সুখ-উল্লাস অনুক্ষণে।
নিঃসঙ্গ পথিকের পথচলা ক্ষণ উজান তলী গাঁয়,
মহিমার্ণবের মহিমাকীর্তন সৃষ্টি সুখের উম্মাদনায়।

ভাটির দেশে ভাটিয়ালি গানে প্রেমিকযুগল মজে,
আব্বাসউদ্দীন, আব্দুল আলীম কণ্ঠ সুরে বাজে।
পল্লী কবির আসমানী হাসে জরাজীর্ণ মাটি-ঘরে,
মাতৃভাষার মধু রসে ক্লান্তি, দুঃখ নিদ্রায় অঘোরে।

নতুন বধুর স্বরে মধুর বুলি, প্রেয়সীর রাঙ্গা ঠোঁট,
পলাশ রাঙ্গা মেঠো-পথ সঙ্গেই মিলিত নদীর তট।
রাখালিয়া বাঁশি-ঝংকারে বটের পাতা হেলেদুলে,
দিগন্ত মায়া-প্রসারণে আর বধু এলোমেলো চুলে।

মাগো তোমার ভাষার মন্ত্রে মুগ্ধতায় জাতি সকল,
নিঃশ্বাস-বিশ্বাসে ভালোবাসা, অমৃতরস অবিরল।
আমার মায়ের মুখের ভাষার তুলনা কোথাও নাই,
মাতৃ-ভাষাতেই হাসি, খেলি আর কাব্য লিখে যাই।

09/08/2026

কাব্যগ্রন্থ
"চির ভাস্বর মানচিত্র"
(১১)

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী

যুক্তফ্রন্ট গঠনের অন্যতম প্রবক্তা ইতিহাসের পাতায়
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী বাংলার জনসাধারণের,
তদানীন্তন পূর্ববঙ্গের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান দাবিতে
তার অবদান অনস্বীকার্য চেতনায় নিরন্তর অনুভবের।

বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার অঙ্গিকারে সাহসী কণ্ঠস্বর
২১ ফেব্রুয়ারী শহীদ দিবস, সাধারণ ছুটি ইশতেহারে,
লাহোর প্রস্তাব ভিত্তিতেই নির্বাচন ঘোষণাতে অন্যতম
শহীদ মিনার নির্মাণ ভাষা শহীদদের স্মৃতি চিত্ত-দ্বারে।

১৯৫৪ সালে নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের অভূতপূর্ব বিজয়ে
তার অবদান জাতি ভোলেনি, ভুলবেইনা কোনোদিন,
অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গঠনে অবদান
বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে কৃতিত্বে সর্বদা অমলিন।

প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে সংখ্যা-সাম্যের ভিত্তিতে গৃহীত
শাসনতন্ত্র, পূর্ব-পশ্চিমের অর্থনৈতিক বৈষম্য নিরসন,
দমে যাননি গ্রেফতার হয়ে, জেলে অন্তরীণ অবস্থাতে
রাজনৈতিক বিরোধিতার জন্ম তবুও থামেননি তখন।

জাতীয় নেতার জাতিকে কাঁদিয়ে চির বিদায় বেলায়
জানাজায় অগণিত মানুষের ঢল রেসকোর্স ময়দানে,
রমনায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নামে খ্যাত বাংলাদেশে
শেরেবাংলার সমাধি পাশে চির ঘুমন্ত আছেন শয়ানে।

09/08/2026

কাব্যগ্রন্থ
"চির ভাস্বর মানচিত্র"
(১০)

ধর্মের জন্য

ধর্মের জন্য বাক্যবাণে মানবতার অবমাননা,
নিজ নিজ ধর্ম অবশ্য পালন হেরার ঘোষণা।
মহা-মানবদের তারবার্তা স্রষ্টার কালে কালে,
মনুষ্যত্বের মর্মার্থ ধ্বনি সৃষ্টি রহস্য-অন্তরালে।

