The AHSAN Philosophy

The AHSAN Philosophy People search for peace. But peace resides in your mind.

14/07/2026

,,,,, বান্দার হক,,

মুরগি যখন ডানা মেলে আগলে রাখে ছানা,
চিলের সাথে করে লড়াই, জীবন দেবে, ছানা দেবে না।
হরিণ মায়ের বুকের মাঝে কত যে মায়া ভরা,
বাঘের মুখেও ছুটে যায় সে—সন্তান বাঁচুক সারা।

আমার মা, তোমার মা—একই স্নেহভরা বুক
সন্তান হাসুক, এইটুকুই চাই, এইতো তাদের সুখ।

আগুন যদি ছুঁতে আসে বুকের ধনের গায়,
মা-ই আগে সেই আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়তে চায়।

এ তো শুধু অসীম সাগরের এক ফোঁটা মায়া, দয়াময়ের দান,
এইটুকুতেই থরথর কাঁপে, ধরার কোটি প্রাণ।

ভাবো তবে সেই মহান রব, দয়ার যার নেই শেষ,
যাঁর রহমতে বেঁচে আছে আসমান-জমিন বেশ।

তিনি নিজেই, মানুষ গড়ে, বলেছিলেন ফেরেশতায়,
"আমি জানি, তোমরা জানো না"—রহস্য লুকায় তায়।

এত প্রিয় সেই বান্দাকে কি তিনি দূরে ঠেলে দেবেন?
তাওবার অশ্রু ঝরলে তিনি ক্ষমার দ্বারই খুলবেন।

মা তো পেয়েছে মায়ার সাগর হতে এক ফোঁটা আলো,
তবু সন্তানের হাজার ভুলে বাসে তাকে ভালো।

কাঁদতে কাঁদতে যদি সন্তান বলে—"মা, করো ক্ষমা",
এক নিমিষে ভুলে যায় মা, বুকের যত ব্যথা ছিলো জমা।

তবে যিনি মায়ার মালিক, দয়ার সীমাহীন সাগর,
বান্দাকে যে তিনি কত ভালোবাসেন, প্রমাণ কি লাগবে তার?

বান্দা যদি ফিরে এসে বলে—"হে রব! করেছি ভুল",
রহমতেরই দরিয়া বয়ে মুছে দেন তিনি সকল পাপের ধূল।

তবু কেন জাহান্নামের আগুন? কেন সেই আহাজারি?
কোথায় গিয়ে থেমে যাবে মানুষের মুক্তির তরী?

তবে যিনি দয়ার সাগর, মায়ার সীমাহীন রব,
তাওবার অশ্রু দেখলে কি ফিরিয়ে দেবেন সব?

আটকে যাবে কোথায় গিয়ে? ভাবো একবার মন।
''বান্দার হক'' ই তাহলে হবে সেই কারণ?

ভাইয়ের হক, বোনের হক, মায়ের চোখের জল,
এতিমের হক, গরিবের হক, শ্রমিকের ঘামের ফল;
কারো মনে দিয়েছ যদি অন্যায় কোন আঘাত
সেই হিসাবই সামনে দাঁড়িয়ে আটকে দিবে পথ।

ঘুষের টাকায় গড়া সুখ, সুদের বিষের ভাত,
অন্যায় করে কেড়ে নেওয়া মানুষেরই প্রাপ্য হক;
সবই সেদিন সাক্ষী হবে মহান রবের কাছে,
একটি জুলুম লুকাবে না কোনো মিথ্যা সাজে।

সেদিন কেউ কারো হবে না, থাকবে নিজের ভয়,
নিজের আমল, নিজের হিসাব—নিজেকেই দিতে হয়।

আল্লাহর হক—তিনি চাইলে ক্ষমা করেন দয়ায়,
বান্দার হক রয়ে গেলে বিচার থামে কোথায়?
যার হক তুমি নষ্ট করেছ, সে যদি না করে ক্ষমা,
সেই পাওনাই আটকে দিতে পারে মুক্তির সব সীমা।

তাই আজই ফিরিয়ে দাও যার যা ন্যায্য অধিকার,
ক্ষমা চাও সেই মানুষের কাছে, হক নষ্ট করেছ যার।
মানুষের হক

