25/05/2026
দস্যু অঙ্গুলিমালকে দমন:
অঙ্গুলিমাল শ্রাবস্তী নগরে কোশলরাজ প্রসেনজিতের পুরোহিত ভার্গব ব্রাহ্মণের পুত্র। যে মুহূর্তে তিনি ভূমিষ্ট হন, তখন সমস্ত নগরের অস্ত্রশস্ত্রসমূহ হতে আগুনের শিখা বের হয়েছিল। রাজার মঙ্গলায়ুধ তাঁর শয়নকক্ষে ছিল। তা হতেও আগুনের শিখা বের হয়েছিল। তা দেখে রাজা ভীত উদ্বিগ্ন হয়ে আর ঘুমাতে পারলেন না। পুরোহিত ঔই লক্ষণ দেখে চোর নক্ষেত্রে পুত্রের জন্মের বিবরণ জ্ঞাত হলেন। তিনি ভোরে রাজদর্শনে এসে রাজাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কেমন রাজন, সুনিদ্রা হয়েছে তো? রাজা বললেন, কোথায় আচার্য সুনিদ্রা! আজ রাতে আমার মঙ্গলায়ুধ হতে কেন জানি আগুনের শিখা বের হলো, বলুন তো? পুরোহিত বললেন, মহারাজ, ভয় করবেন না, আমার এক পুত্র জন্মেছে; তার প্রভাবে এই কাণ্ড হয়েছে।’ ‘সে কেমন হবে?’ মহারাজ, ‘সে চোর হবে।’ ‘একচর চোর, না দলবদ্ধ চোর হবে?’ মহারাজ, একচর চোর হবে। রাজা বললেন, ‘তাকে কি হত্যা করাব?’ পুরোহিত চুপ করে রইলেন। রাজা পুনঃরায় বললেন, যদি একাকি চুরি করে, সে কী করতে পারবে? তাকে পালন করো। তার জন্মক্ষণে রাজার চিত্তে দুঃখ দিয়েছে বলে শিশুর নাম রাখলেন ‘হিংসক’। কিন্তু পরে তার সদাচরণে অহিংসক বলে প্রকাশিত হলো। পূর্বজন্মের কর্মের ফলে অহিংসক সাতটি হাতির বলসম্পন্ন হন। বয়ঃপ্রাপ্তির পর বিদ্যাশিক্ষার জন্য অহিংসক তক্ষশিলায় গিয়ে এক আচার্যের কাছে বিবিধ শিল্প শিক্ষা করতে লাগল। সে আচার্যকে ও আচার্যের স্ত্রীকে যত্নসহকারে সেবা করত। তার এমনই মেধা ও অধ্যবসায় ছিল যে, সহধ্যায়ীদের কেউই তার সমকক্ষ হতে পারেনি। তার অধ্যবসায় ও সেবা-যত্নে সন্তুষ্ট হয়ে আচার্যের স্ত্রী যা পায় তাকে দিত। কিন্তু অন্য ছাত্রদের তা সহ্য হলো না। এতে তারা ঈর্ষাপরতন্ত্র হয় এবং তাদের চক্রান্তে আচার্যের মনে মিথ্যা ধারণা জন্মে যে, অহিংসক তার স্ত্রীর সঙ্গে গুপ্ত প্রেমে আবদ্ধ। এভাবে নানা কৌশল প্রয়োগ করে ছাত্ররা আচার্যের মন বিগড়ায়ে ফেলল। আচার্য ভাবলেন, ‘অহিংসক বড় শক্তিশালী, একে কৌশলে মেরে ফেলতে হবে।’ একসময় স্কুল ছুটি হলে অহিংসক নগরে যাচ্ছিল, এমন সময়ে আচার্য তাকে ডেকে বললেন, ‘দেখো অহিংসক, তোমার বিদ্যাশিক্ষা সমাপ্ত হয়েছে, এখন আমাকে গুরু দক্ষিণা দিয়ে তুমি বিদায় গ্রহণ করো।’ সে বলল, ‘অতি উত্তম আচার্য, তবে আপনাকে কীরূপ দক্ষিণা প্রদান করব?’ আচার্য বললেন, আমার দক্ষিণা হবে ‘মানুষের ডান হতের এক হাজার আঙুল।’ আচার্য মনে করেছিলেন, ‘যখন সে এতগুলো নরহত্যা করবে, অবশ্যই যে কেউ তাকে মেরে ফেলবে।’ অহিংসক নিজেও একটু নিষ্ঠুর প্রকৃতির ছিল, তা শুনে সে সানন্দে অস্ত্রে-শস্ত্রে সজ্জিত হলো। কোশলরাজ্যে জালিনি নামে এক বনখণ্ড ছিল, সেই বনে তার বাসস্থান করল। পর্বতের কাছে এক সদর রাস্তা ছিল, সে পর্বতশিখরে বসে লোকজনের যাতায়াত প্রত্যক্ষ করত, যখনিই দেখত রাস্তা দিয়ে লোক যাচ্ছে, অমনি ভীমপরাক্রমে ধাবিত হয়ে অঙ্গুলগুলো কেটে আনত এবং গাছের ডালে ঝুলিয়ে রাখত। ওই কর্তিত অঙ্গুল কিছু কিছু কাক, শকুনেরাও খেয়ে ফেলত।’ কতগুলো আঙুল মাটিতে পড়ে পচে যেত। এভাবে বহুদিন গত হবার পরও হাজার আঙুল পূর্ণ করতে পারল না। তার পর সে সূতো দিয়ে মালাকারে আঙুল গেঁথে যজ্ঞোপবীতের মতো কাঁধে ঝুলিয়ে রাখত। সেই হতে তার নাম হলো ‘অঙ্গুলিমাল’। তার ভয়ে সদর রাস্তা দিয়ে পথিকদের গমনাগমন বন্ধ হলো। গমনাগমন বন্ধ হওয়ায় সেই রাস্তায় মানুষ না পেয়ে এবার গ্রাম্য রাস্তার ধারে এসে লুকিয়ে রইল। সেখানে বহু নরহত্যার পর গ্রামবাসীরা গ্রাম ছেড়ে পলায়ন করল। এখন গ্রামে-নগরে সর্বত্র তার ভয়ে মানুষ সন্ত্রস্ত হলো। এতদিনে হাজার আঙ্গুলের মধ্যে তার আর একটি মাত্র আঙুল বাকি রইল। এ সময় তার উপদ্রবের বিষয় মানুষেরা রাজার কর্ণগোচর করল। কোশলরাজ এই সংবাদ পেয়ে ভেরী পিটিয়ে ঘোষণা করলেন যে, ‘শিগগিরই চোর অঙ্গুলিমালকে ধরতে হবে, সৈন্যগণ আগমন করুক।’ তখন অঙ্গুলিমালের মাতা মন্তানী এ সংবাদ তার পিতাকে জানাল। ‘তোমার পুত্র চোরবেশে বহু গুরুতর ঘটনা করছে, তাকে এই কাজ না করো বলে জানিয়ে তাকে নিয়ে আসো, না-হয় রাজা তাকে হত্যা করে ফেলবে।’ ব্রাহ্মণ বললেন, ‘আমার তেমন কুলাঙ্গার পুত্রের প্রয়োজন নেই, রাজার যা ইচ্ছা তা করুক।’ কিন্তু পুত্রবৎসলা মা তা সহ্য করতে পারলেন না, কিছু পাথেয় সংগ্রহ করে ‘পুত্রকে যেকোনো প্রকারে বুঝিয়ে আনব’ এই উদ্দেশ্যে জালিনি বনের দিকে যাত্রা করলেন। তখন ভগবান দিব্যচোখে দেখলেন, ‘তার মাতা আজ পুত্রকে ফিরিয়ে আনার ইচ্ছায় যাচ্ছে, যদি সে যায়, অঙ্গুলিমাল তার মাকে হত্যা করে হলেও হাজার আঙুল নিশ্চয়ই পূর্ণ করে নেবে।’ এই কারণে সে আজ মাতৃহত্যা করে তার মার্গফলের অন্তরায় ঘটাবে। ‘যদি আমি সেখানে না যাই, তার মহাপরিহানি হবে।’ ভগবান এ বিষয়টা জ্ঞাত হয়ে বিকালবেলায় পাত্র-চীবর গ্রহণ করে অঙ্গুলিমালের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। তার অবস্থিত স্থান জালিনিবন শ্রাবস্তী হতে ত্রিশ যোজন। ভগবান পায়ে হেঁটে চলতে লাগলেন। পথিমধ্যে রাখালেরা নিষেধ করতে লাগল যে, ‘ভগবন, এই রাস্তা দিয়ে যাবেন না।’ কিন্তু বুদ্ধ কারও কথায় কর্ণপাত না করে জালিনিবনে উপস্থিত হলেন। অঙ্গুলিমাল তখনি তার মাকে দেখতে পেল। দূরে থাকতে মাকে দেখে ভাবল, ‘আজ মাতৃহত্যা করেই অবশিষ্ট আঙুলটি পূর্ণ করে নেব।’ তাই অসি উত্তোলন করে সবেগে ধাবিত হলো। অঙ্গুলিমাল ও তার মায়ের দূরত্ব সামান্য আছে, এমন সময় বুদ্ধ উভয়ের মধ্যস্থলে দেখা দিলেন। সে ভগবানকে দেখে ভাবল, ‘আর মাতৃহত্যা করব কেন, মা জীবিত থাকুন, এখন এই শ্রমণকে মেরে হাজারটা আঙুল পূর্ণ করে নেব। সে উক্ষিপ্ত অসি নিয়ে ভগবানের অনুধাবন করল। ভগবান তখন এমন এক ঋদ্ধি প্রদর্শন করলেন, যেন তিনি আআস্তে আআস্তে পথ চলছেন, অথচ অঙ্গুলিমাল সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করেও ভগবানের কাছে পৌঁছাতে পারল না। সে অবশ হয়ে পড়ল, শ্বাসপ্রশ্বাসের ঘর্ঘর্ শব্দ ছুটল, সমস্ত শরীর ঘর্মাক্ত হলো এবং পা চালাতে অসমর্থ হলো, স্থাণুবৎ দাঁড়িয়ে ভগবানকে বলল, ‘হে শ্রমণ দাঁড়াও।’ ভগবান হাঁটতে হাঁটতে বললেন, ‘অঙ্গুলিমাল, আমি স্থিত আছি, তুমি দাঁড়াও।’ ভগবানের এই কথা শুনে সে ভাবল, ‘এই শাক্যপুত্রীয় শ্রমণগণ সত্যবাদী, অথচ তিনি পথ চলতে চলতে আমাকে বলছেন, ‘অঙ্গুলিমাল, আমি স্থিত আছি, তুমি দাঁড়াও।’ সে ভাবল ‘আমি দাঁড়িয়েছি, এই কথা বলার উদ্দেশ্য কি?’ না তাঁকে একবার জিজ্ঞাসা করি :
হে শ্রমণ, তুমি গমনাবস্থায় থেকেও ‘আমি স্থিত আছি’ বলছ, আমাকে স্থিতাবস্থায় দেখেও তুমি ‘অস্থির বলে’ বলছ, বোধ হয় এখানে কোনো রহস্য থাকবে। সে কারণে হে শ্রমণ, আমি এই বিষয় তোমাকে জিজ্ঞাসা করছি, তুমি কী প্রকারে স্থিত আছ, আর আমি কী প্রকারে অস্থিত আছি?”
“অঙ্গুলিমাল, আমি সর্বদা সমস্ত প্রাণীদের প্রতি দণ্ডদান নিবারণ করে স্থিত আছি, তুমি প্রাণীদের প্রতি অসংযম আচরণ করছ, সেই কারণে আমি পথ চললেও স্থিত, তুমি দাঁড়িয়ে থেকেও অস্থিত আছ।”
অঙ্গুলিমাল ভগবানের এ কথা শুনে পানিতে তেল নিক্ষিপ্ত হলে যেমন তাড়াতাড়ি পরিব্যাপ্ত হয়ে যায়, তেমন ভগবানের সুব্যাপ্ত সুকীর্তি পূর্বে শুনতে পেয়েছিল বলে ও জ্ঞানের পরিপক্বতা বিধায় অতিশয় আনন্দিত হলো। ভাবল, এই মহাসিংহনাদ, এই মহাগর্জন অন্য কারও নয়, নিশ্চয়ই এটা শ্রমণ গৌতমের গর্জন, এই মহাপুরুষ সম্যকসম্বুদ্ধ, আজ তিনি আমাকে দেখা দিলেন, তিনি আমার উপকারের জন্যই এখানে শুভাগমন করেছেন।
“বহুদিন পর আমাকে অনুগ্রহ করার জন্য সর্বলোক-পূজিত মহর্ষি শ্রমণ এই মহাবনে উপস্থিত হয়েছেন, আমি তোমার ধর্মসংযুক্ত গাথা শ্রবণ করেছি। আমার সুদীর্ঘকাল সঞ্চিত সেই হাজার পাপ পরিত্যাগ করব।”
