LOOK AT ME

LOOK  AT ME This is technology biased page

[এক]শীতের সকাল। উইন্টারবুকের তুষার-ভেজা রাস্তায় লোকজন নেই বললেই চলে। গোটা পাড়া ঘুমিয়ে আছে। হিম-শীতল ঠান্ডা বাতাসে অদ্ভুত...
08/05/2026

[এক]

শীতের সকাল। উইন্টারবুকের তুষার-ভেজা রাস্তায় লোকজন নেই বললেই চলে। গোটা পাড়া ঘুমিয়ে আছে। হিম-শীতল ঠান্ডা বাতাসে অদ্ভুত এক ছন্দ তুলে তিরতির করে কাঁপছে জাপানি চেরি গাছের পাতা। তারই ধার ঘেঁষে হেঁটে যাচ্ছিলাম খুব সতর্কতায়। তুষার-গলা পিচ্ছিল রাস্তায় বেরসিক জুতো জোড়া প্যাচপ্যাচ আওয়াজ তুলছে। এই বুঝি জেগে গেল ঘুমন্ত উইন্টারব্রুক!

এ এলাকায় এই আমার প্রথম আসা। হোম নার্সিং এজেন্সিতে চাকুরিটা হয়ে যাবার পর প্রথম কাজ পেলাম উইন্টারবুকে। আলঝাইমার্স রোগীর দেখাশোনা করতে হবে। রোগীর নাম আহমাদ জোন্স। রেকর্ড ঘেঁটে দেখলাম আশি বছরের এই বৃদ্ধ কনভার্টেড মুসলিম। বাপ-দাদার ধর্ম ছেড়ে ইসলাম পালন করছেন প্রায় বছর-চল্লিশ হলো।

মুসলিমদের নিয়ে জানাশোনা ছিল না আমার। সত্যি বলতে কোনো ধর্ম সম্পর্কেই শিক্ষা-দীক্ষা পাইনি আমি। মনের গহীন থেকে কেউ বলে একজন স্রষ্টা তো নিশ্চয়ই আছে। আমি তাতে সায় দিয়েছি বটে, তবে স্রষ্টাকে খোঁজার চেষ্টা করিনি। গহীনের আওয়াজ গহীনেই ধামাচাপা পড়ে আছে তেইশটা বছর।

এর মাঝে একজন মুসলিম রোগী পেয়ে খানিকটা চিন্তায় পড়ে গেলাম। তিন বছরবয়সে মা-বাবাকে হারিয়েছি। আমাদের, মানে আমার আর ছোট ভাই পিটারের ঠাঁই হয়েছিল তখন নানাবাড়িতে। চারপাশে যাকেই পেয়েছি, খ্রিস্টান। কখনও জানা হয়নি-মুসলিমদের রীতিনীতি কেমন ছিল। রোগীর চিকিৎসার সুবিধার্থে

একটু-আধটু পড়াশোনা করলাম। জানতে পারলাম মুসলিমরা শুকরের গোশত খায় না, মদ ছুঁয়েও দেখে না। দোকান থেকে আহমাদ জোন্সের জন্য হালাল গোশত কিনেছি তাই। তাকে নিয়ে আমার উদ্বেগে কলিগরা অবাক। তাদের কথা এ রোগী তো আলঝাইমার্সের একদম এডভান্সড স্টেজে চলে গেছে। মাঝে মাঝে নিজেকেই চিনতে পারে না। তার ধর্মীয় রিচুয়াল নিয়ে এত ভাববার কী আছে?

ওদের কথায় আহত হয়েছিলাম খুব। একজন মানুষ স্মৃতিভ্রষ্ট বলে কি তার বিশ্বাস নিয়ে খেলা যায়? বারবার আমার নানীর মুখটা ভেসে উঠছিল। শেষ সময়ে তারও আলঝাইমার্স হয়েছিল। আমাকে আর পিটারকে যখন চিনতে পারতেন না, তখন কী যে কষ্ট লাগত! একদম শিশুর মতোন হয়ে যেতেন আমার নানী। যে-শিশু বলতে পারে না তার ক্ষিদে পেয়েছে, বুঝতে পারে না তাকে বাথরুমে যেতে হবে। স্মৃতি ফিরলে নানী একদম স্বাভাবিক মানুষ। আমাকে আর পিটারকে চোখে হারাতেন। এই মানুষটা যদি জানতেন এমনও দিন গেছে যেদিন তার কাছে আমি আর পিটার ছিলাম অচেনা আগন্তুক, তিনি কি মেনে নিতে পারতেন? মনে হয় পারতেন না।

আহমাদ জোন্স আমার নানীর রোগে ভুগছে। দেখার আগেই মায়া পড়ে গেছে লোকটার জন্য। আজ তার বাড়িতে গিয়েই হালাল বিফের স্ট্যু বানাব। প্রথমে তার আস্থা অর্জন করা চাই। সে যেন না-ভাবে আমার কাছে তার ধর্মীয় অনুভূতি অনিরাপদ। প্রয়োজনে চিকিৎসা-পদ্ধতি পালটে নেব, তবুও তার ধর্মের সাথে সংঘাতে যাব না।

