অস্বাভাবিক এক মানুষ আমি

অস্বাভাবিক এক মানুষ আমি কবিতা

27/07/2026

একটা কবিতা লিখতে চাই,
চাই অন্ধকারে হারিয়ে যেতে।
ধূলোমাখা পথ হেটে,শেষ বগিটার
কাছে পৌছে, মিশে যাই কোলাহলে।

ফিরতি পথে, প্রান্তর দেখি;চেয়ে থাকি,
মানসপটে ভাসে মেঘ পাহারের মিলন ছবি।
মানুষ আমি;আঁধারে হারাই, ভোরের আলোয়
সম্ভিত পাই ফিরে, শালিকের ডাকে।
মানুষ আমি, হারাই, ফিরে আসি।

মানুষ আমি, যাযাবর হয়ে ছুটি, হই স্থিতি।
মানুষ আমি, মেঘ ছুঁই, পাতার গান গাই।
মানুষ আমি, পথে পথ পাই, আঁধারে লুকাই।
মানুষ, অস্বাভাবিক এক মানুষ আমি।

08/07/2026

আমাকে যেতেই হবে,
আমি চাই বা নাই চাই,
আমাকে যেতেই হবে।

সোডিয়াম আলোর
মাদক শহর, জন্মসূত্রে
তৈরি সম্পর্ক, এলোমেলো
জীবনের সূত্রপাত যেখানে,
যেখানে ফুটপাত ঘেসে
মানুষের স্বপ্নগুলো
হেসে খেলে বেরায়,
স্বপ্নের দল যেখানে
দারিদ্রের কসাঘাতকে
দাবরিয়ে বেরায়।
প্রগতিশীল ডান বামেরা
যেখানে দারিদ্রের কটাক্ষে ব্যাস্ত,
ব্যাস্ত নিজেদের যাহির করায়;
সেই যান্ত্রিক নগরীর এলোমেলো
আমায় যেতেই হবে।

আমি চাই, ভালবাসি, কিংবা
প্রচন্ড ক্রোধে মত্ত হই;
আমায় যেতেই হবে,
আমি, আমার অস্বাভাবিক
স্বত্ত্বা আর যান্ত্রিকতাবাদ
এবং ব্যাবসায়ীক মনোভাব
সবকিছুকেই সাঙ্গ করে
আমায় যেতেই হবে।

অস্বাভাবিক এক মানুষ আমি,
আমি এক অসম্পূর্ণ কবি।
আমি চাই, ভালবাসি কিংবা
প্রচন্ড ক্রোধে হই মত্ত্ব
আমাকে যেতেই হবে।

20/06/2026

আজ নির্বাসনের দিন;
ঘরের কোনের অন্ধকারে
আজ মুক্তি খুজে নেব।

মুক্তির রঙিন আলো
দেব বিসর্জন।
বিসর্জনের আনন্দে
হব উদ্বেলিত,
উচ্ছাসের বহি:প্রকাশ
হবে মৌনতায়।

আজ নির্বাসনের দিন,
হারাব মৌনতা
আর নির্জনতায়।

15/06/2026

আমার দুই কাঁধে দুই মাতাল,
আমি আস্ত আরেক মাতাল।

আলোর সাথে আমার খেলা,
ছন্দ আমার মিলন মেলা।
আমি বিপথ পানে ছুটি,
আমার নেইকো কোন জুটি।

আমার জুড়ি মেলা ভার,
আমি স্তব্ধ এক আধার।
আমি আধারের পণ,
আমার স্মৃতির দিন যাপন।

আমার দুই কাধের মাতাল,
আমায় করে বেশামাল।
আমি উন্মত্ত এক জলাশয়,
আমার সকলি সয়।

আমি চন্দ্রস্নাত রাতের আশায় আছি,
আমি প্রেম,অদ্ভুত, বেহিসাবি।

আমার সবুজ আলীক স্বপ্ন,
আমি না বোঝা এক দ্বন্দ।
আমি অস্বাভাবিক খাটি মানুষ,
আমি রংগিলা এক ফানুস।

আমার জোছনার সংসার,
আমি আস্ত এক মাতাল,
আমার দুই কাধে দুই মাতাল;
তাদের মতি বোঝা ভার।

17/05/2026

হেটে হেটে এতটা পথ এসে
ভুলি সময়ের হিসাব।
ভুলি অন্যায় আবদার,ভুলি জীবনের খবর।
ভুলি অন্ধকার,ভুলি ধূলোর সমাহার।

এখনও খাদে পরিনি,
হয়ত পরে আছি।
হয়ত দীর্ঘ রাত্রী শেষ হয়না;
শুধু এক বিন্দু আলোর অপেক্ষা।
পাহাড় চরিনি কোনদিনও।
খাদ পেড়িয়ে বসন্ত,
কিংবা ভীষন বর্ষনে
মৃত্যুকূপে পরিনত হওয়া খাদ,
ঠিক পেরিয়ে যাবো
শ্রেষ্ঠতম আরোহির দক্ষতায়।

