05/06/2026
দিন দিন আমরা কি একটু বেশিই টক্সিক হয়ে যাচ্ছি?
বেকারত্ব শুধু মানুষের পকেট খালি করে না, ধীরে ধীরে মানুষের মনকেও ক্লান্ত করে দেয়। চারপাশে অনিশ্চয়তা, হতাশা আর অপূর্ণতার চাপ যখন বাড়তে থাকে, তখন তার প্রভাব আচরণেও পড়ে।
আজকাল ফেসবুকে ঢুকলেই সেটা বেশ স্পষ্ট বোঝা যায়। কোনো পোস্টের কমেন্ট বক্স খুললেই দেখা যায়, গঠনমূলক আলোচনা কম, ব্যক্তিগত আক্রমণ বেশি। মতের অমিল হলেই অপমান, বিদ্রূপ, তুচ্ছতাচ্ছিল্য। অনেক সময় মনে হয়, মানুষ যেন নিজের জীবনের জমে থাকা হতাশা আর ক্ষোভ অন্য কারও ওপর উগরে দেওয়ার একটা জায়গা খুঁজে পেয়েছে।
অন্যের ব্যক্তিগত জীবন, সম্পর্ক, সিদ্ধান্ত, পোশাক, পেশা, সবকিছু নিয়েই মতামত দেওয়ার এক অদ্ভুত প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এমনকি যে বিষয়ে আমাদের কোনো ভূমিকা নেই, সেই বিষয়েও আমরা বিচারক হয়ে বসে যাচ্ছি।
সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের যোগাযোগের সুযোগ দিয়েছে, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে অনেক ক্ষেত্রে এটি সহমর্মিতা কমিয়ে দিয়ে প্রতিক্রিয়াশীলতা বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা শুনতে কম শিখছি, বিচার করতে বেশি শিখছি। বুঝতে কম চাইছি, আঘাত করতে বেশি চাইছি।
সমস্যা শুধু বেকারত্ব নয়, সমস্যা হলো আমরা ধীরে ধীরে ধৈর্য, সহনশীলতা আর মানবিকতার জায়গাগুলো হারিয়ে ফেলছি।
হয়তো সময় এসেছে নিজেকে একটা প্রশ্ন করার,
আমি কি সত্যিই আমার মতামত প্রকাশ করছি, নাকি নিজের ভেতরের হতাশা অন্য কারও ওপর চাপিয়ে দিচ্ছি?
একটা সমাজ তখনই সুন্দর হয়, যখন মানুষ ভিন্ন মতের মানুষের প্রতিও সম্মান রাখতে শেখে। কারণ পর্দার ওপাশেও একজন মানুষই আছে, তারও অনুভূতি আছে, সংগ্রাম আছে, সম্মান আছে। ❤️