08/07/2026

,,,,,,,,,,,, ধিক্কার ,,,,,,,,,,,,,

আজ তোদের আঁতে ঘা লাগে,
দিলে চোট লাগে,
রক্তে জেদ জাগে হে কিট ( পরিত্যক্ত টয়লেটের মল থেকে জন্ম নেয়া পোকা)
ফিলিস্তিন সিরিয়া আফগানিস্তানে,
খড়কুটা ভাসে রক্তের বানে,
এতটুকু দয়া তাদের পানে,
দেয়নি কেউ কভু ভিখ।
সদ্যোজাত সেই ছোট্ট শিশুটা
বোমার আঘাতে যার ছিন্নভিন্ন কলিজাটা,
দেয়া হয়নি তার দাফনের সময়টাও,
সেসব কি পড়েনি তোদের চোখে?
দিন শেষে কত মারলি মানুষ,
হিসাব কষিয়া খুশিতে বেহুশ,
হাত তালি দিস অগণিত লাশ দেখে।
ধিক্কার ধিক্কার ধিক্কার
মুসলিম বিশ্বের নেতাদের বলি,
আর কতদিন করবি গোলামী,
কেন রক্তাক্ত হাতে হাত মিলালি,
দুদিন বেশি ক্ষমতায় থাকতে তোদের কত ছল!!!
যেদিন মিজান করিবেন খাড়া,
অজুহাতটা করে রাখিস ভাড়া,
কেন জিহাদের ডাক দিলি না বল?
যে জমি রক্তে কাদা হয়, সে জমি খুব উর্বর হয়,

06/07/2026

,,,,,,,,,,,,,,,,,,সুন্দরে জব্দ চোখ,,,,,,,,,,,,

হাজার হাজার পাতা ঝরে পড়ে অজানায়
কিন্তু একটি ফুল ঝরে পড়লে মন বিষণ্নতা খুঁজে পায়।

শুষ্ক বৃক্ষ দাঁড়িয়ে থাকে নিঃসঙ্গ পথের ধারে,
ফুলভরা বৃক্ষের তলে কত মানুষের ভিড় পড়ে।

তেলাপোকা মরে গেলে হাত ধুয়ে নেয় মানুষ,
প্রজাপতি মরে গেলে মন ধুয়েও বিষাদ মুছতে পারে না।

কাক নীরবে মুছে দেয় পৃথিবীর বহু মলিন দাগ,
তবু তার নামে জোটে শুধু অবহেলা আর বিরাগ।

ময়না, টিয়া, ময়ূরের নেই তত উপকারের পরিচয়,
রূপের আলোয় ঢেকে যায় তবু তাদের সকল অপ্রয়োজন।

ধুলোর মাঝে পড়ে থাকা পাথরকে কেউ ইতিহাস বলে না,
কিন্তু সামান্য দীপ্তি পেলেই তার নাম হয় রত্ন।

প্রদীপের নিচেও আলো থাকে,
তবু চোখ সবসময় শিখার দিকেই তাকিয়ে থাকে।

চোখ আগে প্রেমে পড়ে, মন আসে পরে।
তাইতো মানুষ রূপের কাছে মাথা নত করে।

03/07/2026

,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,শরতের শিশির,,,,,,,,,,,,,,,,,,

এইতো সেদিন আব্বু আমায় ডাকতো বাবা বলে,
আম্মু আমায় খাইয়ে দিত খেলা করার ছলে।

হৈ-হুল্লোড় দুষ্টুমিতে কাটত আমার বেলা,
সকাল বিকাল থাকত আমার পাড়ার ক্রিকেট খেলা।

সন্ধ্যা হলে খেলা শেষে ফিরতাম ঘরের পানে,
মায়ের বকা, বাবার শাসন থাকত মায়ার টানে।

এইতো সেদিন উঠোনজুড়ে ছুটতাম হেসে হেসে,
রঙিন সুখের প্রজাপতিগুলো ধরতাম ভালোবেসে।

এইতো সেদিন ছোট্ট বুকে কত যে স্বপ্ন ছিল,
নীল আকাশটা হাত বাড়ালেই ছুঁয়ে ফেলব—মনটা বলত।

