21/08/2025
Collected:
ছবিতে যে বিশালদেহী প্রাণীটিকে ক্রেনে ঝুলতে দেখছেন, সে কোনো সাধারণ হাতি নয়। তার নাম ছিল মেরি, 'স্পার্কস ওয়ার্ল্ড ফেমাস শো' সার্কাসের একসময়ের সবচেয়ে বড় তারকা। কিন্তু মানুষের নিষ্ঠুরতা আর অজ্ঞতার শিকার হয়ে তাকে এভাবেই পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল।
কী ঘটেছিল মেরির সাথে?
সময়টা ১৯১৬ সাল। 'বিগ মেরি' নামে পরিচিত পাঁচ টনের এই এশীয় হাতিটি ছিল সার্কাসের প্রধান আকর্ষণ। কিন্তু বিপত্তি ঘটে যখন সার্কাসে ওয়াল্টার "রেড" এলড্রিজ নামের একজন অনভিজ্ঞ কর্মী যোগ দেয়। মেরিকে নিয়ন্ত্রণের কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা তার ছিল না।
১৯১৬ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর, টেনেসি অঙ্গরাজ্যের কিংপোর্ট শহরে সার্কাসের প্যারেড চলাকালীন মেরি একটি তরমুজের খোসা দেখতে পেয়ে খেতে যায়। নতুন কর্মী এলড্রিজ তাকে বর্শা দিয়ে সজোরে আঘাত করে বাধা দেয়। এই অপ্রত্যাশিত এবং যন্ত্রণাদায়ক আক্রমণে ক্ষিপ্ত হয়ে মেরি এলড্রিজকে শুঁড় দিয়ে পেঁচিয়ে মাটিতে আছড়ে ফেলে এবং পা দিয়ে পিষে হত্যা করে।
মানুষের উন্মত্ততা এবং একটি নিষ্ঠুর সিদ্ধান্ত
এই ঘটনার পর স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্রোধ ছড়িয়ে পড়ে। চারদিকে "খুনি হাতিকে মেরে ফেলো" বলে রব ওঠে। বেশ কয়েকটি শহর হুমকি দেয় যে, মেরিকে হত্যা না করা হলে তারা তাদের শহরে সার্কাস প্রদর্শন করতে দেবে না।
জনগণের চাপ এবং ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে সার্কাসের মালিক চার্লি স্পার্কস এক কঠিন ও হৃদয়বিদারক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। তিনি মেরিকে জনসমক্ষে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘোষণা দেন।
সেই ভয়াল ১৩ই সেপ্টেম্বর
১৯১৬ সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর, আরউইন শহরের রেলইয়ার্ডে প্রায় ২,৫০০ মানুষের ভিড় জমে মেরির ফাঁসি দেখার জন্য। একটি ১০০ টনের বিশাল ক্রেন আনা হয় তাকে ঝোলানোর জন্য।
প্রথম চেষ্টায়, যখন মেরিকে উপরে তোলা হচ্ছিল, তখন শিকল ছিঁড়ে সে মাটিতে পড়ে যায়। এই পতনে তার কোমর ভেঙে যায়, কিন্তু তখনও সে जीवित ছিল। এরপর আরও শক্তিশালী শিকল দিয়ে দ্বিতীয়বার চেষ্টা করা হয় এবং সফলভাবে মেরিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়। প্রায় আধ ঘণ্টা ক্রেনে ঝুলে থাকার পর তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
কেন এই ঘটনা আজও প্রাসঙ্গিক?
মেরির এই করুণ পরিণতি শুধুমাত্র একটি প্রাণীর মৃত্যুর গল্প নয়। এটি মানুষের অজ্ঞতা, গণ-উন্মাদনা এবং প্রাণীদের প্রতি চরম নিষ্ঠুরতার এক জ্বলন্ত উদাহরণ। এই ঘটনাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, বিনোদনের নামে বা ক্ষণিকের ক্রোধের বশবর্তী হয়ে মানুষ কতটা অমানবিক হতে পারে।
এই ঘটনাটি প্রাণী অধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি আমাদের শেখায় যে, প্রতিটি প্রাণেরই মূল্য আছে এবং তাদের প্রতি সহানুভূতি ও সম্মানের সাথে আচরণ করা উচিত।