মুক্তির স্বাদ ঠিক পৌছে দেবে,
খেপে থাকা নদীর তীরে।

প্রমদতরী অপেক্ষায় নেই,
খুজে পেতে ঠিক পেয়ে যাবো,
শশ্মান ফেরত আধপোড়া কাঠ।
ভাটায় যদি ভেসে ভেসে
চলে যাই সমুদ্রের কাছে,
চাদ, ঠিক তার অবস্থান বদলাবে,
পৌছে দেবে শেষ না হওয়া পথের বাকে।

সময় ভূলি, পথের দিকে
চেয়ে পথ চলি;
পথই আমায় পৌছে দেবে
পথের শেষে।

ভেসে ভেসে তীরের কাছে এসে;
ভূলি অনুভূতি, ভুলি শব্দের কোলাহল,
ভূলি আলোর বিচ্যুতি, ভূলি বাচার আস্ফালন।

এখনও ভাটা আসেনি,
হয়ত এসে গেছে,
হয়ত টেনে নিতে চায় কাছে।
ফুসফুস করে বিদ্রোহ,
তবু বাচার তাগীদ
জাগিয়ে তুলবে শরীর।
হাত-পা ছুরে ঠিক পৌছব,
শেষ না হওয়া পথের বাকে।
পচা শামুকেও পা কাটে,
ঢেউ এসে টেনে নেয়,
মেশায় লবন জলে।

হাসফাস করে বুক,
গলা শুকিয়ে কাঠ,
তবু ভীষন এক উল্লাস;
যতক্ষন বেচে আছি,
ততক্ষন মৃত্যুঞ্জয়ী।

উঠে দাড়াই, শুরু করি চলার লড়াই।
ভুলি অন্ধকার, ভুলি অন্যায় আবদার,
ভূলি সবুজ কোলাহল, ভুলি জীবনের স্পন্দন।

সময় ভূলি, পথের দিকে
চেয়ে পথ চলি;
পথই আমায় পৌছে দেবে
পথের শেষে।

এখন পায়ের নিচে শক্ত মাটি,
হেটে চলি, সময় ভুলি,
ভুলি জীবন চক্রের হিসাব,
ভুলি আহত আর্তনাদ।

পিছন ফিরে দেখি, ধূলোর রং লাল।
মুহূর্তের সমন্বয়ে, গড়ে ওঠে মহাকাল।

পায়ের নিচে তপ্ত বালু,
জাগে নতুন অনুভুতি;
হেটে চলি, ভাবি, নতুন ভ্রম।

এখনো ঝড় ওঠেনি,
কোরে দেয়নি অন্ধ।
ভীষন আক্রোশে তুলে নেয় শুন্যে;
তবু ঠিক, যত্নে দেয় ফেলে,
পার করে দেয় ধুধু মরুভূমি।

চোখ খুলে দেখি গিড়ি শঙ্কর।
খাদ পেরোনো বিশ্বাস,
যোগায় ভীষন আশ্বাস।

বিপদ ভুলি, ভুলি মৃত্যুর হাতছানি।

ধারালো পাথর, সৃষ্টি শুরুর হাতিয়ার,
মনূষ্য শরীর, ভীষন কোমল।
রক্তের রং ভূলি, শুধু চলি।
তৃষ্ণায় বুক ফাটে;
পথ ভুল করে ঠিক চলে যাই
ঝড়না ধারার কাছে।

সময় ভুলি, পথের দিকে
চেয়ে পথ চলি, চলি পথের টানে,
চলি আপন আনন্দে,
পথই আমায় পৌছে দেবে, পথের শেষে।

15/04/2026

আমি মাঝে মাঝেই হারিয়ে ফেলি, নিজেকে।
ফিরে যখন পাই, তাকিয়ে দেখি;
দেখি, হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করি;
কেবল জ্ঞান চক্ষুর অভাবে
বুঝতে পারিনা; কখন, কোথায়,
কিভাবে, কোন পথে চলতে হয়।

আমি নিজেকে হারিয়ে, প্রশ্নবিদ্ধ।
জর্জরিত, অস্থির চিন্তাশক্তি,
প্রেমময় পথের পথিক হতে,
ছুটে চলি যাযাবরের মতই,
কখনও ভূলপথে, কখনোবা
বাকের মোড়েই দেখা হয়ে যায়
লাল-নীল স্বপ্নের দোসরের সাথে।

কখনো কখনো সম্ভীত ফিরে পেয়ে,
জীবনের সংস্পর্শ পেয়ে, জীবন দেখি।
কখনোবা হেরে যাওয়া মানুষের লড়াই
দেখে বুঝতে পারি, হারা মানে হারা নয়;
সম্ভাবনার সম্ভাবনার জন্ম কেবল।