আজকে দেখি দিনগুলো সব কোথায় গেল উড়ে,
সময়ের স্রোত ভাসিয়ে নিল অচিন দেশের তীরে।

শরৎভোরের শিশির যেমন সূর্যের ছোঁয়ায় এসে,
কোথায় যেন মিলিয়ে যায়, হারিয়ে যায় শেষে।

আকাশ জুড়ে বিজলি যেমন চমক দিয়ে যায়,
এক পলকে তার দীপ্ত আলো অন্ধকারে হারায়।

সাগরের সেই নীরব স্রোত চলে আপন মনে,
ফিরে তাকায় না কখনো সে, হারানো ক্ষণ গোনে।

অস্তরাগের শেষ আলো যেমন মিলায় সন্ধ্যাতে,
জীবনটাও হারিয়ে যায় সময়েরই সাথে।

জীবন বুঝি এমন করেই ফুরিয়ে যাবে শেষে,
নিজের ছোট্ট আমিটাকে খুঁজব স্মৃতির দেশে।

01/07/2026

,,,,,,,,,,,,,,,, পূর্ণ শূন্য,,,,,,,,,,

তুমি চেয়েছিলে সোনার কানের দুল,
আমি ভেবেছিলাম কানে গুঁজে দেব লাল জবা ফুল।

তুমি চেয়েছিলে নীল শাড়ির রঙিন আভা,
আমি ভেবেছিলাম দুজনে মিলে ছুঁয়ে দেখব নীল আকাশের ছায়া।

তুমি চেয়েছিলে রাজপ্রাসাদ, আলো-মানুষের ভিড়,
আমি চেয়েছিলাম নীরব এক ঘর, তুমি-আমি আর একমুঠো নীড়।

তোমার সব স্বপ্নের খোঁজে পৃথিবী ঘুরেছি আমি,
নিজের হৃদয় হারিয়েও রাখিনি কোনো দাবি।

আজও আক্ষেপ জাগে বুকের গভীর অন্তরে—
তোমাকে তো পেয়েছিলাম ঠিকই,
শুধু ভালোবাসতে পারিনি আমার মতো করে।

06/06/2026

,,,,,,,,,,,,আমি তাকে ঘৃণা করি,,,,,,,,,,

আমি বাতাসকে ঘৃণা করি— সে কেন তোমার চুলে হাত বুলিয়ে যায় আমার আগে? কোন অধিকারে সে তোমার কানের পাশে গোপন কথা বলে, আর আমি দূরে দাঁড়িয়ে শুধু তার ঈর্ষা করি?

আমি বৃষ্টিকেও ঘৃণা করি— সে কেন তোমার কপালে চুম্বন এঁকে দেয় অসংখ্য ফোঁটার ছলে? যে স্পর্শের জন্য আমার সমস্ত জীবন অপেক্ষা, তা সে এক মুহূর্তেই অপচয় করে ফেলে।

আমি সূর্যের আলোকে ঘৃণা করি— সে কেন তোমার মুখে এসে সোনালি আভা ছড়ায়? কেন তোমার চোখের গভীরে সে আগে উঁকি দেয়, যেখানে পৌঁছানোর স্বপ্নে আমার কত যুগ কেটে যায়?

আমি ঘৃণা করি সেই পথকে, যে তোমার পায়ের ধুলো পায়; সেই আয়নাকে, যে প্রতিদিন তোমার মুখ দেখে; সেই ফুলকে, যার পাশে দাঁড়িয়ে তুমি হাসো; এমনকি সময়কেও, যে তোমার সঙ্গে আমার চেয়ে বেশি সময় কাটায়।

কারণ, আমার ভালোবাসা কোনো নদী নয় যে সাগরে গিয়ে মিশবে; আমার ভালোবাসা এক মহাবিশ্ব, যার একমাত্র কেন্দ্র তুমি।

আমি চাই না বাতাস তোমাকে ছুঁক, বৃষ্টি তোমাকে ভিজাক, আলো তোমাকে দেখুক— আমি চাই, তোমার সমস্ত ঋতু হয়ে থাকতে।

যখন তুমি নিঃশ্বাস নেবে, আমি তোমার বুকের ভেতরকার বাতাস হব; যখন তুমি চোখ বুজবে, আমি তোমার স্বপ্নের অন্ধকার হব; যখন তুমি কাঁদবে, আমি তোমার অশ্রুর নোনাজল হব।

আমার অস্তিত্বের কোনো আলাদা নাম নেই, কোনো আলাদা ঠিকানা নেই— আমি শুধু তোমার মধ্যে নিজেকে খুঁজে পেতে চাই।

পৃথিবী যদি জিজ্ঞেস করে, "তুমি কে?"

