Cine Doptor

Cine Doptor This is the official page of Biplab Kumar Pal Bipu's production house "Cine Doptor". Do not copy any

26/02/2022

"এইবারেতে দ্যাখেন ভালো, ঢাকা শহর সামনে আছে, গাড়ি-ঘড়া চইলতে আছে. . ."
-এমন সুর আমাদের শেকড়ের সুর- আমাদের আদি চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সুর।

বায়োস্কোপ থেকে আজকের আধুনিক চলচ্চিত্রের জন্ম-একথা বললে হেসে উড়িয়ে দিতে পারে বিশ্ববাসী। কারণ, যেখানে স্পেনের গুহাচিত্রে বাইসনের ছয় পাওয়ালা ছবি থেকে চলমান চিত্রের ধারণা, লুমিয়ের ব্রাদারস এর প্রথম খণ্ড চলচ্চিত্র নির্মাণে অসামান্য অবদান, ডি ডব্লিউ গ্রিফিথ এর পূর্ণ চলচ্চিত্র নির্মাণ, লেলিনের নির্দেশে বিপ্লব প্রচারের জন্য সের্গেই আইজেনস্তাইনদের চলচ্চিত্র- এসবই প্রথম এই মাধ্যমটাকে সম্পূর্ণ রূপ দিয়েছিলো- আমরা তাঁদের অবদান ভুলবো না।

কিন্তু, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত- উপমহাদেশে হীরালাল সেন এর প্রথম অবদানকেই অ-স্বীকার করে ভারত তথা উপমহাদেশর চলচ্চিত্রের জনক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে দাদাভাই ফালকে কে। কারণ দুটো। এক, হীরালাল সেন এর জন্ম বাংলাদেশের মানিকগঞ্জে, আর দুই, হীরালাল সেনের সৃষ্টিকর্ম এক অগ্নিকাণ্ডে ধ্বংস হওয়ায় আর্কাইভে আমাদের কাছে দেখানোর মতো তাঁর সৃষ্টি-কর্মের তেমন কিছুই অবশিষ্ট নেই।

কিন্তু গবেষণা থেমে নেই। আমাদের কেউ না কেউ গবেষণা করবেই, দাবি তুলবেই আমাদের অধিকার নিয়ে। যেমন করে চর্যাপদের অধিকার আদায় করে নিয়েছিলো বাঙালিরা, বুঝিয়ে নেয়া হবে ঠিক তেমন করেই শিল্পের এই কৃতিত্বটাও।

আমরা চলচ্চিত্রটা বানাতে শিখেছি বিদেশীদের কাছে- এটা বললে খুব যে একটা ভুল হবে তা নয়। কিন্তু আমাদের শিল্পীরা যখন আমাদের শেকড়ের উপাদান দিয়ে কিছু একটা করে তখন তা সত্যিই বিষ্ময়েরই সৃষ্টি করে। ভাবিয়ে তোলে বিশ্বকে।

কাজেই গর্ববোধ করি, নিজের ঘরের দিকে তাকালে। আমাদের অনেক কিছু আছে, যেনো ভুলে না যাই বিদেশী কালচারের চাপিয়ে দেয়া রাজনীতিতে।

ধন্যবাদ।
জয় হোক বাংলা চলচ্চিত্রের, জয় হোক বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের।

বিপ্লব কুমার পাল বিপু।
বছিলা, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।

11/12/2021

পথশিশু লামিয়ার কণ্ঠে "বেঈমান বেঈমান" গানটি শুনুন। সে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লেখাপড়াও করে।💕🥰💕

শুভ জন্মবার্ষিক প্রিয় দুই অভিনেতা💕🥰💕 &  💕🥰💕
22/08/2021

শুভ জন্মবার্ষিক প্রিয় দুই অভিনেতা💕🥰💕

&
💕🥰💕

21/07/2021

এটি ঠাকুরগাঁওয়ের আঞ্চলিক ভাষার একটি কবিতা || রমজান আলীর অসমাপ্ত ফোনালাপ
বিপ্লব কুমার পাল বিপু