সারবাঁধা চেরিফুলের গাছ পেরিয়ে রাস্তা যেখানে বামে বাঁক নিল, সেখানেই আহমাদ জোন্সের বাড়ি। লাল টালি দেওয়া ছাদের রঙটা জ্বলে গেছে। বাইরে থেকে বাড়ির দুরাবস্থা দেখে যা ভেবেছিলাম, ভেতরটা তেমন নয়। আমি ঢুকতেই বাতাসে দড়াম করে দরজা বন্ধ হয়ে গেল। ইজি চেয়ারে বসা বৃদ্ধ চোখ খুললেন।

'জেসিকা! তোমাকে বলেছি না এত আওয়াজ করে দরজা লাগাবে না।'

রোগীর হিস্ট্রি মোটামুটি মনে ছিল আমার। জেসিকা তার মেয়ের নাম। মারা গেছে বছর দেড়েক হলো।রুম-হিটারের উয়তায় গরম কাপড়ের প্রয়োজন নেই। গায়ের ওভারকোটটা খুলে সোফার একপাশে রাখলাম। বৃদ্ধের কাছে গিয়ে জানালাম আমি ক্যাসি, তার দেখাশোনা করতে এসেছি।

কৃষ্ণ জোন্স কী বুঝলেন কে জানে, আবার চোখ বন্ধ করে চেয়ারে গা এলিয়ে দিলেন। আমিও চলে গেলাম রান্নাঘরে। দ্রুত বিফ বের করে মশলাপাতি দিয়ে চুলায় চাপালাম।

জোন্সকে স্ট্যু খাওয়াতে একটু বেগ পেতে হলো। আমি বাঁ-হাতি। তাকে খাওয়াতে বারবার চামচটা বাম হাতে নিয়ে নিচ্ছিলাম। আর জোন্স কেবল ইশারায় ডান হাত দেখিয়ে দিচ্ছিল। আন্দাজ করে নিলাম এভাবেই মুসলিমরা খায়। বাম হাতে খাওয়া নিষেধ।

দুপুরে সাক্ষী হলাম এক অদ্ভুত ঘটনার। বৃদ্ধ ভদ্রলোক দাঁড়িয়ে কী এক অচেনা ভাষা আওড়াচ্ছেন। খানিক বাদে দুই হাঁটু ধরে উবু হয়ে গেলেন। এরপর আবার দাঁড়িয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। অনেকটা ব্যায়ামের মতো, সাথে ভিনদেশি ভাষা। বিকেলে আবারও সেই একই কাজ। পরপর দুই দিন নিয়ম করে এমনটাই করে যাচ্ছেন তিনি। তা-ই নিয়ে কলিগের সাথে কথা বললাম। সে বলল, কোনো মুসলিমের সাথে সরাসরি কথা বলতে। কথায় কথায় এক চ্যাটরুমের সন্ধান পেলাম। সেখানে ধর্ম নিয়ে আলোচনা চলে।

সেই চ্যাটরুম থেকে জানতে পারলাম আহমাদ জোন্স ভিনদেশি ভাষায় যে-ব্যায়ামটা করেন, তা নিছক কাউকে দেখে শেখা নয়। সেটা ছিল মুসলিমদের প্রার্থনা। বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল ভীষণ। যে-মানুষটা নিজের হাতে ঠিকমতো খেতে পারে না, নিজের পরিবারের কথাও ভুলে গেছে, সে ঠিক-ঠিক প্রার্থনা করে যাচ্ছে তার স্রষ্টার কাছে!

সেদিনই বুঝে গিয়েছিলাম তাকে ভালো রাখার উপায়। একমাত্র ইসলামই তার কষ্ট লাঘব করতে পারে! ইসলাম নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি বাড়িয়ে দিলাম। চ্যাটরুমে একজন আমাকে তাদের ধর্মগ্রন্থ কুরআনের অনুবাদ পড়তে দিল। সেখান থেকে সূরা আন-নাহল যে কতবার পড়লাম! বারেবারে থমকে গিয়েছি এখানে-

কাজেই যিনি সৃষ্টি করেন, তিনি কি তার মতো, যে সৃষ্টি করে না? তবুও কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না?)যতবার পড়ি হৃদয় ভেঙেচুরে আসে। সৃতি আর সুন্টা সমান হতে পারে নাং ফেতর থেকে তাগিদ আসে সুন্টাকে খুঁজে দেওয়ার। ধামাচাপা দেওয়া বোধগুলো জ্বালাতন করে খুব।

আমি এক মনে কুরআন পড়ে যাই। আইপড়ে তিলাওয়াত শুনি। জানি না কেন চোখ বেয়ে অশ্রু নামে।