মহা-সুখের দ্যুলোক গড়েছেন মানুষের জন্য,
তাঁর নির্দেশিত পথে অহরহ উৎসর্গ অগ্রগণ্য।
অন্তর্নিহিত অন্তর্যামী, বার্তাবাহক দ্বিধা হীনে,
অগ্নিমূল্য অদৃষ্টে সত্য বিস্তারে বিচলিত হীনে।

বিদ্রূপ, তামাশা, নির্যাতনে পায়নি-তো দুঃখ,
অভিশাপ দিয়ে নয়, সত্য বিশ্বাসেই মহা-সুখ।
মুহাম্মদ(সাঃ)সমুজ্জ্বল মহতিদের অনুসরণে,
শান্তির বাণী উপস্থাপনা মনুষ্যে মুক্তি করণে।

তমসাচ্ছন্নতার অবসানে মন্ত্রমুগ্ধ জাতিকুলে,
সাড়াহীন মনুষ্য ব্যথা কে দেখেনি বিশ্ব কুলে!
আজি হানাহানি, বীভৎসতা সৃষ্ট ধরণী মাঝে,
মানবতার বাঁশরী যখনি বেদনা-বিধুর বাজে।

ধর্ম নিয়েই বাড়াবাড়ি মনুষ্যত্বের নয় পরিচয়,
একান্তে বিশ্বাসে মহান রবকে চিনবে নিশ্চয়।
ধর্মের জন্যে জঙ্গিত্ব মননে হয় কি প্রয়োজন?
ভালোবাসা, মমতা দিয়েই করো কার্য সাধন।

09/08/2026

কাব্যগ্রন্থ
"চির ভাস্বর মানচিত্র"
(০৯)

দুঃখিনী মা

পাক বাহিনীর তান্ডব, যুদ্ধের ডামাঢোল বাজে,
দেশের জন্য অশ্রুতে বিদায়, সন্তান রণ সাজে।
মাসের পর মাস যায়, মা চেয়ে থাকে শুধু পথে,
রত্ন কখন ফিরবে ঘরে! মা প্রতিক্ষায় মনোরথে।

নিদ্রাহীন চোখ, বাকরুদ্ধ মা, অবুঝ মন না সয়,
দুঃখিনী মায়ের দুঃখে কাঁদে স্রষ্টার উপাসনালয়।
খাল-বিলে ভরপুর জল, তাল-পত্রে বাবুই বাসা,
গোলাগুলির শব্দ অনবরত তবুও বাঁচার আশা।

পিতৃ-দেহে প্রহার-চিহ্ন, মায়ের অপমান, লাঞ্ছনা,
প্রজ্বলিত দহনে পুড়ে ছারখার একমাত্র ঠিকানা।
দেশ-মাতৃকার ভালোবাসা ডাক, ভরা নদী-বানে,
বুকে প্রতিশোধ, হস্তে অস্ত্র, মুখে স্বর মুক্তি-গানে।

সর্ব-জনতার সাহসে মুগ্ধ বিশ্ব বিস্ময়ে চেয়ে রয়,
জীবন দানে রণাঙ্গনে, মুক্তিযোদ্ধারা চির অভয়।
আষাঢ়-ধারা ঝরে অহরহ, কাঁদে বর্ষার আকাশ,
বাঞ্ছিত মায়ের বাছা এলো না, এলো নিথর লাশ।

পিতৃ-কোলে সন্তানের লাশ, হৃদ-বিদারক ঘটনা,
কষ্টে কলিজা ফেটেই যেতে চায়, আঁখিতে বন্যা।
কাজল চোখ ছলছল, সজল ধারা বাঁধ না মানে,
শোকে মা ব্যথিত চিত্তে, বাছা নিদ্রিত গোরস্থানে।

07/08/2026

কাব্যগ্রন্থ
"চির ভাস্বর মানচিত্র"
(০৮)

আবুল কাসেম ফজলুল হক

বাংলার বাঘ খ্যাত যিনি চির স্মরণীয় ও বরণীয়
বেঁচে আছেন আজও তা-ই জাতির মণিকোঠায়,
আবুল কাসেম ফজলুল হক কর্ম-জ্ঞানে নিরন্তর
সর্বদা অভিপ্রায় জাতির মুক্তির দিক্ নির্দেশনায়।