একটি মুহূর্ত, একটি ফোন-কল এবং একটি অবিসম্ভাব্য
আত্ম-মৃত্যু-সংবাদ।
নিজেই নিজের মৃত্যু সংবাদটি শোনাতে
কি নিস্পৃহ- যেনো কোনো এক মৃত নদীর জলের মতো বলে,
হ্যালো মুহে, মুই সুলেমান আলীর আব্বা রমজান আলী
শুনাপাছিনি? ঢাকার কারখানাত
আগুন লাগিছে- বাহিরত তালা মারা,
বাহির হবার কুনয় উপায় নাই- মরিবা হবে ভিতরতে!
কারখানার আওয়াজের আঁড়ালে যতটুকুই শুনতে পেলো রমজান আলীর স্ত্রী- কিছুই
ঢুকলো না মাথায় তার। হয়তো সে পুরোটাই শুনেছিলো
অথবা শুনতেই পায় নাই।
রমজান আলী বলছে- আবারো
বলছে রমজান আলী- শুনা পাছিনি এলাও? মুহে মুহে
মুই বাবুর আব্বা রমজান আলী।
ঢাকার কারখানাত আগুন লাগিছে
শুনাপাছিনি? বাহিরত তালা মারা
বাহির হবার কুনয় উপায় নাই- মরিবা হবে ভিতরতে!
চুপ করে আছি কেনে, বাবুক দে- মুই একটু
বাবুর সঙ্গে কথা কহিম।
চার বছরের ছেলে সুলেমান আলী
আশেপাশে নেই। কোথায় খেলতে গিয়েছে কে জানে?
রমজান আলীর স্ত্রী দাতে দাত কপাটি লেগে
ফোন সমেত পড়ে আছে আঙ্গিনায়
দেখতে পেয়ে ছুটে এলো জনা কয়েক গ্রাম্য নারী
ছুটে এলো রমজান আলীর বৃদ্ধ বাবা আঙ্গুল টিপে টিপে পায়ে।
ফোনে কথা হচ্ছে- কেউ একজনাও
কানে তুলছে না। বাবা ঠিকই বুঝেছে কোনো দুঃসংবাদ পেয়েছে বৌমা- সেকারণেই দাত কপাটি লেগেছে। কম্পিত আঙ্গুলে ফোন তুলে বৃদ্ধ বাবা এবার হ্যালো বলে,
রমজান আলী মুহূর্তেই সীদ্ধান্ত নেয়- বৃদ্ধ বাবাকে সত্যিটা বলবে না সে।
বাবা বলে, কিরকম আছিস অমজান,
অমজান, বাবা কুনো দুঃসংবাদ দিলো নাকি বৌমাক? দাত কাপটি নাগিছে,
ঠিক হয়ে যাবে, তুই কুনো চিন্তা করিস না, তুই- মোক কহেক
বাবা- কী হইছে তোর ঢাকাত?
কিছুই হয়নি আব্বা- আন্দাজি চিন্তা করেছেন!
মোক একটু মোর বেটার সঙ্গে কথা কহে দেন না আব্বা
কুণ্ঠে থুইছেন মোর বেটাক? ওক ফোনটা দেছেননি কেনে!?
বাবা বলে, দেছুরে দেছু, তোর বেটা
একছাট বাড়িটাত অহে না, খালি দৌড়াদৌড়ি আর খেলা-ধুলা
অর সঙ্গে কাহয় পারে না। মোর ঘারত উঠেছে, পিঠিত উঠেছে,
চুল টানেছে- পিটায় লেয় বেড়াছে বুড়হা দাদাটাক লাতী মোর।
যেমন তুই করিছিলো ছুটুবেলাত মোর সঙ্গে- তোর দাদার সঙ্গে- তোর দাদির সঙ্গে- তোরহে মতন হইছে একেলে।
এইবার ইদের সুম আসিবো তো? সেলা দেখিবো ঠিকে।
নাতীর উদ্দেশে কিছুক্ষণ হাঁটার পর রমজান আলীর বাবা যেনো
সেই ছোট্ট রমজান আলীর বাবার মতো
শাসনের ভঙ্গিতে শংকিত কণ্ঠে জিজ্ঞাসা করে-
এতো গণ্ডোগোল কিসের ফোনটাত শুনা যাছে? তুই ভালো আছিত ত?
অমজান, ভালো আছিত ত বেটা?
মৃত্যুর কারখানা থেকে ছেলে বলে- কেনে এতো কাথা সেরাছেন আব্বা?