দিনকে দিন কুরআন আমার কাছে বিস্ময়কর এক গ্রন্থ হয়ে ধরা দিচ্ছে। বৃন্দ জোন্স কুরআন শুনলে খুশি হয়, কখনও কাঁদে। অর্থ পড়ে আমিও বুঝে নিই কেন হাসে, কেনই বা কাঁদে। এই ভদ্রলোকের বাড়িতে পা রাখার আগের দিনটা পর্যন্ত আমি ভাবতাম-আমি সুখী, আমার হৃদয় পরিতৃপ্ত। জরাগ্রস্ত আহমাদ ছোপ আমার ভাবনা বদলে দিয়েছে। জীবনসায়াহ্নে এসেও তার চোখে-মুখে প্রশান্তির ছাপ ভুল প্রমাণ করে দিয়েছে আমায়। সেই প্রশান্তি আমারও চাই। জানি না-কীসের জন্য প্রাণটা আকুল হয়ে থাকে। ভীষণ খালি খালি লাগে। বারেবারে মনে হয় কী যেন নেই, কী যেন নেই!

[দুই]

চ্যাটরুমে আজকাল বেশিই সময় ব্যয় করি। রোগীর জন্য ইসলামকে জানতে গিয়ে কখন যে নিজের জন্যই জানতে শুরু করেছি, টেরই পাইনি। এখানে সবাই সাহায্য করতে তৎপর। আমাকে স্থানীয় মসজিদগুলোর একটা লিস্ট দেওয়া হলো। সেই লিস্ট ধরে একটা মসজিদে গেলাম।

দিনটার কথা জীবনে ভুলব না আমি। মসজিদে পা রাখতেই সমস্বরে আল্লাহু আকবার ধ্বনি! আল্লাহু আকবার আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ! কী যে এক অজানা অনুভূতি! স্থাণুর মতো দাঁড়িয়ে থেকেও কোথায় যেন ভেসে যাচ্ছি আমি। সত্য-মিথ্যা যা-কিছু মিলেমিশে একাকার ছিল, তার সবটা আমার সামনে দু'ভাগ হয়ে ধেয়ে আসছে। যেন বলছে, কোন দিকে যাবে তুমি? টালমাটাল আমি চোখভরা জল নিয়ে মুসলিমদের সালাত দেখলাম। দেখলাম, একদল মানুষ স্রষ্টার কাছে নিজেকে সঁপে দিচ্ছে।

মসজিদের ইমামের সাথে কথা হলো। সখ্য হলো তার স্ত্রীর সাথে। তারা আমাকে কিছু বই দিলেন, আর কিছু অডিও লেকচার।ইসলাম নিয়ে যা-কিছু জানার ছিল, জেনে নিতে লাগলাম চ্যাটরুম থেকে, কখনও মসজিদ থেকে। ধীরে ধীরে এমন একসময় চলে এলো, যখন ইসলামকে আঁকড়ে ধরা ছাড়া আমার আর কোনো গত্যন্তর নেই।

এক সন্ধ্যায় সেই চ্যাটরুমে গেলাম আবার। মাইক্রোফোনে একজন আমার সৃষ্টি আকর্ষণ করল।

'ক্যাসি, তোমার কি কোনো প্রশ্ন আছে?'

'না।'

'আমি কি জানতে পারি-কোন বিষয়টা তোমাকে ইসলামগ্রহণে বাধা দিচ্ছে?'

জবাব দিতে পারলাম না আমি। পরদিন ফজরের সালাত দেখতে মসজিদে চলে গেলাম। ইমামও চ্যাটরুমের সেই ভাইটির মতো একই প্রশ্ন করলেন। কী আমাকে বাধা দিচ্ছে? কী নিয়ে এত দোটানায় আমি? এবারও নিরুত্তর আমি।

চুপচাপ চলে এলাম আহমাদ জোন্সের কাছে। তাকে খাওয়াতে বসলাম। জবুথবু হয়ে ভদ্র ছেলের মতো খেয়ে নিচ্ছেন তিনি। তার শান্ত চোখের তারায় আমার প্রতিচ্ছবি। সে-ছবিতে নিজেকে পড়ে ফেললাম যেন! আমি ভয় পাচ্ছি... আল্লাহর কাছে নিজেকে সঁপে দিতে ভয় পাচ্ছি। কোনো অজানা আশংকায় নয়, সত্যকে আলিঙ্গন করতে ভয় পাচ্ছি আমি! আমি কি এর যোগ্য? এই বৃদ্ধ মানুষটার মতো প্রশান্ত হৃদয় কি আমার প্রাপ্য?

