11/03/2026
গল্পের নাম:
💘 না বলা ভালোবাসা💘
একটি ছোট গ্রাম। সেখানে মাহিম নামে শান্ত ও গম্ভীর স্বভাবের একটি ছেলে বাস করত। তার বাড়ির কাছেই একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল, যেখানে সে পড়াশোনা করত। কিন্তু হঠাৎ করেই একদিন সে তার বাবা-মায়ের সাথে শহরে চলে যায়। ৪ মাস শহরে থাকার পর মাহিম আবার গ্রামে ফিরে আসে এবং সেই আগের প্রতিষ্ঠানেই পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হতে যায়।
কিন্তু কোনো কারণে সেখানে তার ভর্তি হওয়া সম্ভব হয়নি। উপায়ান্তর না দেখে সে পাশের একটি মাদ্রাসায় ভর্তি হয়। সেখানে তার নতুন শিক্ষাজীবন বেশ ভালোই কাটছিল। শুরুতে কাউকে তেমন চিনত না, তবে ধীরে ধীরে সবার সাথে তার পরিচয় ও বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।
হঠাৎ একদিন সে একজনকে দেখে চিনতে পারল—সেটি ছিল তার ছোটবেলার 'ক্রাশ' সানজিদা! স্মৃতিচারণ (২০১৮ সাল): তখন মাহিম দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত। কোনো এক জায়গায় সে প্রথম সানজিদাকে দেখেছিল। তখন থেকেই তাকে তার খুব পছন্দ ছিল, কিন্তু ভয়ে কখনো মনের কথা বলতে পারেনি।
বর্তমান সময়: পঞ্চম শ্রেণিতে মাদ্রাসায় ভর্তি হওয়ার পর মাহিমের সাথে সানজিদার আবার দেখা হলো। আগের মতো মাহিম এবারও ভয়ে তাকে কিছু বলতে পারছিল না। কিন্তু তাদের মধ্যে খুব সুন্দর একটি বন্ধুত্ব তৈরি হলো। একপর্যায়ে মাহিম সাহস সঞ্চয় করে তাকে নিজের মনের কথা বলেই ফেলল। কিন্তু সানজিদা কোনো উত্তর দিল না।
এর পর বেশ কিছুদিন তারা কেউ কারো সাথে কথা বলেনি। মাহিম নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করল যে এগুলো হয়তো শুধুই আবেগ, ভালোবাসা নয়। কিন্তু তার মন মানছিল না। কিছুদিন পর আবার তাদের মধ্যে কথা বলা শুরু হলো এবং তারা আবারও ভালো বন্ধু হয়ে উঠল।
এমন সময় মাহিম জানতে পারল যে সানজিদা অন্য একজনের সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছে। প্রথমে মাহিম বিশ্বাস করেনি; ভেবেছিল হয়তো ক্লাসের বড় ভাইদের সাথে সাধারণ কথা বলছে। কিন্তু পরে সে নিজের চোখে সানজিদাকে ইয়ামীন নামের একজনের সাথে কথা বলতে দেখল, যে কি না তাদের চেয়ে এক বছরের বড়।
অন্যের ভালোবাসার মাঝে কাঁটা হতে চায়নি বলে মাহিম আর নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করার সাহস পায়নি। মাহিম মনে মনে সিদ্ধান্ত নিল যে জীবনে সে আর কাউকে ভালোবাসবে না। তার কাছে মনে হতে লাগল—ভালোবাসা মানেই জীবন অন্ধকার।
সে অনেক কষ্ট পাচ্ছিল। এমনকি কষ্টের তীব্রতায় দু-একবার নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার চিন্তাও তার মাথায় এসেছিল। কিন্তু পরক্ষণেই তার মনে পড়ল—আত্মহত্যা মহাপাপ, আর তার বাবা-মায়ের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা। সে নিজেকে সামলে নিয়ে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করল, কিন্তু সানজিদাকে ভুলে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হলো না। প্রতি রাতে নীরবে তার চোখ থেকে পানি ঝরত।
পরবর্তীতে তাদের মধ্যে আবারও বন্ধুত্ব হলো, তবে মাহিম তার মনের কথা আর কখনো প্রকাশ করতে পারেনি। সে জানত না কখনো পারবে কি না, কিংবা বললেও কোনো লাভ হবে কি না। কারণ সে যাকে ভালোবাসে, সেই মেয়েটি তো অন্য একজনের প্রতি আসক্ত।
সমাপ্ত