একাধারে আইনজীবী, লেখক ও রাজনীতিবিদ
চিন্তন আর স্বচ্ছতায় যার নজির বিহীন পরিচয়,
মধ্যবিত্ত জমিদার পরিবারের হয়েও মানবতাতে
দেশের সকল শ্রেণির মানুষের মুক্তি বিবেচ্য রয়।

ইংরেজি বাগ্মিতার কারণে প্রসিদ্ধ ফজলুল হক
বাংলার মধ্যবিত্ত ও গ্রামীণ জনতার আপনজন,
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত অধীনে প্রজাস্বত্বের শিকার
লক্ষ লক্ষ কৃষকের ঋণ কমানোর উদ্যোগে পণ।

ভূমি সংস্কার, ভূস্বামীদের প্রভাব খর্বের প্রত্যয়ে
আজীবন চেষ্টা ও আইন প্রণয়ন চিত্তে মানুষের,
ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব মনুষ্যত্বের পরিচয়ে
স্বাধীন চিন্তা-চেতনায় নিত্য নৈকট্যে জনগণের।

বাংলার চির অহঙ্কার বাংলার বাঘ চির নিদ্রায়
বেঁচে আছে যুগে যুগে বাংলার মানুষের অন্তরে,
প্রাথমিক শিক্ষা বিনা মূল্যে বাধ্যতামূলক করণ
বিল উত্থাপন, আইন শুরু শুধুই তার হাত ধরে।

06/08/2026

কাব্যগ্রন্থ
"চির ভাস্বর মানচিত্র"
(০৭)

হাজী শরীয়ত উল্লাহ

"শিরক" ও "বেদাত" দূর, ধর্মীয় কুসংস্কার উচ্ছেদে
মহান পুরুষ হাজী শরীয়ত উল্লাহ অগ্রণী ভূমিকায়,
ফরায়েজি আন্দোলন আহ্বানে মুসলিম ঐক্যবদ্ধে
তদানীন্তন ব্রিটিশ শাসকদের মুহূর্তেই ভিত কাঁপায়।

মুসলিমে আত্মবিশ্বাস জাগ্রতে উদাত্ত কন্ঠ নির্ভয়ে
সমাজ সংস্কারে মহৎ-উদ্যোগ সর্বত্র সাড়া জাগায়,
ধর্মীয় অনাচার থাকবে না কোনোমতেই মাতৃ ভূমে
অবশ্য পালনীয় কর্মে উদ্বুদ্ধে তিনি সদা সর্বাবস্থায়।

অনুভবে আর অভিপ্রায়ে ইংরেজ শাসন অবসানে
জনতার মুক্তি ও আত্মসচেতনতা বৃদ্ধিতে বলীয়ান,
আধুনিক আর মানবতাবাদে ঐক্যবদ্ধতার প্রত্যয়ে
নীলকর বণিক ও শোষণ থাকবে না কণ্ঠে মহীয়ান।

প্রত্যক্ষ সংগ্রাম নয় ঠিক তবুও মানুষ সচেতনতায়
ধীরে ধীরে তা মুক্তির পথ খোঁজে সর্বত্র মানবতায়,
সুন্নাহর পথে থেকে জাতি অবিরত মুক্তির সন্ধানে
আলোর মিছিলে গর্জে ওঠে সাহসে স্বাধীন সত্তায়।

বর্তমানে শরীয়তপুর নামকরণ তাঁকে পূর্ণ সম্মানে
ইতিহাস কথা বলে যুগযুগান্তর বা কাল-মহাকালে,
যে জাতির বুক সাহস-পূর্ণ তাদের কে ভয় দেখায়!
বৃটিশ লৌহকপাট ভাঙ্গার সূচনা প্রজ্বলিত মশালে।

06/08/2026

কাব্যগ্রন্থ
"চির ভাস্বর মানচিত্র"
(০৬)