বিকেলে আবার গেলাম মসজিদে। শান্ত সুরে ইমামকে জানালাম শাহাদাহ পড়তে চাই। উচ্চারণ করলাম সেই অমোঘ বাণী-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কেউ নেই, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসূল।

ভেতর থেকে বোঝা নেমে গেল, এখন আমি মুসলিম! মনে হচ্ছিল ছোট্ট অৎকার এক গুহায় বন্দি ছিলাম আমি। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলতে বলতেই গুহামুখের পাথর সরে যেতে লাগল, আর আমি বুক ভরে শ্বাস নিলাম!

মসজিদ থেকে আহমাদ জোন্সের বাড়ির পথ ধরেছি। তাকেই আগে জানাব আমার ইসলাম গ্রহণের কথা। এরপর পিটারকে। এখনও জানি না, সে কীভাবে নেবে। আশারাখি পাশেই থাকবে আমার।

উইন্টারবুকের রাস্তাটা নতুন করে দেখছি। প্রথম যেবার এসেছিলাম, তখন শীতকাল। শীত পেরিয়ে এখন বসন্তের মাঝামাঝি। ন্যাড়া রেডউড গাছটাতে পাতা এসেছে। ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে জাপানি চেরিগাছগুলো।

চেরিফুল কী অদ্ভুত সুন্দর! সাদাটে ফুলে হালকা গোলাপি আভা। এর মাঝে লাল রঙা রেণু দেখলে ভ্রম হয়। যেন আচমকা উথলে উঠেছে ফুলের বুক চিরে।

চেরিফুলের মিছিলে হাঁটছি আর ভাবছি। গেল শীতেও আমি ছিলাম পথহারা। মাস কতকের ব্যবধানে জীবন কেমন করে বদলে গেল! মনের গহীনে ধামাচাপা দেওয়া সত্যটা ছলকে বেরিয়ে এলো যেন! ঠিক চেরিফুলের রেণুর মতো। একদম হুট করে, আচমকা ।

মেয়েটি মাদরাসা পড়ুয়া। মাদরাসাতুল বানাত, মহিলা মাদরাসা পড়ুয়া। ফজিলত জামাতের মেধাবি ছাত্রী ছিলো। বাবা একজন দরিদ্র লাইব্র...
08/05/2026

মেয়েটি মাদরাসা পড়ুয়া। মাদরাসাতুল বানাত, মহিলা মাদরাসা পড়ুয়া। ফজিলত জামাতের মেধাবি ছাত্রী ছিলো। বাবা একজন দরিদ্র লাইব্রেরিয়ান। চার ভাই-বোনের মাঝে মেয়েটি মা-বাবার তৃতীয় সন্তান। নাম সিমা। পুরো নাম জান্নাতুল ফেরদাউস সিমা। আমি তাকে আদর করে সিমি বলে ডাকতাম। তখন সপ্তম শ্রেণিতে পড়তো। গতরে সবার ছোট ছিলো, তবে জ্ঞানে ছিলো সবার বড়।নম্র ভদ্র লাজুক মেয়ে সিমি। সময়ের সাথে সাথে গায়ে গতরে বড় হয়ে ওঠে। অর বড় আরেকটা বোন আছে, নাম শাম্মি। শাম্মি কলেজে পড়ুয়া। ইন্টার ফাইনাল পরীক্ষায় শাম্মি তার ইংরেজি পেপারে নিজের রোল নাম্বার

তকদিরের ব্যাপার। কুদরতের কারিশমা। তা না হলে এতদূর পড়ে কেউ ভুল লিখে দেয়। ফলে যা হবার তাই হয়। আসলে এসব কপালের প্যাঁচ। রোল লিখতে ভুল করে? শাম্মিও নিজেকে প্রবোধ দেয়। যাক পড়েছি তো। সার্টিপিকেট দিয়ে কী করবো। কাগজে কি পেট ভরে নাকি?

এক ছেলে এক মেয়ে নিয়ে ভালোই দিন যাচ্ছে শাম্মির। অবশ্য প্রথম প্রথম কিছুটা অসুবিধা হচ্ছিলো। ছোট ননদটা বলতে গেলে মানুষের বাচ্চাই না।

আপন ভাবির নামে যে বদনাম করে বেড়ায় তাকে কি ভালো বলা যায়? আসলে কিছু কিছু ওঠতি বয়সের মেয়েরা আছে হিংসুটে। পরের সুখে এদের গা জ্বলে। শাম্মির ননদ লাকি ওই তবকারই একজন। মাথামোটা টাইপ। এদেরে আবার ঝোঁপ বুঝে কুপ দিতে পারলে কাজে লাগে। গেলো বছর এমনই একটা কুপ দিয়েছিলো সিমি।

সময়ের সদ্ব্যব্যবহারে সিমির খুব দক্ষতা আছে। সিমি এর আগে সবুজ নামে

তার দূর সম্পর্কে এক খালাতো ভাইকেও একটা শিক্ষা দিয়েছিলো। ঘটনাটির সারমর্ম করলে যা দাঁড়ায় তা হলো- সিমি তখন সবেমাত্র তাসেয়া জামাত, নবম শ্রেণিতে পড়ে। কি জানি কি এক কাজে খালাতো ভাইটি তখন তাদের বাড়িতে আসে। সিমির তখন প্রথম সাময়িক পরীক্ষা। মুরশিদাকে কোনভাবেই ফার্স্ট হতে দেয়া যায় না, এই একটা চিন্তা সিমির।