আপনে জানেন্না, ঢাকাত সকসময়
নোকে নোকারন্ন? জানেন্না আপনে? আগুত তাড়াতাড়ি
বাবুক মোর খুঁজে দেন কেনা- দেড়ি করেছেন কেনে?
ইঠে তো মানুষ একবার ঢাকার কারখানাত ঢুকিলে পুড়ে পুড়ে
কালা হয়ে যায়- ছাই হয়ে যায়, কেহো মারা গেলে ইঠে থেকে
নিয়াও যাওয়ার দরকার নাই আব্বা।
নিজের অজান্তেই যেনো সত্যিটা বেরিয়ে আসে রমজান আলীর!
আব্বা কারখানাত আগুন নাগিছে- বাহেরত তালা মারা,
বাহির হবার কুনয় উপায় নাই- মরিবা হবে ভিতরতে।
শক্ত হন আব্বা, মাক কহেন শেষ দেখা না হবার তানে যেনো মা
কান্দে কান্দে বাকি জীবনটা নষ্ট না করে। নাতিক দেখেই যেন্-
শান্তি খুঁজে নেয়। ঢাকাত এতদূর টাকা খরচা করে
লাশের ছাই নিগিবা আসিবার- কুনো দরকার নাই।
রমজানের বাবা কথাটা শুনে কখন হাঁটা থামিয়ে স্তম্বিত হয়ে মাটিতে
শুয়ে গেছে- ঠাওর করতে পারে নাই। ছোট্ট সুলেমান আলী
রমজানের ছেলে কোথা হতে এসে যেনো দাদুকে মাটি থেকে
তুলে ওঠানোর চেষ্টা করে। নাতিকে পেয়ে ফোনটা তৎক্ষণাৎ
সুলেমান আলীর কানে ধরিয়ে দিয়ে দাদু বলে, নে লাতি- তোর বাপ
কাথা সেরাবে তোর সঙ্গে।
এবার ধেয়ে আসা কারখানার শাসনের আগুনের কুণ্ডলির সামনে
বুক পেতে দাঁড়িয়ে- কাঙ্খিত সেই
শীতল কণ্ঠস্বরটি শুনবে বাবা রমজান আলী- হ্যালো।
চার বছরের ছেলে সুলেমান আলী বাবাকে বলে
হ্যালো আব্বা- ইবার ইদে মোর জন্য লাইট জ্বলা জুতা আনিবা না?
রমজান আলী স্তব্ধ হয়ে যায় আদুরে সেই কণ্ঠধ্বনিটি শুনে।
যেনো কারখানার নিষ্ঠুর তপ্ত আগুনেও সে কণ্ঠ- শীতল
ঝর্ণাধারার মতো এক পশলা শান্তি এনে দেয়- আগুনের কুণ্ডলির মাঝে
বাবার কড়া দুটো অযান্ত্রিক ঠোঁট চুমু বসিয়ে দেয়
যান্ত্রিক মোবাইল ফোনে- ছেলে সুলেমান আলীর
তুলতুলে আদুরে দুটি গালে। রমজান আলী এক মুহূর্তের জন্য
যেনো মৃত্যুর কারখানা থেকে ছুটি নিয়ে ছেলেকে ইদের জুতোগুলো
কিনে দিয়ে আসতে যায়।
যে মুহূর্তটুকু এড়িয়ে যাওয়ার সাধ্য নেই পৃথিবীর কোনো বাবার,
সাধ্য নেই পৃথিবীর কোনো কারখানার- ছুটি না দেওয়ার,
সাধ্য নেই পৃথিবীর কোনো কারখানার- কর্মরত
শ্রমিকদের বাইরে থেকে তালা বন্ধ করে রাখবার।
আগুনের তাপে গলতে থাকা শ্রমিক বাবার শক্ত কণ্ঠনালীটি
বলে ওঠে- হ্যা আব্বা, বাবা সুলেমান আলী সাহসী
বাপ আমার; তুই জানিস না- লক্ষ্মী মানিক
বাপ আমার- রমজান আলীর ছেলে সুলেমান আলীরা
কখনো কি নতুন জুতা ছাড়া ইদ করতে পারে?
উত্তরে সুলেমানের আনন্দমাখা কথাগুলো শেষ হবার
আগেই- ফোনালাপটি ধ্বংস হয়ে হয়ে যায়।
যেমন করে শেষ হয়ে যায় আমাদের মানবতা।