এই বলে তখনি অঙ্গুলিমাল ছিন্নতটে, প্রপাতে ও বিদীর্ণ ভূমির বিবরে অসি এবং অন্যান্য অস্ত্রসমূহ নিক্ষেপ করল। তারপর অগবানের পায়ে বন্দনা করে সেখানেই বুদ্ধের কাছে প্রব্রজ্যা প্রার্থনা করল।
সেই সদেব সত্ত্বলোকের কারুণিক মহর্ষি বুদ্ধ তখন হাত প্রসারণ করে ‘এসো ভিক্ষু’ বলার সঙ্গে সঙ্গে অঙ্গুলিমালের ঋদ্ধিময় পাত্র-চীবরসহ প্রব্রজ্যা ও উপসম্পদা লাভ হলো। পরে ভাবনাবলে অর্হত্ত্বফল প্রাপ্ত হয়ে বিমুক্তিসুখ-জ্ঞাপক এই প্রীতিগাথা উচ্চারণ করলেন :
“যখন কোনো গৃহস্থ-প্রব্রজিত পাপমিত্র সংসর্গে পড়ে প্রথমে সদাচরণে ভুল করে থাকে, পরে কল্যাণমিত্রের সংসর্গে শমথ-বিদর্শন ভাবনাবলে ত্রিবিধ বিদ্যা ও ষড়ভিজ্ঞা প্রাপ্ত হয়, তখন সে মেঘমুক্ত চন্দ্রতুল্য স্বীয় বিদ্যাবলে এই পঞ্চস্কন্ধাদি লোককে উদ্ভাসিত করে।
যার পূর্বকৃত পাপকর্মকে লোকোত্তর কুশল দ্বারা আবৃত করে, সেও ... । বায়ু, রৌদ্র প্রভৃতির উপদ্রব অগ্রাহ্য করে যেই তরুণ সাধক ভিক্ষু প্রাণপণে বুদ্ধশাসনে সগৌরবে শিক্ষাত্রয় সম্পাদন করে, সেও ... ।
যখন অঙ্গুলিমাল স্থবির নগরে পিণ্ড সংগ্রহের জন্য প্রবেশ করতেন, তখন কেউ অন্যদিকে ঢিল, দণ্ড ছুড়লেও এগুলো এসে তাঁর শরীরে পড়ত, তিনি ভাঙ্গাপাত্রে বিহারে প্রত্যাবর্তন করে বুদ্ধের কাছে যেতেন। বুদ্ধ তাঁকে উপদেশ দিতেন, ‘হে ব্রাহ্মণ, সহ্য করো, তুমি যেই পাপকর্ম করেছ, এর ফলে বহু হাজার বছর নরক যন্ত্রণা ভোগ করতে, অথচ তুমি সেই কর্মফল ইহজন্মে ভোগ করে যাচ্ছ।’ অঙ্গুলিমাল সমস্ত প্রাণীর প্রতি অসীম অনন্তভাবে মৈত্রীচিত্ত পোষণ করে বলছেন :
যারা আমার কারণে জ্ঞাতিবিয়োগ দুঃখ ভোগ করেছেন, তারা আমার ধর্মকথা শ্রবণ করুন। আমার কথা শুনে সকলে বুদ্ধশাসনে সৎকার্য সম্পাদনে নিযুক্ত হন। তারা ধার্মিক কল্যাণমিত্রদের সেবা করুন। যারা লোকোত্তর ধর্ম গ্রহণ করাতে সমর্থ, তাদের সেবা করুন।
যারা ক্ষান্তিশীলতার কথা বলেন, যারা মৈত্রীধর্মের প্রশংসা করেন, সময়ে তাদের নিকটে গিয়ে ধর্ম শ্রবণ করুন এবং যথাধর্ম আচরণ করুন।
কেউ আমার শত্রু হয়ে আমাকে হিংসা করবেন না, কেবল আমাকে নয়, অন্য কাকেও হিংসা করবেন না। পরম শান্তি বা নির্বাণপদ প্রাপ্ত হয়ে সমস্ত সত্ত্বদিগকে পুত্রবৎ প্রতিপালন করবেন।