আসলে মুরশিদা কোন সময় ফার্স্ট হতেও পারেনি। তবু ওকে নিয়ে সিমির মাথাব্যথার শেষ নেই। তখন খাবার টেবিলে সিমির সাথে দেখা হয় সবুজের। আর যায় কোথায়! এক দেখাতেই প্রেম। সিমি আসলে জানেই না ব্যাপারটা। হঠাৎ একদিন দেখে তার তরজমা বইয়ের মলাটের ভেতরের অংশে লেখা- 'আই লাভ ইউ-সবুজ।'

এর ক'দিন পর সবুজ সরাসরি অফার দেয় সিমিকে। সিমি বলে- 'নামাজ-

কালাম পড়ো? পড়েছো আজকের আসরের নামাজ?'

জবাবে সবুজ বলে- না, পড়ি নাই।

কেনো? সিমির প্রশ্ন।

কাপড় ভালো না। শরীরটাও ভালো না।

ও, আচ্ছা, তাইলে রাস্তার কুকুরে কি অপরাধ করলো? আমি তার সাথে প্রেম করি না কেন! তোমাতে আর পথের কুকুরে কোন তফাত আছে?একটা মেয়ে কোন ছেলেকে এভাবে অপমান করতে পারে সবুজ এটা ভাবতেই পারেনি। মাদরাসা পড়ুয়া মেয়ে বলে কথা। পরকিয়ার কবর রচনা হয় এখানে। তার মনে প্রচণ্ড জেদ জন্মে- সেও আলেম হবে। তারপর তবেই সিমির কাছে আসবে। সেমতে সবুজ ঢাকার একটা সর্টকোর্স মাদরাসায় ভর্তি হয়।

সিমি তার তালতো বোন লাকিকে বলেছিলো- আচ্ছা লাকি মনে কর তোর...। মুখের কথা টেনে নিয়ে জবাবে লাকি বলে- দূর পাগলী পাগল হইছিস? ভূতে পাইছে তরে? আগামিকাল বিয়ে হবে আমার?

মনে মনে বলে, হইলে মন্দ হতো না। কিন্তু এটা প্রকাশ না করে বলে, আচ্ছা তুই এমন কথা বললি কেন?

তরে একটা সারপ্রাইজ দেবো বলে। বলে সিমি।

মনে কর হলো। তারপর? প্রশ্ন লাকির।

সেখানে গিয়ে দেখলে তোর একটা বাচাল মার্কা ননদ, উড়াধুরা বাতচিত করে। আস্তা বান্দর যাকে বলে আরকি। এখন তুই যা করছিস সে ওইসব বলে বলে মানুষেরে শোনায়। তখন তোর কেমন লাগবে? জিজ্ঞেস করে সিমি।

লাকি একটু দম নেয়। তার চেহারায় চিন্তার ভাঁজ পড়ে। বলে, বুঝেছি, আর লাগবে না। সেই যে ভালো হয়েছিলো আজো ভালো আছে। শাম্মি এখন তার সব। সকল সুখ-দুখ আনন্দ-বেদনার সোহাগী সাথী।

মেশকাত পড়াকালিন সিমির একটা খিতবা আসে। এটা ছিলো তার জন্য হাতে আকাশ ছোঁয়ার মতো। ঠিক যেমনটা মনে মনে কামনা করে সে। তারও প্রচণ্ড ইচ্ছা ছিলো সম্মন্ধটা হয়ে যাক। কিন্তু তাকদির বলে কথা। সিমির বাবা রাজি হলেন না। অনেক দূরের অজুহাত দেখিয়ে মেয়ে বিয়ে দিতে রাজী হলেন না তিনি।

এর কিছুদিন পর সিমি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। প্রচণ্ড বেমার। প্রথমে গ্রাম্য ডাক্তার। পরে শহুরে। আরো পরে অভিজ্ঞ সব ডাক্তার কবিরাজ দেখিয়েও কোন সুরাহা হলো না। রোগটাই ধরতে পারছে না চিকিৎসকেরা। দীর্ঘ ছ'মাস রোগে-শোকে থেকে ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে আসে। একসময় রোগ সেরে যায়। কিন্তু শরীর আর হয়ে ওঠে না। নাদুস-নুদুস মেয়েটি মাত্র ছ'মাসে কঙ্কালসার হয়ে পড়ে।

