14/05/2025
এক রাজা তার সঙ্গে একটি কুকুর নিয়ে নৌকায় ভ্রমণ করছিলেন। নৌকায় অন্যান্য যাত্রীদের মধ্যে একজন দার্শনিকও ছিলেন। কুকুরটি অসীম অস্থিরতায় লাফালাফি করতে থাকলো, যা নৌকার যাত্রীদের জন্য বেশ অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছিল।
নৌকার মাঝি মনে মনে চিন্তা করছিলেন, "এমন চলতে থাকলে নৌকা ডুবে যেতে পারে।" তবে কুকুরটির স্বভাবজাত অস্থিরতা তাকে এক মুহূর্তও শান্ত হতে দিচ্ছিল না।
রাজা নিজেও রেগে যাচ্ছিলেন, কিন্তু কুকুরটিকে শান্ত করার কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছিলেন না।
এই পরিস্থিতি দেখে, দার্শনিক আর থাকতে পারলেন না। তিনি রাজাকে কাছে গিয়ে বললেন, "রাজা মাসাই, যদি আপনি অনুমতি দেন, আমি এই কুকুরটিকে একটি বিড়াল করে দিতে পারি।"
রাজা অনুমতি দিয়ে দিলেন।
দার্শনিক, দুইজন যাত্রীর সাহায্য নিয়ে, কুকুরটিকে নদীতে ফেলে দিলেন। কুকুরটি ভয় ও আতঙ্কের সাথে হাঁসফাঁস করতে করতে ভাসমান নৌকাটি ধরার চেষ্টা করতে লাগলো।
এখন সে তার জীবন এবং পরিস্থিতির মূল্য বুঝতে শুরু করল।
কিছুক্ষণ পর, দার্শনিক কুকুরটিকে নৌকায় তুলে নিলেন। কুকুরটি এক কোণে গিয়ে গোপনে চুপচাপ বসে রইল।
রাজা এবং অন্যান্য যাত্রীরা কুকুরটির আচরণ দেখে অবাক হয়ে গেলেন।
রাজা দার্শনিককে জিজ্ঞেস করলেন, "এটি কেন এখন একটি পোষা ছাগলের মতো বসে আছে?"
দার্শনিক উত্তর দিলেন, "যতক্ষণ পর্যন্ত কেউ নিজে সমস্যায় না পড়ে, ততক্ষণ পর্যন্ত অন্যের সমস্যা বুঝতে রাজি হয় না।"
"এই কুকুর যখন জলের ভয় এবং নৌকার উপযোগিতা বুঝতে পারল, আর নিজের সীমাবদ্ধতা অনুভব করল, তখনই সে চুপচাপ বসে গেল।"
শিক্ষণীয়: আমরা অনেক সময় নিজেদের অহংকার ও দাম্ভিকতায় অন্যদের জীবন অতিষ্ঠ করে ফেলি। কিন্তু যখন নিজেদের ক্ষমতা এবং সীমাবদ্ধতা বুঝতে পারি, তখনই আমরা নিজের মনোভাব পরিবর্তন করি। এই উপলব্ধি আমাদের জীবনকে আরও সুসংহত এবং সহানুভূতিশীল করে তোলে।
(সংগ্রহীত)