জলার্থীরা নালাযোগে ইচ্ছিত ইচ্ছিত স্থানে জল নিয়ে যায়, ইষুকারগণ ইষু উত্তপ্ত করে বক্রতাকে সোজা করে বাণ প্রস্তুত করে, কারিগরেরা কাঠকে আঘাত করে যা ইচ্ছা সোজা ও বাঁকা করে, পণ্ডিতগণ নিজকে অর্হত্ত্বফলের দ্বারা দমন করেন, এ জগতে কেউ কেউ বিবিধ দণ্ড দ্বারা অর্থাৎ হাতিকে অঙ্কুশ দ্বারা, ঘোড়াকে কশাঘাত দ্বারা দমন করে, কিন্তু আমি শাস্তা কর্তৃক বিনা দণ্ডে, বিনা অস্ত্রে দান্ত হয়েছি।
আগে আমার নাম হিংসক যোগ্য থাকলেও আমি অহিংসক নামে পরিচিত হতাম। আজই আমার অহিংসক নাম সত্যতায় পরিণত হলো, আমি আর কাকেও হিংসা করি না।
আমি আগে দস্যু অঙ্গুলিমাল নামে বিশ্রুত ছিলাম; কাম-ভব-দৃষ্টি-অবিদ্যাস্রোতে ডুবে যাওয়ার সময়ে বুদ্ধের শরণে উপস্থিত হই।
আমি আগে রক্তপাণি অঙ্গুলিমাল নামে বিশ্রুত ছিলাম; মহাফলদায়ক শরণগমনের প্রভাব দেখ, আমার ভবতৃষ্ণা সমূহত হয়েছে।
আমি শতশত পুরুষ বধ ও এরূপ বহু দুর্গতিগামী কর্ম করেছি, তবুও লোকোত্তর কর্মের ফলস্বরূপ বিমুক্তিসুখ লাভ করেছি। অঋণী হয়ে অর্থাৎ স্বামী পরিভোগে চার প্রত্যয় সেবন করছি।
ইহ-পরলোকের হিতসাধনে অজ্ঞানী ও প্রমাদকর বিষয়ে অদোষদর্শী দুর্মেধ ব্যক্তিগণ প্রমাদসহকারে সময় ক্ষেপণ করে থাকে, ধর্মজ্ঞানী মেধাবী উত্তম সপ্তরত্নের ন্যায় অপ্রমাদকে রক্ষা করে।
প্রমাদসহকারে কাল ক্ষেপণ করো না, কামরতি উপভোগের জন্য সচেষ্ট হয়ো না, স্মৃতিশীল অপ্রমত্ত ব্যক্তিই সাধনাবলে উত্তম নির্বাণ সুখকে প্রাপ্ত হয়।
তখন শাস্তার নিকটে আমার আগমন ও এই মহাবনে শাস্তার আগমন শুভাগমন হয়েছে, অন্যায়ভাবে আগমন হয়নি। শাস্তার কাছে প্রব্রজ্যা গ্রহণের যে মন্ত্রণা, তা সুমন্ত্রণা হয়েছে। সদোষ-নির্দোষ ধর্মের মধ্যে উত্তম নির্বাণমূলক ধর্মে উপনীত হয়েছি ... । আমি ত্রিবিধ বিদ্যা প্রাপ্ত হয়েছি, বুদ্ধের শাসনে কৃতকার্য হয়েছি।
আগে আমি যেই যেই অরণ্যে, বৃক্ষমূলে, পর্বতে, গুহায় অবস্থান করতাম, সেই সেই স্থানে তখন উদ্বিগ্ন চিত্তে থাকতাম।
এখন আমি সুখে শয়ন করছি, সুখে অবস্থান করছি, সুখে জীবনযাপন করছি। অহো, আমি বুদ্ধের দয়া প্রাপ্ত হয়ে এখন ক্লেশমার প্রভৃতির অগোচরে বাস করছি।
আমি পরিশুদ্ধ মাতৃ-পিতৃকুলে ব্রাহ্মণের পুত্ররূপে পূর্বে জন্মগ্রহণ করেছিলাম, আজ আমি ধর্মরাজ সুগত শাস্তার পরমার্থ ব্রাহ্মণ পুত্র নামে অভিহিত।
এখন আমি বীততৃষ্ণ হয়েছি, আমার বলে কিছুই গ্রহণের নেই, ইন্দ্রিয় আমার সংযত-সুরক্ষিত হয়েছে, পাপের মূলোচ্ছেদ করে আমার আসক্তি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে।
শাস্তা এখন আমার সুপরিচিত, বুদ্ধের শাসনে আমি কৃতকার্য হয়েছি, পঞ্চস্কন্ধের ভার নেমে ফেলেছি ও আমার ভবতৃষ্ণা সমূহত হয়েছে।—থেরগাথা