মেয়ের দিকে চেয়ে চেয়ে নীরব কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে সিমির বাবা। কি হতে কি হয়ে গেলো। ডানাকাটা পরীর মতো সিমিটা কীভাবে এতো বিশ্রী হয়ে পড়লো। কপোল দু'টি ভেতরে ডুকেগেছে। চোখজুড়া যেনো কুয়ার ভেতরেকেরোসিন কমে যাওয়া নিষ্প্রভ, মিট মিট করে জ্বলা বাতি। মুগ্ধতার আবেশ নেই এখানে। আছে অসহায়ত্বের আলামত।

দিন যতো যাচ্ছে সিমির বাবা-মা ততই বিষাদগ্রস্থতায় ডুবছে। অর প্রবাসী ফুফাত ভাই, যে এতো দিন তার সুন্দরের গল্প শুনে মজনুর তালিকাভুক্ত হওয়ার কাছাকাছি হয়ে গিয়েছিলো সেই কাজলও এখন অন্যত্র পাত্রী খুঁজে। মা তার ভাইজি সিমির কথা উঠালে কাজল জবাবে বলে- গুণ দিয়ে মাথায় বরণ দিমু নাকি? কি আছে ওর মাঝে, ক'টা মরক আড্ডি ছাড়া?

তখন সিমির ফুফুর কাছে ভেসে ওঠে সিমির রূপহারা বেসুন্দর মুখটি। আবার মনে পড়ে বছর দুয়েক আগের চাঁদোয়া চেহারা। যার দিকে চেয়ে বড় ভাইকে কথা দিয়েছিলো সিমিকে পুত্রবধূ করার। যেই প্রতিশ্রুতি রক্ষার জন্য সিমির বাবা আগের প্রস্তাবটা দূরের অজুহাতে নাকচ করে দিয়েছিলো। সিমির বাবা এখন ভাবে, কেনো আগের আলাপটা ফিরিয়ে দিয়েছিলো।

ইস... মেয়ের কপালে কেনো কুড়াল বসালাম। বেদনার নোনা জলে ভেসে যায় সিমির বাবার গন্ডদেশ। হাতে থাকা পুরাতন গামছায় মুখ মুছে সে। চোখ তুলে চেয়ে দেখে একই হালত সিমির মায়েরও।

এর মাসেক দিন পর কাজলকে একপ্রকার জুড় করেই রাজি করায় ওর মা।

বলে- মাদরাসা পড়ুয়া মেয়ে। আমল আখলাক ভালো। স্বাস্থ্য সৌন্দর্য মানুষের এমনিতেই বেশি দিন থাকে না। আমার দিকেই দেখ। কি অপরূপ চেহারা আর নজরকাড়া স্বাস্থ্য ছিলো আমার। কিন্তু কই সেই রূপ? সেই স্বাস্থ্য?

মায়ের পিড়াপিড়িতে বাধ্য হয়েই বিয়েতে মত দেয় কাজল। সাদামাটাভাবে আয়োজন শেষ হয়। সিমিকে তুলে দিয়ে আবার কান্নায় ভেঙ্গে পরে সিমির বাবা। কি জানি কি হয় মেয়েটার!

দিন পেরিয়ে রাত। মধ্যরাত। বদ্ধ ঘরে একাকি বসে আছে সিমি। ইস্টিশনে গন্তব্য না জানা অসহায় ক্লান্ত মেয়েটির মতো। পরিস্থিতি দেখে সিমির ফুফু হার্টফেল করে অবস্থা। কি দরকার ছিলো ছেলেটাকে রাজি করাবার! এখন মেয়েটার কি হবে? লজ্জায়, চিন্তায় নিজের ঘরে হাঁটুতে মাথা টেকিয়ে বসে আছেন তিনি। আর নিজেই নিজেকে অভিশাপ করতে থাকে; কেনো আমি এতোদূর গেলাম। কেনো অভাগী ভাইজিকে মরার পথে ডেকে আনলাম।

অনেক রাত করে কাজল ঘরে ফিরে। ঘরে ডুকেই ঘুমুতে যায় প্রতিদিনের মতোই, যেনো কিছুই হয়নি বাড়িতে। বিছানায় গিয়ে সিমির দিকে একবার অবহেলার নজর চেয়ে বলে, এই দেখো- খাটের এই অংশ তোমার, আর এই অংশ আমার। সাবধান, আমার অংশ মাড়াতে এসো না। তোমার খুবভালো করে জানা থাকার কথা, আমি এই বিয়েতে রাজি ছিলাম না। মা আমাকে বাধ্য করেছে। অতএব, তোমরা ফুফু-ভাইজি মিলে-মিশে থেকো। আমি আগামী কয়েক দিনের মাঝেই আবার উড়াল দেবো। সেই কাতার। হয়তো বা ফিরবো না আর কোন দিন।