প্রিয় মুখ,প্রিয় মানুষ,প্রিয় পরিবার। যাদেরকে কাজ করে সফলতা এনে দিতে পারলে ভালোলাগে আমার💕🥰💕।
13/07/2021

প্রিয় মুখ,
প্রিয় মানুষ,
প্রিয় পরিবার। যাদেরকে কাজ করে সফলতা এনে দিতে পারলে ভালোলাগে আমার💕🥰💕।

10/07/2021

বাংলাটা ঠিক আসে না

কবি : ভবানীপ্রসাদ মজুমদার
আবৃত্তি : বিপ্লব কুমার পাল বিপু

05/07/2021

এখনো ভীষণ রোমহর্ষণ হয়- কবি দেবব্রত সিংহের ’তেজ’ কবিতাটি পড়তে গেলে।
এটি কবির অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি কবিতা।
এবং এটি একটি আঞ্চলিক ভাষার কবিতা।।

26/06/2021






স্পোর্টস কার
প্রবর রিপন

পৃথিবীর অজস্র মানুষকে আমি ঘৃণা করি তাদের মতাদর্শ, জীবনবোধ ও কার্যক্রমের জন্য । কিন্তু প্রাণকে ঘৃণা করিনা , কেননা তা অদৃশ্য থেকে উৎসারিত এক দৃশ্যমান স্রোত যা এসব দর্শনবোধ দ্বারা চালিত হয় না বরং সে সেই অনন্যতা যা সময়ের মরুভূমিতে ক্যাকটাসের মত উঠে আসে শূন্যতার গহীন শেকড় থেকে ।
পৃথিবীর এই ঝানু ও উদীয়মান সমস্ত অপরাধের জন্য প্রথমে আমার নিজের দোষ খুঁজে বের করি । অনেক ভেবে দেখেছি আমার অপরাধ মহাজগতের সমান এবং অপূরনীয় সব ক্ষতির ক্রীড়ানক আমি ,
জানি অপরাধী এবং সেই অপরাধে নীরব থাকা মানুষ
আসলে ভয়ংকর ভাবে এক , তারা একে অপরের পরিপূরক ।
এই লাগামহীন বস্তুপূজার জন্য ভয়ংকরভাবে ঘৃণা করি আমাকে । মনে আছে এক স্পোর্টস কারের জন্য আমার মা কে বেচে দিয়েছিলাম বাজার নামক কসাইদের হাতে ।
স্পোর্টস কার কেনা উপলক্ষ্যে যে রাত্রিভোজের আয়োজন করেছিলাম ওখানে রংধনু রঙের পোশাকের ওয়েটাররা যে আমেরিকান স্টেক পরিবেশন করেছিলো তা থেকে আমার মায়ের মাংসের ঘ্রাণ আসছিলো। ওটা কি আসলেই মায়ের মাংস ছিলো ,
ছেলেবেলায় তার কোলের ভেতর শুয়ে পূর্ণিমার চাঁদ দেখতে দেখতে
যা তার শরীর থেকে যা পেতাম ,
যেমন ছোট্ট কামিনী গাছ বসন্তের রাতে মাটির থেকে যে ঘ্রাণ পায় !
জানি না সমুদ্র আমাকে আর গ্রহণ করবে কিনা , পা ভেজাতে দেবে কিনা তার স্রোতে ! কেননা সামান্য একফোঁটা বিষে বিষাক্ত হয়ে যেতে
পারে মহাসাগর । আমি কোনোভাবেই আর লুকাতে পারছি না নিজ হাতে তৈরী অন্ধকার , কেননা আকাশের প্রতিটি কোণায় যে জ্বলে উঠেছে নক্ষত্ররা । সমুদ্র আমাকে পরিত্যাগ করছে , শুধু আমাকে গ্রহণ করার জন্য সে তো আর মেরে ফেলতে পারে না তার পেটের ভেতর শান্তিতে ঘুরে বেড়ানো মাছেদের।
আসলেই কি তাদের সেই শান্তি আছে আর !