পাখির আড্ডা

বউ কথা কও ডাকছে পাখি, বউ না দেয় সাড়া,
গল্প কথার কল্পলোকে নিত্য চলমান কাব্যধারা।
জোড়া-শালিক বসা ওই আমলকির আবডালে,
দেখায় না-কি ভাগ্য সুপ্রসন্ন, বুড়ো-বুড়িরা বলে।

পেত্নীর মতো হুতুম পেঁচা সর্বদা চোখ বুজে রয়,
সূর্যের আলোকচ্ছটা না-কি এর মোটে সহ্য নয়।
বুলবুলিটাও সুর তোলে আম্রপালির আগডালে,
চড়ুই রয়েছে মহা-সুখে অলি মিঞার ছাঁদ-তলে।

ফিঙে নাচে লেজ উঁচিয়ে আর টুনটুনি টুনটনায়,
মাছরাঙা দীঘি-জলে, পানকৌড়ি অহরহ ডুবায়।
টিয়া পাখির মানুষের স্বর, ময়নাও আছে সাথে,
এদিক-সেদিক তাকায় দোয়েল, ব্যস্ত ভাবনাতে।

কাকের বাসায় কোকিল ছানা, তা-ই খুবই রাগে,
কোকিল গায় কুউহু কুউহু সাজানো পল্লী-বাগে।
আধ-মরা নদীর মাছ শিকারী সাদা বকের সারি,
পায়রা মেলে ডানা, আকাশের পরনে নীল শাড়ী।

শান্ত ঘুঘু কৌতূহলী, কাঠ ঠোকরাটায় উৎপাতে,
চিল উড়ে মেঘের তলে, অবিরত সে বাজিমাতে।
বাবুই পাখি সুখে গড়ছে বাসা, নিপুণ কারুকাজ,
পাখির আড্ডায় মজে প্রকৃতি, সাজ আর সাজ।

06/08/2026

কাব্যগ্রন্থ
"চির ভাস্বর মানচিত্র"
(০৫)

নারী জাগরণ

ধরণীর বুকে হেরার ঘোষণা, নারীর সম্মান,
তমসাচ্ছন্নতায় সারাক্ষণে আলো দীপ্তিমান।
মা নারী, ভগ্নী নারী আবার নারী অর্ধাঙ্গিনী,
পুরুষের চেতনা অহর্নিশ পথ চলায় সঙ্গিনী।

নারী মহীয়সী, ত্যাগী, বুক ভরা ভালোবাসা,
হাসিতে স্বর্গ নামে মর্ত্যে, বেঁচে থাকা আশা।
স্রষ্টার নির্দেশ মতেই নারীর ন্যায্য অধিকার,
তাকে দিতে চায় না সম্মান মাত্রই কুলাঙ্গার।

সভ্যতাকে ঢেলে সাজাতে নারীরা প্রতিক্ষণ,
প্রেরণার উৎস পুরুষের ভাবান্তরে অনুক্ষণ।
কর্ম, ধর্ম আর পুণ্যে বসুমতী করে পরিপূর্ণ,
মরুভূমির বালুকণা পদস্পর্শে নিশ্চিত ধন্য।

সন্তানের দুঃখ-কষ্টে মমতাময়ী মা অবিরত,
আহার-নিদ্রা ভোলে সন্তানের চিন্তনে নিত্য।
ধরাধামের সৌন্দর্য কি-বা কল্যাণে সর্বক্ষণ,
সত্যি জেনো, নারী পাশে নিরন্তরে আমরণ।

কবির ভাবনা নারী সাথী সাহসে পথ চলায়,
সুখ-শান্তির শুভ্র পায়রা সদা মায়া-মমতায়।
বসুন্ধরা যেমন সুন্দরী তেমনই সুন্দরী নারী,
জাগরণে সতত সযত্নে সহযোগী হতে পারি।

05/08/2026

কাব্যগ্রন্থ
"চির ভাস্বর মানচিত্র"
(০৪)