স্পর্শবিহীন প্রেমের অতল গহ্বরে
ডুবে যেতে যেতে ভেসে উঠি,
কখনো কখনো হাসফাস করে ওঠে
চাহিদাগুলো; সেচ্ছাচারী স্বাধীনচেতা
শব্দ, ছন্দগুলো অবাধ্য হয়।
সবুজের সমারোহে নিজেকে খুজতে
ব্যাস্ত সময় কাটে, প্রখর রোদ্দুরে
ঘরে ফিরি নিজেকে না পেয়েই।

আমি মাঝে মাঝেই নিজেকে হারিয়ে ফেলি,
কখনো জনস্রোতে, কখনো কিশোরীর চঞ্চলতায়।
কখনো কখনো বৃদ্ধের অভিজ্ঞ চাহুনিতে।
কখনোবা বনিতাদের আহবান উপেক্ষা করি,
স্পর্শহীন প্রেমের শক্তির জোরে, আবার ডুবি
অতল গহ্বরে, এক নিশ্বাসে পাতাল ছুয়ে
ফিরে আসি আলোর মাঝে, বাতাস আমি।

আমি মাঝে মাঝেই নিজেকে হারাই,
জল ছুয়ে আসি, কখনোবা ছুটে যাই
মুক্ত আকাশের খোজে, নিজেকেই হারাই।
আমি ফিরে আসি, যখন চিন্তারা স্তব্ধ হয়।
নির্জনে জলের রঙের দিকে তাকিয়ে থাকি
দেখি আলোর স্থানান্তর, দিবসের মাঝে।

আমি মাঝে মাঝেই নিজেকে হারিয়ে ফেলি, খুজি।
জ্ঞান চক্ষু উন্মোচিত হলে, সম্ভীত ফিরে পেয়ে বুঝি;
যতক্ষন বেচে আছি, ততক্ষন মৃত্যুঞ্জয়ী।

22/03/2026

এক হাতে তার লালের খেলা, অন্য হাতে নীল;
কালো চুলে সবুজ ফিতা, হয়েছে বিলীন।
লেপ্টে গেছে চোখের কাজল, আলতা রাঙা পা;
সে পায়েতে পাচ্ছে শোভা নতুন পায়েলটা।

গুমড়ে ওঠে বুকের ভেতর কান্নারা সব আজি,
যাচ্ছে বুঝি স্বপ্নরা সব দূরে কোথাও ভাসি!
আজ বুঝিবা চঞ্চলতার হল অবসান,
আদর সোহাগ সবই বুঝি নিচ্ছে নির্বাসন!

না জানিবা কেমনতর বিপদরা দেয় উকি,
না জানিবা স্বামীর সোহাগ লাগে নাকি ফাকি!
শ্বশুর-ননদ-ভাসুর সকল কেমন তারা সব,
না জানিবা কেমন তাদের হবে আচরণ!

ঠিক তখনি কোথেকে এক পাগলা ব্যাটা এসে,
চমকে দিয়ে নিয়ে গেল ভাবনা গুলো কেড়ে।

শ্বশুর-ভাসুর এলো ছুটে, ননদ দিল গাল,
পাগলা ব্যাটা মুচকি হেসে দিয়ে যায় সামাল।
স্বামী এসে পাশে বসে রাখল হাতে হাত,
যানিয়ে দিল 'থাকব পাশে, সকাল-সন্ধ্যা-রাত।

দুচোখ ভরে অশ্রু তাহার বাধ মানে না আর,
আনন্দেতে হল শুরু নামটা যে তাহার।
ভাবনা গুলো পথ হারিয়ে স্বপ্নেতে নেয় বাক,
নতুন তাহার দিনলীপি দিয়ে গেল ডাক।

পাগলা ব্যাটার এমনই কাজ, না বুঝি তার সাজ,
যাইগো যতই তারে ভুলে নাহি তাহার লাজ;
সদাই থাকে,কেমনে সে চমকে দিয়ে হেসে
বুকের ভেতর জমে ওঠা ঝড়টাকে দেয় মুছে!

পাগলা ব্যাটা যেমন আজব, তেমনই তার কাজ;
চাহে,জগৎ জোড়া সকল জীবে সদাই সুখে থাক।

20/03/2026

সদ্য বৃষ্টি ঝরা মেঘের
আড়াল থেকে, সূর্য উঁকি দেয়।
তাকিয়ে থাকি, মেঘের কোণে
জমে থাকা, আলোর দিকে।

যেমন তাকিয়ে দেখি, পায়েল জড়ানো
রঙিন পায়ের, হঠাৎ জেগে ওঠা।
তাকিয়ে দেখি গোছানো হাতদুটো।

চাই ছুয়ে যেতে, যেমন চাই,
মেঘের বুকে যত্ন করে লালন করা
স্বপ্নগুলোকে, ভালবাসার স্পর্শ দিতে।

মেঘটা জানে, কতোটা ভালবাসি।
তাই পাহাড়গুলো রূপ বদলায়,
বৃষ্টি হয়ে নেমে আসে,
হাতদুটো ছোয়, আদর কোরে।

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when অস্বাভাবিক এক মানুষ আমি posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category