আমি বলব, আমি সেই মানুষ, যে প্রেমে পড়ে বাতাসকে শত্রু বানিয়েছে, বৃষ্টিকে প্রতিদ্বন্দ্বী করেছে, সূর্যকেও ক্ষমা করেনি—

শুধু তোমার মধ্যে নিজের সমগ্র পৃথিবী খুঁজে পাওয়ার অপরাধে।

29/05/2026

,,,,,,,,,,,,ভণ্ড মুখোশধারী,,,,,,

এই পৃথিবীতে
হিংস্র বলে যাদের ভয় পাই আমরা,
সেই বাঘ, সিংহ, নেকড়ে কিংবা হায়েনারাও
প্রকৃতির এক অদ্ভুত নিয়ম মেনে চলে।

সিংহ যখন হরিণ শিকার করে,
তা কোনো ঘৃণা থেকে নয়।
হরিণের চামড়ার রঙ দেখে নয়,
তার গোত্র দেখে নয়,
তার বিশ্বাস দেখে নয়।
সে শিকার করে শুধু ক্ষুধার তাড়নায়,
নিজের অস্তিত্ব বাঁচানোর প্রয়োজনে।

তার পেট ভরে গেলে
রক্তমাখা দাঁত নিয়েও
সে শান্ত হয়ে ছায়ায় গিয়ে শুয়ে পড়ে।
চারপাশে শত হরিণ ঘুরে বেড়ালেও
সে আর আক্রমণ করে না।
কারণ তার ভেতরে
অকারণ হত্যার নেশা নেই।

একটা বাঘ কখনো
ক্ষমতা দেখানোর জন্য হত্যা করে না।
একটা নেকড়ে কখনো
নিজের জাত বড় প্রমাণ করতে
অন্য প্রাণী মারে না।
একটা হায়না কখনো
প্রতিশোধের আগুনে উন্মাদ হয়ে
জীবন্ত শরীর ছিঁড়ে না।

তাদের হিংস্রতা
শুধু বেঁচে থাকার প্রয়োজন,
কিন্তু মানুষের হিংস্রতা
অনেক সময় শুধু ঘৃণার আনন্দ।

মানুষ মানুষকে হত্যা করে
ক্ষমতার জন্য,
ধর্মের জন্য,
জাতের জন্য,
অহংকারের জন্য,
কিংবা কখনো শুধুই
নিজের ভেতরের অন্ধকারকে তৃপ্ত করার জন্য।

আর এই অন্ধকারকে
সবচেয়ে বেশি বাঁচিয়ে রাখে
কিছু মুখোশধারী মানুষ।

যারা রাজনীতির নামে
মানুষে মানুষে বিভেদ ছড়ায়,
ক্ষমতার জন্য
পাড়ায় পাড়ায় আগুন লাগিয়ে দেয়,
গোত্রে গোত্রে, বংশে বংশে
ঘৃণার দেয়াল তুলে রাখে বছরের পর বছর।

তারাই রাতের আঁধারে
বিশৃঙ্খলার বীজ বুনে,
আবার ভোরবেলা
বিচারকের আসনে বসে শান্তির ভাষণ দেয়।

তারাই দুর্নীতির টাকায়
নিজেদের প্রাসাদ গড়ে,
আবার মঞ্চে দাঁড়িয়ে
দুর্নীতির বিরুদ্ধে বজ্রকণ্ঠে স্লোগান তোলে।

তারাই তরুণের হাতে
নেশার বিষ তুলে দেয়,
সমাজকে ধীরে ধীরে ধ্বংস করে,
আবার তারাই ব্যানারে লিখে—
“পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখতে হবে।”

কী ভয়ংকর প্রতারণা!