কথাটা শুনে আঁতকে ওঠে সিমি। রোগক্লান্ত চেহারায় নেমে আসে আমাবশ্যার আঁধার। গা শিউরে ওঠে ওর। রাতের নিস্তব্দতায় ধুমরে মুছরে চুরমার হয়ে যায় বেঁচে থাকার শেষ অধ্যায়। গহীন রাতের মতো নিম্নসঙ্গ হয়ে পড়ে সিমি। ভাবনার জগতে নিরুদ্দেশ হারিয়ে যায় সে। নিজের অজান্তেই ঘুমিয়ে পড়ে। আপাদমস্তক একটা যুবক মানুষের সামনে। যার যার মতো করে। সীমা দেয়া বিছানায়। নতুন জীবনের নতুন রাতে। মিনিট বিশেকের মাঝেই আবার ঘুম ভাঙ্গে সিমির।

সিমি অনাকাঙ্কিত আঘাত পেলেও নিরাশ হয়নি। সে বিশ্বাস করে, কাজলকে জয় করার মতো রূপ এ মুহূর্তে তার না থাকলেও গুণ অবশ্যই আছে। যে গুণে মুগ্ধ হয়ে ফুফু তাকে পুত্রবধু করেছেন। সিমি সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়, সংসার নয় সৎ ও সত্যের দিকেই ডাকবে প্রাণপ্রিয় আদুরে স্বামীকে। দীনের পথে। কুরআন সুন্নাহর সূত্র ধরে।

কঠিন এই দুঃসময়ে সিমির মনে পড়ে তার একজন উস্তাদের কথা, যে তাকে দিল খুলে ভালোবাসতো। তিনি প্রায়ই তাকে জীবনের সবক দিতে যেয়ে বলতেন- নিজে শ্বাশত সত্যের অনুগামী হও, মানুষকে চির সুন্দরের দিকে ডাকো, মানুষ তোমাকে এড়িয়ে যেতে পারবে না। সেই সবক সিমি আজ কাজে লাগাতে চায়।

রাত তখন শেষের পথে। সিমি বিছানা ছেড়ে নেমে আসে। এ বাড়ির সবকিছু তার জানা। কলঘরে গিয়ে শান্তমনে নির্ভাবনায় অজু করে। রোমে ফিরে এসে দরজা লক করে দেয়। এরপর ড্রিম লাইটের আলোতে একটু বোল্ট দেয়। নিমিষেই নীলাভ আলোয় ভাসতে থাকে পুরো ঘর। নিশুত রাতে ফুলেলসজ্জা পাতানো বিছানায় শুয়ে আছে তার পরমপ্রিয় স্বামী কাজল। কি মায়াময় নিস্পাপ চেহারা।

সিমি পা পা করে এগিয়ে যায়। প্রিয়তম স্বামীর দিকে। বেগুর ঘুমিয়ে থাকা কাজলের দিকে। কচি পাতার মতো নরম, মেহেদী রাঙ্গানো হাত দু'টি দিয়ে প্রিয়তম স্বামীর বিক্ষিপ্ত এলো চুলে শীতল পরশ বিছিয়ে বিলি কাটতে থাকে। এরপর তৃপ্তিভরে, হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা উপুর করে দিয়ে ঘুমন্ত প্রিয়র কপালে চুমু খায় সিমি।বরিশটি বসন্ত পারি দেয়া কাজল সহসা অনুভব করে একটা জীবন্ত মেয়েলি স্পর্শ। পরম পাওয়ার শিহরণে চোখ খুলে যায় তার। নীরব নির্বাক চেয়ে থাকে সিমির নীরস মুখের দিকে। কি নির্মল মিষ্টি হাসি, কি অপূর্ব মন মাতানো দৃষ্টি, দৃষ্টি, গভীর রাতের নীলাভ আলোয় দুই জুড়া চোখের ভাববিনিময় চলে মিনিট মিনিট ধরে। আনারের দানার মতো ঝিলিক দিয়ে দু'ফুটা অঙ্ক ঝড়ে পড়ে সিমির লাজুক নয়ন থেকে। নির্বাক দু'জনেই।

সিমিই কথা বলে প্রথম- 'প্রিয়তম স্বামী আমার। চলো আমরা আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করি। নতুন জীবনের নবরজনীতে দরদী মাবুদের কুদরতি পায়ে দু'টি সিজদার স্মৃতি এঁকে দিই।'

জবাবে কাজল বলে- 'দু'টা কেনো দু'হাজারটা আঁকো। আমার এতটুকু সময় নেই, তুমি যাও, আমি ঘুমাবো।'

সিমি রোগা গতরে আরো একবার মমতার মধু লাগিয়ে, প্রেমরাঙ্গা অধরে প্রাণাধিক প্রিয় স্বামীর কপালে আরেকটি চুমু খায়, আর বলে- 'ওগো আমার প্রাণের স্বামী, জগতের এই ঘুম, এই আরাম, এই আয়েশ, এমনকি এই বিষাদেরও শেষ হবে একদিন। কিন্তু সামনে যে শান্তির মোহনা আছে সেখানে পৌছে যেতে পারলে তার শেষ হবে না কোন দিন। আবাদুল আবাদ সে সুখ ভোগ করবো আমরা। আমি তমি সকলে। এজন্য এখন চাই সামান্য ত্যাগ। দেখুন আপনাকে আমি অবিনশ্বর সুখ, শান্তি, স্বচ্ছলতা, আর সমৃদ্ধির পথে ডাকছি। সাময়িক ভোগ বিলাসের পথে নয়।'