আমি যে রাষ্ট্রে থাকি তারা তাদের নিজ ছায়া থেকে সৃষ্ট শত্রুর ভয়ে সমুদ্রের তলদেশে পাঠিয়েছে ডুবোজাহাজ এমন সতর্ক দৃষ্টিতে তারা ঘুরছে যেন স্বপ্নে নিজেকে দেখা মাত্রই তারা হত্যা করবে তাদের । নিজেরাই নিজেদের শত্রু হওয়া ছাড়া
মানুষের আর কোনো মহৎ উদ্দেশ্য নেই এখন আর ।
আমি জানি না মানব সৃষ্ট দাবানলে পুড়ে মরে যাওয়া একটা ছোট্ট ওরাংওটাং শিশুর অভিশাপ থেকে পৃথিবীর আগমনী মানবশিশুরা নিজেদেরকে আর উদ্ধার করতে পারবে কিনা ।
নিজেকে এত ঘৃণা করি যে অন্যরা আমাকে আর ঘৃণা করার সুযোগ পায় না অথবা বলা যেতে পারে তারাও নিজেকে ঘৃণায় এত ব্যস্ত যে অন্যদেরকে ঘৃণা করার সময় পায় না । এই জন্য তারা এক সময় আত্মশ্লাঘায় হিরোশিমার পারমানবিক বোমার মত দানবিক প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠে , যার ফলাফল অনিবার্য মরুভূমি ,
যেখানে এই ক্ষীণ মানবসভ্যতা ফুটে আছে ক্যাকটাসের মত
তাদের হৃদয় সেই মরুদ্যান যেখানে আগুনের ফুল ফোটে
আর ঝরে যায় কান্নার ফোঁটার মত ।
জানি না কবে থামবো , কবে থামবে তোমরা যাদেরকে আমি নিজের চেয়ে একটু কম ঘৃণা করি ! জানি না কতদিন আমাকে বয়ে নিয়ে যেতে হবে এই আত্মহত্যাকারী তিমির কঙ্কাল !! যার জারিত হৃদয়শব আমাদের মনকে লবণাক্ত করে দেয় , করে দেয় উষর !
ওহ ! একটা স্পোর্টস কারের জন্য মা কে বেচে দেবার গ্লানি
আমাকে কোন দ্রুতগতির আস্বাদ মুছে দিতে পারে !!
কত দ্রুত ছুটে গেলে ভুলতে পারি মাটির সেই ঘ্রাণ !
আহ ! বস্তপুজা , আমাকে বলি দাও নির্বস্তুক যত প্রেতের উৎসবে , ওরা আমার মাংস গোগ্রাসে খেয়ে যাক আমার শরীরের উপর নেচে যাক যতসময় না শেষ মানুষটার মৃত্যু হয় ।
এবার আমি থামলাম তোমাদের রাণী নামক ডাইনীর প্রাসাদের সামনে ঘ্রাণ পেলাম মাংসের , পোড়া মাংসের
বলি দেয়া শিশুদের মাংসের কাবাবের ।
রাজগায়ক হবার লোভে বললাম “ দারুণ এই ঘ্রাণ “ আর ডাইনীকে খুশি করার জন্য গেয়ে উঠলাম এমন সব গান যে গান আমি নই
যে গান গান নয় , বরং যে গানগুলো সেই ড্রাকুলার মত নার্স ,
যারা প্রেতশক্তির কবলে পড়ে গভীর রাতের ইনকিউবেটরে শুয়ে থাকা শিশু আর কোমাতে থাকা বৃদ্ধদের অক্সিজেন মাস্ক খুলে দেয় ।
সেই নার্সগুলো নগ্ন হয়ে নাচে আমার গানের তালে ।
ওহ আমি সেই অভিশপ্ত গায়ক ,
যার মায়ের উচিৎ ছিলো জন্মের সাথে সাথেই মেরে ফেলা ।
কিন্তু মা তো ঘৃণা করে জীবনবোধে তাড়িত মানুষকে কোনো প্রাণকে নয় প্রাণ তো স্বপ্নের মত যে কারো দেখিয়ে দেয়া পথ ধরে চলে না