তারা সত্যকে পাশ কাটিয়ে
অবলীলায় মিথ্যা বলে,
মানুষের আবেগকে ব্যবহার করে,
ধর্মকে ব্যবহার করে,
দারিদ্র্যকে ব্যবহার করে,
আর সাধারণ মানুষ
তাদের কথার জাদুতে আটকে যায়।

মানুষ বিভোর হয়ে যায়
তাদের দেখানো স্বপ্নে,
তাদের কণ্ঠকে সত্য ভেবে
নিজের বিবেকটাকেও বন্ধক দিয়ে দেয়।

কেউ বুঝতে পারে না—
যে আগুন নেভানোর কথা বলছে,
আগুনটা আসলে তার হাতেই জ্বালানো।
যে শান্তির কথা বলছে,
অশান্তির জন্মও তারই হাতে।

একটা বাঘ অন্তত
নিজেকে সাধু সাজায় না।
একটা সিংহ অন্তত
রক্তমাখা মুখ লুকিয়ে
পবিত্রতার অভিনয় করে না।

কিন্তু মানুষ?
মানুষ বুকভরা পাপ লুকিয়ে
মুখে ন্যায়ের কথা বলে।
এই কারণেই
কখনো কখনো মানুষের কিছু কাজ
পশুদের থেকেও নিকৃষ্ট মনে হয়।
কারণ ক্ষুধার্ত সিংহও
অপ্রয়োজনে হত্যা করে না,
কিন্তু হিংসায় অন্ধ মানুষ
নিজের স্বার্থের জন্য
হাজারো মানুষের জীবন পুড়িয়ে দিতে পারে।

তাই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সংকট
মানুষের অভাব।

পাখির কোনো ধর্ম নেই,
তবু ভোরে ভালোবাসার গান গায়,
বনের হিংস্র পশুরাও
অকারণে রক্ত ঝরায় না হায়।

ধর্ম তো শুধু মানুষের তরে,
মানুষ স্রষ্টার প্রতিনিধি,
তাই তো আগে মানুষ হওয়াই
সবচেয়ে বড় পরিচিতি।

মানুষ হতে হলে বুকে
মায়া-মমতা থাকতে হয়,
প্রেম, ক্ষমা, সহনশীলতা ছাড়া
মানুষ কখনো মানুষ নয়।

অন্যের দুঃখ দেখে যার
চোখে একফোঁটা জল ঝরে না,
অন্যের ব্যথা শুনেও যার
হৃদয়টুকু নরম হয় না—

সে আবার কিসের ধার্মিক?
কিসের ধর্ম তার?
যে মানুষই হতে পারলো না,
ধর্মও নয় তার অধিকার।

স্রষ্টা তো ধর্ম দিয়েছেন শুধু
মানুষ নামের প্রাণীকে,
তাই মানবতা হারিয়ে ফেলে
ধর্ম খোঁজা বৃথা যে।

17/05/2026

কুকুররাজ

অনেক দূরের এক দেশে ছিল কুকুরদের এক বিশাল রাজ্য। সেই রাজ্যের শাসক ছিল এক ভয়ংকর অত্যাচারী কুকুররাজ। তার চারপাশে ছিল চাটুকার, লোভী ব্যবসায়ী আর দুর্নীতিবাজ সৈন্যদের ভিড়। রাজ্যের খাবারে ভেজাল মেশানো হতো, গরিব কুকুরদের খাবার কেড়ে নেওয়া হতো, বিচার বিক্রি হতো হাড়ের বিনিময়ে। সাধারণ কুকুরেরা ধীরে ধীরে বেঁচে থাকাকেই অভিশাপ মনে করতে শুরু করল।

অবশেষে একদিন রাজ্যে বিপ্লব শুরু হলো।

অসংখ্য সাধারণ কুকুর রাস্তায় নেমে এলো। কেউ নিজের সন্তান হারিয়েছে, কেউ ক্ষুধায় মা-বাবাকে মরতে দেখেছে, কেউ অত্যাচারে পঙ্গু হয়েছে। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর পতন হলো সেই অত্যাচারী রাজ্যের।

বিপ্লবের পর নতুন রাজা নির্বাচিত হলো—এক তরুণ কুকুর। তার চোখে ছিল স্বপ্ন। সে বলেছিল,