সকল দেশের সেরা দেশ

আমার মায়ের আঁচল পাতা সবুজ ঘাসে,
দিগন্তে দাঁড়িয়ে পাহাড় নীরবে অবকাশে।
অগভীর দীঘির জলে হিজল পুষ্প ভাসে,
তরণী-তে বিবেক কবির বক্তৃতা উচ্ছ্বাসে।

পদ্ম ফোটা পুকুরে সর্বদা লাল পদ্ম হাসে,
এলোকেশী নব গেঁয়ো বধুর স্নান উল্লাসে।
শ্রাবণ-ধারা অঝোরে ঝরে, পথ কর্দমাক্ত,
নীরবে কবি গৃহ-কোণে কাব্য রচনায় মত্ত।

শরতে আকাশ সাদা মেঘে, চিত্র মনোহর,
মৃদুমন্দ পবনে কাঁশবনের দোলা মুগ্ধকর।
রূপের পসরা সাজিয়ে ফাগুন বসুন্ধরায়,
বৃক্ষ নতুন সাজে, কোকিল কুহু কুহু গায়।

মধুময় মধু-যামিনী, মধুমক্ষিকা মধু বনে,
মধুকরী মহাসুখে অবিরাম ভ্রমর গুঞ্জনে।
বাঁশ পাতা ফাঁকে শুভ্র চাঁদের বাঁকা হাসি,
ঘুম ভাঙে নদীর কল্লোলে, ধ্যানমগ্ন ঋষি।

সকালে সোনার রবি সোনা রঙে রাঙায়,
সকল দেশের সেরা দেশ অপরূপ ধরায়।
ধন্য মাগো তোর কোল নিঃশ্বাস-বিশ্বাসে,
জন্ম ও জনম সার্থক তোরে ভালোবেসে।

02/08/2026

কাব্যগ্রন্থ
"চির ভাস্বর মানচিত্র"
(০৩)

অত্যুজ্জ্বল স্বাধীনতা

অবারিত সবুজের বুকে অত্যুজ্জ্বল সোনার ছবি,
ভাব, চিন্তন আর অনুপ্রেরণায় আবেগাপ্লুত কবি।
কল্পলোকের হাজার কল্পনায় বর্ণমালারে সযতন,
ভাবাবেগের একতানে কলম দুর্বার গতিতে যখন।

ভাব-রাজ্যে প্রত্যয়, স্বাধীনতার অধিকারে অভয়,
পরাধীনতার শৃঙ্খল মুক্ত, রাক্ষস আস্তাকুঁড়ে রয়।
স্বাধীনতা অহর্নিশ পরশ পাথর, রক্তার্জিত ঐশ্বর্য,
ভাবোদ্দীপক পিতার চাউনি, মায়ের অসীম ধৈর্য।

শ্রাবণে অঝোরে বর্ষণ, শান্ত পল্লী-বাংলা গৃহদ্বার,
মরা প্রবাহিনী উথল-পাথলে ভাব-তরঙ্গ দুর্নিবার।
ধানকাটা চাষীদের ঝরা ঘামে পরিতৃপ্ত সুখ মধুর,
অনাবিল আনন্দে বিভোর সুখ-তান গেঁয়ো বধুর।

মৌ মৌ ফসলের ঘ্রাণেই মাতোয়ারা ভরা মরসুম,
ভাওয়াইয়ায় আত্মভোলা বাউল নিঃসঙ্গ, নিঝুম।
হিম সমীরণে পল্লব কাঁপে, শিহরণ ভালোবাসার,
পৌষ-পার্বণে রস আস্বাদনে আয়োজন বাংলার।

ফাগুন আগমনী বার্তায় বসুমতি সাজে অপরূপ,
দামাল ছেলেদের হুলুস্থুল, দৃষ্টে বৈশাখের স্বরূপ।
এতো হাসি, এতো খুশি, হৃদে বাঁধভাঙা জোয়ার,
আমার মাঝে সদা আমায় চিনি, গর্ব স্বাধীনতার।

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when অব্যক্ত কথা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category