সে চলে তার নিজের দেখানো পথে ।
এসব থেকে পালানোর চেস্টাও করেছি অনেক
অজস্র পর্বতের শিখর আমার ভেতর থেকে উঠে যেত আকাশের দিকে , অজস্র ঈগল তাদের ছায়া ফেলে উড়তো সেই শিখরে ।
আমার নিজেকে মনে হতো সেই সব ঈগল ,
কিন্তু এই যে সমতলে পড়ে থাকা দানার লোভ ।
এই যে ঈগলের সঙ্গীনী হতে চাওয়া ঈগলীনীরা যারা সব ভূতগ্রস্ত আর বিচিত্র নকল ডানায় সাজিয়ে তোলে তাদের কাম থিকথিকে দেহ তাদের দুর্নিবার আকর্ষণে উঠে যেতে পারিনি সেই শিখরে ।
ঠিক এই জন্য আমার প্রতি ঘৃণা বেড়ে যাচ্ছে প্রবল
আমি জানি এই জন্য একদিন নিজেকে ঝুলিয়ে দেবো মহাকাশের সিলিং থেকে , এসিড দিয়ে ঝলসে দেবো আমার ভেতর ঘুমিয়ে থাকা সমস্ত ভ্রুণদের , যাদের আসার কথা আগামীকাল ।
সেইসব সন্ন্যাসীনিরা কোথায় যারা তাদের জ্যোতির্ময় দেহ থেকে জোনাকীদের ছেড়ে দেয় অন্ধকারে আর বিষে জর্জরিত পাপাত্মাদের যারা নীহারীকার বলয়ে উজ্জীবিত করে !!!
কোথায় সেইসব সন্ন্যাসীনিরা ?
এখন যাদের দেখি এরা আমার মায়ের মত নয় , এরা রাক্ষসী , আমাদের রক্তপান করার জন্য সন্ন্যাসীনির রুপ ধরে আছে ,
প্রেম যাদের কাছে সেই কসাইখানার চাবি ।
আহ সাপের কূন্ডুলীর মত ধর্মতীর্থগুলো !
দেহের আড়ালে লুকিয়ে রেখে চিতাবাঘ ,
নিজেকে দেখায় আদুরে বেড়াল ;
তুমি যখন তার কাছে যাবে বিড়াল থেকে রুপান্তরিত হবে চিতাবাঘে ; তোমাকে গ্রাস করবে এক লহমায় ,
ঢেকুর তুলবে যার দুর্গন্ধ থেকে ঈশ্বরও থাকে বহুদূর ।
তোমরা নিশ্চয় সেই সব বিশ্ববিদ্যায়গুলো চেনো যারা তোমাদের শেখায় বস্তুপূজা ও দাসত্ব, তোমরা নিশ্চয় তার শিক্ষকদের চেনো যারা শয়তানের নিজ হাতের কলের পুতুল ।
তোমরা নিশ্চয় চেনো সেই সব আদালাতঘর
শয়তানের নিক্তিতে মাপে দেবদূতদের অপরাধ
আর নিজেদের শয়তানী লুকোতে নিশ্চিত করে তাদের মৃত্যুদন্ড।
এমন সব স্থানের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থার জন্য নিজেকে খুন করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে যেতে রাজী আছি
কেউ যখন শিলিং থেকে ঝুলে আত্মহত্যা করে
মনে হয় সে তার নিজেকে হত্যা করার অপরাধে ফাঁসিতে ঝুলে আছে ।
মানুষের কাছে মানুষের মহাসময় আসলে কি চাই, কি খুঁজে নিতে চায় যা তার ছিলো না ? না এমন কোনোকিছুই নেই ,
সমুদ্র যখন কোনো জাহাজকে ডুবিয়ে নেয়
তখন তো আর বলা যায় না সেই জাহাজের ভেতর থাকা অমূল্য মনিরত্নের লোভে সাগর তা করেছিলো ,
