14/07/2026
,,,,, বান্দার হক,,
মুরগি যখন ডানা মেলে আগলে রাখে ছানা,
চিলের সাথে করে লড়াই, জীবন দেবে, ছানা দেবে না।
হরিণ মায়ের বুকের মাঝে কত যে মায়া ভরা,
বাঘের মুখেও ছুটে যায় সে—সন্তান বাঁচুক সারা।
আমার মা, তোমার মা—একই স্নেহভরা বুক
সন্তান হাসুক, এইটুকুই চাই, এইতো তাদের সুখ।
আগুন যদি ছুঁতে আসে বুকের ধনের গায়,
মা-ই আগে সেই আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়তে চায়।
এ তো শুধু অসীম সাগরের এক ফোঁটা মায়া, দয়াময়ের দান,
এইটুকুতেই থরথর কাঁপে, ধরার কোটি প্রাণ।
ভাবো তবে সেই মহান রব, দয়ার যার নেই শেষ,
যাঁর রহমতে বেঁচে আছে আসমান-জমিন বেশ।
তিনি নিজেই, মানুষ গড়ে, বলেছিলেন ফেরেশতায়,
"আমি জানি, তোমরা জানো না"—রহস্য লুকায় তায়।
এত প্রিয় সেই বান্দাকে কি তিনি দূরে ঠেলে দেবেন?
তাওবার অশ্রু ঝরলে তিনি ক্ষমার দ্বারই খুলবেন।
মা তো পেয়েছে মায়ার সাগর হতে এক ফোঁটা আলো,
তবু সন্তানের হাজার ভুলে বাসে তাকে ভালো।
কাঁদতে কাঁদতে যদি সন্তান বলে—"মা, করো ক্ষমা",
এক নিমিষে ভুলে যায় মা, বুকের যত ব্যথা ছিলো জমা।
তবে যিনি মায়ার মালিক, দয়ার সীমাহীন সাগর,
বান্দাকে যে তিনি কত ভালোবাসেন, প্রমাণ কি লাগবে তার?
বান্দা যদি ফিরে এসে বলে—"হে রব! করেছি ভুল",
রহমতেরই দরিয়া বয়ে মুছে দেন তিনি সকল পাপের ধূল।
তবু কেন জাহান্নামের আগুন? কেন সেই আহাজারি?
কোথায় গিয়ে থেমে যাবে মানুষের মুক্তির তরী?
তবে যিনি দয়ার সাগর, মায়ার সীমাহীন রব,
তাওবার অশ্রু দেখলে কি ফিরিয়ে দেবেন সব?
আটকে যাবে কোথায় গিয়ে? ভাবো একবার মন।
''বান্দার হক'' ই তাহলে হবে সেই কারণ?
ভাইয়ের হক, বোনের হক, মায়ের চোখের জল,
এতিমের হক, গরিবের হক, শ্রমিকের ঘামের ফল;
কারো মনে দিয়েছ যদি অন্যায় কোন আঘাত
সেই হিসাবই সামনে দাঁড়িয়ে আটকে দিবে পথ।
ঘুষের টাকায় গড়া সুখ, সুদের বিষের ভাত,
অন্যায় করে কেড়ে নেওয়া মানুষেরই প্রাপ্য হক;
সবই সেদিন সাক্ষী হবে মহান রবের কাছে,
একটি জুলুম লুকাবে না কোনো মিথ্যা সাজে।
সেদিন কেউ কারো হবে না, থাকবে নিজের ভয়,
নিজের আমল, নিজের হিসাব—নিজেকেই দিতে হয়।
আল্লাহর হক—তিনি চাইলে ক্ষমা করেন দয়ায়,
বান্দার হক রয়ে গেলে বিচার থামে কোথায়?
যার হক তুমি নষ্ট করেছ, সে যদি না করে ক্ষমা,
সেই পাওনাই আটকে দিতে পারে মুক্তির সব সীমা।
তাই আজই ফিরিয়ে দাও যার যা ন্যায্য অধিকার,
ক্ষমা চাও সেই মানুষের কাছে, হক নষ্ট করেছ যার।
মানুষের হক