“এই রাজ্যে আর কোনো ক্ষুধা থাকবে না, কোনো ভেজাল থাকবে না, কোনো অত্যাচার থাকবে না।”
প্রথমদিকে সবাই তাকে ভালোবাসল। কিন্তু সমস্যার শুরু হলো যখন সে সত্যিই পরিবর্তন আনতে গেল।
সে প্রথমে খাদ্যে ভেজাল বন্ধ করতে চাইল। তখন বড় বড় খাদ্য ফ্যাক্টরির মালিকরা তার সামনে এসে দাঁড়াল।
“মহারাজ,” তারা দাঁত বের করে বলল, “আমরাই তো বিপ্লব করেছি। আমাদের রক্তের উপর দিয়ে আপনি সিংহাসনে বসেছেন। এখন আমাদের ব্যবসায় হাত দিচ্ছেন?”
রাজা চুপ করে গেল।
তারপর সে ঘুষ বন্ধ করতে গেল। তখন রাজ্যের কর্মকর্তারা বলল,

“আমরা না থাকলে বিপ্লব টিকত? আজ আমাদেরই অপমান করছেন?”

সে বিচারব্যবস্থা ঠিক করতে গেল, সৈন্যরা অসন্তুষ্ট হলো। ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতে গেল, ব্যবসায়ীরা তার বিরুদ্ধে গোপনে জোট বাঁধল।
রাজা ধীরে ধীরে একটি কঠিন সত্য বুঝতে শুরু করল—সবাই চায় দুর্নীতি বন্ধ হোক, কিন্তু অন্যের দুর্নীতি। নিজের বেলায় এলেই তারা হাজারো যুক্তি দাঁড় করায়, ত্যাগের গল্প শোনায়, বিপ্লবের অবদান মনে করিয়ে দেয়। ন্যায়বিচার সবাই চায়, যতক্ষণ না সেই বিচার তার নিজের দরজায় গিয়ে দাঁড়ায়।

একসময় যারা তার পাশে দাঁড়িয়ে “জয়” ধ্বনি দিয়েছিল, তারাই ফিসফিস করে বলতে লাগল—

“এই রাজাকে সরাতে হবে।”

দিন যেতে লাগল। রাজা ক্রমশ একা হয়ে পড়ল। তার শত্রু বেড়ে গেল, বন্ধু কমে গেল। রাজপ্রাসাদের দেয়ালের ভেতরেও ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাওয়া যেতে লাগল।
এক গভীর রাতে ক্লান্ত রাজা তার বৃদ্ধ মন্ত্রীকে ডেকে পাঠাল।
তার চোখে ঘুম নেই, মুখে অবসাদের ছাপ।
ধীরে ধীরে সে বলল,
“আমার ভুল কোথায়, মন্ত্রী?আমি তো এই রাজ্যের কুকুরগুলোকে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসি। আমি শুধু চেয়েছিলাম ঘুষ, দুর্নীতি, অত্যাচার আর ভেজালহীন একটা শান্তির রাজ্য গড়তে। তাহলে সবাই একে একে আমার বিরুদ্ধে চলে যাচ্ছে কেন?”
বৃদ্ধ মন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরব রইল।
তারপর গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
“মহারাজ… কুকুরের রাজ্যের রাজা হতে গেলে শুধু শক্তিশালী হলেই হয় না।”
রাজা তাকিয়ে রইল তার দিকে।
মন্ত্রী ধীরে ধীরে বলল,
“ কুকুরদের রাজ্যে টিকে থাকতে হলে… নিকৃষ্টতম কুকুর হতে হয়।”
কথাটা শুনে রাজা স্তব্ধ হয়ে গেল।
বাইরে তখন রাতের অন্ধকারে অসংখ্য কুকুরের চিৎকার ভেসে আসছিল। মনে হচ্ছিল পুরো রাজ্যটাই যেন ধীরে ধীরে আবার আগের অন্ধকারে ফিরে যাচ্ছে।

16/05/2026

অহংকারের চাদর

মানুষ কি আকাশসম অসীম উচ্চতায় ভরা?
নাকি সাগরের মতো গভীর শক্তিধরা?
ক্ষুদ্র এক জ্বরেই কাঁপে মানবের প্রাণ,
তবু কেন বুকভরা অহংকারের গান?