বরং সমুদ্র নিজেই জানে কোথা থেকে
সে চুরি করে নিয়ে যাচ্ছিলো এইসব মনিরত্ন
মুক্তো যা ফলে উঠেছিলো মুখবন্ধ ঝিনুকের বিষের ভেতরে ।
কোথায় থামবে এই সব জলদস্যুরা !
কোথায় থামবো আমরা !
থামার আগে ঠিক কতটা ফুলে উঠবো আমরা !
এই যে অজস্র মনিরত্নে মানুষ ফুলেফেঁপে উঠতে চায় ,
মনে হয় মরার পর একটা লাশও এভাবে ফুলে ফেঁপে উঠে
অপেক্ষায় থাকে শকুনের বা ছোট কীটপতঙ্গের ।
তোমরা কি জানো সেই কীটপতঙ্গ বা শকুন তোমরা নিজেরাই ,
যারা তোমাকে দ্রুত নিঃশেষ করে
তোমার পাপ , গ্লানি ও লজ্জা থেকে তোমাকে মুক্তি দিতে চায় ।
আমি জানি আমাদের নিজেদের প্রতি নিজেদের প্রেম
সেই কীটপতঙ্গের প্রেমের মত ।
পুরোহিত গুলো কোথায় থামবে !
কোথায় থামবে এইসব হায়েনার মত রাষ্ট্রনায়কেরা !
কোথায় থামবে এই বিরাট বিরাট নরক কারাখানার মালিকেরা !
কোথায় থামবে আমার এই স্পোর্টস কার ?
যার জন্য থামিয়ে ছিলাম মায়ের অশরীর হৃদস্পন্দন !!
আমি ভয়ংকর ভাবে ঘৃণা করি আমাকে
এই কাজটা যখন করছি তখন আমার উদ্ধারের আর কোনো পথ নেই
এবং পৃথিবীর অবর্ননীয় নরকের সড়কে
আমার লাশের মত ছুটে যাচ্ছে সেই স্পোর্টস কার
মায়ের লাশের মত সেই স্পোর্টস কার
জানি না তাকে থামানোর কি উপায়
যতসময় না চিতাবাঘের মত চাকার নিচে সে সবাইকে পিষে দেয় ।
আত্মপ্রেম জিনিসটা কি ?
যা নিশ্চিত করে সবার আত্মঘৃনা বা আত্মগ্লানি ?
কসাইখানার সেই পশুর রক্তের মত
যা একসময় ঈশ্বরের পবিত্র রক্ত ছিলো
আর এখন তা নর্দমার আবর্জনা
যা মাছিদের ক্ষুধা মেটানোর খাদ্য !!
মানবপ্রেম কি ?
যা তোমাকে আর তুমি হতে দেয় না এবং তুমি অন্যের দেহের মাপে তোমার জামা বানিয়ে নাও ?
কাকে তোমরা বলো সাম্য ?
অসম ব্যক্তিদের নিজেদের এক আকারে থাকার কোনো যাদুদন্ড , অথবা চিড়িয়াখানায় সব প্রাণীর খাঁচা যেমন একরকম ?
শোনো আমাকে শোনাচ্ছি তোমরাও শোনো
মানুষের সাম্য কোনোভাবেই আসবে না যদি তারা ব্যক্তিগত ভাবে
সেই চুড়োয় ওঠার সামর্থ্যবান না হয় । তোমার উচ্চতার তারতম্যের উপর নির্ভর করে না সমুদ্রের গভীরতা বরং তুমি তোমার খুঁজে আনা গভীরতাবোধ দিয়ে সমুদ্রের সমান গভীর হতে পারো ।
আর আমি কে
সে কে
অন্যকেউ কে যে তোমাদের উদ্ধার করবে !
তোমার হয়ে কেউ তো জন্ম নেয়নি। যদি উড়তে চাও ঈগলদের মত; তবে তোমাকেই তোমার আত্মার থেকে পালক নিয়ে
সুনিপুণ কারিগর হয়ে বানিয়ে নিতে হবে ডানা ।
অন্যের ডানায় ভর করে নিশ্চয় আকাশের চুড়োয় উড়তে পারবে না