উলেজ ৩য় হনে সেবে মিনায় যে মাউজ

বক্তব্যে নগদ কাজ করলো। 'তাহলে আমাকে জান্নাতে নিয়ে যাও' বলে প্রতিউত্তর দেয় কাজল।

জবাবে সিমি বলে- 'তবে ওযু করে আসুন। আল্লাহর কাছে চান, পেয়েও যেতে পারেন।'

সে আবার বলে- 'আমি চাই অফুরান সুখ, চাই পরম শান্তি।'

সিমি জবাবে বলে- 'আমরা সাবাই এই চিরসত্য কথাটি জানি যে, পৃথিবীর সব মানুষই সুখ প্রত্যাশী। শান্তি প্রত্যাশী। আর আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা হলেন সুখ দাতা। শান্তি দাতা। এই সুখ, এই শান্তি তাঁর পথে চলে, তাঁর থেকে বুঝে নিতে হয়।'

A সিমি কুরআনের সূত্র ধরে বলে- আল্লাহ মুমিনের জান ও মাল ক্রয় করে নিয়েছেন জান্নাতের বিনিময়ে

নিঝুম রাতে নীলাভ আলোজ্বলা ঘরে মনের মাধুরী দিয়ে হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা মিশিয়ে নিচু আওয়াজে সুরেলা স্বরে সিমি পাঠ করে শুনায়-ان الله اشترى من المؤمنين أنفسهم وأموالهم بأن لهم الجنة

অর্থ: প্রকৃত ব্যাপার এই যে, আল্লাহ মুমিনদের থেকে তাদের প্রাণ ও বন. সম্পদ জান্নাতের বিনিময়ে কিনে নিয়েছেন।[+]

সিমি আরো পাঠ করে-

من عَمِلَ صَالِحًا من ذكر أو أنثى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلتُحيينه حياة طبية

والتحزنهُمْ أَجْرَهُمْ بأَحْسَن مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ

অর্থ: পুরুষ বা নারী যে-ই সৎকাজ করবে, সে যদি মুমিন হয়, তাহলে তাকে আমি দুনিয়ায় পবিত্র-পরিচ্ছন্ন জীবন দান করব। আর আখেরাতে তাদের প্রতিদান দেবো তাদের সর্বোত্তম কাজ অনুসারে [-]

স্বামী এবার কাতর স্বরে বলে- সিমি! আমি খুব একটা ভালো ছেলে নই। তুমি কিন্তু একজন পুতঃপবিত্র জান্নাতি মেয়ে। মাদরাসা পড়ুয়া মেয়ে। আমার সংসারে তোমার জীবন মানাবে না। তুমি চলে যেয়ো অন্য কোথাও।

জবাবে সিমি বলে- আপনার সমস্ত শরীর যদি নবী আইয়ুব আ.-এর মতো পোকা-মাকড়েও ভরে যায়, তবে আমি বিবি রহিমা হয়ে আপনার পাশে থেকে সেবা করে যাবো। আপনার সাথে বিয়ের পর, আপনার সম্পদ, আপনার ইজ্জত, সবই আপনার আমানত, আপনার এই আমানতের খিয়ানত আমি কোন দিন কখনো করবো না। কখনো না।

আমাদের সংসারটা হয়ে ওঠুক সাহাবা আজমাইনদের ঘরের মতো। ভোগ বিলাস আর দুনিয়া আমি চাই না। আমি চাই আপনার মুখে মুক্তাঝরা হাসি।

বৃষ্টিস্নাত গোলাপের মতো স্বচ্ছ মিষ্টি হাসি।

কাজল আবার তাকায় সিমির দিকে। সিমির হাড্ডিসার গতরের দিকে। এই দৃষ্টিতে অবহেলা নেই। আছে মমতা, আছে প্রেম, আছে ভালোবাসা, আছে বিশ্বাস, 'আছে আস্থা, আছে নির্ভরতা। সে বলে- প্রিয়তমা, প্রিয়সী আমার! আমাকে না তুমি জান্নাতে নিয়ে যাবে বললে? কিন্তু এটাতো বললে না, জান্নাতে গিয়ে তোমার এই নিখাদ প্রেম, নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় আমাকে সিক্ত রাখবে কি না? আমার বুকে মাথা রেখে, এমন মিষ্টি পরশ বুলাবে কি না। আলো ঝলমল জান্নাতি বালাখানায় এই মধুমাখা কণ্ঠে খোদার কালাম পড়ে শোনাবে কি না!

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when LOOK AT ME posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category