হাতির চেয়ে বলবান কত প্রাণী আছে ধরায়,
সিংহের গর্জনে কাঁপে বন-জঙ্গল সারায়।
তবু মানুষ ভুলে যায় নিজের ক্ষুদ্র পরিচয়,
দুই দিনের দুনিয়াতে অহমিকার অভিনয়।

জন্ম আর মৃত্যুর মাঝখানের পথ অতি ক্ষণিক,
আজ হাসিমুখ উজ্জ্বল, কালই নিভে যায় প্রদীপ।
ধন-দৌলত, বন্ধু-বান্ধব, ক্ষমতার বড়াই,
মৃত্যুর দুয়ার এলে কেউ পাশে থাকে নাই।

স্বর্ণের প্রাসাদ গড়ে লাভ কি বলো তবে?
এক মুঠো মাটিই শেষে ঠিকানা হবে সবে।
সময় বড় নিষ্ঠুর, থামে না কারো তরে,
রাজাধিরাজও হার মানে মৃত্যুরই দ্বারে।

এই পৃথিবীর সবকিছুই ক্ষণিকের ছায়া,
আজ যে ফুল সুবাস ছড়ায়, কাল ঝরে যায় হায়।
তাই মানুষ, দম্ভ ছেড়ে বিনয়কে কর সাথি,
নম্র হৃদয়ই পায় রবের রহমতের বাতি।

অহংকারেই প্রথম জ্বলেছিল অবাধ্যতার আগুন,
যখন বলেছিল— “আমিই শ্রেষ্ঠ গুণ।”
একটি সিজদাহর অবজ্ঞায় হারালো চির সুখ,
লানতের কালো শৃঙ্খলে বাঁধা পড়ল তার মুখ।

রাসূল বলেছেন হাদিসের বাণী মহান—
“অণু পরিমাণ অহংকারে হারাবে জান্নাতের স্থান।”
আর আল্লাহ বলেন— “অহংকার আমারই চাদর,
মহিমা আমার পোশাক, আমিই শ্রেষ্ঠ কাদের।”
যে বান্দা এতে ভাগ বসাতে করে দুঃসাহস,
জাহান্নামের আগুনে হবে তার চরম সর্বনাশ।

হে মানুষ, কিসের এত দম্ভ, কিসের এত গরব?
ধন-সম্পদ, ক্ষমতা সবই তো ক্ষণিকের উৎসব।
আজ যে প্রাসাদে বসে করো মানুষ অপমান,
কাল কবরের মাটিই হবে তোমার শেষ ঠিকান।

ফিরআউনের অহংকার ডুবেছিল সাগরের জলে,
কারুনের অট্টালিকা মিশে গেল মাটির তলে।
নমরূদের শক্তি ভাঙল ক্ষুদ্র এক প্রাণ,
আল্লাহই দেখালেন— তিনিই মহামহিমান।

ফলভরা বৃক্ষ যেমন নত হয়ে রয়,
বিনয়ী মানুষ তেমনি সবার হৃদয় জয়।
যে মানুষকে তুচ্ছ করে, বড় হতে চায়,
সময় তাকে অপমানের অতলে ডুবায়।

সিজদায় যে মাথা নত করে রবের দরবারে,
আল্লাহ তাকে মর্যাদা দেন দুনিয়া ও পরপারে।
আর যে চলে অহংকারে অন্ধ হয়ে দিনরাত,
ধ্বংস তার পিছু নেয়, নামে অশান্তির ঘাত।

তাই অহংকারের আগুন নেভাও অন্তর মাঝে,
মৃত্যুর ডাক দাঁড়িয়ে আছে জীবনেরই সাঁঝে।
আজই ফিরে এসো বিনয়ের শান্ত ঠিকানায়—
মহান কেবল আল্লাহ, সব মহিমা তাঁরই ছায়ায়।

15/05/2026

,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,প্রেম,,,,,,,,,,,,,,,

আমি অপলক চেয়ে থাকি,
আনমনে ছবি আঁকি,সৃষ্টির পানে।
দামামা বাজতে থাকে,
বাসর সাজতে থাকে,
প্রেম জমতে থাকে মনে।
আমি দু-হাত ধরি,
সৃষ্টিকে অনুভব করি,
স্নিগ্ধতা ছুয়ে যায় মন।
রুধিতে উঠে ঝড়,
ভেঙ্গে করে সব জড়,
যেন অসি হাতে আসছে তৈমুর লং।
যে বিপ্লবে ভয় পায়, সে যেন প্রেমে না পড়ে।

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when The AHSAN Philosophy posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category