এমনকি নয় ইকারুসের জন্য বানানো তার পিতার ডানা দিয়েও ।
সূর্য ঠিকই জানে কার ক্ষমতার কতটুকু সে নিজে ব্যয় করেছে ,
তুমি তো সূর্যেরই ক্ষমতার ফলাফল, তাই সে তোমাকে ছুঁড়ে ফেলে দেবে নিচে , গলিয়ে দেবে তোমার সব নকল ডানা ।
ওহ ! আমাকে প্রচন্ড ঘৃণা করি এই পিতা নির্ভরতার জন্য , আর আমার পিতার তার পিতার প্রতি আর সেই পিতার তার পিতার প্রতি নির্ভরতায়, এভাবে সবাই কারো প্রতি নির্ভরশীল এবং শূন্যে ভেসে আছে যে কোনো মুহূর্তে পাতালে পতিত হবার জন্য ।
যেমন আমি পতিত এই বস্তপুঞ্জের ভেতর বস্তুপূজার মন্দিরে ,
যারা আমাকে গোগ্রাসে গিলে বদহজমে বমি করে দিয়েছে এই স্পোর্টস কারের ভেতরে ;
আমি ছুটে চলেছি আমার মায়ের শবের মত জীবনের মহাশশ্মানে ।
কাদের সাথে আমার এত প্রতিযোগিতা ,
কার সাথে জিততে চাই ?
নিজের পরাজিত দানবের সাথে ?
কাকে আমি শাসন করতে চাই নিজেকে শাসন করতে পারি না বলে ?
নিজেকে নিজে যখন গিলোটিনে চড়াতে চাই বস্তুপুঞ্জরা আর সাড়া দেয় না ; তারা জানে আমার প্রাপ্য শাস্তি আরও অনেক বাকী যা মৃতুদন্ড দিলে অসমাপ্ত থেকে যাবে।
ছুটে চলেছে আমার স্পোর্টস কার সমাপ্তির আশায় কিন্তু জানি সেই সমাপ্তি আসলে কোনো এক রেসের শুরু আমার এই পাপবোধের , এই বস্তুনির্যাসের হ্যাঙ্গওভার কাটানোর আর কোনো পথে নেই ,
যেমন কোনো এক পাড় মাতালের আর কোনো উপায় থাকে না
পরের দিন আবার মদ খাওয়া ছাড়া ।
কাকে বলবো এসো আমাকে উদ্ধার করো !
আমি তো তাকে সরিয়ে জীবনের ঈশ্বর হয়েছিলাম ,
চেপে বসেছিলাম এই স্পোর্টস কারের সিটে
এক রক্তমদির ড্রাইভারের মত , তোমরা খুব ভালো মতই জানো
সিটবেল্ট আমাকে এমন ভাবে বেঁধে ফেলেছে শেকলের মত ;
শুধুমাত্র গাড়ীর ধ্বংস শেষেই তা থেকে মুক্তি সম্ভব
জানি ধ্বংস অসম্ভব এই স্পোর্টস কারের ।
আমি কি এখন শিশুর মত মা কে ডাকতে পারি ?
আমি কি এখন মনে করতে পারি মাটির মত সেই মায়ের ঘ্রাণ !
না তা আর সম্ভব নয়
তাকে যে বাজারের মত এক কসাই এর কাছে বেচে দিয়েছিলাম
কসাইরা সেই মাংস এতসময় কেটে টুকরো টুকরো করে
বেচে দিয়েছে তোমাদের কাছে
যা এখন তোমাদের পেটে হজম হচ্ছে নিরালায়
তারপর মেলাবে স্পোর্টস কারের গতিতে গা ছমছমে শূন্যতায়

Address

142/1, Road 3, Block-A, Niketon, Gulshan
Dhaka
1212

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Cine Doptor posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share